CLASS IX

নবম শ্রেণি ভূগোল আবহবিকার প্রশ্ন উত্তর (MCQ, SAQ) | Class 9 Geography Chapter 5 Weathering

🎯 একনজরে পোস্টে যা আছে
✔ ১৫+ গুরুত্বপূর্ণ MCQ
✔ গুরুত্বপূর্ণ SAQ
✔ ২, ৩ ও ৫ নম্বর প্রশ্ন
✔ পরীক্ষার সাজেশন
✔ দ্রুত রিভিশন
✔ আবহবিকার (Weathering )MCQ Quiz

👉 এখনই MCQ Quiz দিন

নবম শ্রেণির ভূগোলের আবহবিকার (Weathering) অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ MCQ, SAQ, ২ নম্বর, ৩ নম্বর ও ৫ নম্বর প্রশ্নোত্তর এখানে সহজ ভাষায় আলোচনা করা হয়েছে। পরীক্ষায় বারবার আসা প্রশ্ন, সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা, গুরুত্বপূর্ণ সাজেশন এবং Interactive MCQ Quiz-এর মাধ্যমে সম্পূর্ণ অধ্যায়টি দ্রুত রিভিশন করতে পারবেন।

Table of Contents

নবম শ্রেণির ভূগোল: আবহবিকার (MCQ, SAQ ও গুরুত্বপূর্ণ বড়ো প্রশ্ন-উত্তর)

​নবম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার (যেমন- WBCS, WBPSC) জন্য ‘আবহবিকার’ অধ্যায়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তোমাদের প্রস্তুতির সুবিধার্থে এই পোস্টে আমরা বাছাই করা ১৫টি MCQ (ব্যাখ্যাসহ), ১০টি এককথায় উত্তর (SAQ), ১০টি ২ নম্বরের প্রশ্ন এবং পরীক্ষায় আসার মতো কয়েকটি ৫ নম্বরের ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন-উত্তর নিয়ে আলোচনা করেছি।

আবহবিকার অধ্যায়ের Short Notes দেখুন 👈

১. আবহবিকার কথাটি সর্বপ্রথম কে ব্যবহার করেন?

(ক) আর্থার হোমস (খ) থর্নবেরি (গ) জি.কে. গিলবার্ট (ঘ) ডেভিস

উত্তর: (গ) জি.কে. গিলবার্ট

(ব্যাখ্যা: ভূতাত্ত্বিক জি.কে. গিলবার্ট সর্বপ্রথম আবহাওয়ার উপাদান দ্বারা শিলা ভাঙার এই প্রক্রিয়াকে বোঝাতে ‘আবহবিকার’ বা Weathering শব্দটি ব্যবহার করেন।)

২. শল্কমোচন প্রক্রিয়াটি কোন শিলায় সবচেয়ে বেশি কার্যকরী?

(ক) ব্যাসল্ট (খ) গ্রানাইট (গ) বেলেপাথর (ঘ) চুনাপাথর

উত্তর: (খ) গ্রানাইট

(ব্যাখ্যা: গ্রানাইট একটি সমসত্ত্ব শিলা। তাপের প্রভাবে এই শিলার ওপরের স্তর পেয়াঁজ বা বাকলের মতো খুলে আসে, তাই এতে শল্কমোচন বেশি হয়।)

৩. লোহায় মরচে পড়া কোন রাসায়নিক আবহবিকারের উদাহরণ?

(ক) কার্বনেশন (খ) জারণ (গ) জলযোজন (ঘ) আর্দ্র বিশ্লেষণ

উত্তর: (খ) জারণ (Oxidation)

(ব্যাখ্যা: শিলা মধ্যস্থ লৌহ খনিজের সাথে অক্সিজেনের রাসায়নিক বিক্রিয়াকে জারণ বলে। এর ফলেই লোহায় মরচে ধরে লিমোনাইট সৃষ্টি হয়।)

৪. ক্ষুদ্রকণা বিশরণ প্রধানত কোন প্রকৃতির শিলায় ঘটে?

(ক) সমসত্ত্ব শিলায় (খ) বিষমসত্ত্ব শিলায় (গ) পাললিক শিলায় (ঘ) রূপান্তরিত শিলায়

উত্তর: (খ) বিষমসত্ত্ব শিলায়

(ব্যাখ্যা: বেলেপাথরের মতো বিষমসত্ত্ব শিলায় খনিজগুলোর তাপ গ্রহণ ও বর্জন ক্ষমতা আলাদা হওয়ায় অসম টানের সৃষ্টি হয় এবং শিলাটি ক্ষুদ্র কণায় ফেটে যায়।)

৫. কার্বনেশন বা অঙ্গারযোজন প্রক্রিয়ায় চুনাপাথর কীসে পরিণত হয়?

(ক) ক্যালশিয়াম সালফেট (খ) ক্যালশিয়াম বাই-কার্বোনেট (গ) ক্যালশিয়াম সিলিকেট (ঘ) ক্যালশিয়াম ক্লোরাইড

উত্তর: (খ) ক্যালশিয়াম বাই-কার্বোনেট

(ব্যাখ্যা: বৃষ্টির জল ও কার্বন ডাইঅক্সাইড মিলে কার্বোনিক অ্যাসিড তৈরি করে, যা অদ্রবণীয় চুনাপাথরকে দ্রবণীয় ক্যালশিয়াম বাই-কার্বোনেটে পরিণত করে।)

৬. তুষারের কার্য বা তুহিন খণ্ডীকরণ কোথায় বেশি দেখা যায়?

(ক) নিরক্ষীয় অঞ্চলে (খ) উচ্চ পার্বত্য বা শীতল অঞ্চলে (গ) উষ্ণ মরু অঞ্চলে (ঘ) মৌসুমি অঞ্চলে

উত্তর: (খ) উচ্চ পার্বত্য বা শীতল অঞ্চলে

(ব্যাখ্যা: শীতল জলবায়ুতে ফাটলের মধ্যে জমে থাকা জল রাতে বরফে পরিণত হলে আয়তনে ৯% বেড়ে শিলাকে ফাটিয়ে দেয়।)

৭. রেগোলিথ কী?

(ক) শক্ত শিলা (খ) হিউমাস (গ) মৃত্তিকা সৃষ্টির প্রাথমিক স্তর (ঘ) খনিজ লবণ

উত্তর: (গ) মৃত্তিকা সৃষ্টির প্রাথমিক স্তর

(ব্যাখ্যা: আবহবিকারের ফলে আদি শিলা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যে শিথিল আস্তরণ তৈরি করে, তাকেই রেগোলিথ বলে। এটি মাটির ভিত্তি।)

৮. জিপসাম কোন প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়?

(ক) হাইড্রেশন বা জলযোজন (খ) সলিউশন (গ) অক্সিডেশন (ঘ) কার্বনেশন

উত্তর: (ক) হাইড্রেশন বা জলযোজন

(ব্যাখ্যা: ক্যালশিয়াম সালফেটের সঙ্গে জল যুক্ত হয়ে নতুন খনিজ জিপসাম তৈরি করে।)

৯. রাসায়নিক আবহবিকার সবচেয়ে বেশি দেখা যায় কোন জলবায়ু অঞ্চলে?

(ক) উষ্ণ মরু (খ) তুন্দ্রা (গ) আর্দ্র নিরক্ষীয় (ঘ) ভূমধ্যসাগরীয়

উত্তর: (গ) আর্দ্র নিরক্ষীয়

(ব্যাখ্যা: রাসায়নিক আবহবিকারের জন্য প্রচুর উষ্ণতা এবং বৃষ্টির জল প্রয়োজন, যা আর্দ্র নিরক্ষীয় অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়।)

১০. ফালি চাষ বা ধাপ চাষ মূলত কীসের জন্য করা হয়?

(ক) ফলনের জন্য (খ) মৃত্তিকা সংরক্ষণের জন্য (গ) জল সংরক্ষণের জন্য (ঘ) বায়ুপ্রবাহ রোধে

উত্তর: (খ) মৃত্তিকা সংরক্ষণের জন্য

(ব্যাখ্যা: পাহাড়ের ঢালে ফালি ও ধাপ কেটে চাষ করলে জলের গতিবেগ কমে যায়, ফলে মাটির ক্ষয় রোধ করা সম্ভব হয়।)

১১. নগ্নীভবন (Denudation) বলতে কী বোঝায়?

(ক) আবহবিকার + ক্ষয়ীভবন (খ) আবহবিকার + পুঞ্জিত ক্ষয় + ক্ষয়ীভবন (গ) কেবল ক্ষয়ীভবন (ঘ) আবহবিকার + অবক্ষেপণ

উত্তর: (খ) আবহবিকার + পুঞ্জিত ক্ষয় + ক্ষয়ীভবন

(ব্যাখ্যা: এই তিন প্রক্রিয়ার মিলিত প্রভাবে ভূ-পৃষ্ঠের ওপরের শিলা অপসারিত হয়ে ভেতরের স্তর উন্মুক্ত হলে তাকে নগ্নীভবন বলে।)

১২. উদ্ভিদের শিকড়ের সাহায্যে শিলা ফেটে যাওয়া কোন ধরনের আবহবিকার?

(ক) যান্ত্রিক (খ) রাসায়নিক (গ) জৈব-যান্ত্রিক (ঘ) জৈব-রাসায়নিক

উত্তর: (গ) জৈব-যান্ত্রিক

(ব্যাখ্যা: গাছের শিকড় শিলার ফাটলে ঢুকে ভৌতভাবে চাপ দিয়ে শিলাকে ফাটায়, তাই এটি জৈব-যান্ত্রিক আবহবিকার।)

১৩. ‘Tor’ বা টর ভূমিরূপ সৃষ্টি হয় কোন আবহবিকারের ফলে?

(ক) ক্ষুদ্রকণা বিশরণ (খ) তুষার খণ্ডীকরণ (গ) শল্কমোচন (ঘ) দ্রবণ

উত্তর: (গ) শল্কমোচন

(ব্যাখ্যা: আর্দ্র অঞ্চলে গ্রানাইট শিলায় শল্কমোচন প্রক্রিয়ায় গোলাকার গণ্ডশিলাগুলো পরপর সেজে টর গঠন করে।)

১৪. ব্যাডল্যান্ড (Bad Land) টপোগ্রাফি সৃষ্টির প্রধান কারণ কী?

(ক) চাদর ক্ষয় (খ) বায়ু ক্ষয় (গ) গালি ও র‍্যাভাইন ক্ষয় (ঘ) ধস

উত্তর: (গ) গালি ও র‍্যাভাইন ক্ষয়

(ব্যাখ্যা: উদ্ভিদহীন অঞ্চলে বৃষ্টির জলের তীব্র প্রবাহে গভীর খাত বা র‍্যাভাইন তৈরি হয়ে এই অনুর্বর ভূমিরূপের সৃষ্টি হয়।)

১৫. হিমশীতল পার্বত্য অঞ্চলে তুষার ও জলের ক্রিয়ায় সৃষ্ট তীক্ষ্ণ প্রস্তরখন্ডকে কী বলে?

(ক) টর (খ) ইনসেলবার্জ (গ) স্ক্রি বা ট্যালাস (ঘ) ডোলাইন

উত্তর: (গ) স্ক্রি বা ট্যালাস

(ব্যাখ্যা: তুহিন খণ্ডীকরণের ফলে পাহাড়ের পাদদেশে এই তীক্ষ্ণ কোণবিশিষ্ট শিলাখন্ড জমা হয়।)

আবহবিকার সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

​১. প্রশ্ন: আবহবিকার ও ক্ষয়ীভবনের পরিপূরক প্রক্রিয়াটিকে কী বলে?

উত্তর: নগ্নীভবন।

​২. প্রশ্ন: সমসত্ত্ব শিলায় কোন যান্ত্রিক আবহবিকার বেশি হয়?

উত্তর: শল্কমোচন (Exfoliation)।

​৩. প্রশ্ন: মৃত্তিকা পরিলেখে ‘A’ স্তর থেকে ‘B’ স্তরে খনিজ পদার্থের স্থানান্তরকে কী বলে?

উত্তর: এলুভিয়েশন (Eluviation)।

​৪. প্রশ্ন: ডার্ট ব্র্যাকিং বা বোল্ডার ক্লিভিং কোথায় দেখা যায়?

উত্তর: উষ্ণ মরু অঞ্চলে।

​৫. প্রশ্ন: ফেলসেনমার বা ব্লকম্পেড কী?

উত্তর: শীতল পার্বত্য অঞ্চলে ট্যালাস বা স্ক্রি জমা হয়ে যে প্রস্তরক্ষেত্র গড়ে ওঠে, তাকে ফেলসেনমার বলে।

​৬. প্রশ্ন: রাসায়নিক আবহবিকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান কোনটি?

উত্তর: জল।

​৭. প্রশ্ন: চুনাপাথর যুক্ত অঞ্চলে গুহা সৃষ্টি হয় কোন আবহবিকারের ফলে?

উত্তর: দ্রবণ ও কার্বনেশন প্রক্রিয়ার ফলে।

​৮. প্রশ্ন: শিটিং (Sheeting) কী ধরনের আবহবিকার?

উত্তর: এটি একপ্রকার যান্ত্রিক আবহবিকার (চাপ হ্রাসের কারণে ঘটে)।

​৯. প্রশ্ন: মৃত্তিকা ক্ষয়ের ফলে সৃষ্ট একটি ভূমিরূপের নাম লেখো।

উত্তর: ব্যাডল্যান্ড টপোগ্রাফি (Badland Topography) বা র‍্যাভাইন।

​১০. প্রশ্ন: সোলাম (Solum) কী?

উত্তর: মৃত্তিকা পরিলেখের ‘A’ ও ‘B’ স্তরকে একত্রে সোলাম বলে।

Class 9 Geography আবহবিকার বিস্তারিত

📝 আবহবিকার MCQ Quiz Mock Test

নবম শ্রেণির ভূগোল পঞ্চম অধ্যায়ের প্রস্তুতি যাচাই করতে নিচের mock test দিন।

Class 9 Chapter 5( আবহবিকার )Geography Mock Test

১৫টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে নিজের প্রস্তুতি পরীক্ষা করুন

(এই উত্তরগুলো এমনভাবে লেখা হয়েছে যেন পরীক্ষার খাতায় খুব সহজেই গুছিয়ে লেখা যায়।)

১. আবহবিকারকে বিচূর্ণীভবন বলা হয় কেন?

উত্তর: আবহবিকার প্রক্রিয়ায় প্রাকৃতিক শক্তির প্রভাবে ভূ-পৃষ্ঠের উপরিভাগের কঠিন শিলা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে মূল শিলা থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় নিজের জায়গাতেই পড়ে থাকে। যেহেতু এই প্রক্রিয়ায় শিলা কেবল ভাঙে বা বিচূর্ণ হয়, কিন্তু অপসারিত হয় না, তাই একে বিচূর্ণীভবন বা শিলাবিকার বলা হয়।

২. পুঞ্জিত ক্ষয় (Mass Wasting) কী?

উত্তর: আবহবিকারের ফলে সৃষ্ট আলগা শিলাচূর্ণ যখন নদী, বায়ু বা হিমবাহের মতো কোনো বাহক ছাড়াই, কেবল পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে ওপর থেকে নিচে নেমে আসে, তখন তাকে পুঞ্জিত ক্ষয় বলে। ধস নামা হলো এর একটি অন্যতম উদাহরণ।

৩. রেগোলিথ বলতে কী বোঝো?

উত্তর: প্রাকৃতিক শক্তির দ্বারা আবহবিকারের ফলে কঠিন মূল শিলা দীর্ঘকাল ধরে ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে ভূ-পৃষ্ঠের ওপরে একটি শিথিল ও অসংবদ্ধ আস্তরণ বা স্তর তৈরি করে। মাটি সৃষ্টির এই একদম প্রাথমিক শিলাচূর্ণের স্তরটিকেই রেগোলিথ (Regolith) বলা হয়।

৪. হিউমিফিকেশন কাকে বলে?

উত্তর: মৃত্তিকা সৃষ্টির দ্বিতীয় পর্যায়ে রেগোলিথের ওপর পড়ে থাকা মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহাবশেষকে যখন বিভিন্ন অণুজীব বা ব্যাকটেরিয়া পচিয়ে একটি জটিল কালো রঙের জৈব পদার্থে পরিণত করে, তখন সেই পদ্ধতিকে হিউমিফিকেশন বলে। এর ফলেই মাটিতে উর্বর হিউমাস তৈরি হয়।

এই অধ্যায়ের বিস্তারিত আলোচনা পড়তে এখানে দেখুন👈

৫. এলুভিয়েশন ও ইলুভিয়েশনের মধ্যে মূল তফাৎ কোথায়?

উত্তর: এলুভিয়েশন হলো মাটির ওপরের স্তর (A স্তর) থেকে বৃষ্টির জলের সাথে খনিজ পদার্থ ধুয়ে নিচের দিকে নেমে যাওয়ার প্রক্রিয়া। অন্যদিকে, ইলুভিয়েশন হলো সেই ধুয়ে আসা খনিজ পদার্থগুলোর নিচের স্তরে (B স্তরে) এসে সঞ্চিত হওয়ার প্রক্রিয়া।

৬. ক্ষুদ্রকণা বিশরণে পিস্তল থেকে গুলি ছোঁড়ার মতো আওয়াজ হয় কেন?

উত্তর: মরু অঞ্চলে বেলেপাথরের মতো বিষমসত্ত্ব শিলায় থাকা বিভিন্ন খনিজের তাপ গ্রহণ ও বর্জনের ক্ষমতা আলাদা হয়। ফলে সারাদিন রোদে গরম হওয়ার পর সন্ধ্যার দিকে শিলাটি হঠাৎ ঠান্ডা হতে শুরু করলে খনিজগুলোর মধ্যে তীব্র অসম টানের সৃষ্টি হয়। এর ফলে শিলা প্রচণ্ড শব্দ করে ফেটে যায়, যা শুনতে অনেকটা বন্দুকের গুলির মতো লাগে।

৭. চাঁচন তল বা Etch plain কী?

উত্তর: ক্রান্তীয় আর্দ্র জলবায়ু অঞ্চলে গভীর আবহবিকারের ফলে নিচের কঠিন শিলার ওপর রেগোলিথের মোটা আস্তরণ সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে বৃষ্টির জল বা জলপ্রবাহের কারণে ওই নরম রেগোলিথ স্তর ধুয়ে গেলে নিচের যে সমতল কঠিন শিলাপৃষ্ঠ বেরিয়ে পড়ে, তাকেই চাঁচন তল বলে।

৮. কার্স্ট অঞ্চলে রাসায়নিক আবহবিকার বেশি হয় কেন?

উত্তর: কার্স্ট অঞ্চল মূলত চুনাপাথর দিয়ে গঠিত। চুনাপাথরের প্রধান উপাদান ক্যালসিয়াম কার্বনেট বৃষ্টির জলের সাথে মিশে থাকা কার্বনিক অ্যাসিডের সংস্পর্শে এলেই দ্রুত রাসায়নিক বিক্রিয়া (কার্বনেশন) করে গলে যায়। এই কারণেই কার্স্ট অঞ্চলে রাসায়নিক আবহবিকারের মাত্রা সবচেয়ে বেশি।

৯. শিটিং (Sheeting) এবং ফ্লেকিং (Flaking) বলতে কী বোঝো?

উত্তর:

  • শিটিং: ওপরের শিলাস্তরের ভার বা চাপ কমে গেলে নিচের শিলা প্রসারিত হয় এবং অনুভূমিক ফাটল ধরে শিলাস্তর সমান্তরাল পাতার মতো বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
  • ফ্লেকিং: পাললিক শিলায় বৃষ্টির জল ঢুকে ফুলে ওঠার পর আবার তাপে শুকিয়ে গেলে শিলাস্তর ক্ষুদ্র খণ্ডে ভেঙে যায়, একে ফ্লেকিং বলে।

১০. খনিজীকরণ বা মিনারেলাইজেশন কী?

উত্তর: মাটির মধ্যে থাকা জৈব হিউমাস যখন বাতাসের অক্সিজেনের প্রভাবে জারিত ও বিশ্লিষ্ট হয়ে জল, কার্বন ডাইঅক্সাইড ও বিভিন্ন সরল খনিজে ভেঙে পুনরায় মাটির সাথে মিশে যায়, সেই প্রক্রিয়াকে খনিজীকরণ বা মিনারেলাইজেশন বলে।

আবহবিকার অধ্যায়ের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা

১. আবহবিকার ও ক্ষয়ীভবনের মধ্যে পার্থক্য লেখো।

বিষয় আবহবিকার (Weathering) ক্ষয়ীভবন (Erosion)
সংজ্ঞা আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাদানের প্রভাবে শিলার নিজ স্থানে চূর্ণবিচূর্ণ ও বিয়োজিত হওয়ার প্রক্রিয়াকে আবহবিকার বলে। প্রাকৃতিক শক্তির মাধ্যমে শিলাচূর্ণের স্থানান্তরিত হওয়া এবং শিলার ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়াকে ক্ষয়ীভবন বলে।
অপসারণ শিলাচূর্ণ আদি শিলার ওপরই পড়ে থাকে, স্থানান্তরিত হয় না। শিলাচূর্ণ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বাহিত বা অপসারিত হয়।
প্রধান উপাদান বায়ুর উষ্ণতা, আর্দ্রতা, বৃষ্টিপাত, তুষারপাত ইত্যাদি। নদী স্রোত, বায়ুপ্রবাহ, সমুদ্রতরঙ্গ, হিমবাহ ইত্যাদি।
ভূমির উচ্চতা ভূমির উচ্চতা বা রূপের বিশেষ পরিবর্তন হয় না। ভূমির উচ্চতা ক্রমশ হ্রাস পায় এবং নতুন ভূমিরূপ গঠিত হয়।
নির্ভরশীলতা আবহবিকার ক্ষয়ীভবনের ওপর নির্ভরশীল নয়। ক্ষয়ীভবন আবহবিকারের ওপর নির্ভরশীল।

২. উষ্ণ মরু অঞ্চলে যান্ত্রিক আবহবিকার বেশি দেখা যায় কেন?

উত্তর: উষ্ণ মরু অঞ্চলে (যেমন সাহারা, থর) যান্ত্রিক আবহবিকারের প্রাধান্য সবথেকে বেশি হওয়ার পেছনে প্রধান তিনটি কারণ রয়েছে:

  • উষ্ণতার চরম প্রসর: মরুভূমি অঞ্চলে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য (দৈনিক প্রসর) খুব বেশি। দিনে প্রচণ্ড গরমে শিলা প্রসারিত হয় এবং রাতে চরম ঠান্ডায় সংকুচিত হয়। এই ক্রমাগত প্রসারণ ও সংকোচনের ফলে শিলার সন্ধিস্থল আলগা হয়ে ফাটল ধরে এবং শিলা ভেঙে যায়।
  • শিলার তাপের কুপরিবাহিতা: পাথর তাপের কুপরিবাহী। তাই দিনের বেলা রোদে পাথরের বাইরের স্তর যতটা গরম ও প্রসারিত হয়, ভেতরের স্তর ততটা হয় না। এই অসম প্রসারণের ফলে শিলার ভেতরের টানে যান্ত্রিকভাবে শল্কমোচন বা প্রস্তর চাঁই খণ্ডীকরণ ঘটে।
  • বৃষ্টিপাতের অভাব ও গাছপালার অভাব: মরুভূমিতে বৃষ্টিপাত প্রায় হয় না বললেই চলে, তাই রাসায়নিক আবহবিকার ঘটার সুযোগ নেই। পাশাপাশি গাছপালা না থাকায় শিলা সরাসরি সূর্যের তাপ পায়, যা যান্ত্রিক ভাঙ্গনকে তরান্বিত করে।

৩. যান্ত্রিক ও রাসায়নিক আবহবিকার এর মধ্যে পার্থক্য লেখো।

বিষয় যান্ত্রিক আবহবিকার রাসায়নিক আবহবিকার
প্রকৃতি এই প্রক্রিয়ায় শিলা কেবল ভেঙে ছোটো টুকরোয় পরিণত হয় (ভৌত পরিবর্তন)। এই প্রক্রিয়ায় শিলার খনিজের পরিবর্তন ঘটে এবং নতুন খনিজ তৈরি হয় (রাসায়নিক পরিবর্তন)।
উপাদান প্রধানত উষ্ণতার তারতম্য, তুষারপাত, চাপ হ্রাস ইত্যাদির মাধ্যমে ঘটে। প্রধানত জল, অক্সিজেন, কার্বন ডাইঅক্সাইড ও অ্যাসিডের মাধ্যমে ঘটে।
প্রভাবিত অঞ্চল উষ্ণ মরু অঞ্চল এবং উচ্চ হিমশীতল পার্বত্য অঞ্চলে বেশি দেখা যায়। ক্রান্তীয় বৃষ্টিবহুল এবং আর্দ্র নিরক্ষীয় অঞ্চলে বেশি দেখা যায়।
ফলাফল শিলার মূল রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যের কোনো বদল হয় না। প্রাথমিক খনিজ গৌণ খনিজে পরিণত হয় এবং শিলা নমনীয় হয়ে যায়।

৪. উষ্ণতার তারতম্যে যান্ত্রিক আবহবিকারের শ্রেণিবিভাগ করে যেকোনো চারটি পদ্ধতি আলোচনা করো।

উত্তর: মরু অঞ্চলে তাপমাত্রার পরিবর্তনের কারণে প্রধানত চার ধরনের যান্ত্রিক আবহবিকার দেখা যায়:

ক) প্রস্তর-চাঁই বিচ্ছিন্নকরণ (Block Disintegration):

শিলা তাপের কুপরিবাহী। দিনের বেলায় প্রবল উত্তাপে শিলা প্রসারিত হয় এবং রাতে সংকুচিত হয়। অসমসত্ত্ব শিলায় এই প্রসারণ ও সংকোচনের মাত্রা একটি নির্দিষ্ট সীমা পেরোলে শিলার মধ্যে লম্ব ও অনুভূমিক ফাটল তৈরি হয়। ফলে শিলাটি বড়ো বড়ো চাঁই বা চৌকো ব্লকের আকারে মূল শিলা থেকে খসে পড়ে।

খ) শল্কমোচন (Exfoliation):

গ্রানাইটের মতো সমসত্ত্ব শিলায় এই প্রক্রিয়া বেশি দেখা যায়। দিনের বেলায় বাইরের স্তর তাপ পেয়ে যতটা প্রসারিত হয়, ভেতরের স্তর ততটা হয় না। রাতে আবার বাইরের স্তর দ্রুত সংকুচিত হয়। এর ফলে বাইরের স্তরটি ভেতরের স্তর থেকে পেঁয়াজের খোসার মতো গোল হয়ে খুলে বেরিয়ে আসে। একে গোলাকার আবহবিকারও বলে।

যান্ত্রিক আবহবিকারের চিত্র যেখানে ক্ষুদ্রকণা বিশরণ, শল্কমোচন এবং প্রস্তরচাঁই খণ্ডীকরণ সহজ ডায়াগ্রামের মাধ্যমে দেখানো হয়েছে।
ক্ষুদ্রকণা বিশরণ, শল্কমোচন ও প্রস্তরচাঁই খণ্ডীকরণের শিক্ষামূলক চিত্র।

গ) ক্ষুদ্রকণা বিশরণ (Granular Disintegration):

বেলেপাথরের মতো বিষমসত্ত্ব শিলায় বিভিন্ন খনিজ পদার্থ থাকে, যাদের তাপ গ্রহণ ও বর্জনের হার আলাদা। ফলে উষ্ণতার তারতম্যে শিলার বিভিন্ন অংশে অসম টানের সৃষ্টি হয়। এর ফলে শিলা সশব্দে ফেটে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বালুকণায় পরিণত হয়। অনেক সময় সূর্যাস্তের পর মরুভূমিতে এই ফাটার আওয়াজ পিস্তলের গুলির মতো শোনায়।

ঘ) ডার্ট ব্র্যাকিং (Dirt Cracking):

মরু অঞ্চলে বিশালাকৃতি বোল্ডার বা পাথরের ফাটলের মধ্যে অনেক সময় বালি, ধুলো, কাঁকর ইত্যাদি জমে থাকে। দিনের বেলায় সূর্যের তাপে এগুলো প্রসারিত হয়ে ফাটলের দুই পাশের দেওয়ালে প্রচণ্ড চাপ দেয়। রাতে আবার সংকুচিত হয়। ক্রমাগত এই চাপের ফলে পাথরটি দু-টুকরো হয়ে ফেটে যায়।

​৫. মৃত্তিকা সংরক্ষণ বলতে কী বোঝো? মৃত্তিকা সংরক্ষণের উপায়গুলি লেখো।

উত্তর: মৃত্তিকা সংরক্ষণ (Soil Conservation):

মাটির উপরিভাগের উর্বর স্তরের ক্ষয় রোধ করে, তার উর্বরতা শক্তি ধরে রাখা এবং মাটিকে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে ব্যবহার করার সামগ্রিক ব্যবস্থা বা পদ্ধতিকেই মৃত্তিকা সংরক্ষণ বলা হয়।

মৃত্তিকা সংরক্ষণের প্রধান উপায়গুলি হলো:

  • ধাপ চাষ (Terrace Farming): পার্বত্য বা পাহাড়ি ঢালু জমিকে সিঁড়ির মতো ধাপে ধাপে কেটে সমতল করে চাষ করা হয়। এর ফলে বৃষ্টির জল সরাসরি গড়িয়ে নিচে নামতে পারে না এবং মাটি ক্ষয় রোধ হয়।
  • ফালি চাষ (Strip Cropping): পাহাড়ের ঢালের আড়াআড়িভাবে ফালি বা স্ট্রিপ তৈরি করে শস্যের চাষ করা হয়। এটি জলপ্রবাহের পথে বাধা সৃষ্টি করে মাটির ক্ষয় কমায়।
  • সমোন্নতি রেখা বরাবর চাষ (Contour Farming): ঢালু অঞ্চলে সমান উচ্চতা যুক্ত জায়গাগুলোকে বরাবর আল বা ছোট বাঁধ দিয়ে চাষ করা হয়। এতে বৃষ্টির জল জমিতে শোষিত হওয়ার সুযোগ পায় এবং ভূমিক্ষয় কমে।
  • বৃক্ষরোপণ ও শেল্টার বেল্ট: পতিত জমিতে প্রচুর পরিমাণে গাছ লাগাতে হবে। মরুভূমি অঞ্চলে বাতাসের গতি কমানোর জন্য বাতাসের গতির আড়াআড়িভাবে গাছের সারি বা 'শেল্টার বেল্ট' তৈরি করতে হবে।
  • নিয়ন্ত্রিত পশুচারণ: অতিরিক্ত পশুচারণের ফলে ঘাসের আচ্ছাদন নষ্ট হয়ে মাটি আলগা হয়ে যায়। তাই নির্দিষ্ট জায়গায় নিয়ন্ত্রিত পশুচারণের ব্যবস্থা করতে হবে।
  • চেক বাঁধ নির্মাণ (Check Dams): গালি বা খাতের মধ্যে দিয়ে জলের প্রবাহ কমানোর জন্য ছোট ছোট বাঁধ বা চেক ড্যাম তৈরি করতে হবে, যাতে পলি আটকে গিয়ে ক্ষয় কমে।

১. আবহবিকার কাকে বলে?

ভূপৃষ্ঠের শিলা নিজ স্থানে থেকে আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাদানের প্রভাবে চূর্ণ-বিচূর্ণ বা রাসায়নিকভাবে পরিবর্তিত হওয়ার প্রক্রিয়াকে আবহবিকার বলে।

২. আবহবিকার কত প্রকার?

আবহবিকার প্রধানত তিন প্রকার — যান্ত্রিক আবহবিকার, রাসায়নিক আবহবিকার এবং জৈবিক আবহবিকার।

৩. যান্ত্রিক আবহবিকার কী?

যে আবহবিকারে শিলার রাসায়নিক গঠন অপরিবর্তিত থেকে শুধুমাত্র ভৌত বা আকৃতিগত পরিবর্তন ঘটে, তাকে যান্ত্রিক আবহবিকার বলে।

৪. রাসায়নিক আবহবিকার কোথায় বেশি দেখা যায়?

উষ্ণ ও আর্দ্র নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলে রাসায়নিক আবহবিকার সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।

৫. শল্কমোচন কী?

তাপমাত্রার তারতম্যের ফলে শিলার ওপরের স্তর পেঁয়াজের খোসার মতো খসে পড়ার প্রক্রিয়াকে শল্কমোচন বলে।

৬. কার্বোনেশন বা অঙ্গারযোজন কী?

কার্বন ডাইঅক্সাইডযুক্ত বৃষ্টির জল চুনাপাথরের সঙ্গে বিক্রিয়া করে তাকে দ্রবণীয় ক্যালশিয়াম বাইকার্বোনেটে পরিণত করলে তাকে কার্বোনেশন বলে।

৭. রেগোলিথ কী?

আবহবিকারের ফলে সৃষ্ট শিথিল শিলাচূর্ণের স্তরকে রেগোলিথ বলে। এটি মৃত্তিকা গঠনের প্রাথমিক স্তর।

৮. তুহিন খণ্ডীকরণ কোথায় বেশি দেখা যায়?

উচ্চ পার্বত্য ও শীতল জলবায়ু অঞ্চলে তুহিন খণ্ডীকরণ বেশি দেখা যায়।

৯. ইনসেলবার্জ কী?

শল্কমোচনের ফলে চারপাশ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে বিচ্ছিন্নভাবে অবশিষ্ট থাকা গম্বুজাকার শিলাস্তূপকে ইনসেলবার্জ বলে।

১০. আবহবিকার ও ক্ষয়ীভবনের মধ্যে পার্থক্য কী?

আবহবিকার হলো শিলার নিজ স্থানে ভাঙন বা পরিবর্তন, আর ক্ষয়ীভবন হলো সেই ভাঙা পদার্থের অপসারণ ও স্থানান্তর।

Please Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!