Class 7 আফ্রিকা মহাদেশ: প্রশ্ন উত্তর ও আলোচনা (সপ্তম শ্রেণির ভূগোল) | MCQ, Short Q&A
আজকের ব্লগে আমরা পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) পাঠ্যসূচি অনুযায়ী সপ্তম শ্রেণির ভূগোল দশম অধ্যায়: আফ্রিকা মহাদেশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। এই অধ্যায়টি স্কুল পরীক্ষা এবং চূড়ান্ত মূল্যায়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অনেক ছাত্রছাত্রীই আফ্রিকা মহাদেশের বৈচিত্র্যময় ভূ-প্রকৃতি, নীলনদ কিংবা সাহারা মরুভূমি সংক্রান্ত প্রশ্নের সহজ সমাধান খুঁজে থাকে। তাই আপনাদের সুবিধার্থে আমরা এই পোস্টে গুরুত্বপূর্ণ MCQ, শূন্যস্থান পূরণ, এক কথায় উত্তর এবং সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন-উত্তর অত্যন্ত সহজভাবে সাজিয়ে দিয়েছি। আশাকরি, এই নোটসটি তোমাদের পরীক্ষার প্রস্তুতিতে অনেক সাহায্য করবে।
Class 7 আফ্রিকা মহাদেশ: প্রশ্ন উত্তর ও আলোচনা (সপ্তম শ্রেণির ভূগোল) | WebBhugol.Com
Class 7 আফ্রিকা মহাদেশ MCQ Questions Answer
১. নিরক্ষরেখা, কর্কটক্রান্তিরেখা, মকরক্রান্তিরেখা এবং মূলমধ্যরেখা—এই চারটি রেখাই বিস্তৃত হয়েছে কোন মহাদেশের ওপর দিয়ে? ক) এশিয়া খ) আফ্রিকা গ) ইউরোপ ঘ) উত্তর আমেরিকা
উত্তর: খ) আফ্রিকা
২. ইউরোপ এবং আফ্রিকা মহাদেশকে বিচ্ছিন্ন করেছে কোন প্রণালী? ক) বেরিং প্রণালী খ) পক প্রণালী গ) জিব্রাল্টার প্রণালী ঘ) মালাক্কা প্রণালী
উত্তর: গ) জিব্রাল্টার প্রণালী
৩. আফ্রিকা মহাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম কী? ক) মাউন্ট তৌবকল খ) মাউন্ট কেনিয়া গ) মাউন্ট কিলিমাঞ্জারো ঘ) ড্রাকেন্সবার্গ
উত্তর: গ) মাউন্ট কিলিমাঞ্জারো
৪. ভূ-আলোড়নের ফলে তৈরি হওয়া ‘গ্রেট রিফট ভ্যালি’ বা বৃহৎ গ্রস্ত উপত্যকাটি আফ্রিকার কোন অংশে অবস্থিত? ক) উত্তর আফ্রিকায় খ) দক্ষিণ আফ্রিকায় গ) পূর্ব আফ্রিকায় ঘ) পশ্চিম আফ্রিকায়
উত্তর: গ) পূর্ব আফ্রিকায়
৫. আফ্রিকা মহাদেশের দক্ষিণ দিকে উঁচু মালভূমিতে যে নাতিশীতোষ্ণ তৃণভূমি দেখা যায়, তার নাম কী? ক) প্রেইরি খ) পম্পাস গ) ভেল্ড ঘ) সাভানা
উত্তর: গ) ভেল্ড
৬. হোয়াইট নীল এবং ব্লু নীল—এই দুটি প্রধান ধারার মিলনস্থল কোনটি? ক) কায়রো খ) খার্তুম গ) আসোয়ান ঘ) লাস্কার
উত্তর: খ) খার্তুম
৭. দিগন্ত বিস্তৃত ঘাসজমির মধ্যে অ্যাকাসিয়া ও বাওবাব গাছ প্রধানত কোন জলবায়ু বা উদ্ভিদ অঞ্চলে দেখা যায়? ক) নিরক্ষীয় চিরসবুজ অরণ্য খ) ভূমধ্যসাগরীয় উদ্ভিদ গ) সাভানা তৃণভূমি ঘ) ভেল্ড তৃণভূমি
উত্তর: গ) সাভানা তৃণভূমি
৮. পৃথিবীর বিখ্যাত ‘ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত’ আফ্রিকা মহাদেশের কোন নদীর গতিপথে সৃষ্টি হয়েছে? ক) নীলনদ খ) কঙ্গো নদী গ) নাইজার নদী ঘ) জাম্বেজি নদী
উত্তর: ঘ) জাম্বেজি নদী
৯. আফ্রিকার কোন নদীর ব-দ্বীপের জলাভূমিতে প্রতি বছর পরিযায়ী পাখি উড়ে আসে? ক) নীলনদ খ) কঙ্গো নদী গ) অরেঞ্জ নদী ঘ) নাইজার নদী
উত্তর: ঘ) নাইজার নদী
১০. নীলনদের ব-দ্বীপ অঞ্চলে উৎপাদিত কোন ফসল সারা বিশ্বে ‘ইজিপসিয়ান কটন’ নামে খ্যাত? ক) গম খ) রেশম গ) লম্বা আঁশের তুলো ঘ) আখ
উত্তর: গ) লম্বা আঁশের তুলো
১১. বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষিজমিতে জলসেচের উদ্দেশ্যে নীলনদের ওপর নির্মিত পৃথিবীর বৃহত্তম বাঁধটির নাম কী? ক) সেনার বাঁধ খ) উচ্চ আসোয়ান বাঁধ গ) লেক নাসের বাঁধ ঘ) জেবেল-আউলিয়া বাঁধ
উত্তর: খ) উচ্চ আসোয়ান বাঁধ
১২. সাহারা মরুভূমিতে যে সব অঞ্চলে বালির স্তূপ জমা হয়ে ছোটো পাহাড়ের মতো তৈরি করে, তাকে কী বলা হয়? ক) হামাদা খ) রেগ গ) আর্গ ঘ) ওয়াদি
উত্তর: গ) আর্গ
১৩. সাহারার যেসব অঞ্চল শক্ত পাথরে ভরতি, যেখানে বালির অস্তিত্ব প্রায় চোখেই পড়ে না, তাকে কী বলে? ক) আর্গ খ) হামাদা গ) রেগ ঘ) ওয়াদি
উত্তর: খ) হামাদা
১৪. গরমকালে সাহারা মরুভূমির ওপর দিয়ে যে গরম ও শুকনো বাতাস বয়ে যায়, তাকে স্থানীয় ভাষায় কী বলা হয়? ক) হারমাট্টান খ) সাইমুম গ) চিনুক ঘ) খামসিন
উত্তর: ঘ) খামসিন
১৫. গরমকালে সাহারা মরুভূমিতে দিনের বেলায় কখনো কখনো প্রবল বালির ঝড় হতে দেখা যায়, একে স্থানীয় ভাষায় কী বলা হয়? ক) খামসিন খ) সাইমুম গ) হারমাট্টান ঘ) ওয়াদি
উত্তর: খ) সাইমুম
সপ্তম শ্রেণি ভূগোল: আফ্রিকা মহাদেশ শূন্যস্থান পূরণ করো:
১. পৃথিবীর প্রথম মানুষের উদ্ভব হয়েছিল ___________ আফ্রিকাতেই।
২. আফ্রিকা মহাদেশের উত্তর-পশ্চিম দিকে অবস্থিত আটলাস পর্বতমালার সবচেয়ে উঁচু শৃঙ্গ হলো ___________।
৩. আফ্রিকা মহাদেশের দক্ষিণ দিকে কালাহারি এবং ___________ নামে দুটি উল্লেখযোগ্য মরুভূমি রয়েছে।
৪. আফ্রিকার দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী কঙ্গো প্রতিদিন প্রচুর জল বহন করে ___________ মহাসাগরে পতিত হয়েছে।
৫. আফ্রিকার একেবারে উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে প্রধানত ___________ জলবায়ু ও উদ্ভিদ দেখা যায়।
৬. কৃষিকাজ, জলসেচ, শিল্প ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে নীলনদের অপরিসীম অবদানের জন্য মিশরকে ___________ বলা হয়।
৭. সাহারা মরুভূমিতে যে সব অঞ্চলে বালির সঙ্গে পাথরের টুকরো একসঙ্গে মিশে থাকে, তাকে ___________ বলে।
৮. সাহারা মরুভূমির বেশিরভাগ নদীগুলো শুকনো; এই শুকনো নদীর খাতগুলোকে বলা হয় ___________।
৯. সাহারা মরুভূমির ___________ জাতির মানুষেরা বর্তমানে বিদেশি পর্যটকদের ভ্রমণ নির্দেশক হিসেবে কাজ করে।
১০. মরুভূমিতে যাযাবরেরা দল বেঁধে যখন উট নিয়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাতায়াত করে, তখন তাকে ___________ বলে।
উত্তরমালা:
১. পূর্ব ২. মাউন্ট তৌৰকল ৩. নামিব ৪. আটলান্টিক ৫. ভূমধ্যসাগরীয় ৬. নীলনদের দান ৭. রেগ ৮. ওয়াদি ৯. তুয়ারেগ ১০. ক্যারাভান
আফ্রিকা মহাদেশ থেকে গুরুত্বপূর্ণ শুদ্ধ না অশুদ্ধ তা নির্ণয় করো:
১. প্রাকৃতিক দুর্গমতা এবং অস্বস্তিকর জলবায়ুর কারণে বহুদিন পর্যন্ত আধুনিক সভ্যতার আলো পৌঁছাতে না পারায় আফ্রিকা মহাদেশকে ‘অন্ধকারাচ্ছন্ন মহাদেশ’ বলা হতো।
উত্তর: শুদ্ধ
২. পূর্ব আফ্রিকার গ্রস্ত উপত্যকা (Great Rift Valley) অঞ্চলে অবস্থিত টাঙ্গানিকা, মালাউই ও রুডলফ হ্রদগুলোর গভীরতা খুবই কম।
উত্তর: অশুদ্ধ (সঠিক তথ্য: হ্রদগুলোর দৈর্ঘ্য ও গভীরতা অনেক বেশি।)
৩. কঙ্গো নদীর অববাহিকা অঞ্চলে বৃষ্টিপাত খুব কম হওয়ার কারণে এখানকার অরণ্যে সারাবছর গাছের পাতা ঝরে যায়।
উত্তর: অশুদ্ধ (সঠিক তথ্য: বৃষ্টি বেশি হওয়ায় কঙ্গো অববাহিকার ঘন জঙ্গল সারাবছর সবুজ থাকে।)
৪. নাইজার নদীর উৎসস্থল আটলান্টিক মহাসাগর থেকে মাত্র ২০০ কিমি দূরে অবস্থিত হলেও, নদীটি প্রথমে উল্টো দিকে অর্থাৎ সাহারা মরুভূমির দিকে প্রবাহিত হয়েছে।
উত্তর: শুদ্ধ
৫. অরেঞ্জ নদী ড্রাকেন্সবার্গ পর্বত থেকে উৎপন্ন হয়ে পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে ভারত মহাসাগরে পতিত হয়েছে।
উত্তর: অশুদ্ধ (সঠিক তথ্য: অরেঞ্জ নদী পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়ে আটলান্টিক মহাসাগরে পড়েছে।)
৬. উচ্চতা বাড়লে বাতাসের উয়তা কমে যায় এবং প্রতি ১ কিমি উচ্চতা বাড়লে বাতাসের উয়তা গড়ে ৬.৫০° সেলসিয়াস হারে কমে। উত্তর: শুদ্ধ
৭. আফ্রিকার পূর্বদিকে এবং মাদাগাস্কার দ্বীপে মূলত নিরক্ষীয় চিরসবুজ গাছের অরণ্য দেখা যায়।
উত্তর: অশুদ্ধ (সঠিক তথ্য: আফ্রিকার পূর্বদিকে এবং মাদাগাস্কার দ্বীপে মৌসুমী পর্ণমোচী গাছের অরণ্য দেখা যায়।)
৮. কৃষিকাজ, শিল্প ও যাতায়াত ব্যবস্থা অত্যন্ত উন্নত হওয়ার কারণে মিশরের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ নীলনদের অববাহিকা অঞ্চলেই বসবাস করে।
উত্তর: শুদ্ধ
৯. সাহারা মরুভূমিতে পাথরের ওপর কিছু উদ্ভিদ ও জলজ প্রাণীর জীবাশ্ম পাওয়া গেছে, যা প্রমাণ করে যে এই অঞ্চলটি একসময় বৃষ্টিবহুল ছিল।
উত্তর: শুদ্ধ
১০. নীলনদের অববাহিকার একেবারে উচ্চ অংশে প্রচুর পরিমাণে জলপাই এবং যব চাষ করা হয়।
উত্তর: অশুদ্ধ (সঠিক তথ্য: উচ্চ অববাহিকায় কফি, কলা ও তামাকের চাষ হয় এবং নিম্ন অববাহিকায় জলপাই ও যব চাষ হয়।)
Class 7 আফ্রিকা মহাদেশ প্রশ্ন ও উত্তর ( Online Mock Test)
সপ্তম শ্রেণির দশম অধ্যায়: আফ্রিকা মহাদেশ
10 টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন বিগত বছরগুলিতে পরীক্ষায় পড়েছে
🎉 তোমার স্কোর: /10
আফ্রিকা মহাদেশ থেকে গুরুত্বপূর্ণ এক কথায় উত্তর দাও:
১. আফ্রিকা মহাদেশে মোট দেশের সংখ্যা কটি?
উত্তর: ৫৬টি।
২. আফ্রিকা মহাদেশের উত্তরে কোন সাগর অবস্থিত?
উত্তর: ভূমধ্যসাগর।
৩. সাহারা মরুভূমির মধ্যভাগে অবস্থিত যেকোনো একটি মালভূমির নাম লেখো।
উত্তর: আহাগ্গার (বা টিবেস্টি) মালভূমি।
৪. আফ্রিকার দীর্ঘতম নদী নীলনদের মোট দৈর্ঘ্য কত?
উত্তর: ৬৬৫০ কিমি।
৫. 'হোয়াইট নীল' বা শ্বেত নীলের উৎসস্থল কোন মালভূমি?
উত্তর: বুরুন্ডি মালভূমি।
৬. নিরক্ষীয় চিরসবুজ অরণ্যে জন্মায় এমন একটি শক্ত কাঠের গাছের নাম লেখো।
উত্তর: মেহগনি (বা রোজউড / এবনি)।
৭. আফ্রিকা মহাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলীয় উষ্ণ নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু পৃথিবীর আর কোন দেশের জলবায়ুর মতো?
উত্তর: চিন দেশের।
৮. সাহারা মরুভূমির উষ্ণ ও শুষ্ক বায়ু 'খামসিন' গিনি উপকূল অঞ্চলে কী নামে পরিচিত?
উত্তর: হারমাট্টান।
৯. সাহারা মরুভূমি অঞ্চলে অবস্থিত লিবিয়ার সবচেয়ে উষ্ণ স্থানটির নাম কী?
উত্তর: আল আজিজিয়া।
১০. সুদানে 'ব্লু নীল'-এর ওপর নির্মিত যেকোনো একটি বাঁধের নাম লেখো।
উত্তর: জেবেল-আউলিয়া বাঁধ (বা সেনার / আটাবারা বাঁধ)।
১১. আফ্রিকা মহাদেশের পশ্চিমে কোন মহাসাগর অবস্থিত?
উত্তর: আটলান্টিক মহাসাগর।
১২. পূর্ব আফ্রিকার গ্রস্ত উপত্যকা অঞ্চলে সৃষ্ট যেকোনো একটি হ্রদের নাম লেখো।
উত্তর: টাঙ্গানিকা (বা মালাউই / রুডলফ / অ্যালবার্ট)।
১৩. আফ্রিকার দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী কোনটি?
উত্তর: কঙ্গো নদী।
১৪. আফ্রিকার কোন নদী আটলান্টিক মহাসাগরের উল্টো দিকে সাহারা মরুভূমির দিকে প্রবাহিত হয়ে পরে আবার দক্ষিণ দিকে ঘুরেছে?
উত্তর: নাইজার নদী।
১৫. আফ্রিকা মহাদেশের একেবারে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে কোন পর্বতমালা অবস্থিত?
উত্তর: ড্রাকেন্সবার্গ পর্বতমালা।
১৬. ভূমধ্যসাগরীয় উদ্ভিদ অঞ্চলে জন্মায় এমন একটি গাছের নাম লেখো, যার পাতায় নরম মোমের আস্তরণ থাকে।
উত্তর: জলপাই (বা ওক / আখরোট / ডুমুর / কর্ক)।
১৭. নীলনদ অববাহিকার মধ্য অংশে মূলত কোন ধরনের তৃণভূমি দেখা যায়?
উত্তর: সাভানা তৃণভূমি।
১৮. সাহারা মরুভূমিতে অবস্থিত যেকোনো একটি উল্লেখযোগ্য মরূদ্যানের নাম লেখো।
উত্তর: কুফরা (বা সিউয়া / টিমিমুন / ঘারদাইয়া / বাহারিয়া)।
১৯. সাহারা মরুভূমি অঞ্চলে বসবাসকারী যাযাবরদের প্রধান খাদ্য কী?
উত্তর: পশুর দুধ ও মাংস।
২০. নীলনদ ভূমধ্যসাগরের মোহনার কাছে কী তৈরি করেছে?
উত্তর: বিশাল ব-দ্বীপ।
২ ও ৩ নম্বরের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (সপ্তম শ্রেণি ভূগোল)
১. আফ্রিকা মহাদেশকে 'অন্ধকারাচ্ছন্ন মহাদেশ' বলা হতো কেন?
উত্তর: প্রাকৃতিক দুর্গমতা, অস্বস্তিকর ও অত্যন্ত আর্দ্র জলবায়ু, গভীর জঙ্গল এবং হিংস্র জন্তুর ভয়ের কারণে বহুদিন পর্যন্ত আফ্রিকা মহাদেশে আধুনিক সভ্যতার আলো পৌঁছাতে পারেনি। বহির্বিশ্বের কাছে অজানা ও দুর্গম থাকার কারণেই এই মহাদেশকে একসময় 'অন্ধকারাচ্ছন্ন মহাদেশ' বলা হতো।
২. 'গ্রস্ত উপত্যকা' বা Great Rift Valley কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে?
উত্তর: ভূ-আলোড়নের ফলে আফ্রিকার পূর্ব দিকের ভূ-পৃষ্ঠে বিশাল ফাটল তৈরি হয়েছিল। কালক্রমে দুটি সমান্তরাল ফাটলের মাঝের অংশ নীচের দিকে বসে গিয়ে এই দীর্ঘ ও গভীর 'গ্রস্ত উপত্যকা' সৃষ্টি করেছে। এই অঞ্চলের দুটি উল্লেখযোগ্য হ্রদ হলো টাঙ্গানিকা ও মালাউই।
৩. মিশরকে 'নীলনদের দান' বলা হয় কেন?
উত্তর: শুষ্ক মরুভূমির দেশ মিশরের ওপর দিয়ে নীলনদ প্রবাহিত হওয়ায় সেখানে কৃষিকাজ, পশুপালন, জলসেচ এবং শিল্পের ব্যাপক উন্নতি ঘটেছে। নীলনদ না থাকলে মিশর সম্পূর্ণ সাহারা মরুভূমিতে পরিণত হতো। এককথায়, মিশরের যাবতীয় অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নীলনদের জন্যই, তাই মিশরকে 'নীলনদের দান' বলা হয়।
৪. বহুমুখী নদী পরিকল্পনা বলতে কী বোঝো?
উত্তর: যখন কোনো নদীতে বড়ো বাঁধ দিয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, জলসেচ, জলবিদ্যুৎ উৎপাদন, জল পরিবহন এবং মাছ চাষের মতো একাধিক বা বহুমুখী উদ্দেশ্য একসঙ্গে সাধন করা হয়, তখন তাকে বহুমুখী নদী পরিকল্পনা বলা হয়। যেমন— নীলনদের ওপর তৈরি হওয়া উচ্চ আসোয়ান বাঁধ।
৫. সাহারা মরুভূমির ভূ-প্রকৃতিতে 'আর্গ' ও 'হামাদা' বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: সাহারা মরুভূমির যেসব অঞ্চলে বালির স্তূপ জমা হয়ে ছোটো ছোটো পাহাড় বা বালিয়াড়ির মতো তৈরি করে, তাকে 'আর্গ' বলে। অন্যদিকে, যেসব অঞ্চল বালির বদলে কেবল শক্ত পাথরে ভরতি এবং যেখানে বালির অস্তিত্ব চোখেই পড়ে না, তাকে 'হামাদা' বলা হয়।
৬. 'ওয়াদি' কী?
উত্তর: সাহারা মরুভূমির বেশিরভাগ নদীগুলো আটলাস পর্বত ও মধ্যভাগের উচ্চভূমি থেকে সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু বৃষ্টির অভাবে এই নদীগুলোতে সারাবছর জল থাকে না। মরুভূমি অঞ্চলের এই শুকনো নদীর খাতগুলোকেই স্থানীয় ভাষায় 'ওয়াদি' বলা হয়।
৭. ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের উদ্ভিদের প্রধান দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর: আফ্রিকার উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে জন্ম নেওয়া ভূমধ্যসাগরীয় উদ্ভিদের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো: ১) গ্রীষ্মকালের শুষ্কতা ও প্রখর উত্তাপ থেকে বাঁচতে গাছের পাতায় নরম মোমের আস্তরণ থাকে। ২) জলের সন্ধানে এই গাছগুলোর শিকড় মাটির অনেক গভীর পর্যন্ত চলে যায় (যেমন- জলপাই, ওক)।
৮. সাহারার 'খামসিন' ও 'সাইমুম' বলতে কী বোঝো?
উত্তর: গরমকালে সাহারা মরুভূমির ওপর দিয়ে দিনের বেলায় যে অত্যন্ত গরম ও শুকনো বাতাস বয়ে যায়, তাকে 'খামসিন' বলে। অন্যদিকে, গরমকালে দিনের বেলায় মাঝে মাঝে সাহারায় যে প্রবল বালির ঝড় সৃষ্টি হয়, তাকে স্থানীয় ভাষায় 'সাইমুম' বলা হয়।
৯. যাযাবর কাদের বলা হয়?
উত্তর: মরুভূমি অঞ্চলে জলের অভাব ও শুষ্কতার কারণে যারা নির্দিষ্ট কোনো জায়গায় স্থায়ীভাবে বসবাস করে না এবং উট, ঘোড়া বা ছাগলের দল নিয়ে জল ও খাবারের সন্ধানে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ঘুরে বেড়ায়, তাদের যাযাবর বলা হয়।
১০. সাভানা তৃণভূমি অঞ্চলের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।
উত্তর: আফ্রিকার নিরক্ষীয় অঞ্চলের উত্তরে ও দক্ষিণে যেখানে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ১৫০ সেমি বা তার কম, সেখানে বড়ো গাছের বদলে দিগন্ত বিস্তৃত লম্বা ঘাসের প্রান্তর দেখা যায়, যাকে সাভানা তৃণভূমি বলে। ঘাসজমির মাঝে মাঝে এখানে অ্যাকাসিয়া এবং বাওবাব জাতীয় গাছ জন্মায়।
প্রশ্ন: আফ্রিকা মহাদেশে জলবায়ু ও স্বাভাবিক উদ্ভিদের বৈচিত্র্যের কারণগুলি কী কী? (মান - ৩)
উত্তর: আফ্রিকা মহাদেশের সুবিশাল আয়তন এবং বৈচিত্র্যময় ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এখানকার বিভিন্ন অংশে জলবায়ু এবং স্বাভাবিক উদ্ভিদের মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য বা বৈচিত্র্য দেখা যায়। এর প্রধান কারণগুলি নীচে আলোচনা করা হলো:
১. অক্ষরেখার অবস্থান: আফ্রিকার প্রায় মাঝখান দিয়ে নিরক্ষরেখা বিস্তৃত হওয়ায় এর মধ্যভাগে সারাবছর সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয়। ফলে সেখানে প্রবল উষ্ণতা ও প্রচুর বৃষ্টিপাতের কারণে 'নিরক্ষীয় চিরসবুজ অরণ্য' সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে, নিরক্ষরেখা থেকে উত্তর ও দক্ষিণে মেরুর দিকে যত যাওয়া যায়, সূর্যের তির্যক রশ্মির কারণে উষ্ণতা ও বৃষ্টিপাত দুই-ই কমতে থাকে। এর ফলেই ক্রমশ সাভানা তৃণভূমি এবং মরুভূমির (যেমন- সাহারা, কালাহারি) সৃষ্টি হয়েছে।
২. সমুদ্র থেকে দূরত্ব: সমুদ্রের কাছাকাছি অঞ্চলে বাতাস চরমভাবে গরম বা ঠান্ডা হতে পারে না, ফলে সেখানে সমভাবাপন্ন জলবায়ু দেখা যায়। কিন্তু আফ্রিকা মহাদেশের বিস্তীর্ণ অভ্যন্তরীণ ভূভাগ সমুদ্র থেকে বহুদূরে অবস্থিত। সমুদ্রের প্রভাব না পৌঁছানোয় ওইসব অঞ্চলে চরমভাবাপন্ন জলবায়ু দেখা যায়। বৃষ্টিপাতের চরম অভাবের কারণেই মহাদেশটির অভ্যন্তরে বিশাল রুক্ষ মরুভূমি এবং কাঁটাঝোপ জাতীয় উদ্ভিদের জন্ম হয়েছে।

৩. উচ্চতার প্রভাব: সাধারণ নিয়মে ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা বাড়লে বাতাসের উষ্ণতা কমে যায় (প্রতি ১ কিমি উচ্চতা বাড়লে উষ্ণতা গড়ে ৬.৫০° সেলসিয়াস হারে কমে)। এই কারণে ইথিওপিয়ার উচ্চভূমি কিংবা মাউন্ট কিলিমাঞ্জারোর মতো পর্বতগুলি নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও, কেবল উচ্চতার কারণেই সেখানে শীতল জলবায়ু বিরাজ করে এবং চূড়ায় বরফ জমে থাকে। উচ্চতা অনুযায়ী পাহাড়ের ঢালে উদ্ভিদেরও পার্থক্য ঘটে।
৪. সমুদ্রস্রোতের প্রভাব: আফ্রিকা মহাদেশের বিভিন্ন উপকূলের পাশ দিয়ে প্রবাহিত উষ্ণ ও শীতল সমুদ্রস্রোত সেখানকার জলবায়ু ও স্বাভাবিক উদ্ভিদের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। উষ্ণ স্রোত সংলগ্ন উপকূলে উষ্ণতা ও বৃষ্টিপাত বাড়ায়, অন্যদিকে শীতল স্রোতের প্রভাবে উষ্ণতা ও বৃষ্টিপাত কমে যায়, যা সরাসরি ওই অঞ্চলের গাছপালার ধরন নির্ধারণ করে।
প্রশ্ন: আফ্রিকার জলবায়ুর সঙ্গে স্বাভাবিক উদ্ভিদের সম্পর্ক আলোচনা করো। (মান - ৩)
উত্তর: আফ্রিকা মহাদেশের সব জায়গায় জলবায়ু সমান নয়। মূলত তাপমাত্রা এবং বৃষ্টিপাতের পরিমাণের পার্থক্যের ওপর নির্ভর করেই এই মহাদেশের স্বাভাবিক উদ্ভিদের ধরন বদলে যায়। জলবায়ুর পরিবর্তনের সঙ্গে উদ্ভিদের এই নিবিড় সম্পর্কগুলি নীচে আলোচনা করা হলো:
- অধিক বৃষ্টিপাত ও উচ্চ তাপমাত্রা (নিরক্ষীয় অঞ্চল): নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অঞ্চলে সারাবছর প্রবল উষ্ণতা ও প্রচুর বৃষ্টিপাতের (২০০-২৫০ সেমি) কারণে মেহগনি, রোজউড প্রভৃতি শক্ত কাঠের চিরসবুজ অরণ্য সৃষ্টি হয়েছে। জলের প্রাচুর্যের কারণে এখানকার গাছগুলি সারাবছর সবুজ থাকে।
- মাঝারি বৃষ্টিপাত (সাভানা ও ভেল্ড): নিরক্ষীয় অঞ্চল থেকে দূরে বৃষ্টিপাত কমে গেলে (১৫০ সেমির মতো) বড়ো গাছের সংখ্যা কমে যায় এবং তার বদলে বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে লম্বা ঘাসের প্রান্তর দেখা যায়, যা সাভানা তৃণভূমি নামে পরিচিত। আবার, একেবারে দক্ষিণে শীত ও গ্রীষ্মের তাপমাত্রার চরম পার্থক্যের কারণে ছোটো ও খসখসে ঘাসের ভেল্ড তৃণভূমি গড়ে উঠেছে।

- চরম শুষ্কতা ও বৃষ্টিহীনতা (মরু অঞ্চল): সাহারা বা কালাহারির মতো মরুভূমি অঞ্চলে প্রবল উষ্ণতা এবং বৃষ্টিপাত প্রায় না থাকার কারণে সেখানে বড়ো গাছ জন্মায় না। তার বদলে ক্যাকটাস ও কাঁটাঝোপ জাতীয় উষ্ণ মরু উদ্ভিদ জন্মায়, যারা চরম প্রতিকূল পরিবেশে নিজের শরীরে জল ধরে রেখে বেঁচে থাকে।
- শীতকালীন বৃষ্টিপাত ও শুষ্ক গ্রীষ্মকাল (ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল): আফ্রিকার একেবারে উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে শীতকালে মাঝারি বৃষ্টি হয় কিন্তু গ্রীষ্মকাল বৃষ্টিহীন থাকে। এই বিশেষ জলবায়ুর সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এখানকার জলপাই, ওক, কর্ক প্রভৃতি ভূমধ্যসাগরীয় উদ্ভিদের পাতায় মোমের আস্তরণ থাকে এবং শেকড় জলের সন্ধানে মাটির অনেক গভীরে চলে যায়।
মেলাও তো দেখি (সঠিক উত্তরসহ)
স্তম্ভ দুটির সঠিক মিলনের পর তালিকাটি নিচে দেওয়া হলো:
| বাম স্তম্ভ | ডান স্তম্ভ (সঠিক উত্তর) |
| (ক) ভেল্ড | (খ) দক্ষিণ আফ্রিকার তৃণ অঞ্চল |
| (খ) কঙ্গো নদী অববাহিকা | (ঘ) ঘন জঙ্গল (চিরসবুজ) |
| (গ) সাহারা | (ঙ) প্রায় বসতিহীন অঞ্চল |
| (ঘ) মাউন্ট তৌবকল | (ক) আটলাস পর্বতমালা |
| (ঙ) গ্রস্ত উপত্যকা | (গ) দুটি ফাটলের মধ্যবর্তী নীচু অংশ |
? বলতে পারো কেন? (যৌক্তিক কারণ নির্ণয়)
৩.১ সাহারা মরুভূমিতে জনবসতি প্রায় দেখাই যায় না কেন?
উত্তর: সাহারা পৃথিবীর বৃহত্তম মরুভূমি। এখানকার পরিবেশ অত্যন্ত চরমভাবাপন্ন—দিনের বেলায় ভীষণ গরম থাকে এবং বৃষ্টিপাত প্রায় হয় না বললেই চলে। জলের চরম অভাব এবং চারপাশের শুষ্ক, রুক্ষ ও বালুকাময় প্রকৃতির কারণে এখানে কৃষিকাজ করা বা সাধারণ জীবনধারণ করা অত্যন্ত কঠিন। এই চরম প্রতিকূল ও রুক্ষ পরিবেশের জন্যই সাহারা মরুভূমিতে জনবসতি প্রায় দেখাই যায় না।
৩.২ নীলনদ মিশরের মরু অঞ্চলকে সবুজ করে তুলেছে কেন?
উত্তর: মিশর দেশটি মূলত শুষ্ক সাহারা মরুভূমিরই একটি অংশ। কিন্তু আফ্রিকার মধ্যভাগের হ্রদ অঞ্চল থেকে উৎপন্ন হয়ে নীলনদ তার বিপুল জলরাশি নিয়ে মিশরের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে। এই নদীর মিষ্টি জলের সাহায্যে মরুভূমির বুকে কৃষিকাজ, জলসেচ এবং গাছপালা লাগানো সম্ভব হয়েছে। নীলনদের নিরবচ্ছিন্ন জলের জোগানই মিশরের শুষ্ক ও রুক্ষ মরু অঞ্চলকে শস্যশ্যামল ও সবুজ করে তুলেছে।
৩.৩ কঙ্গো নদীর অববাহিকার ঘন জঙ্গল সারাবছর সবুজ থাকে কেন?
উত্তর: কঙ্গো নদীর অববাহিকা নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অঞ্চলে অবস্থিত। নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারাবছর সরাসরি সূর্যকিরণ পড়ে এবং প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত (২০০-২৫০ সেমি) হয়। জলের কোনো অভাব না থাকায় এবং প্রবল উষ্ণতার কারণে এখানকার গাছগুলোর পাতা একসঙ্গে ঝরে যাওয়ার কোনো নির্দিষ্ট ঋতু থাকে না। এই কারণেই কঙ্গো অববাহিকার ঘন জঙ্গল সারাবছর চিরসবুজ থাকে।
৩.৪ পূর্ব আফ্রিকায় গ্রস্ত উপত্যকা সৃষ্টি হয়েছে কেন?
উত্তর: ভূ-অভ্যন্তরে প্রবল ভূ-আলোড়নের ফলে আফ্রিকা মহাদেশের পূর্ব দিকের ভূ-পৃষ্ঠে বিশাল ফাটল বা চ্যুতির সৃষ্টি হয়েছিল। পরবর্তীতে দুটি সমান্তরাল ফাটলের মাঝের ভূ-ভাগ বসে গিয়ে বা নীচের দিকে ডেবে গিয়ে যে দীর্ঘ ও গভীর খাদের সৃষ্টি করেছে, তা-ই পূর্ব আফ্রিকার 'গ্রস্ত উপত্যকা' বা গ্রেট রিফ্ট ভ্যালি (Great Rift Valley) নামে পরিচিত।
এই সম্পূর্ণ নোটটি PDF পেতে এখানে ক্লিক করুন 👇
সপ্তম শ্রেণির ভূগোলের আগের অধ্যায়গুলোর প্রশ্ন-উত্তর
এশিয়া মহাদেশ সপ্তম শ্রেণি | সপ্তম শ্রেণির নবম অধ্যায় এশিয়া মহাদেশ👉 Click Here
❓ আফ্রিকা মহাদেশ অধ্যায়: সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)
❓ 1. আফ্রিকা মহাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কোনটি?
👉 আফ্রিকা মহাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হলো মাউন্ট কিলিমাঞ্জারো।
❓ 2. আফ্রিকার মধ্য দিয়ে কোন কোন গুরুত্বপূর্ণ কাল্পনিক রেখা যায়?
👉 আফ্রিকার মধ্য দিয়ে নিরক্ষরেখা, কর্কটক্রান্তি, মকরক্রান্তি এবং মূলমধ্যরেখা বিস্তৃত হয়েছে।
❓ 3. আফ্রিকার জলবায়ু এত বৈচিত্র্যময় কেন?
👉 আফ্রিকার বিশাল আয়তন, অক্ষাংশের পার্থক্য, সমুদ্র থেকে দূরত্ব, উচ্চতার তারতম্য এবং সমুদ্রস্রোতের প্রভাবের কারণে জলবায়ু বৈচিত্র্যময়।
❓ 4. সাভানা তৃণভূমি কোথায় দেখা যায়?
👉 নিরক্ষীয় অঞ্চলের উত্তরে ও দক্ষিণে মাঝারি বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চলে সাভানা তৃণভূমি দেখা যায়।
❓ 5. সাহারা মরুভূমিতে জনবসতি কম কেন?
👉 চরম উষ্ণতা, বৃষ্টির অভাব, পানির সংকট এবং কৃষিকাজের অনুপযুক্ত পরিবেশের কারণে সাহারায় জনবসতি খুব কম।
❓ 6. নীলনদ কেন গুরুত্বপূর্ণ?
👉 নীলনদ মিশরের কৃষি, জলসেচ ও জীবনধারণের প্রধান উৎস, তাই একে “নীলনদের দান” বলা হয়।
❓ 7. কঙ্গো অববাহিকার বন কেন চিরসবুজ?
👉 প্রচুর বৃষ্টিপাত ও উচ্চ তাপমাত্রার কারণে গাছের পাতা সারাবছর সবুজ থাকে।
❓ 8. গ্রেট রিফট ভ্যালি কোথায় অবস্থিত?
👉 গ্রেট রিফট ভ্যালি পূর্ব আফ্রিকায় অবস্থিত।
❓ 9. সাহারা মরুভূমির বালির পাহাড়কে কী বলা হয়?
👉 সাহারার বালির পাহাড়কে আর্গ বলা হয়।
❓ 10. ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য কী?
👉 এখানে গাছের পাতায় মোমের আস্তরণ থাকে এবং শিকড় অনেক গভীরে যায়, যাতে শুষ্ক গ্রীষ্মে বাঁচতে পারে।
❓ 11. আফ্রিকার দীর্ঘতম নদী কোনটি?
👉 আফ্রিকার দীর্ঘতম নদী হলো নীলনদ।
❓ 12. কঙ্গো নদী কোন মহাসাগরে পতিত হয়?
👉 কঙ্গো নদী আটলান্টিক মহাসাগরে পতিত হয়।
❓ 13. আফ্রিকার প্রধান মরুভূমিগুলি কী কী?
👉 আফ্রিকার প্রধান মরুভূমি হলো সাহারা ও কালাহারি।
❓ 14. ভেল্ড কী?
👉 ভেল্ড হলো দক্ষিণ আফ্রিকার উঁচু মালভূমিতে অবস্থিত নাতিশীতোষ্ণ তৃণভূমি।
❓ 15. আফ্রিকার “অন্ধকারাচ্ছন্ন মহাদেশ” বলা হয় কেন?
👉 দীর্ঘদিন পর্যন্ত দুর্গমতা, ঘন জঙ্গল ও প্রতিকূল জলবায়ুর কারণে আফ্রিকাকে অন্ধকারাচ্ছন্ন মহাদেশ বলা হতো।
