নবম শ্রেণির ভূগোল চতুর্থ অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর (MCQ, SAQ) | ভূমিরূপ গঠনকারী প্রক্রিয়া ও বিভিন্ন ভূমিরূপ
✔ ১৫+ গুরুত্বপূর্ণ MCQ
✔ গুরুত্বপূর্ণ SAQ
✔ ২, ৩ ও ৫ নম্বর প্রশ্ন
✔ পরীক্ষার সাজেশন
✔ দ্রুত রিভিশন
✔ Chapter 4 MCQ Quiz
নবম শ্রেণির ভূগোল চতুর্থ অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর (MCQ)| WebBhugol
🎯 বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ) – মান: ১
১. পাত-সংস্থান তত্ত্বের (Plate Tectonic Theory) জনক কাকে বলা হয়?
ক) জে. টি. উইলসন
খ) লি পিঁচো
গ) ওয়েগনার
ঘ) আর্থার হোমস
উত্তর: খ) লি পিঁচো
ব্যাখ্যা: ১৯৬৮ সালে ফরাসি বিজ্ঞানী লি পিঁচো পাত-সংস্থান মতবাদটি সর্বসম্মতভাবে প্রকাশ করেন, তাই তাঁকেই এই তত্ত্বের জনক বলা হয়।
২. নিচের কোনটি একটি প্রাচীন ভঙ্গিল পর্বতের উদাহরণ?
ক) হিমালয়
খ) রকি
গ) আরাবল্লি
ঘ) আন্দিজ
উত্তর: গ) আরাবল্লি
ব্যাখ্যা: আরাবল্লি ভারতের তথা পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন ভঙ্গিল পর্বত, যা বর্তমানে প্রাকৃতিক শক্তির প্রভাবে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে ক্ষয়জাত পর্বতে পরিণত হয়েছে।
৩. ‘ভূমধ্যসাগরের আলোকস্তম্ভ’ বলা হয় কোন আগ্নেয়গিরিকে?
ক) ভিসুভিয়াস
খ) স্ট্রম্বলি
গ) ফুজিয়ামা
ঘ) ক্রাকাতোয়া
উত্তর: খ) স্ট্রম্বলি
ব্যাখ্যা: ইতালির লিপারি দ্বীপের স্ট্রম্বলি আগ্নেয়গিরি থেকে নিয়মিত অগ্ন্যুৎপাত হয়, যার শিখাহীন আভায় রাতের বেলা নাবিকরা দিক নির্ণয় করে।
৪. ‘পেনিপ্লেন’ (Peneplain) বা সমপ্রায়ভূমির ধারণা কে প্রবর্তন করেন?
ক) ডব্লু. এম. ডেভিস
খ) জি. কে. গিলবার্ট
গ) এল. সি. কিং
ঘ) জে. ডব্লিউ. পাওয়েল
উত্তর: ক) ডব্লু. এম. ডেভিস
ব্যাখ্যা: ভূ-বিজ্ঞানী ডেভিস জলধারা বা নদীর কার্যের দ্বারা গঠিত প্রায় সমতল ভূমিকে ‘পেনিপ্লেন’ হিসেবে নামকরণ করেন।
৫. পৃথিবীর বৃহত্তম শিল্ড মালভূমি কোনটি?
ক) কানাডীয় শিল্ড
খ) দাক্ষিণাত্য মালভূমি
গ) সাইবেরিয়া শিল্ড
ঘ) আরব মালভূমি
উত্তর: গ) সাইবেরিয়া শিল্ড
ব্যাখ্যা: এশিয়া মহাদেশে সর্বাধিক শিল্ড অঞ্চল বিদ্যমান, যার মধ্যে সাইবেরিয়া শিল্ড হলো পৃথিবীর বৃহত্তম।
৬. মহীভাবক আলোড়ন ভূপৃষ্ঠে কীভাবে ক্রিয়া করে?
ক) অনুভূমিকভাবে
খ) স্পর্শক বরাবর
গ) উল্লম্বভাবে
ঘ) তির্যকভাবে
উত্তর: গ) উল্লম্বভাবে
ব্যাখ্যা: মহীভাবক আলোড়ন পৃথিবীর ব্যাসার্ধ বরাবর বা উল্লম্বভাবে কাজ করে, যার ফলে মহাদেশ সৃষ্টি হয় এবং স্তূপ পর্বত ও গ্রস্ত উপত্যকা গড়ে ওঠে।
৭. ‘ডেকানট্র্যাপ’ কোন ধরনের মালভূমির উদাহরণ?
ক) ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি
খ) লাভাগঠিত মালভূমি
গ) পর্বতবেষ্টিত মালভূমি
ঘ) মহাদেশীয় মালভূমি
উত্তর: খ) লাভাগঠিত মালভূমি
ব্যাখ্যা: ভূগর্ভের গলিত ম্যাগমা ফাটল দিয়ে বেরিয়ে স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয়ে মহারাষ্ট্রের এই লাভাগঠিত মালভূমি সৃষ্টি করেছে।
৮. সমপ্রায়ভূমির মধ্যে শক্ত শিলায় গঠিত অনুচ্চ টিলাগুলিকে কী বলে?
ক) মোনাডনক
খ) ইনসেলবার্জ
গ) বাজাদা
ঘ) প্লায়া
উত্তর: ক) মোনাডনক
ব্যাখ্যা: নদীর ক্ষয়কার্যের ফলে গঠিত সমপ্রায়ভূমির মাঝে কঠিন শিলায় গড়া যে ক্ষয়প্রতিরোধী টিলাগুলি দাঁড়িয়ে থাকে, তাদের মোনাডনক বলে।
৯. ভারতের একটি গ্রস্ত উপত্যকার (Rift Valley) উদাহরণ দাও।
ক) ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা
খ) কাশ্মীর উপত্যকা
গ) নর্মদা উপত্যকা
ঘ) গঙ্গা উপত্যকা
উত্তর: গ) নর্মদা উপত্যকা
ব্যাখ্যা: দুটি সমান্তরাল চ্যুতির মধ্যবর্তী অংশ বসে গিয়ে ভারতের নর্মদা নদীর এই গ্রস্ত উপত্যকাটি সৃষ্টি হয়েছে।
১০. গঠনাত্মক পাত-সীমান্ত বলা হয় কোনটিকে?
ক) অভিসারী পাত-সীমান্ত
খ) প্রতিসারী পাত-সীমান্ত
গ) নিরপেক্ষ পাত-সীমান্ত
ঘ) বিনাশকারী পাত-সীমান্ত
উত্তর: খ) প্রতিসারী পাত-সীমান্ত
ব্যাখ্যা: দুটি পাত পরস্পরের থেকে দূরে সরে গেলে ফাটল বরাবর ম্যাগমা বেরিয়ে নতুন ভূতক বা সামুদ্রিক শৈলশিরা গঠন করে, তাই একে গঠনাত্মক পাত-সীমান্ত বলে।
১১. প্রাচীন টেথিস মহীখাত থেকে কোন পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে?
ক) আল্পস
খ) আন্দিজ
গ) রকি
ঘ) হিমালয়
উত্তর: ঘ) হিমালয়
ব্যাখ্যা: মেসোজোয়িক যুগে ভারতীয় ও ইউরেশীয় পাতের সংঘর্ষে টেথিস সাগরের পলি ভাঁজ খেয়ে হিমালয় পর্বতের উত্থান ঘটে।
১২. ‘পেডিমেন্ট’ (Pediment) শব্দটি প্রথম কে ব্যবহার করেন?
ক) গিলবার্ট
খ) ডেভিস
গ) লসন
ঘ) হপকিন্স
উত্তর: ক) গিলবার্ট
ব্যাখ্যা: ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দে ভূ-বিজ্ঞানী জি. কে. গিলবার্ট মরু সমভূমির ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম এই শব্দটি ব্যবহার করেন।
১৩. ‘লোয়েস’ সমভূমির বর্ণ কেমন হয়?
ক) লাল
খ) কালো
গ) হলুদ বা পীতাভ
ঘ) সাদা
উত্তর: গ) হলুদ বা পীতাভ
ব্যাখ্যা: লোয়েস সমভূমি অতি সূক্ষ্ম হলুদ বা পীতাভ বালিকণা দ্বারা গঠিত, যেমন— চিনের হোয়াংহো অববাহিকা।
১৪. নিচের কোনটি মহাজাগতিক প্রক্রিয়ার উদাহরণ?
ক) অগ্ন্যুৎপাত
খ) ভূমিকম্প
গ) নদীর ক্ষয়কার্য
ঘ) উল্কাপতন
উত্তর: ঘ) উল্কাপতন
ব্যাখ্যা: মহাকাশ থেকে ছুটে আসা উল্কার পতনের ফলে সৃষ্ট গর্ত বা ভূমিরূপের পরিবর্তনকে অপার্থিব বা মহাজাগতিক প্রক্রিয়া বলে।
১৫. দুটি সমান্তরাল চ্যুতির মধ্যবর্তী অংশ খাড়াভাবে উত্থিত হয়ে কোন পর্বতের সৃষ্টি করে?
ক) স্তূপ পর্বত
খ) ভঙ্গিল পর্বত
গ) আগ্নেয় পর্বত
ঘ) ক্ষয়জাত পর্বত
উত্তর: ক) স্তূপ পর্বত
ব্যাখ্যা: প্রবল ভূ-আলোড়নে সৃষ্ট দুটি ফাটল বা চ্যুতির মাঝের অংশ পার্শ্বচাপে ওপরে উঠে গিয়ে স্তূপ পর্বতের আকার ধারণ করে।
📝 অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (SAQ – এক কথায় উত্তর) – মান: ১
১. পৃথিবীর উচ্চতম মালভূমি কোনটি?
উত্তর: পামীর মালভূমি।
২. কোবারের মহীখাত তত্ত্বে ভঙ্গিল পর্বতের উত্থান পর্বকে কী বলা হয়?
উত্তর: ওরোজেনেসিস (Orogenesis)।
৩. পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ সমভূমি কোনটি?
উত্তর: সুন্দরবন ব-দ্বীপ সমভূমি।
৪. কোন আলোড়নের প্রভাবে ভঙ্গিল পর্বতের সৃষ্টি হয়?
উত্তর: গিরিজনি আলোড়ন।
৫. প্রশান্ত মহাসাগরীয় পাত প্রতি বছর কোন দিকে এবং কতটা সরে যাচ্ছে?
উত্তর: পশ্চিমে প্রায় ১০ সেমি/বছর সরে যাচ্ছে।
৬. পেডিমেন্ট সমভূমিতে অবশিষ্ট শিলার ঢিপিকে কী বলে?
উত্তর: ইনসেলবার্জ।
৭. ভারতের ব্যারেন ও নারকোন্ডাম কোন ধরনের আগ্নেয়গিরি?
উত্তর: জীবন্ত আগ্নেয়গিরি।
৮. পর্যায়ন (Gradation) কথাটি প্রথম কারা ব্যবহার করেন?
উত্তর: চেম্বারলেন ও স্যালিসবেরি (১৯০৪ খ্রিস্টাব্দে)।
৯. আফ্রিকার ‘দ্যা গ্রেট রিফট্ ভ্যালি’ কীসের উদাহরণ?
উত্তর: গ্রস্ত উপত্যকার (Rift Valley) উদাহরণ।
১০. অভিসারী পাত-সীমান্তে ভারী পাতটি যে অঞ্চল বরাবর হালকা পাতের নিচে প্রবেশ করে, তাকে কী বলে?
উত্তর: অধঃপাত মণ্ডল (Subduction Zone) বা বেনিয়ফ জোন।
📝 Chapter 4 MCQ Quiz Mock Test
নবম শ্রেণির ভূগোল চতুর্থ অধ্যায়ের প্রস্তুতি যাচাই করতে নিচের mock test দিন।
এই অনলাইন MCQ mock test-এর মাধ্যমে নবম শ্রেণির ভূগোল চতুর্থ অধ্যায় ‘ভূমিরূপ গঠনকারী প্রক্রিয়া ও বিভিন্ন ভূমিরূপ’ থেকে নিজের প্রস্তুতি যাচাই করুন।
Class 9 Chapter 4 Geography Mock Test
১০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে নিজের প্রস্তুতি পরীক্ষা করুন
🎉 স্কোর: /10
✍️ সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন (মান: ২)
১. পর্যায়ন (Gradation) বলতে কী বোঝো?
ক্ষয়, বহন ও সঞ্চয়কার্যের মাধ্যমে অসমতল এবং বন্ধুর ভূ-ভাগ ধীরে ধীরে সমতলভাগে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াকে পর্যায়ন বলে। সহজ কথায়, আরোহন (সঞ্চয়) এবং অবরোহনের (ক্ষয়) সম্মিলিত রূপই হলো পর্যায়ন।
২. সমস্থিতি সঞ্চালন কী?
ভূপৃষ্ঠে অবস্থিত পর্বত, মালভূমি, সমভূমি এবং সমুদ্রতল উচ্চতার তারতম্য থাকা সত্ত্বেও নিজেদের মধ্যে একপ্রকার ভারসাম্য বজায় রেখে অবস্থান করছে। এই ভারসাম্য বজায় রাখার প্রক্রিয়াকেই 'সমস্থিতি সঞ্চালন' বা Isostasy বলা হয়।
৩. মহীখাত বা জিওসিনক্লাইন কাকে বলে?
পৃথিবীর প্রাচীন ভূ-ভাগ দ্বারা বেষ্টিত দীর্ঘ, সংকীর্ণ, অবনমিত এবং অগভীর সমুদ্র খাতকে মহীখাত বা জিওসিনক্লাইন বলা হয়। উদাহরণস্বরূপ, হিমালয় পর্বত সৃষ্টির পূর্বে সেখানে 'টেথিস' নামের একটি বিশাল মহীখাত ছিল।
৪. ডেকানট্র্যাপ বলতে কী বোঝো?
দাক্ষিণাত্য মালভূমির উত্তর-পশ্চিমে মহারাষ্ট্র মালভূমি অঞ্চলে প্রায় ৭ কোটি বছর আগে ফাটল পথে ভূগর্ভের ম্যাগমা লাভা রূপে বেরিয়ে এসে বিস্তীর্ণ অঞ্চল চাদরের মতো ঢেকে দেয়। এখানে ধাপে ধাপে লাভা সঞ্চিত হওয়ায় পার্শ্বদেশগুলো সিঁড়ির মতো নেমে গেছে। সুইডিশ শব্দ 'ট্র্যাপ' মানে 'সিঁড়ি'। লাভা গঠিত সিঁড়ির মতো এই অঞ্চলটিই 'ডেকানট্র্যাপ' নামে পরিচিত।
৫. বাজাদা (Bajada) সমভূমি কীভাবে গঠিত হয়?
মরুভূমি অঞ্চলে বায়ুপ্রবাহ ও জলধারার মিলিত কার্যের ফলে পর্বত বা উচ্চভূমির পাদদেশে প্রস্তরখণ্ড, নুড়ি, বালি ইত্যাদি ক্রমাগত সঞ্চিত হয়ে যে মৃদু ঢালু সমভূমির সৃষ্টি করে, তাকে বাজাদা সমভূমি বলে। সাহারা মরুভূমিতে আটলাস পর্বতের পাদদেশে এটি দেখা যায়।
৬. প্লাবন সমভূমি কীভাবে সৃষ্টি হয়?
নদীতে হঠাৎ জলস্ফীতি বা বন্যা দেখা দিলে নদীর দুই কূল ছাপিয়ে পার্শ্ববর্তী বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়। বন্যার জল সরে গেলে জলের সাথে মিশে থাকা পলি, কাদা, বালি স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয়ে যে উর্বর সমভূমির সৃষ্টি করে, তাকে প্লাবন সমভূমি বলে।
৭. হোস্ট (Horst) এবং গ্রাবেন (Graben) কী?
ভূ-ত্বকে দুটি সমান্তরাল চ্যুতির মাঝের অংশ ভূ-আলোড়নের ফলে উল্লম্বভাবে ওপরের দিকে উঠে গেলে তাকে 'হোস্ট' বলে, যা স্তূপ পর্বত গঠন করে। অন্যদিকে, দুটি সমান্তরাল চ্যুতির মাঝের অংশ বসে গিয়ে যে নিচু উপত্যকার সৃষ্টি হয়, তাকে 'গ্রাবেন' বলে।
৮. তপ্ত বিন্দু (Hot Spot) কাকে বলে?
ভূগর্ভের অ্যাসথেনোস্ফিয়ারের নির্দিষ্ট কিছু জায়গা থেকে স্থিরভাবে উত্তপ্ত গলিত ম্যাগমা প্লিউম বা স্তম্ভের আকারে সোজা ভূপৃষ্ঠের দিকে উঠে আসে। ম্যাগমা নিঃসরণের এই স্থির উৎস বিন্দুগুলিকেই তপ্ত বিন্দু বা Hot Spot বলা হয়।
৯. সিবন রেখা (Suture Line) কী?
অভিসারী পাত সীমান্তে দুটি মহাদেশীয় পাত যখন পরস্পরের মুখোমুখি হয়ে ধাক্কা খায়, তখন যে রেখা বা সীমানা বরাবর তারা জোড়া লেগে যায় বা প্রথম সংস্পর্শে আসে, তাকে সিবন রেখা বলে। যেমন— হিমালয়ের পশ্চিমাংশে সিন্ধুনদের উপত্যকা।
১০. মোলাস (Molasse) কী?
ভঙ্গিল পর্বত সৃষ্টির একেবারে শেষ পর্যায়ে বা অন্তিম পর্বে মহীখাতের প্রান্তভাগে সঞ্চিত এবং ভঙ্গিল পর্বতের ক্ষয়প্রাপ্ত শিলা বা পলল রাশিগুলিকেই একত্রে মোলাস বলা হয়।
🌟 বিশেষ মানসম্মত ও ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর (৩ বা ৫ নম্বরের জন্য)
১. নবীন ভঙ্গিল পার্বত্য অঞ্চল ভূমিকম্প প্রবণ কেন?
উত্তর: পৃথিবীর নবীন ভঙ্গিল পার্বত্য অঞ্চলগুলি (যেমন— হিমালয়, রকি, আন্দিজ) অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ হওয়ার পিছনে বেশ কয়েকটি ভৌগোলিক কারণ রয়েছে:
- সক্রিয় পাত-সীমান্ত: নবীন ভঙ্গিল পর্বতগুলি সাধারণত দুটি অভিসারী পাত-সীমান্তে গড়ে ওঠে। এই পাতগুলির সরণ বা চলন আজও অব্যাহত থাকায় প্রতিনিয়ত ঘর্ষণের ফলে প্রবল ভূ-কম্পনের সৃষ্টি হয়।
- উত্থান পর্ব চলমান: নবীন ভঙ্গিল পর্বতগুলির গঠন ও উত্থান কাজ এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। যেমন, ভারতীয় পাত এখনও ইউরেশীয় পাতের নিচে প্রবেশ করছে বলে হিমালয়ের উচ্চতা ক্রমশ বাড়ছে, যার ফলে ভূ-ত্বকে অস্থিরতা ও ভূমিকম্প দেখা যায়।
- সমস্থিতিক ভারসাম্যহীনতা: সমুদ্রতল বা মহীখাত থেকে উত্থানের পর বিশাল এই পর্বতমালাগুলি এখনো পৃথিবীর সঙ্গে সমস্থিতিক ভারসাম্যে (Isostatic equilibrium) আসার চেষ্টা করছে।
- গাঠনিক দুর্বলতা: এই পার্বত্য অঞ্চলের শিলাস্তর মূলত পাললিক এবং প্রবলভাবে ভাঁজযুক্ত ও চ্যুতিপূর্ণ। গঠনগত দিক থেকে দুর্বল হওয়ায় এখানে মাঝে মাঝেই শিলাচ্যুতি ঘটে ও ভূমিকম্প হয়।
২. পেনিপ্লেন (সমপ্রায়ভূমি) ও পেডিপ্লেনের (পেডিমেন্ট সমভূমি) মধ্যে পার্থক্য লেখো।
উত্তর:
| বিষয় | পেনিপ্লেন (সমপ্রায়ভূমি) | পেডিপ্লেন (পেডিমেন্ট সমভূমি) |
|---|---|---|
| সৃষ্টিকারী শক্তি | মূলত নদী বা জলধারার ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্টি হয়। | মরু অঞ্চলে বায়ু এবং জলধারার মিলিত ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্টি হয়। |
| অবস্থান | আর্দ্র বা বৃষ্টিবহুল অঞ্চলে দেখা যায়। | শুষ্ক মরু ও মরুপ্রায় অঞ্চলে দেখা যায়। |
| অবশিষ্ট পাহাড় | এর মধ্যে থাকা কঠিন শিলার অনুচ্চ ঢিপিগুলিকে মোনাডনক বলে। | এর মধ্যে থাকা কঠিন শিলার অনুচ্চ ঢিপিগুলিকে ইনসেলবার্জ বলে। |
| উত্থানকারী | এই ভূমিরূপের নামকরণ করেন মার্কিন ভূ-বিজ্ঞানী ডব্লিউ. এম. ডেভিস। | এই ভূমিরূপ ধারণা দেন এল সি কিং। |
৩. ম্যাগমা ও লাভার মধ্যে পার্থক্য আলোচনা করো।
উত্তর:
| বিষয় | ম্যাগমা (Magma) | লাভা (Lava) |
|---|---|---|
| অবস্থান | ভূ-অভ্যন্তরের উত্তপ্ত, গলিত ও তরল শিলাপদার্থ ভূগর্ভে সঞ্চিত থাকলে তাকে ম্যাগমা বলে। | ভূ-অভ্যন্তরের ওই গলিত ম্যাগমা যখন ফাটল বা ছিদ্রপথে ভূপৃষ্ঠের বাইরে বেরিয়ে আসে, তখন তাকে লাভা বলে। |
| উপাদান | ম্যাগমার মধ্যে প্রচুর পরিমাণে জল, বিভিন্ন গ্যাস এবং বাষ্প মিশে থাকে। | ভূপৃষ্ঠে বেরিয়ে আসার ফলে লাভার মধ্যে থাকা গ্যাস ও বাষ্প মহাশূন্যে মিশে যায়, তাই লাভা গ্যাস ও বাষ্পহীন। |
| নির্ভরশীলতা | ম্যাগমা থেকেই লাভার সৃষ্টি হয়, তাই লাভার উৎপত্তি ম্যাগমার ওপর নির্ভরশীল। | লাভা থেকে ম্যাগমা সৃষ্টি হয় না, তাই ম্যাগমা লাভার উপর নির্ভরশীল নয় |
৪. স্তূপ পর্বত ও গ্রস্ত উপত্যকার মধ্যে পার্থক্য লেখো।
উত্তর:
| বিষয় | স্তূপ পর্বত (Block Mountain) | গ্রস্ত উপত্যকা (Rift Valley) |
|---|---|---|
| প্রকৃতি | ভূ-ত্বকের সমান্তরাল চ্যুতির মাঝের অংশ ওপরের দিকে উঠে গিয়ে স্তূপ পর্বত গঠন করে। | দুটি সমান্তরাল চ্যুতির মধ্যবর্তী অংশ নিচে বসে গিয়ে গ্রস্ত উপত্যকা বা গ্রাবেন সৃষ্টি করে। |
| আকৃতি | এটি একটি উত্থিত উচ্চভূমি, যার উপরিভাগ সাধারণত চ্যাপ্টা বা সমতল হয়। | এটি একটি অবনমিত দীর্ঘ, সংকীর্ণ এবং খাত বা উপত্যকা বিশেষ। |
| উদাহরণ | ভারতের সাতপুরা, বিন্ধ্য পর্বত, জার্মানির ব্ল্যাক ফরেস্ট। | ভারতের নর্মদা নদীর উপত্যকা, আফ্রিকার গ্রেট রিফট ভ্যালি। |
৫. অন্তর্জাত ও বহির্জাত প্রক্রিয়ার মধ্যে পার্থক্য লেখো।
উত্তর:
| বিষয় | অন্তর্জাত প্রক্রিয়া (Endogenic Process) | বহির্জাত প্রক্রিয়া (Exogenic Process) |
|---|---|---|
| উৎস ও স্থান | পৃথিবীর অভ্যন্তরে সৃষ্ট বলের প্রভাবে এই প্রক্রিয়া কাজ করে এবং ভূগর্ভেই এর উদ্ভব। | পৃথিবীর উপরিভাগে সৌরশক্তি, জলবায়ুর উপাদান প্রভৃতির প্রভাবে এই প্রক্রিয়া কাজ করে। |
| সৃষ্টিকারী শক্তি | ভূ-গাঠনিক আলোড়ন (ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত), তেজস্ক্রিয় পদার্থের তাপ ইত্যাদি। | নদী, বায়ু, হিমবাহ, সমুদ্রতরঙ্গ, ভৌমজল প্রভৃতি প্রাকৃতিক শক্তি। |
| কাজের গতি | এটি ধীরগতিতে (পর্বত সৃষ্টি) এবং আকস্মিকভাবে (ভূমিকম্প) উভয়ভাবেই কাজ করতে পারে। | এটি অত্যন্ত ধীরগতিতে দীর্ঘকাল ধরে কাজ করে এবং ভূমিরূপের পরিবর্তন ঘটায়। |
| ভূমিরূপ গঠন | এটি প্রধানত গঠনমূলক কাজ করে। অর্থাৎ নতুন পর্বত, মালভূমি তৈরি করে প্রাথমিক ভূমিরূপের বৈচিত্র্য আনে। | এটি ধ্বংস বা ক্ষয়মূলক কাজ করে। উঁচু স্থান ক্ষয় করে নিচু সমতল ভূমিতে পরিণত করার মাধ্যমে পর্যায়ন ঘটায়। |
৬. পাত-সংস্থান তত্ত্বের (Plate Tectonic Theory) আলোকে ভঙ্গিল পর্বত সৃষ্টির কারণ আলোচনা করো।
উত্তর: বিংশ শতাব্দীর ষাটের দশকে ফরাসি বিজ্ঞানী লি পিঁচো এবং অন্যান্য বিজ্ঞানীদের দ্বারা উদ্ভাবিত 'পাত-সংস্থান তত্ত্ব' ভঙ্গিল পর্বতের উৎপত্তি ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে সর্বাধুনিক এবং সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য মতবাদ। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, পৃথিবীর অশ্মমণ্ডল বা লিথোস্ফিয়ার কয়েকটি অনমনীয় খণ্ডে বিভক্ত, যাদের 'পাত' বলে। পাতগুলি অ্যাসথেনোস্ফিয়ারের ওপর ভাসমান এবং গুরুমন্ডলের পরিচলন স্রোতের প্রভাবে সর্বদা গতিশীল।
দুটি পাত যখন একে অপরের দিকে এগিয়ে আসে, সেই পাত সীমানাকে অভিসারী পাত-সীমান্ত বলে। এই পাত সীমানাতেই প্রবল পার্শ্বচাপের ফলে পলি ভাঁজ খেয়ে ভঙ্গিল পর্বত সৃষ্টি হয়। এটি প্রধানত দুটি ক্ষেত্রে ঘটে:
- মহাদেশীয়-মহাদেশীয় পাতের সংঘর্ষে: যখন দুটি মহাদেশীয় পাত পরস্পরের দিকে ধাবিত হয়, তখন তাদের মাঝের মহীখাতে (Geosyncline) সঞ্চিত বিশাল পলল রাশিতে প্রবল পার্শ্বচাপের সৃষ্টি হয়। এর ফলে মহীখাত সংকীর্ণ হয় এবং সঞ্চিত পলি ভাঁজ খেয়ে ওপরে উঠে ভঙ্গিল পর্বত গঠন করে।
- উদাহরণ: ইন্দো-অস্ট্রেলীয় পাত এবং ইউরেশীয় পাতের প্রবল সংঘর্ষে এদের মাঝখানে থাকা টেথিস সাগরের পলি ভাঁজ খেয়ে হিমালয় পর্বতের উদ্ভব ঘটিয়েছে।
- মহাদেশীয়-মহাসাগরীয় পাতের সংঘর্ষে: যখন একটি মহাদেশীয় এবং একটি ভারী মহাসাগরীয় পাত পরস্পরের দিকে এগিয়ে আসে, তখন ভারী মহাসাগরীয় পাতটি হালকা মহাদেশীয় পাতের নিচে প্রবেশ করে (অধঃপাত বা Subduction)। এই প্রবল চাপে মহাদেশীয় পাতের প্রান্তে সঞ্চিত পলিরাশি ভাঁজ খেয়ে ওপরের দিকে উঠে ভঙ্গিল পর্বতের আকার নেয়।
- উদাহরণ: আমেরিকান পাত (মহাদেশীয়) এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় পাতের (ভারী ও সামুদ্রিক) সংঘর্ষে উত্তর আমেরিকায় রকি এবং দক্ষিণ আমেরিকায় আন্দিজ পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে।
এই পোস্টটি ভালো লাগলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করো 👇
FAQ ( ভূমিরূপ গঠনকারী প্রক্রিয়া প্রশ্ন উত্তর)
নবম শ্রেণির ভূগোল চতুর্থ অধ্যায়ে কোন প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ?
ভূমিরূপ গঠনকারী প্রক্রিয়া, অন্তর্জাত ও বহির্জাত প্রক্রিয়া, স্তূপ পর্বত ও গ্রস্ত উপত্যকা।
Class 9 Geography Chapter 4 MCQ কোথায় পাব?
এই পোস্টে গুরুত্বপূর্ণ সব MCQ ও SAQ সাজানো আছে।
পরীক্ষার আগে Chapter 4 কীভাবে পড়ব?
প্রথমে notes পড়ে তারপর MCQ ও SAQ practice করতে হবে।
ভূমিরূপ গঠনকারী প্রক্রিয়া কী?
পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক শক্তির প্রভাবে ভূমিরূপ সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে ভূমিরূপ গঠনকারী প্রক্রিয়া বলে।
