CLASS IX

আবহবিকার (Weathering) সম্পূর্ণ নোটস | নবম শ্রেণি ভূগোল | WBBSE

📘 এই পোস্টে যা যা পাবেন
  • আবহবিকার (Weathering) কী?
  • আবহবিকারের নিয়ামক উপাদান
  • যান্ত্রিক, রাসায়নিক ও জৈবিক আবহবিকার
  • মাটি গঠন প্রক্রিয়া
  • মৃত্তিকা ক্ষয় (Soil Erosion)
  • মৃত্তিকা সংরক্ষণের উপায়
  • WBBSE পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ নোট

প্রিয় ছাত্র ছাত্রীরা আজ ​পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের নবম শ্রেণির ভূগোল সিলেবাসের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হল‘আবহবিকার’। Webbhugol-এর এই বিশেষ আর্টিকেলে আমরা আবহবিকারের খুঁটিনাটি—এর ধারণা, বৈশিষ্ট্য, যান্ত্রিক ও রাসায়নিক আবহবিকারের পদ্ধতি এবং মৃত্তিকা সংরক্ষণ সম্পর্কে অত্যন্ত সহজ ভাষায় ও বিস্তারিতভাবে জানব। আমার আট বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা কে কাজে লাগিয়ে এই বিস্তারিত নোটটি তৈরি করা হয়েছে, এটি তোমরা ভালোভাবে খুঁটিয়ে পড়লে পরীক্ষায় তোমাদের ফলাফল ভালো হবে আশা করা যায়। চলো তাহলে দেখে নেওয়া যাক।

আবহবিকার অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ MCQ & SAQ গুলি অবশ্যই প্র্যাকটিস করে নাও।

Table of Contents

​’আবহবিকার’ কথাটি উৎপত্তি হয়েছে ‘আবহাওয়া’ থেকে। আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাদানের (যেমন—উষ্ণতা, বৃষ্টিপাত, আর্দ্রতা, তুষারপাত) প্রভাবে ভূ-পৃষ্ঠে প্রতিনিয়ত নানা ধরনের পরিবর্তন ঘটে চলেছে। এই পরিবর্তনকেই সাধারণভাবে আবহবিকার বলে।

সংজ্ঞা: আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাদান দ্বারা শিলা যান্ত্রিকভাবে চূর্ণ-বিচূর্ণ এবং রাসায়নিকভাবে বিয়োজিত হয়ে মূল শিলার ওপর অবস্থান করলে, তাকে আবহবিকার (Weathering) বলে। একে অনেকেই বিচূর্ণীভবন বা শিলাবিকারও বলেন।

বিজ্ঞানী ক্লিফোর্ড ডেভিড ওলিয়ারের মতে: “ভূ-পৃষ্ঠের ওপরে অবস্থিত শিলা বা খনিজের বিচূর্ণীভবন বা বিয়োজনের মাধ্যমে নতুন পরিবর্তিত ভৌত বা রাসায়নিক অবস্থায় পদার্থের সাময়িক স্থিতিই হল আবহবিকার।”

​আবহবিকারের ফলে শিলা কেবল ভেঙে যায়, কিন্তু সেই ভাঙা টুকরোগুলো যখন নদী, বায়ু বা হিমবাহের মতো প্রাকৃতিক শক্তির দ্বারা অন্যত্র অপসারিত হয়, তখন তাকে ক্ষয়ীভবন (Erosion) বলে।

পুঞ্জিত ক্ষয় (Mass Wasting): আবহবিকারজাত শিলাচূর্ণ যখন কোনো বাহক ছাড়াই কেবল মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নিচে নেমে আসে, তখন তাকে পুঞ্জিত ক্ষয় বলে। এর চারটি ভাগ রয়েছে—ধীর প্রবাহ, দ্রুত প্রবাহ, ধস এবং অবনমন।

নগ্নীভবন (Denudation): আবহবিকার, পুঞ্জিত ক্ষয় ও ক্ষয়ীভবনের সম্মিলিত প্রভাবে শিলাস্তরের উপরিভাগ অপসারিত হয়ে ভেতরের স্তর উন্মুক্ত হয়ে পড়লে, তাকে নগ্নীভবন বলে।

সূত্র: নগ্নীভবন = আবহবিকার + পুঞ্জিত ক্ষয় + ক্ষয়ীভবন।

​আবহবিকার প্রধানত তিনটি পদ্ধতিতে সংঘটিত হয়:

১. যান্ত্রিক আবহবিকার

২. রাসায়নিক আবহবিকার

৩. জৈবিক আবহবিকার

​১. যান্ত্রিক আবহবিকার (Mechanical Weathering)

​আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাদান অর্থাৎ উষ্ণতা, বৃষ্টিপাত, তুষার ইত্যাদির প্রভাবে শিলাসমূহ যখন ভেঙে কেবল ছোটো ছোটো খণ্ডে পরিণত হয়, অর্থাৎ ভৌত পরিবর্তন ঘটে কিন্তু খনিজের কোনো রাসায়নিক পরিবর্তন হয় না, তখন তাকে যান্ত্রিক আবহবিকার বলে। উষ্ণ মরু অঞ্চল এবং উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি।

যান্ত্রিক আবহবিকারের প্রধান পদ্ধতিসমূহ:

  • প্রস্তর-চাঁই বিচ্ছিন্নকরণ (Block Disintegration): মরু অঞ্চলে দিন ও রাতের উষ্ণতার পার্থক্যের কারণে সমসত্ত্ব শিলায় প্রসারণ ও সংকোচন ঘটে। এর ফলে শিলায় অনুভূমিক ও উল্লম্ব ফাটল তৈরি হয়ে শিলাগুলি চৌকাকারে বা চাঁইয়ের আকারে খসে পড়ে।
  • শল্কমোচন (Exfoliation): গ্রানাইট জাতীয় শিলায় তাপের কুপরিবাহিতার কারণে ওপরের স্তর নিচের স্তরের চেয়ে বেশি উত্তপ্ত ও প্রসারিত হয়। ফলে পেঁয়াজের খোসার মতো শিলার ওপরের স্তরটি খুলে আসে। একে গোলাকার আবহবিকারও বলে।
শল্কমোচন, ক্ষুদ্রকণা বিসরণ ও প্রস্তর চাঁই খণ্ডীকরণ প্রক্রিয়ার ইনফোগ্রাফিক চিত্র
চিত্র: শল্কমোচন, ক্ষুদ্রকণা বিসরণ ও প্রস্তর চাঁই খণ্ডীকরণের মাধ্যমে শিলা ভাঙনের ধাপ
  • ক্ষুদ্রকণা বিশরণ (Granular Disintegration): বিষমসত্ত্ব শিলায় (যেমন—বেলেপাথর) বিভিন্ন খনিজের তাপ গ্রহণ ক্ষমতা আলাদা হওয়ায় অসম টানের সৃষ্টি হয়। ফলে শিলাটি ফেটে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণায় পরিণত হয়। অনেক সময় পিস্তল থেকে গুলি ছোড়ার মতো শব্দ হয়।
  • তুষারের কার্য বা তুহিন খণ্ডীকরণ (Frost Wedging): উচ্চ পার্বত্য বা শীতল অঞ্চলে শিলার ফাটলে জমে থাকা জল রাতে বরফে পরিণত হলে আয়তনে ৯% বৃদ্ধি পায়। দিনের বেলা তা গলে জল হলে চাপ কমে। এই ক্রমাগত চাপের হ্রাস-বৃদ্ধির ফলে শিলা ভেঙে টুকরো হয়।

নবম শ্রেণীর ভূগোল আবহবিকার থেকে MCQ মক টেস্ট দিন 👈

​২. রাসায়নিক আবহবিকার (Chemical Weathering)

​বায়ুমণ্ডলের অক্সিজেন, কার্বন ডাইঅক্সাইড, জলীয় বাষ্প প্রভৃতির প্রভাবে শিলার ভেতরের খনিজের রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে নতুন খনিজ তৈরি হওয়াকে রাসায়নিক আবহবিকার বলে। আর্দ্র নিরক্ষীয় ও ক্রান্তীয় অঞ্চলে এটি বেশি দেখা যায়।

রাসায়নিক আবহবিকারের প্রধান পদ্ধতিসমূহ:

  • অঙ্গারযোজন (Carbonation): বৃষ্টির জলের সাথে কার্বন ডাইঅক্সাইড যুক্ত হয়ে কার্বোনিক অ্যাসিড তৈরি করে, যা চুনাপাথরকে গলিয়ে দেয়। এর ফলে কার্স্ট অঞ্চলে স্ট্যালাকটাইট ও স্ট্যালাগমাইট সৃষ্টি হয়। বিক্রিয়া: CaCO_3 + H_2O + CO_2 = Ca(HCO_3)_2
  • জারণ (Oxidation): শিলার লৌহ খনিজের সাথে অক্সিজেনের রাসায়নিক বিক্রিয়া। এর ফলে লোহায় মরচে পড়ে (লিমোনাইট সৃষ্টি হয়) এবং শিলা দুর্বল হয়ে ভেঙে যায়।
  • জলযোজন (Hydration): শিলা গঠনকারী খনিজের সাথে জল যুক্ত হয়ে নতুন খনিজ তৈরি হয়। যেমন হেমাটাইটের সাথে জল যুক্ত হয়ে লিমোনাইট তৈরি হয়।
  • আর্দ্র বিশ্লেষণ (Hydrolysis): জলের হাইড্রোজেন (H^+) এবং হাইড্রোক্সিল (OH^-) আয়ন শিলার সিলিকেট বা ফেলস্পার খনিজের সাথে বিক্রিয়া করে শিলাকে বিয়োজিত করে।
  • দ্রবণ (Solution): সৈন্ধব লবণ বা জিপসামের মতো খনিজ সরাসরি জলে দ্রবীভূত হয়ে ক্ষয়ে যায়।

​৩. জৈবিক আবহবিকার (Biological Weathering)

​উদ্ভিদ ও প্রাণীর প্রভাবে শিলার যান্ত্রিক ও রাসায়নিক পরিবর্তন।

  • উদ্ভিদ: বড়ো গাছের শিকড় শিলার ফাটলে প্রবেশ করে শিলাকে ফাটিয়ে দেয়। আবার গাছের পাতা পচে হিউমিক অ্যাসিড তৈরি হয় যা শিলার রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটায়।
  • প্রাণী: কেঁচো, ইঁদুর, খরগোশ, প্রেইরি কুকুর মাটিতে গর্ত করে শিলাকে আলগা করে।
  • মানুষ: কৃষি কাজ, রাস্তা তৈরি, খনিজ উত্তোলন ইত্যাদির মাধ্যমে মানুষ সবচেয়ে দ্রুত শিলাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে চলেছে।

আবহবিকার শর্ট প্রশ্ন ও উত্তর (MCQ & SAQ)-এ একবার চোখ বুলিয়ে নাও।”

​আবহবিকারের সবচেয়ে বড়ো অবদান হলো মাটি বা মৃত্তিকা সৃষ্টি। কঠিন শিলা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে প্রথমে ‘রেগোলিথ’ (Regolith) তৈরি করে। এই রেগোলিথের ওপর উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহাবশেষ মিশে পচে গিয়ে ‘হিউমাস’ তৈরি হয় (হিউমিফিকেশন)। এরপর বিভিন্ন খনিজকরণ এবং এলুভিয়েশন ও ইলুভিয়েশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভূ-পৃষ্ঠে সুবিন্যস্ত মৃত্তিকা পরিলেখ (Soil Profile) বা A, B ও C স্তরের সৃষ্টি হয়।

​মৃত্তিকা ক্ষয় ও তার কারণ (Soil Erosion)

​মৃত্তিকা ক্ষয় হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে বিভিন্ন প্রাকৃতিক বা মানবিক শক্তির প্রভাবে মাটির ওপরের উর্বর স্তর অপসারিত হয়।

জলের মাধ্যমে ক্ষয়:

  • চাদর ক্ষয় (Sheet Erosion): বৃষ্টির জল চাদরের মতো মাটির ওপরের সূক্ষ্ম স্তর ধুয়ে নিয়ে যায়।
  • নালি ক্ষয় (Rill Erosion): চাদর ক্ষয় দীর্ঘদিন চললে ছোটো ছোটো নালির সৃষ্টি হয়।
  • গালি ক্ষয় (Gully Erosion): ছোটো নালিগুলো চওড়া ও গভীর হয়ে গালি বা খাত তৈরি করে।
  • র‍্যাভাইন (Ravine): গালি ক্ষয়ের চরম রূপ হলো র‍্যাভাইন বা ব্যাড ল্যান্ড টপোগ্রাফি (যেমন—চম্বল উপত্যকা)।

অন্যান্য কারণ:

  • বায়ুপ্রবাহ ও হিমবাহ: শুষ্ক অঞ্চলে প্রবল বায়ুপ্রবাহের কারণে এবং পার্বত্য অঞ্চলে হিমবাহের কারণে মাটির ক্ষয় হয়।
  • মানবিক কারণ: বৃক্ষচ্ছেদন, অবৈজ্ঞানিক ঝুম চাষ, অতিরিক্ত পশুচারণ এবং অপরিকল্পিত নগরায়ন মাটির ক্ষয়কে ত্বরান্বিত করে।

​মৃত্তিকা সংরক্ষণ (Soil Conservation)

​মাটির গুণমানসহ মাটির ক্ষয় রোধ করে তার উর্বরতা বজায় রাখার পদ্ধতিই হলো মৃত্তিকা সংরক্ষণ। এটি দুটি প্রধান পদ্ধতিতে করা যায়:

১. কৃষিজ পদ্ধতি:

  • ফালি চাষ (Strip Cropping): পাহাড়ি ঢালের আড়াআড়িভাবে ফালি তৈরি করে চাষ করা, যা জলের গতিবেগ কমায়।
  • ধাপ চাষ (Terrace Farming): পার্বত্য অঞ্চলে পাহাড়ের ঢাল কেটে সিঁড়ির মতো ধাপ তৈরি করে চাষ করা, এতে মাটি ধুয়ে নিচে নামতে পারে না।
  • সমোন্নতিরেখা বরাবর চাষ (Contour Farming): একই উচ্চতা যুক্ত রেখা বরাবর আল বা বাঁধ দিয়ে চাষ করা।
  • শস্যাবর্তন (Crop Rotation): একই জমিতে বারবার এক ফসল না করে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ভিন্ন শস্যের চাষ করা, যাতে মাটির পুষ্টি বজায় থাকে।

২. কারিগরি পদ্ধতি:

  • চেক বাঁধ নির্মাণ: জলপ্রবাহের পথে ছোটো ছোটো বাঁধ দিয়ে জলের গতি কমানো।
  • বৃক্ষরোপণ ও শেল্টার বেল্ট: পতিত জমিতে প্রচুর গাছ লাগানো এবং মরু অঞ্চলে বায়ুর গতি কমাতে গাছের সারি (Shelter Belt) তৈরি করা।
  • পশুচারণ নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত পশুচারণ বন্ধ করা যাতে ঘাসের আচ্ছাদন নষ্ট না হয়।

পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের জন্য এই সম্পূর্ণ বিষয়টি পড়ার পাশাপাশি আবহবিকার অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর গুলি অবশ্যই প্র্যাকটিস করে নাও।

পোস্টটি ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করো👇

FAQ : আবহবিকার (weathering)

প্রশ্ন: আবহবিকার ও ক্ষয়ীভবনের প্রধান পার্থক্য কী?

উত্তর: আবহবিকারের ফলে ভূ-পৃষ্ঠের শিলা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে নিজের স্থানেই পড়ে থাকে, কিন্তু ক্ষয়ীভবনের ক্ষেত্রে সেই চূর্ণ-বিচূর্ণ শিলাখণ্ড নদী, বায়ু বা হিমবাহের মতো প্রাকৃতিক শক্তির মাধ্যমে অন্য স্থানে অপসারিত হয়। সংক্ষেপে, আবহবিকারে শিলার অপসারণ ঘটে না, ক্ষয়ীভবনে ঘটে।

প্রশ্ন: মরু অঞ্চলে যান্ত্রিক আবহবিকার বেশি হয় কেন?

উত্তর: মরু অঞ্চলে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য অত্যন্ত বেশি থাকে। শিলা তাপের কুপরিবাহী হওয়ায় দিনের বেলায় প্রবল গরমে প্রসারিত এবং রাতে অতিরিক্ত ঠান্ডায় সংকুচিত হয়। এই ক্রমাগত প্রসারণ ও সংকোচনের ফলে শিলার মধ্যে ফাটল ধরে এবং যান্ত্রিক আবহবিকার বেশি মাত্রায় সংঘটিত হয়।

প্রশ্ন: শল্কমোচন বা পেঁয়াজ-খোসা আবহবিকার কী?

উত্তর: যে যান্ত্রিক আবহবিকার প্রক্রিয়ায় গ্রানাইট জাতীয় সমসত্ত্ব আগ্নেয় শিলার ওপরের স্তর বাইরের তাপমাত্রার প্রভাবে পেঁয়াজের খোসার মতো গোল হয়ে খুলে বেরিয়ে আসে, তাকে শল্কমোচন (Exfoliation) বলে। একে অনেক সময় গোলাকার আবহবিকারও বলা হয়।

প্রশ্ন: নগ্নীভবন (Denudation) কাকে বলে?

উত্তর: আবহবিকার, পুঞ্জিত ক্ষয় এবং ক্ষয়ীভবন—এই তিন প্রক্রিয়ার সম্মিলিত প্রভাবে যখন ভূ-পৃষ্ঠের উপরিভাগের শিলাস্তর সম্পূর্ণরূপে অপসারিত হয়ে ভেতরের মূল শিলাস্তর উন্মুক্ত বা নগ্ন হয়ে পড়ে, তখন তাকে নগ্নীভবন বলে।

প্রশ্ন: কার্বনেশন বা অঙ্গারযোজন প্রক্রিয়ায় কীভাবে ভূমিরূপের পরিবর্তন হয়?

উত্তর: বৃষ্টির জলের সাথে বাতাসের কার্বন ডাইঅক্সাইড মিশে মৃদু কার্বোনিক অ্যাসিড তৈরি করে। এটি চুনাপাথর যুক্ত অঞ্চলে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটিয়ে ক্যালশিয়াম বাই-কার্বোনেট তৈরি করে, যা জলে সহজেই গলে যায়। এই প্রক্রিয়ার ফলেই চুনাপাথর অঞ্চলে স্ট্যালাকটাইট, স্ট্যালাগমাইট ও গুহার সৃষ্টি হয়।

প্রশ্ন: রেগোলিথ (Regolith) কী?

উত্তর: দীর্ঘকাল ধরে আবহবিকারের ফলে আদি শিলা চূর্ণ-বিচূর্ণ ও বিয়োজিত হয়ে ভূ-পৃষ্ঠের ওপর যে শিথিল এবং অসংবদ্ধ আস্তরণের সৃষ্টি করে, তাকে রেগোলিথ বলে। এটি মাটি বা মৃত্তিকা সৃষ্টির একদম প্রাথমিক পর্যায়।

প্রশ্ন: মৃত্তিকা সংরক্ষণের সবচেয়ে কার্যকরী দুটি পদ্ধতি কী কী?

উত্তর: পার্বত্য বা ঢালু অঞ্চলে মাটির ক্ষয় রোধ করার জন্য ‘ধাপ চাষ’ (Terrace Farming) এবং ‘ফালি চাষ’ (Strip Cropping) হলো দুটি অত্যন্ত কার্যকরী ও বিজ্ঞানসম্মত কৃষিজ পদ্ধতি।

Please Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!