CLASS VI-VIII GEOGRAPHYClass 7

জল দূষণ কী? কারণ, প্রভাব ও প্রতিরোধের উপায় | সপ্তম শ্রেণি ভূগোল

​পৃথিবীর চারভাগের তিনভাগই জলে ঢাকা। কিন্তু মোট জলের ৯৭ ভাগই সমুদ্রের নোনা জল এবং ২ ভাগ রয়েছে হিমবাহের বরফ হিসেবে। ব্যবহারযোগ্য বিশুদ্ধ স্বাদু জল মাত্র ১ ভাগ (নদী, হ্রদ ও ভূগর্ভস্থ জল)! এই সামান্য পরিমাণ জলও আজ নানা কারণে দূষিত হচ্ছে, যা সমগ্র জীবজগতের কাছে এক চরম সংকট।

​নিম্নে জল দূষণ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

জল দূষণ কী? কারণ, প্রভাব ও প্রতিরোধের উপায় | সপ্তম শ্রেণি ভূগোল

সপ্তম শ্রেণি ভূগোল: জল দূষণ কী? – কারণ, প্রভাব ও প্রতিকার

​পৃথিবীর চারভাগের তিনভাগই জলে ঢাকা। কিন্তু মোট জলের ৯৭ ভাগই সমুদ্রের নোনা জল এবং ২ ভাগ রয়েছে হিমবাহের বরফ হিসেবে। ব্যবহারযোগ্য বিশুদ্ধ স্বাদু জল মাত্র ১ ভাগ (নদী, হ্রদ ও ভূগর্ভস্থ জল)! এই সামান্য পরিমাণ জলও আজ নানা কারণে দূষিত হচ্ছে, যা সমগ্র জীবজগতের কাছে এক চরম সংকট।

​নিম্নে জল দূষণ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

​❓ জল দূষণ কী? (What is Water P

​যখন বিভিন্ন ক্ষতিকারক ও অবাঞ্ছিত পদার্থ (যেমন- রাসায়নিক বর্জ্য, নোংরা আবর্জনা, বিষাক্ত ধাতু ইত্যাদি) জলে মিশে জলের স্বাভাবিক গুণমান নষ্ট করে এবং তা মানুষ, উদ্ভিদ ও অন্যান্য প্রাণীর ব্যবহারের অযোগ্য বা ক্ষতিকর হয়ে ওঠে, তখন তাকে জল দূষণ বলে।

​জল মূলত নিম্নলিখিত কারণগুলিতে দূষিত হয়:

জল দূষণের প্রধান উৎস ও কারণসমূহ বোঝানোর জন্য একটি শিক্ষামূলক ইনফোগ্রাফিক।
ছবি: জল দূষণের প্রধান ৬টি কারণ (শিল্প বর্জ্য, গৃহস্থালীর ময়লা, কৃষি রাসায়নিক, তেজস্ক্রিয়তা, তাপ দূষণ ও আর্সেনিক)।
  • শিল্পকারখানার বর্জ্য: পেট্রো-রাসায়নিক, প্লাস্টিক বা ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প থেকে অ্যামোনিয়া, ক্লোরিন, সায়ানাইড এবং পারদ, সিসার মতো বিষাক্ত ধাতু সরাসরি নদী বা সমুদ্রে মিশে জল দূষিত করে।
  • গৃহস্থালীর বর্জ্য: দৈনন্দিন রান্না, মলমূত্র, সাবান, ডিটারজেন্ট এবং হাসপাতাল ও বাজারের নোংরা আবর্জনা নিকাশি নালার মাধ্যমে জলাশয়ে পড়ে।
  • কৃষিক্ষেত্রের রাসায়নিক: চাষের কাজে ব্যবহৃত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক বৃষ্টির জলে ধুয়ে নদী বা পুকুরে মেশে। সারের নাইট্রেট মানুষের জন্য খুবই ক্ষতিকর।
  • তেজস্ক্রিয় পদার্থ ও খনিজ তেল: পারমাণবিক চুল্লির বর্জ্য এবং দুর্ঘটনাগ্রস্ত জাহাজ থেকে নির্গত খনিজ তেল সমুদ্রের জলকে মারাত্মকভাবে দূষিত করে।
  • তাপীয় ও বায়ু দূষণ: বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও কারখানার গরম জল সরাসরি জলাশয়ে মিশে অক্সিজেনের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। এছাড়া বাতাসের দূষিত গ্যাস (SO2, NO2) বৃষ্টির জলের সঙ্গে মিশে জলাশয়কে আম্লিক করে তোলে (অ্যাসিড বৃষ্টি)।
  • অতিরিক্ত ভৌমজল উত্তোলন: মাটির নিচ থেকে অতিরিক্ত জল তোলার ফলে ফাঁকা স্থানে আর্সেনিক যৌগ বাতাসের সাথে বিক্রিয়া করে পানীয় জলকে বিষাক্ত করে তোলে।
জল দূষণের ফলাফল, ইউট্রোফিকেশন এবং বিভিন্ন ক্ষতিকর রোগ যেমন ব্ল্যাকফুট, মিনামাটা, ইতাই-ইতাই ও ফ্লুরোসিস বোঝানোর শিক্ষামূলক ইনফোগ্রাফিক

ইউট্রোফিকেশন (Eutrophication): সাবান ও ডিটারজেন্টের ফসফেটের কারণে পুকুরে কচুরিপানা ও শৈবাল অত্যধিক বেড়ে যায়। এতে জলে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দেয় এবং মাছ ও জলজ প্রাণীর মৃত্যু হয়।

মারাত্মক রোগব্যাধি: * আর্সেনিক দূষণে: হাতের চেটো ও পায়ের তলায় কালো ক্ষত বা ‘ব্ল্যাকফুট ব্যাধি’ (Blackfoot Disease) হয়। পশ্চিমবঙ্গের মালদা, নদিয়া, হুগলি, দুই ২৪ পরগনা প্রভৃতি জেলায় এই প্রকোপ বেশি।

  • পারদ দূষণে: জাপানের মিনামাটা উপসাগরের মতো ‘মিনামাটা’ রোগ হয়।
  • ক্যাডমিয়াম দূষণে: ‘ইতাই-ইতাই’ অসুখ হয়।
  • ফ্লুরাইড দূষণে: ‘ফ্লুরোসিস’ (দাঁত ও হাড়ের সমস্যা) দেখা দেয়।
  • সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যু: উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় খনিজ তেল সমুদ্রে মিশে অসংখ্য সামুদ্রিক প্রাণী মারা যায়।

​জল দূষণ রোধ করতে আমাদের অবিলম্বে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে:

১. বর্জ্য জলের পরিশোধন: কলকারখানার দূষিত জল ও শহরের নিকাশি জল সরাসরি নদী বা সমুদ্রে ফেলার আগে তা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে শোধন (Treatment) করতে হবে।

২. জৈব কৃষিকাজ: কৃষিকাজে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের বদলে পরিবেশবান্ধব জৈব সার ব্যবহার বাড়াতে হবে।

৩. প্লাস্টিক বর্জন ও পরিচ্ছন্নতা: পুকুর বা নদীতে প্লাস্টিক ফেলা, গৃহপালিত পশু স্নান করানো বা জামাকাপড় কাচা বন্ধ করতে হবে।

৪. নিয়ন্ত্রিত জল উত্তোলন: ভৌমজলের যথেচ্ছ ব্যবহার কমাতে হবে এবং বৃষ্টির জল সংরক্ষণের (Rainwater Harvesting) ওপর জোর দিতে হবে, যাতে আর্সেনিক দূষণ এড়ানো যায়।

৫. সচেতনতা বৃদ্ধি: ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ—সবাইকে জলের অপচয় রোধ ও জল দূষণের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করতে হবে।

উত্তরপত্রে রোগ এবং তার জন্য দায়ী দূষকের নামগুলি (যেমন- পারদ = মিনামাটা, আর্সেনিক = ব্ল্যাকফুট ব্যাধি) ছক করে লিখলে পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়া যায়!

“এই অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ MCQ ও ২ নম্বরের প্রশ্নোত্তর পড়তে এখানে ক্লিক করুন”

১. জল দূষণ কী?

জলে ক্ষতিকারক ও অবাঞ্ছিত পদার্থ মিশে জলের স্বাভাবিক গুণাগুণ নষ্ট হলে তাকে জল দূষণ বলে।

২. পৃথিবীর কত শতাংশ জল ব্যবহারযোগ্য?

মাত্র প্রায় ১% জল ব্যবহারযোগ্য স্বাদু জল।

৩. জল দূষণের প্রধান কারণ কী কী?

শিল্প বর্জ্য, গৃহস্থালীর বর্জ্য, কৃষিক্ষেত্রের রাসায়নিক, তেজস্ক্রিয় পদার্থ, তাপ দূষণ ও অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ জল উত্তোলন।

৪. ইউট্রোফিকেশন কী?

জলে অতিরিক্ত পুষ্টি (বিশেষত ফসফেট) জমে শৈবাল ও জলজ উদ্ভিদের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি হওয়াকে ইউট্রোফিকেশন বলে।

৫. আর্সেনিক দূষণে কোন রোগ হয়?

ব্ল্যাকফুট রোগ (Blackfoot Disease) হয়।

৬. পারদ দূষণে কী রোগ হয়?

মিনামাটা রোগ (Minamata Disease) হয়।


৭. ফ্লুরাইড দূষণে কী সমস্যা হয়?

ফ্লুরোসিস—দাঁত ও হাড়ের সমস্যা দেখা দেয়।

৮. জল দূষণের ফলে কী কী ক্ষতি হয়?

জলজ প্রাণীর মৃত্যু, পানীয় জলের অভাব, নানা রোগব্যাধি এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়।

৯. জল দূষণ প্রতিরোধের একটি প্রধান উপায় কী?

বর্জ্য জল শোধন করে তবেই জলাশয়ে ফেলা।

১০. অ্যাসিড বৃষ্টি কীভাবে জল দূষণ ঘটায়?

বায়ুর দূষিত গ্যাস বৃষ্টির জলে মিশে জলাশয়কে অম্লীয় করে তোলে।


Please Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!