CLASS VI-VIIIClass 8CLASS VI-VIII GEOGRAPHY

মেঘ ও বৃষ্টি: অষ্টম শ্রেণির ভূগোল (অধ্যায় ৫) | Class 8 Geography Notes – Webbhugol

মেঘ ও বৃষ্টি: অষ্টম শ্রেণির ভূগোল – সহজ ভাষায় বিস্তারিত আলোচনা

শরতের নীল আকাশে পেঁজা তুলোর মতো ভাসমান সাদা মেঘ দেখতে আমাদের কার না ভালো লাগে! কিন্তু কখনো কি ভেবেছ, আকাশের এত উঁচুতে এই মেঘ আসলে কীভাবে তৈরি হয়? আর আকাশে মেঘ জমলেই বা সব সময় বৃষ্টি হয় না কেন? অষ্টম শ্রেণির ভূগোলের পঞ্চম অধ্যায় ‘মেঘ-বৃষ্টি’-তে লুকিয়ে আছে এমনই সব দারুণ মজার প্রশ্নের উত্তর। আজকের এই পোস্টে আমরা কোনো রকম জটিলতা ছাড়াই, খুব সহজে এবং গল্পের ছলে জেনে নেব মেঘেদের পরিবার, বৃষ্টিপাতের বিভিন্ন রূপ এবং অধঃক্ষেপণের যাবতীয় খুঁটিনাটি। চলো, ভূগোল শেখার এই মজার যাত্রা শুরু করা যাক!


সূর্যের তাপে নদী, পুকুর ও সমুদ্রের জল বাষ্পীভূত হয়ে বাতাসে মেশে। এই জলীয় বাষ্পযুক্ত বাতাস হালকা হওয়ায় ওপরের দিকে উঠে যায়। ওপরের শীতল বাতাসের সংস্পর্শে এসে এই বাষ্প ঘনীভূত হয়ে ছোটো ছোটো জলকণায় পরিণত হয়। বাতাসে ভাসমান ধূলিকণাকে আশ্রয় করে তৈরি হওয়া এই অসংখ্য ক্ষুদ্র জলকণার সমষ্টিকেই মেঘ বলে।

মেঘ ও বৃষ্টি অধ্যায় থেকে পরীক্ষায় আসার উপযোগী প্রশ্নের MCQ টেস্ট দিতে এখানে ক্লিক করুন


উচ্চতা ও আকৃতি অনুযায়ী মেঘকে প্রধানত চারটি ভাগে ভাগ করা যায়:

অষ্টম শ্রেণির ভূগোল পঞ্চম অধ্যায় মেঘ ও বৃষ্টি - মেঘের শ্রেণিবিভাগ ও বৈশিষ্ট্য ইনফোগ্রাফিক (Cirrus, Cumulus, Nimbus Clouds)
উচ্চতা ও আকৃতি অনুযায়ী মেঘের বিভিন্ন প্রকারভেদ (সিরাস, কিউমুলাস, নিম্বাস) – অষ্টম শ্রেণির ভূগোল পঞ্চম অধ্যায়

১. বেশি উচ্চতার মেঘ (গড় নিম্নতম উচ্চতা ২০,০০০ ফুট):

  • সিরাস (Cirrus): দেখতে সাদা পালকের মতো। পরিষ্কার আবহাওয়া নির্দেশ করে।
  • সিরোস্ট্র্যাটাস (Cirrostratus): পাতলা সাদা চাদরের মতো। অনেক সময় চাঁদ বা সূর্যের চারপাশে বলয় তৈরি করে।
  • সিরোকিউমুলাস (Cirrocumulus): ম্যাকারেল মাছের পিঠের মতো দেখতে (Mackerel Sky)। পরিষ্কার আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেয়।

২. মাঝারি উচ্চতার মেঘ (৬,৫০০ – ২০,০০০ ফুট):

  • অল্টোস্ট্র্যাটাস (Altostratus): ধূসর বা নীল রঙের তন্তুর মতো মেঘ। একটানা বৃষ্টির পূর্বাভাস দেয়।
  • অল্টোকিউমুলাস (Altocumulus): চ্যাপ্টা ও ঢেউয়ের মতো অবস্থান করে।

৩. নিম্ন উচ্চতার মেঘ (গড় সর্বোচ্চ ৬,৫০০ ফুট):

  • স্ট্র্যাটোকিউমুলাস (Stratocumulus): স্তরে স্তরে সাজানো স্তূপের মতো (Bumpy Cloud)।
  • স্ট্র্যাটাস (Stratus): কুয়াশার মতো সারা আকাশ ঢেকে রাখে। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হতে পারে। পাহাড়ে বিমান চালনায় বাধা সৃষ্টি করে।
  • নিম্বোস্ট্র্যাটাস (Nimbostratus): ঘন, কালো মেঘ। একটানা বৃষ্টিপাত হয় এবং খারাপ আবহাওয়া নির্দেশ করে।

৪. উল্লম্ব মেঘ (গড় নিম্নতম ১,৬০০ ফুট):

  • কিউমুলাস (Cumulus): ফুলকপির মতো দেখতে। পরিষ্কার আবহাওয়া নির্দেশ করে।
  • কিউমুলোনিম্বাস (Cumulonimbus): গম্বুজের মতো দেখতে ঘন কালো মেঘ। এতে বজ্রবিদ্যুৎসহ ভীষণ ঝড়-বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টি হয়। তাই একে বজ্রমেঘ (Thunder Cloud) বলা হয়।

অভিকর্ষের টানে বায়ুমণ্ডল থেকে জলকণা বা বরফকণা যখন ভূপৃষ্ঠে নেমে আসে, তখন তাকে অধঃক্ষেপণ বলে। বৃষ্টিপাত হলো সবচেয়ে পরিচিত অধঃক্ষেপণ। এছাড়াও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি (Drizzle), স্লিট (Sleet), শিলাবৃষ্টি (Hailstorm) এবং তুষারপাত (Snowfall) হলো অধঃক্ষেপণের অন্যান্য রূপ।

জেনে রাখা ভালো: শিশির (Dew) এবং কুয়াশাকে (Fog) অধঃক্ষেপণ বলা হয় না, কারণ এরা সরাসরি মেঘ থেকে ভূপৃষ্ঠে ঝরে পড়ে না, বরং ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি ঘনীভূত হয়ে সৃষ্টি হয়।


সৃষ্টির কারণ ও বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী বৃষ্টিপাতকে তিনটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়:

অষ্টম শ্রেণির ভূগোল পঞ্চম অধ্যায় মেঘ ও বৃষ্টি - বৃষ্টিপাতের প্রকারভেদ (পরিচলন, শৈলোৎক্ষেপ ও ঘূর্ণ বৃষ্টিপাত) ইনফোগ্রাফিক
পরিচলন, শৈলোৎক্ষেপ ও ঘূর্ণ বৃষ্টিপাতের চিত্রসহ সহজ ব্যাখ্যা – অষ্টম শ্রেণির ভূগোল পঞ্চম অধ্যায়

১. পরিচলন বৃষ্টিপাত (Convectional Rainfall): প্রচণ্ড উত্তাপে জলভাগের জল বাষ্প হয়ে সোজা ওপরের দিকে উঠে শীতল ও ঘনীভূত হয়ে যে বৃষ্টিপাত ঘটায়, তাকে পরিচলন বৃষ্টিপাত বলে।

  • বৈশিষ্ট্য: নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রায় প্রতিদিন বিকেলে বজ্রবিদ্যুৎসহ মুষলধারে এই বৃষ্টি হয় (4 O’clock Rain)।

২. শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত (Orographic Rainfall): জলীয় বাষ্পপূর্ণ বাতাস পর্বতে বাধা পেয়ে পর্বতের ঢাল বেয়ে ওপরে ওঠে এবং শীতল ও ঘনীভূত হয়ে যে বৃষ্টিপাত ঘটায়, তাকে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত বলে।

  • প্রতিবাত ঢাল (Windward Slope): পর্বতের যে ঢালে বাতাস বাধা পেয়ে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায় (যেমন: চেরাপুঞ্জি)।
  • অনুবাত ঢাল (Leeward Slope) বা বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল: পর্বত অতিক্রম করে বাতাস বিপরীত ঢালে পৌঁছালে তাতে জলীয় বাষ্প কমে যায় এবং উষ্ণতা বাড়ে, ফলে সেখানে বৃষ্টি প্রায় হয় না বললেই চলে (যেমন: শিলং)।

৩. ঘূর্ণ বৃষ্টিপাত (Cyclonic Rainfall): কোনো স্থানে গভীর নিম্নচাপ তৈরি হলে, চারপাশ থেকে বাতাস প্রবল বেগে সেই কেন্দ্রে ছুটে এসে ঘুরতে ঘুরতে ওপরে ওঠে। এই বাতাস শীতল ও ঘনীভূত হয়ে যে বৃষ্টিপাত ঘটায় তাকে ঘূর্ণ বৃষ্টিপাত বলে।

  • বৈশিষ্ট্য: ক্রান্তীয় অঞ্চলে এটি প্রবল ঝড়-ঝঞ্ঝাসহ হয় (যেমন: আয়লা, ফাইলিন)। বঙ্গোপসাগরে একে সাইক্লোন এবং পূর্ব চিন সাগরে টাইফুন বলে। নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে এই বৃষ্টিপাত শান্তভাবে অনেকক্ষণ ধরে হয়।

  • বাষ্পীভবন: জল থেকে বাষ্পে পরিণত হওয়া।
  • ঘনীভবন: বাষ্প থেকে তরলে পরিণত হওয়া।
  • শিশিরাঙ্ক: যে তাপমাত্রায় বাতাস সম্পৃক্ত হয়।
  • রেনগজ (Raingauge): বৃষ্টিপাত মাপার যন্ত্র।
  • সমবর্ষণরেখা (Isohyet): মানচিত্রে সমান বৃষ্টিপাতযুক্ত স্থানগুলিকে যুক্তকারী রেখা।

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল: মেঘ ও বৃষ্টি (অধ্যায় ৫) প্রশ্ন ও উত্তর MCQ টেস্ট দিতে এখানে ক্লিক করুন

মেঘ ও বৃষ্টি (অষ্টম শ্রেণির ভূগোল) – এর জন্য FAQ

১. প্রশ্ন: সব মেঘ থেকে বৃষ্টি হয় না কেন?

উত্তর: আকাশে ভাসমান মেঘের সব জলকণা আকারে যথেষ্ট বড় বা ভারী হয় না। জলকণাগুলো পরস্পর যুক্ত হয়ে যতক্ষণ না বড় ও ভারী হচ্ছে, ততক্ষণ অভিকর্ষের টানে তারা নিচে নেমে আসতে পারে না। তাই আকাশে মেঘ থাকলেও সব মেঘ থেকে বৃষ্টি হয় না।

২. প্রশ্ন: আকাশে মেঘ কীভাবে সৃষ্টি হয়?

উত্তর: সূর্যের তাপে নদী বা সমুদ্রের জল বাষ্পীভূত হয়ে ওপরে ওঠে। ওপরে গিয়ে সেই বাতাস শীতল ও ঘনীভূত হয় এবং বাতাসে ভাসমান ধূলিকণাকে আশ্রয় করে ছোট ছোট জলকণায় পরিণত হয়। এই অসংখ্য ক্ষুদ্র জলকণার সমষ্টিই হলো মেঘ।

৩. প্রশ্ন: পরিচলন বৃষ্টিপাত ও শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাতের মধ্যে মূল পার্থক্য কী?

উত্তর: পরিচলন বৃষ্টিপাত মূলত সূর্যের প্রবল তাপে জল বাষ্পীভূত হয়ে সোজা ওপরে উঠে ঘনীভূত হয়ে সৃষ্টি হয়, যা নিরক্ষীয় অঞ্চলে বেশি দেখা যায়। অন্যদিকে, জলীয় বাষ্পপূর্ণ বাতাস পর্বতে বাধা পেয়ে ওপরে উঠে ঘনীভূত হয়ে যে বৃষ্টি ঘটায়, তাকে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত বলে।

৪. প্রশ্ন: শিশির এবং কুয়াশাকে অধঃক্ষেপণ বলা হয় না কেন?

উত্তর: অধঃক্ষেপণ হলো ওপরের মেঘ বা বায়ুমণ্ডল থেকে জল বা বরফকণার ভূপৃষ্ঠে ঝরে পড়া। কিন্তু শিশির বা কুয়াশা ওপর থেকে ঝরে পড়ে না, এরা ভূপৃষ্ঠের খুব কাছের জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে তৈরি হয়। তাই এদের অধঃক্ষেপণ বলা যায় না।

Please Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!