CLASS VI-VIII GEOGRAPHYClass 8CLASS VI-VIII

বায়ুচাপ বলয় ও বায়ুপ্রবাহ প্রশ্ন উত্তর | Class 8 Geography MCQ + SAQ

প্রিয় অষ্টম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা, ওয়েবভূগোল-এ তোমাদের স্বাগত!

​ভূগোলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও মজার একটি অধ্যায় হলো ‘বায়ুচাপ বলয় ও বায়ুপ্রবাহ’। আগের পোস্টে আমরা এই অধ্যায়ের মূল বিষয়গুলো খুব সহজে গল্পের মতো করে বুঝে নিয়েছি। কিন্তু শুধু বুঝলেই তো হবে না, পরীক্ষায় ভালো ফল করতে হলে চাই সঠিক প্রশ্নোত্তরের নিখুঁত প্রস্তুতি!

​তাই তোমাদের স্কুলের পরীক্ষার কথা মাথায় রেখে আজকের এই পোস্টে আমরা আলোচনা করব এই অধ্যায় থেকে বাছাই করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ১৫টি MCQ (ব্যাখ্যাসহ), এক কথায় উত্তর (SAQ) এবং ২ নম্বরের সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর। এই প্রশ্নগুলো ভালোভাবে প্র্যাকটিস করলে পরীক্ষায় যেমন কমন পাবে, তেমনি পুরো অধ্যায়টি সম্পর্কে তোমাদের ধারণাও একদম পরিষ্কার হয়ে যাবে।

​খাতা-পেন নিয়ে বসে পড়ো, চলো শুরু করা যাক!

Table of Contents

CLASS 8 GEOGRAPHY MOCK TEST

অষ্টম শ্রেণির ভূগোল: বায়ুচাপ বলয় ও বায়ুপ্রবাহ 15টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন

বায়ুচাপ বলয় ও বায়ুপ্রবাহ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা ও কনসেপ্ট ক্লিয়ার করতে মূল পোস্টটি পড়ুন - [এখানে ক্লিক করো]"

১. পৃথিবীর একমাত্র কোন গ্রহে বায়ুর চাদর বা বায়ুমণ্ডল রয়েছে?

উত্তর: পৃথিবী।

২. বায়ুপ্রবাহের প্রধান কারণ কী?

উত্তর: দুটি অঞ্চলের মধ্যে বায়ুচাপের পার্থক্য (উচ্চচাপ ও নিম্নচাপ)।

৩. 'ডোলড্রামস' কথার অর্থ কী?

উত্তর: শান্তাবস্থা।

৪. ফেরেলের সূত্রটি কে আবিষ্কার করেন?

উত্তর: মার্কিন আবহবিদ উইলিয়ম ফেরেল।

৫. পৃথিবীর অধিকাংশ উষ্ণ মরুভূমি মহাদেশের কোন দিকে সৃষ্টি হয়েছে?

উত্তর: মহাদেশের পশ্চিম দিকে।

৬. ৫০° দক্ষিণ অক্ষরেখায় প্রবাহিত পশ্চিমা বায়ুকে কী বলে?

উত্তর: ক্রোধোন্মত্ত পঞ্চাশ (Howling Fifties)।

৭. স্থলবায়ু কখন প্রবল বেগে প্রবাহিত হয়?

উত্তর: ভোররাতের দিকে।

৮. রাত্রিবেলায় পর্বতের ঢাল বেয়ে নেমে আসা শীতল বায়ুকে কী বলে?

উত্তর: ক্যাটাবেটিক বায়ু (Katabatic Wind) বা পার্বত্য বায়ু।

৯. রকি পার্বত্য অঞ্চলে প্রবাহিত স্থানীয় বায়ুটির নাম কী?

উত্তর: চিনুক।

১০. প্রতীপ ঘূর্ণবাত (Anti Cyclone) কেমন আবহাওয়া নির্দেশ করে?

উত্তর: মেঘমুক্ত, শুষ্ক ও রোদ ঝলমলে শান্ত আবহাওয়া।

১. বায়ুচাপ বলয় কাকে বলে?

উত্তর: পৃথিবীপৃষ্ঠের ওপর নির্দিষ্ট দূরত্বে সমধর্মী (উচ্চচাপ বা নিম্নচাপযুক্ত) বায়ুস্তর অনুভূমিকভাবে প্রায় হাজার কিলোমিটার জুড়ে পুরো পৃথিবীকে কয়েকটি বলয়ের বা চাদরের আকারে বেষ্টন করে আছে। একেই বায়ুচাপ বলয় (Pressure Belts) বলা হয়। পৃথিবীতে মোট ৭টি বায়ুচাপ বলয় আছে।

২. কোরিওলিস বল বলতে কী বোঝো?

উত্তর: পৃথিবীর আবর্তন বা ঘূর্ণন গতির কারণে পৃথিবীপৃষ্ঠের যেকোনো স্বচ্ছন্দ ও গতিশীল বস্তুর (যেমন- বায়ুপ্রবাহ, সমুদ্রস্রোত) ওপর একধরনের দিকবিক্ষেপকারী বল কাজ করে, যা বস্তুগুলোর গতিপথ বেঁকিয়ে দেয়। এই বলকেই কোরিওলিস বল (Coriolis force) বলে।

কোরিওলিস বল ও ফেরেলের সূত্রের ইনফোগ্রাফিক যেখানে পৃথিবীর ঘূর্ণনের কারণে বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তন (উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধে বাঁদিকে বেঁকে যাওয়া) চিত্রের মাধ্যমে দেখানো হয়েছে
পৃথিবীর ঘূর্ণনের প্রভাবে কোরিওলিস বল কীভাবে বায়ুপ্রবাহকে বেঁকিয়ে দেয় এবং ফেরেলের সূত্র অনুযায়ী উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে বায়ুর দিক পরিবর্তন—সহজ চিত্রে ব্যাখ্যা

৩. ফেরেলের সূত্রটি লেখো।

উত্তর: মার্কিন আবহবিদ উইলিয়ম ফেরেলের মতে, কোরিওলিস বলের প্রভাবে বায়ু উচ্চচাপ থেকে নিম্নচাপের দিকে সোজাপথে প্রবাহিত না হয়ে দিক পরিবর্তন করে। উত্তর গোলার্ধে বায়ু তার প্রবাহের ডানদিকে বেঁকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে তার প্রবাহের বাঁদিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়। এটিই ফেরেলের সূত্র।

৪. অশ্ব অক্ষাংশ (Horse Latitudes) কী?

উত্তর: উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে ২৫° থেকে ৩৫° অক্ষরেখার মধ্যবর্তী কর্কটীয় ও মকরীয় শান্তবলয়কে অশ্ব অক্ষাংশ বলে। ষোড়শ শতকে এই শান্তবলয়ে পালতোলা জাহাজগুলো গতিহীন হয়ে পড়ত। তখন পানীয় জল ও খাবারের সংকট এড়াতে এবং জাহাজের ভার কমাতে নাবিকরা কিছু জীবন্ত ঘোড়াকে আটলান্টিক মহাসাগরে ফেলে দিত। তাই এই নাম।

৫. বাইস ব্যালট সূত্রটি কী?

উত্তর: ডাচ আবহবিদ বাইস ব্যালট ১৮৫৭ সালে বায়ুচাপ ও বায়ুপ্রবাহের মধ্যে একটি সূত্র দেন। তাঁর মতে, উত্তর গোলার্ধে বায়ু যে দিক থেকে প্রবাহিত হচ্ছে, সেদিকে পিছন ফিরে দাঁড়ালে ডানদিকে বায়ুর উচ্চচাপ এবং বাঁদিকে বায়ুর নিম্নচাপ থাকে। দক্ষিণ গোলার্ধে এর ঠিক বিপরীত অবস্থা দেখা যায়।

৬. ITCZ বা আন্তঃক্রান্তীয় অভিসরণ অঞ্চল কাকে বলে?

উত্তর: নিরক্ষীয় অঞ্চলে (০° থেকে ৫° অক্ষাংশ) উত্তর-পূর্ব আয়ন বায়ু এবং দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ু এসে পরস্পর মিলিত হয়। আয়ন বায়ুদ্বয়ের এই মিলনস্থলকেই আন্তঃক্রান্তীয় অভিসরণ অঞ্চল বা ITCZ (Inter Tropical Convergence Zone) বলা হয়। এটি মূলত নিরক্ষীয় শান্তবলয়েরই অপর নাম।

ITCZ বা আন্তঃক্রান্তীয় অভিসরণ অঞ্চলের ইনফোগ্রাফিক যেখানে নিরক্ষীয় অঞ্চলে উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ুর মিলন, ঊর্ধ্বমুখী বায়ুপ্রবাহ ও মেঘ সৃষ্টি দেখানো হয়েছে
নিরক্ষীয় অঞ্চলে (0°–5° অক্ষাংশ) উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ুর মিলনে গঠিত ITCZ—যেখানে ঊর্ধ্বমুখী বায়ুপ্রবাহ, মেঘ ও বৃষ্টিপাত সৃষ্টি হয়

৭. সমুদ্রবায়ু ও স্থলবায়ুর মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর: * প্রবাহের সময়: সমুদ্রবায়ু দিনের বেলায় প্রবাহিত হয়, অন্যদিকে স্থলবায়ু রাতের বেলায় (বিশেষ করে ভোররাতে) প্রবাহিত হয়।

  • প্রবাহের দিক: সমুদ্রবায়ু সমুদ্র থেকে স্থলভাগের দিকে বয় এবং স্থলবায়ু স্থলভাগ থেকে সমুদ্রের দিকে বয়।

৮. অ্যানাবেটিক ও ক্যাটাবেটিক বায়ু কাকে বলে?

অ্যানাবেটিক ও ক্যাটাবেটিক বায়ুর ইনফোগ্রাফিক যেখানে দিনের বেলায় উষ্ণ বায়ু পাহাড়ের ঢাল বেয়ে উপরে ওঠা এবং রাতে ঠান্ডা বায়ু নিচে নেমে আসা চিত্রের মাধ্যমে দেখানো হয়েছে
দিনে পর্বতের ঢাল উত্তপ্ত হয়ে উষ্ণ বায়ু উপরে ওঠে (অ্যানাবেটিক বায়ু) এবং রাতে ঠান্ডা বায়ু নিচে নেমে আসে (ক্যাটাবেটিক বায়ু)—সহজ চিত্রে ব্যাখ্যা

উত্তর: * অ্যানাবেটিক বায়ু: দিনের বেলায় পর্বতের ঢাল বেশি উত্তপ্ত হওয়ায় সেখানকার বায়ু উষ্ণ ও হালকা হয়ে পর্বতের ঢাল বরাবর নিচ থেকে ওপরের দিকে ওঠে। একে অ্যানাবেটিক বা উপত্যকা বায়ু বলে।

  • ক্যাটাবেটিক বায়ু: রাতের বেলায় পর্বতের ঢালের বায়ু দ্রুত শীতল ও ভারী হয়ে ঢাল বেয়ে ওপর থেকে নিচের উপত্যকায় নেমে আসে। একে ক্যাটাবেটিক বা পার্বত্য বায়ু বলে।

৯. ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘূর্ণবাতের মধ্যে মূল পার্থক্য কী?

উত্তর: ঘূর্ণবাতের ক্ষেত্রে কেন্দ্রে গভীর নিম্নচাপ এবং বাইরে উচ্চচাপ থাকে, যার ফলে প্রবল ঝড়-বৃষ্টি হয়। অপরদিকে, প্রতীপ ঘূর্ণবাতের ক্ষেত্রে কেন্দ্রে উচ্চচাপ এবং বাইরের দিকে নিম্নচাপ থাকে, যা শান্ত, শুষ্ক ও মেঘমুক্ত রোদ ঝলমলে আবহাওয়া নির্দেশ করে।

১০. মহাদেশের পশ্চিমাংশে পৃথিবীর অধিকাংশ উষ্ণ মরুভূমির সৃষ্টি হয়েছে কেন?

উত্তর: ক্রান্তীয় অঞ্চলে আয়ন বায়ু মহাদেশগুলোর পূর্ব উপকূল দিয়ে প্রবেশ করে পশ্চিমাংশে বয়ে যায়। পূর্ব দিক থেকে পশ্চিমে আসার পথে এই বায়ু ক্রমশ উষ্ণ হয় এবং এর জলীয় বাষ্প ধারণের ক্ষমতা বেড়ে যায়। ফলে মহাদেশের পূর্ব উপকূলে বৃষ্টিপাত ঘটালেও, পশ্চিমাংশে পৌঁছাতে পৌঁছাতে বায়ু শুষ্ক হয়ে পড়ে ও আর বৃষ্টিপাত ঘটাতে পারে না। এই কারণেই মহাদেশের পশ্চিমাংশে সাহারা, কালাহারির মতো বড় বড় উষ্ণ মরুভূমির সৃষ্টি হয়েছে।

Class 8 বায়ুচাপ বলয় ও বায়ুপ্রবাহের উপর বিস্তারিত আলোচনা পেতে Click Here

❓ FAQ: বায়ুচাপ বলয় ও বায়ুপ্রবাহ (অষ্টম শ্রেণি ভূগোল)

১. বায়ুচাপ বলয় কেন গুরুত্বপূর্ণ?

বায়ুচাপ বলয় পৃথিবীর আবহাওয়া, জলবায়ু এবং বায়ুপ্রবাহের ধরণ নির্ধারণ করে, যা বৃষ্টি, ঝড় এবং মরুভূমি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

২. বায়ু সবসময় কোন দিক থেকে কোন দিকে প্রবাহিত হয়?

বায়ু সর্বদা উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়।

৩. ডোলড্রামস অঞ্চলকে শান্তবলয় বলা হয় কেন?

এখানে বায়ুর অনুভূমিক গতি খুব কম থাকে, ফলে প্রায় স্থির বা শান্ত অবস্থা বিরাজ করে।

৪. কোরিওলিস বল বায়ুর গতিপথকে কীভাবে প্রভাবিত করে?

এটি বায়ুকে সোজা পথে চলতে না দিয়ে উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাঁদিকে বেঁকিয়ে দেয়।

৫. ITCZ অঞ্চল কেন গুরুত্বপূর্ণ?

এটি বৃষ্টিপাতের প্রধান অঞ্চল এবং মৌসুমি বায়ুর উৎপত্তি ও গতিপ্রকৃতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।

৬. অশ্ব অক্ষাংশে বৃষ্টি কম হয় কেন?

এখানে বায়ু নিচের দিকে নামে (subsidence), ফলে মেঘ গঠন ও বৃষ্টিপাত কম হয়।

৭. সমুদ্রবায়ু ও স্থলবায়ুর মূল কারণ কী?

স্থল ও জলের তাপগ্রহণ ও তাপত্যাগের পার্থক্যের কারণে এই বায়ুর সৃষ্টি হয়।

৮. চিনুক বায়ু কেন ‘তুষারভোজী’ নামে পরিচিত?

কারণ এটি দ্রুত তাপমাত্রা বাড়িয়ে তুষার গলিয়ে দেয়।

৯. ঘূর্ণবাত বিপজ্জনক কেন?

কারণ এতে প্রবল নিম্নচাপের ফলে ঝড়, ভারী বৃষ্টি ও ধ্বংসাত্মক আবহাওয়া সৃষ্টি হয়।

১০. প্রতীপ ঘূর্ণবাতে আকাশ পরিষ্কার থাকে কেন?

এখানে বায়ু ওপর থেকে নিচে নামে, ফলে মেঘ তৈরি হয় না।

১১. পশ্চিমা বায়ু কোন অঞ্চলে প্রবাহিত হয়?

৩০° থেকে ৬০° অক্ষাংশের মধ্যে এই বায়ু প্রবাহিত হয়।

১২. ‘Howling Fifties’ নামটি কেন দেওয়া হয়েছে?

৫০° দক্ষিণ অক্ষাংশে প্রবল গতির পশ্চিমা বায়ুর জন্য এই নামকরণ হয়েছে।

১৩. মরুভূমি বেশি পশ্চিম উপকূলে কেন দেখা যায়?

বায়ু পূর্বে বৃষ্টি ঘটিয়ে পশ্চিমে এসে শুষ্ক হয়ে যায়, ফলে মরুভূমি তৈরি হয়।

১৪. অ্যানাবেটিক বায়ু কখন সৃষ্টি হয়?

দিনের বেলায়, যখন পাহাড়ের ঢাল বেশি উত্তপ্ত হয়।

১৫. ক্যাটাবেটিক বায়ু কখন সৃষ্টি হয়?

রাতের বেলায়, যখন পাহাড়ের ঢাল দ্রুত ঠান্ডা হয়ে যায়।

Please Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!