Class 9 Geography Chapter 4 Notes Bengali | ভূমিরূপ গঠনকারী প্রক্রিয়া ও পৃথিবীর বিভিন্ন ভূমিরূপ
Webbhugol.com-এর আজকের এই বিশেষ পর্বে তোমাদের স্বাগত জানাই। ভূগোলের শিক্ষক হিসেবে আমার দীর্ঘ আট বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে নবম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের জন্য আজকের এই আলোচনাটি প্রস্তুত করেছি। নবম শ্রেণীর ভূগোলের চতুর্থ অধ্যায় ‘ভূমিরূপ গঠনকারী প্রক্রিয়া ও পৃথিবীর বিভিন্ন ভূমিরূপ’-এ পৃথিবীর ভূমিরূপ কীভাবে সৃষ্টি হয়, অন্তর্জাত ও বহির্জাত প্রক্রিয়া, পর্বত, মালভূমি, সমভূমি ও উপত্যকার বৈশিষ্ট্য আলোচনা করা হয়েছে।
এই পোস্টটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে তোমরা খুব সহজেই পুরো বিষয়টি বুঝতে পারো এবং পরীক্ষার জন্য নিজেদের নিখুঁতভাবে প্রস্তুত করতে পারো। চলো, শুরু করা যাক!
নবম শ্রেণীর ভূগোল চতুর্থ অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর
ভূমিরূপ গঠনকারী প্রক্রিয়ার প্রাথমিক ধারণা
ভূমিরূপ গঠনকারী প্রক্রিয়া হলো পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক শক্তির প্রভাবে ভূপৃষ্ঠের সৃষ্টি, পরিবর্তন ও বিবর্তন এবং বিন্যাসের প্রক্রিয়া।

এই প্রক্রিয়াগুলিকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়:
১. অন্তর্জাত প্রক্রিয়া (Endogenic Process)
পৃথিবীর অভ্যন্তরে সৃষ্ট বলের প্রভাবে ভূপৃষ্ঠে যে পরিবর্তন ঘটে, তাকে অন্তর্জাত প্রক্রিয়া বলে। এটি দু’ভাবে কাজ করে:
- ধীর আলোড়ন: লক্ষ লক্ষ বছর ধরে এই আলোড়ন চলে। এর প্রভাবে পর্বত, মালভূমি সৃষ্টি হয়। ধীর আলোড়ন আবার দু-ধরনের: মহীভাবক ও গিরিজনি।
- আকস্মিক আলোড়ন: হঠাৎ করে ভূপৃষ্ঠের পরিবর্তন ঘটে। যেমন— ভূমিকম্প ও অগ্ন্যুৎপাত।
নবম শ্রেণীর ভূগোল চতুর্থ অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর দেখতে এখানে ক্লিক করুন
মহীভাবক ও গিরিজনি আলোড়নের তুলনামূলক আলোচনা:
| বিষয় | মহীভাবক আলোড়ন (Epeirogenic) | গিরিজনি আলোড়ন (Orogenic) |
|---|---|---|
| প্রকৃতি | ভূপৃষ্ঠে উল্লম্বভাবে (Vertical) বা পৃথিবীর ব্যাসার্ধ বরাবর ঘটে। | ভূপৃষ্ঠে অনুভূমিকভাবে (Horizontal) বা স্পর্শক বরাবর ক্রিয়া করে। |
| সৃষ্ট ভূমিরূপ | চ্যুতি সৃষ্টির মাধ্যমে স্তূপ পর্বত, গ্রস্ত উপত্যকা গঠিত হয়। | শিলায় ভাঁজ পড়ে ভঙ্গিল পর্বত গঠিত হয়। |
| উদাহরণ | নর্মদা উপত্যকা, আফ্রিকার গ্রেট রিফট্ ভ্যালি। | হিমালয় |
২. বহির্জাত প্রক্রিয়া (Exogenic Process)
ভূপৃষ্ঠের বাইরে বায়ু, নদী, হিমবাহ প্রভৃতি প্রাকৃতিক শক্তির প্রভাবে ভূমিরূপের যে পরিবর্তন হয়, তাকে বহির্জাত প্রক্রিয়া বলে। এর প্রধান তিনটি পর্যায় হলো:
- অবরোহন (Degradation): ক্ষয়কার্যের মাধ্যমে উঁচু স্থান নিচু হওয়া।
- আরোহন (Aggradation): সঞ্চয়কার্যের মাধ্যমে নিচু স্থান ভরাট হয়ে উঁচু হওয়া।
- পর্যায়ন (Gradation): অবরোহন ও আরোহনের সম্মিলিত ফল, যার মাধ্যমে অসমতল ভূমিভাগ সমতল বা সমপ্রায় ভূমিতে পরিণত হয়।।
পৃথিবীর প্রধান ভূমিরূপ: পর্বত, মালভূমি ও সমভূমি
ভূপৃষ্ঠের বৈচিত্র্য অনুযায়ী ভূমিরূপকে প্রধান তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। নিচে এগুলি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
১. পর্বত (Mountains)
ধারণা: সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সাধারণত ১০০০ মিটারের বেশি উঁচু, বহুদূর বিস্তৃত, খাড়া ঢালযুক্ত এবং সুউচ্চ শৃঙ্গবিশিষ্ট শিলাময় স্তূপকে পর্বত বলে।
পর্বতের প্রধান বৈশিষ্ট্য:
- উচ্চতা ও ঢাল: পর্বতের উচ্চতা ১০০০ মিটারের বেশি হয় এবং ভূমির ঢাল খুব খাড়া হয়।
- বন্ধুরতা: উপরিভাগ অত্যন্ত অসমতল ও এবড়োখেবড়ো হয়।
- শৃঙ্গ ও উপত্যকা: পর্বতের চূড়া সূঁচালো হয় (শৃঙ্গ), এবং দুটি পর্বতের মাঝের নিচু অংশকে উপত্যকা বলে।
পর্বতের শ্রেণিবিভাগ (উৎপত্তি ও গঠন অনুসারে):
ক) ভঙ্গিল পর্বত (Fold Mountain):
গিরিজনি আলোড়নের প্রভাবে কোমল পাললিক শিলাস্তরে প্রবল পার্শ্বচাপের ফলে ভাঁজ পড়ে যে পর্বতের সৃষ্টি হয়, তাকে ভঙ্গিল পর্বত বলে।
- বৈশিষ্ট্য: পাললিক শিলা দ্বারা গঠিত, জীবাশ্ম দেখা যায়, এবং এদের উচ্চতা ও বিস্তার সর্বাধিক হয়।
- উদাহরণ: এশিয়ার হিমালয়, উত্তর আমেরিকার রকি।
- বিশেষ নোট: আধুনিক পাত-সংস্থান তত্ত্ব (Plate Tectonic Theory) অনুযায়ী অভিসারী পাত সীমানায় পলি ভাঁজ খেয়ে ভঙ্গিল পর্বতের উত্থান ঘটে। নবীন ভঙ্গিল পর্বত অঞ্চলে গঠনকাজ আজও চলছে বলে এরা অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ হয়।
খ) আগ্নেয় বা সঞ্চয়জাত পর্বত (Volcanic Mountain):
অগ্ন্যুৎপাতের ফলে ভূগর্ভের উত্তপ্ত ম্যাগমা ফাটল দিয়ে বেরিয়ে এসে লাভা রূপে সঞ্চিত ও কঠিন হয়ে যে পর্বত গঠন করে, তাকে আগ্নেয় পর্বত বলে।
- বৈশিষ্ট্য: এটি মোচাকৃতি বা শঙ্কু আকৃতির হয়। এতে এক বা একাধিক জ্বালামুখ থাকে এবং এই পর্বত আগ্নেয়শিলা দ্বারা গঠিত।
- উদাহরণ: জাপানের ফুজিয়ামা, ইতালির ভিসুভিয়াস।
গ) স্তূপ পর্বত (Block Mountain):
প্রবল ভূ-আলোড়নের ফলে ভূত্বকে সমান্তরাল ফাটল বা চ্যুতির সৃষ্টি হয়। দুটি সমান্তরাল চ্যুতির মাঝের অংশ উঁচু হয়ে বা দু-পাশের অংশ বসে গিয়ে যে পর্বতের সৃষ্টি হয়, তাকে স্তূপ পর্বত বলে।
- বৈশিষ্ট্য: এর মাথা চ্যাপ্টা বা সমতল প্রকৃতির হয়, ঢাল খুব খাড়া হয়, এবং এর পাশে সর্বদা গ্রস্ত উপত্যকা (Rift Valley) দেখা যায়।
- উদাহরণ: ভারতের সাতপুরা, জার্মানির ব্ল্যাক ফরেস্ট।
ঘ) ক্ষয়জাত পর্বত (Residual Mountain):
নদী, হিমবাহ, বায়ু প্রভৃতি প্রাকৃতিক শক্তির প্রভাবে প্রাচীন কোনো উচ্চভূমি (পর্বত বা মালভূমি) যুগ যুগ ধরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে নিচু পর্বতের আকার ধারণ করলে তাকে ক্ষয়জাত পর্বত বলে।
- বৈশিষ্ট্য: এই পর্বতের উচ্চতা ও ঢাল কম হয়। উপরিভাগ অপেক্ষাকৃত মসৃণ হয় এবং এটি প্রাচীন কঠিন শিলা দিয়ে গঠিত।
- উদাহরণ: ভারতের আরাবল্লি (পৃথিবীর প্রাচীনতম) ও নীলগিরি পর্বত।
Class 9 Geography Chapter 4 MCQ & SAQ Practice Set
২. মালভূমি (Plateaus)
ধারণা: সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে গড়ে ৩০০ মিটারের বেশি উঁচু, যার উপরিভাগ প্রায় সমতল বা সামান্য তরঙ্গায়িত এবং চারপাশ খাড়া ঢালযুক্ত, এমন বিস্তৃত ভূমিভাগকে মালভূমি বলে। এর উপরিভাগ সমতল এবং চারপাশ খাড়া বলে একে টেবিলল্যান্ড (Tableland)-ও বলা হয়।
মালভূমির প্রধান বৈশিষ্ট্য:
- গড় উচ্চতা ৩০০ মিটারের বেশি (তবে পামীর মালভূমি প্রায় ৪০০০ মি উঁচু)।
- উপরিভাগ ঢেউখেলানো বা সমতল।
- অধিকাংশ মালভূমি খনিজ সম্পদে অত্যন্ত সমৃদ্ধ হয়।
মালভূমির শ্রেণিবিভাগ:
ক) পর্বতবেষ্টিত মালভূমি (Intermontane Plateau):
যে মালভূমি চারদিকে সুউচ্চ ভঙ্গিল পর্বত দ্বারা বেষ্টিত থাকে। ভঙ্গিল পর্বত সৃষ্টির সময়ই ভাঁজের মধ্যবর্তী অংশ উঁচু হয়ে এই মালভূমি গঠন করে।
- বৈশিষ্ট্য: এগুলি পৃথিবীর উচ্চতম ও বৃহত্তম মালভূমি।
- উদাহরণ: তিব্বত মালভূমি (পৃথিবীর বৃহত্তম), পামীর মালভূমি (পৃথিবীর ছাদ)।
খ) লাভা গঠিত মালভূমি (Volcanic Plateau):
ভূগর্ভের ম্যাগমা ভূপৃষ্ঠের ফাটল দিয়ে নিঃশব্দে বেরিয়ে এসে বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে সঞ্চিত হয়ে এই মালভূমি গঠন করে।
- বৈশিষ্ট্য: এটি প্রধানত ব্যাসল্ট শিলা দিয়ে গঠিত এবং এর মাটি (যেমন কালো মাটি) খুব উর্বর হয়। ধাপে ধাপে লাভা সঞ্চিত হয় বলে দেখতে সিঁড়ির মতো লাগে (যেমন- ডেকানট্র্যাপ)।
- উদাহরণ: ভারতের দাক্ষিণাত্যের মহারাষ্ট্র মালভূমি।
গ) ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি (Dissected Plateau):
প্রাচীন বিস্তীর্ণ মালভূমি যখন বিভিন্ন নদী উপত্যকা দ্বারা গভীরভাবে ক্ষয়ে গিয়ে পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, তখন তাকে ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি বলে।
- বৈশিষ্ট্য: নদী বা জলধারার ক্ষয়কার্যের ফলেই এই মালভূমি বিচ্ছিন্ন হয় এবং উপরিভাগ প্রায় একই উচ্চতাবিশিষ্ট থাকে।
- উদাহরণ: ভারতের ছোটোনাগপুর মালভূমি।
ঘ) মহাদেশীয় বা শিল্ড মালভূমি (Continental/Shield Plateau):
অত্যন্ত প্রাচীন ও কঠিন আগ্নেয় ও রূপান্তরিত শিলা দ্বারা গঠিত মহাদেশের বিস্তীর্ণ অংশ জুড়ে অবস্থানকারী মালভূমিকে মহাদেশীয় শিল্ড মালভূমি বলে।
- বৈশিষ্ট্য: এটি বর্মের মতো শক্ত, অত্যন্ত সুস্থিত এবং ক্ষয় প্রতিরোধী।
- উদাহরণ: কানাডীয় শিল্ড, দাক্ষিণাত্য মালভূমি।
৩. সমভূমি (Plains)
ধারণা: সমুদ্রপৃষ্ঠের সঙ্গে প্রায় একই সমতলে বা সামান্য উঁচুতে (৩০০ মিটারের মধ্যে) অবস্থিত বিস্তীর্ণ সমতল ভূ-ভাগকে সমভূমি বলে।
সমভূমির প্রধান বৈশিষ্ট্য:
- উচ্চতা ও ঢাল অত্যন্ত কম।
- উপরিভাগ সমতল, তাই এখানে কৃষিকাজ, যাতায়াত ব্যবস্থা ও শিল্পোন্নতি খুব ভালো হয়।
- পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষ সমভূমি অঞ্চলে বসবাস করে।
সমভূমির শ্রেণিবিভাগ:
ক) ভূ-গাঠনিক সমভূমি (Tectonic Plain):
ভূ-আলোড়নের ফলে কোনো নিচু স্থান উঁচু হয়ে (উন্নত সমভূমি, যেমন- করমণ্ডল উপকূল) বা উঁচু স্থান বসে গিয়ে (অবনত সমভূমি, যেমন- তুরানের সমভূমি) এই সমভূমির সৃষ্টি হয়।
খ) ক্ষয়জাত সমভূমি (Erosional Plain):
প্রাকৃতিক শক্তির দ্বারা উঁচু ভূমি দীর্ঘকাল ধরে ক্ষয় পেয়ে সমভূমিতে পরিণত হয়। এর প্রধান ভাগগুলি হলো:
- সমপ্রায় ভূমি (Peneplain): নদীর ক্ষয়কার্যে সৃষ্ট প্রায় সমতল ভূমি। এর মধ্যে থাকা শক্ত অনুচ্চ পাহাড়গুলিকে মোনাডনক বলে। (উদাহরণ: রাঁচি ও হাজারিবাগ অঞ্চল)।
- পেডিমেন্ট সমভূমি (Pediment): মরু অঞ্চলে বায়ু ও জলধারার মিলিত ক্ষয়ে পর্বতের পাদদেশে সৃষ্ট সমভূমি। এতে কঠিন শিলার ঢিপিকে ইনসেলবার্জ বলে।
গ) সঞ্চয়জাত সমভূমি (Depositional Plain):
নদী, বায়ু বা হিমবাহ বাহিত পলি, বালি প্রভৃতি সঞ্চিত হয়ে এই সমভূমি গড়ে ওঠে। এর গুরুত্বপূর্ণ ভাগগুলি হলো:
- পলিগঠিত সমভূমি: নদীর দুই তীরে পলি সঞ্চিত হয়ে গড়ে ওঠে। (উদাহরণ: সিন্ধু-গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র সমভূমি)।
- ব-দ্বীপ সমভূমি: নদীর মোহনায় পলি সঞ্চিত হয়ে বাংলা ‘ব’ বা মাত্রাহীন মাত্রার মতো সমভূমি। (উদাহরণ: সুন্দরবন ব-দ্বীপ সমভূমি)।
- লোয়েস সমভূমি: মরুভূমির সূক্ষ্ম বালিকণা বায়ু দ্বারা বহুদূরে উড়ে গিয়ে সঞ্চিত হয়ে এই সমভূমি গঠন করে। (উদাহরণ: হোয়াংহো নদী অববাহিকার লোয়েস সমভূমি)।
ভূমিরূপ গঠনকারী প্রক্রিয়া MCQ টেস্ট দিন 👈
🎯 সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন (মান – ৩)
পরীক্ষায় ভালো নম্বর তোলার জন্য এই ৩ নম্বরের প্রশ্নগুলোর উত্তর পয়েন্ট করে এবং যেখানে সম্ভব ছোট করে ছবি (Diagram) দিয়ে লেখার চেষ্টা করবে।
- ১. মহীভাবক ও গিরিজনি আলোড়নের মধ্যে তিনটি প্রধান পার্থক্য আলোচনা করো।
- ২. মালভূমিকে ‘টেবিলল্যান্ড’ (Tableland) বলা হয় কেন?
- ৩. “সকল শিল্ড অঞ্চল মালভূমি, কিন্তু সকল মালভূমি শিল্ড অঞ্চল নয়”— উক্তিটি ভৌগোলিক কারণসহ ব্যাখ্যা করো।
- ৪. আগ্নেয়গিরি এবং আগ্নেয় পর্বতের মধ্যে মূল পার্থক্যগুলি কী কী?
- ৫. সমপ্রায় ভূমি (Peneplain) ও পেডিমেন্ট সমভূমির (Pediment Plain) মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা করো।
- ৬. ‘প্রশান্ত মহাসাগরীয় আগ্নেয় মেখলা’ (Pacific Ring of Fire) বলতে কী বোঝো?
- ৭. স্তূপ পর্বতের (Block Mountain) তিনটি প্রধান বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো।
- ৮. ক্ষয়জাত বা অবশিষ্ট পর্বত কীভাবে সৃষ্টি হয়? উদাহরণসহ লেখো।
- ৯. ম্যাগমা ও লাভার মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করো।
- ১০. ‘ভূমধ্যসাগরের আলোকস্তম্ভ’ কাকে বলে এবং কেন?
🏆 রচনাধর্মী প্রশ্ন (মান – ৫)
এই ৫ নম্বরের প্রশ্নগুলোর উত্তর লেখার সময় অবশ্যই ভূমিকা, পয়েন্ট ভিত্তিক আলোচনা, উপযুক্ত চিত্র এবং উপসংহার ব্যবহার করবে। একটি সুন্দর চিত্র তোমার উত্তরে বাড়তি নম্বর যোগ করতে পারে!
- ১. আধুনিক ‘পাত-সংস্থান তত্ত্ব’ (Plate Tectonic Theory)-এর সাহায্যে ভঙ্গিল পর্বতের উৎপত্তি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করো।
- ২. উৎপত্তি অনুসারে মালভূমির শ্রেণিবিভাগ করো এবং চিত্রসহ যেকোনো দু’প্রকার মালভূমির বিবরণ দাও (যেমন- পর্বতবেষ্টিত মালভূমি ও লাভাগঠিত মালভূমি)।
- ৩. সমভূমির প্রধান শ্রেণিবিভাগগুলি উল্লেখ করো এবং সঞ্চয়জাত সমভূমির যেকোনো তিনটি ভাগের সচিত্র বর্ণনা দাও।
- ৪. মানবজীবনে পর্বত ও মালভূমির প্রভাব বা গুরুত্বগুলি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করো।
- ৫. ভঙ্গিল পর্বত সৃষ্টির কারণ হিসেবে কোবারের ‘মহীখাত তত্ত্ব’ (Kober’s Geosyncline Theory) পর্যায়ক্রমে আলোচনা করো।
- ৬. উৎপত্তি ও গঠন অনুসারে পর্বতের শ্রেণিবিভাগ করো এবং চিত্রসহ আগ্নেয় পর্বতের উৎপত্তি ও বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।
নবম শ্রেণীর ভূগোল চতুর্থ অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর
শিক্ষকের পরামর্শ 👉ভূগোলে মুখস্থ করার চেয়ে বুঝে পড়া এবং ছবি আঁকার অভ্যাস করা অনেক বেশি জরুরি। উপরের ৫ নম্বরের প্রশ্নগুলোর উত্তর বাড়িতে লেখার সময় অবশ্যই খাতার ডানদিকে পেনসিল দিয়ে পরিষ্কার চিত্র আঁকার প্র্যাকটিস করবে।
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর তৈরি করতে গিয়ে কোনো জায়গায় বুঝতে অসুবিধা হলে বা কোনো উত্তরের নোটস প্রয়োজন হলে, নির্দ্বিধায় নিচের কমেন্ট বক্সে আমাকে জানাতে পারো।
এই অধ্যায়ের সব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর, MCQ ও অনুশীলনী দেখতে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন।
সবার জন্য শুভকামনা! নিয়মিত ভূগোলের এমন আরও গুরুত্বপূর্ণ নোটস, সাজেশন এবং প্রস্তুতির জন্য WebBhugol.com-এর সাথেই যুক্ত থাকো।
ভূমিরূপ গঠনকারী প্রক্রিয়া কী?
পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক শক্তির মাধ্যমে ভূমিরূপের সৃষ্টি ও পরিবর্তনের প্রক্রিয়াকে ভূমিরূপ গঠনকারী প্রক্রিয়া বলে।
অন্তর্জাত প্রক্রিয়া কী?
পৃথিবীর অভ্যন্তর থেকে সৃষ্ট শক্তির ফলে যে পরিবর্তন হয় তাকে অন্তর্জাত প্রক্রিয়া বলে।
প্রধান ভূমিরূপ কয়টি?
৩টি — পর্বত, মালভূমি, সমভূমি।
নবম শ্রেণির ভূগোল চতুর্থ অধ্যায়ের নাম কী?
উত্তর: পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) নবম শ্রেণির ভূগোল বইয়ের চতুর্থ অধ্যায়ের নাম হলো ‘ভূমিরূপ গঠনকারী প্রক্রিয়া ও পৃথিবীর বিভিন্ন ভূমিরূপ’।
পামীর মালভূমিকে পৃথিবীর ছাদ বলা হয় কেন?
উত্তর: পামীর মালভূমি পৃথিবীর উচ্চতম (গড় উচ্চতা ৪,৮৭৮ মিটার) এবং সুউচ্চ ভঙ্গিল পর্বত দ্বারা বেষ্টিত হওয়ায় একে ‘পৃথিবীর ছাদ’ বলা হয়।
পাত সংস্থান তত্ত্বের জনক কে?
উত্তর: ১৯৬৮ সালে ফরাসি বিজ্ঞানী লি পিঁচো (Le Pichon) এই মতবাদটি সর্বসম্মতভাবে প্রকাশ করেন, তাই তাঁকে পাত-সংস্থান তত্ত্বের জনক বলা হয়।
পোস্টটি ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করো👇
Please Share