অষ্টম শ্রেণি ভূগোল: মেঘ ও বৃষ্টি (অধ্যায় ৫) প্রশ্ন ও উত্তর | Webbhugol
অষ্টম শ্রেণির ভূগোলের পঞ্চম অধ্যায় “মেঘ ও বৃষ্টি” পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পোস্টে আমরা MCQ, এক কথায় উত্তর (VSAQ), সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (SAQ) এবং ইন্টারঅ্যাকটিভ কুইজের মাধ্যমে পুরো অধ্যায়টি সহজভাবে সাজিয়েছি।
মেঘের প্রকারভেদ, বৃষ্টিপাতের ধরন, ঘূর্ণবাতসহ গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলো এখানে পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে—যা তোমার পরীক্ষার প্রস্তুতিকে আরও শক্তিশালী করবে।
অষ্টম শ্রেণি ভূগোল: মেঘ ও বৃষ্টি MCQ মক টেস্ট (Online)
Class 8 Geography Mock Test
অষ্টম শ্রেণি ভূগোল: মেঘ ও বৃষ্টি 15টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন
🎉 স্কোর: /15
📝 অষ্টম শ্রেণি ভূগোল: মেঘ ও বৃষ্টি | এক কথায় উত্তর (VSAQ) – মান ১
১. কোন প্রক্রিয়ায় জল বাষ্পে পরিণত হয়?
উত্তর: বাষ্পীভবন প্রক্রিয়ায়।
২. বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে মেঘের সৃষ্টি হয়?
উত্তর: ট্রপোস্ফিয়ারে।
৩. যে তাপমাত্রায় বায়ু সম্পৃক্ত হয়, তাকে কী বলে?
উত্তর: শিশিরাঙ্ক।
৪. কোন মেঘের অপর নাম 'Bumpy Cloud'?
উত্তর: স্ট্র্যাটোকিউমুলাস।
৫. আমাদের সবচেয়ে পরিচিত অধঃক্ষেপণ কোনটি?
উত্তর: বৃষ্টিপাত।
৬. মেঘালয়ের শিলং পর্বতের কোন ঢালে অবস্থিত?
উত্তর: অনুবাত ঢালে (বা বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চলে)।
৭. ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত পূর্ব চিন সাগরে কী নামে পরিচিত?
উত্তর: টাইফুন।
৮. মেঘমুক্ত রাতে ঘাস বা পাতার ওপর বিন্দু বিন্দু জলকণা জমে, একে কী বলে?
উত্তর: শিশির।
৯. খুব ছোটো জলকণা (০.৫ মিমি-এর কম ব্যাসযুক্ত) ভূপৃষ্ঠে ঝরে পড়লে তাকে কী বলে?
উত্তর: গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি (Drizzle)।
১০. কোন মেঘের উপরিভাগ ফুলকপির মতো দেখতে?
উত্তর: কিউমুলাস।
✍️ Class 8 মেঘ ও বৃষ্টি (অধ্যায় ৫): সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (SAQ) – মান ২
১. মেঘ কীভাবে সৃষ্টি হয়?
উত্তর: সূর্যের তাপে বা গাছপালার প্রস্বেদন প্রক্রিয়ার ফলে জল জলীয় বাষ্পে পরিণত হয়ে বাতাসে মেশে। এই হালকা বাতাস ওপরে উঠে শীতল হয় এবং ঘনীভূত হয়ে ধূলিকণা বা লবণকণাকে আশ্রয় করে ছোটো ছোটো জলকণায় পরিণত হয়। বাতাসে ভাসমান এই অসংখ্য জলকণার সমষ্টিই হলো মেঘ।
২. শিশিরাঙ্ক কাকে বলে?
উত্তর: নির্দিষ্ট উষ্ণতায় কোনো বাতাস যতটা জলীয় বাষ্প ধারণ করতে পারে, ঠিক ততটা জলীয় বাষ্প সেই বাতাসে থাকলে তাকে সম্পৃক্ত বায়ু বলে। আর যে তাপমাত্রায় বাতাস সম্পৃক্ত হয়, তাকেই ওই বায়ুর শিশিরাঙ্ক বলা হয়।
৩. আপেক্ষিক আর্দ্রতা (Relative Humidity) কী?
উত্তর: কোনো নির্দিষ্ট উষ্ণতায় নির্দিষ্ট পরিমাণ বাতাসে যে পরিমাণ জলীয় বাষ্প আছে এবং সেই উষ্ণতায় ওই বাতাসকে সম্পৃক্ত করার জন্য যে পরিমাণ জলীয় বাষ্প প্রয়োজন—এই দুইয়ের অনুপাতকেই আপেক্ষিক আর্দ্রতা বলে। একে শতকরা হিসেবে প্রকাশ করা হয়।
৪. বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল কীভাবে সৃষ্টি হয়?
উত্তর: জলীয় বাষ্পপূর্ণ বাতাস পর্বতের প্রতিবাত ঢালে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটানোর পর পর্বত অতিক্রম করে অনুবাত ঢালে পৌঁছালে তাতে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশ কমে যায়। এছাড়া নিচের দিকে নামার ফলে বায়ুর উষ্ণতা বৃদ্ধি পায় এবং বাতাস অসম্পৃক্ত হয়ে পড়ে। ফলে অনুবাত ঢালে বৃষ্টিপাত প্রায় হয় না বললেই চলে। তাই এই অঞ্চলকে বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল বলে।
৫. স্লিট (Sleet) বলতে কী বোঝো?
উত্তর: ঊর্ধ্বাকাশের মেঘ থেকে নেমে আসা জলকণা ও তুষার কণার আংশিক মিশ্রিত রূপকে স্লিট বলা হয়। এটি মূলত বৃষ্টি এবং বরফের একটি মিশ্র অবস্থা যা অধঃক্ষেপণের একটি প্রকার।
৬. শিশির ও কুয়াশাকে অধঃক্ষেপণ বলা হয় না কেন?
উত্তর: পৃথিবীর অভিকর্ষের টানে বায়ুমণ্ডল থেকে বা মেঘ থেকে জলকণা বা বরফকণা ভূপৃষ্ঠে নেমে এলে তাকে অধঃক্ষেপণ বলে। কিন্তু শিশির বা কুয়াশা মেঘ থেকে ঝরে পড়ে না; এরা ভূপৃষ্ঠের খুব কাছাকাছি থাকা জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে সৃষ্টি হয়। তাই এদের অধঃক্ষেপণ বলা যায় না।
৭. পরিচলন বৃষ্টিপাত কাকে বলে?
উত্তর: প্রচণ্ড সূর্যের তাপে জলভাগের জল বাষ্পীভূত হয়ে হালকা বাতাসে পরিণত হয়ে সোজা ওপরের দিকে উঠে যায়। ওপরের শীতল বাতাসের সংস্পর্শে এসে এই জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে জলকণায় পরিণত হয় এবং বৃষ্টিরূপে সোজাসুজি ভূপৃষ্ঠে ঝরে পড়ে। এই ধরনের বৃষ্টিকে পরিচলন বৃষ্টিপাত বলে। নিরক্ষীয় অঞ্চলে এই বৃষ্টি বেশি হয়।
৮. বজ্রমেঘ বা কিউমুলোনিম্বাস মেঘের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর: * এই মেঘের উল্লম্ব বিস্তার খুব বেশি হয় (ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি থেকে প্রায় ১২০০০ ফুট পর্যন্ত)।
- অনেকটা গম্বুজের মতো দেখতে এই মেঘ কালো রঙের হয় এবং এতে বজ্রপাতসহ ভীষণ ঝড়বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টি হয়।
৯. ঘূর্ণবাতের চোখ (Eye of Cyclone) কী?
উত্তর: ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে বায়ুর চাপ সব থেকে কম থাকে, অর্থাৎ এটি একটি গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্র। ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রস্থলের এই শান্ত এবং প্রায় মেঘমুক্ত পরিষ্কার আবহাওয়াযুক্ত অঞ্চলটিকে 'ঘূর্ণবাতের চোখ' বলা হয়।
১০. শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাতে 'শৈল' এবং 'উৎক্ষেপ' কথার অর্থ কী?
উত্তর: 'শৈল' কথার অর্থ হলো পর্বত বা পাহাড়, আর 'উৎক্ষেপ' কথার অর্থ হলো ওপরে ওঠা। জলীয় বাষ্পপূর্ণ বাতাস পর্বতে বাধা পেয়ে ওপরের দিকে উৎক্ষিপ্ত হয়ে যে বৃষ্টিপাত ঘটায়, তাকেই শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত বলে।
📝মেঘ ও বৃষ্টি প্রশ্ন-উত্তর (MCQ, SAQ) - FAQ
১. প্রশ্ন: অষ্টম শ্রেণির ভূগোল পঞ্চম অধ্যায় (মেঘ ও বৃষ্টি) থেকে পরীক্ষায় কেমন প্রশ্ন আসে?
উত্তর: এই অধ্যায় থেকে পরীক্ষায় সাধারণত মেঘের শ্রেণিবিভাগ (যেমন- বজ্রমেঘ কোনটি), বৃষ্টিপাতের প্রকারভেদ, বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল কীভাবে সৃষ্টি হয় এবং আপেক্ষিক আর্দ্রতা ও শিশিরাঙ্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো থেকে ছোট (MCQ) ও ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন আসে।
২. প্রশ্ন: বজ্রমেঘ বা Thunder Cloud কোন মেঘকে বলা হয় এবং কেন?
উত্তর: 'কিউমুলোনিম্বাস' মেঘকে বজ্রমেঘ বলা হয়। কারণ, গম্বুজের মতো দেখতে ঘন কালো এই মেঘ থেকে প্রবল বজ্রপাতসহ ভীষণ ঝড়বৃষ্টি হয় এবং অনেক সময় শিলাবৃষ্টিও হতে দেখা যায়।
৩. প্রশ্ন: বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল (Rain Shadow Region) বলতে কী বোঝায়? একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর: পর্বতের যে ঢালে (অনুবাত ঢাল) বাতাস পৌঁছানোর পর তাতে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ কমে যায় এবং উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে বৃষ্টিপাত প্রায় হয় না বললেই চলে, তাকে বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল বলে। যেমন: ভারতের শিলং শহর।
৪. প্রশ্ন: ম্যাকারেল আকাশ (Mackerel Sky) কোন মেঘে দেখা যায়?
উত্তর: সিরোকিউমুলাস মেঘে আকাশ ছেয়ে গেলে তাকে অনেকটা ম্যাকারেল মাছের পিঠের মতো দেখতে লাগে। তাই একে ম্যাকারেল আকাশ বলা হয়। এটি সাধারণত পরিষ্কার আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেয়।
