মাটি দূষণ: কারণ, প্রভাব ও প্রতিরোধের উপায় | সপ্তম শ্রেণি ভূগোল (অধ্যায় ৮)
সপ্তম শ্রেণি ভূগোল: মাটি দূষণ – কারণ, প্রভাব ও প্রতিকার (অধ্যায় ৮)| WebBhugol
আমাদের পরিবেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো মাটি। কিন্তু দিন দিন মানুষের নানা অবৈজ্ঞানিক ও অবিবেচকের মতো কাজের ফলে এই মাটি তার স্বাভাবিক গুণমান হারাচ্ছে। আসুন, খুব সহজে জেনে নিই মাটি দূষণ কী, কেন হয় এবং কীভাবে আমরা একে আটকাতে পারি।
মাটি দূষণ কী?
প্রাকৃতিক কারণে বা মানুষের নানা কাজকর্মের ফলে যখন মাটির স্বাভাবিক গুণমান ও উর্বরতা নষ্ট হয় এবং তা উদ্ভিদ, প্রাণী ও মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হয়ে ওঠে, তখন তাকে মাটি দূষণ বা মৃত্তিকা দূষণ বলা হয়। যেমন ধরো আমরা প্লাস্টিক ব্যবহার করার পর তা যেখানে সেখানে ফেলে দিচ্ছি সেগুলো মাটির সঙ্গে মিশে মাটির দূষণ ঘটাচ্ছে।
তুমি যদি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য সরাসরি এই অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ MCQ ও প্রশ্ন-উত্তর খুঁজতে আসো, তবে [এখানে ক্লিক করো])
মাটি দূষণের প্রধান কারণসমূহ

আমাদের দৈনন্দিন কিছু ভুল কাজের জন্যই মূলত মাটি দূষিত হয়:
- যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা: যেখানে-সেখানে প্লাস্টিক, পলিথিন ও গৃহস্থালীর জঞ্জাল ফেলার ফলে তা মাটির সঙ্গে থেকে যাচ্ছে সহজে পৌঁছে যাচ্ছেনা ফলে মাটি দূষিত হচ্ছে।
- রাসায়নিকের ব্যবহার: কৃষিজমিতে বেশি পরিমাণে রাসায়নিক সার ও ক্ষতিকারক কীটনাশকের ব্যবহারে তা মাটিতে মিশছে যা মাটির গুণমান নষ্ট করছে।
- বৃক্ষচ্ছেদন: যথেচ্ছভাবে গাছপালা কাটা বা গাছপালার ক্ষতি করা, যার ফলে মাটি আলগা হচ্ছে ফলস্বরূপ মাটির ক্ষয় বাড়ে।
- উন্মুক্ত স্থানে শৌচকর্ম: শৌচাগার ছাড়া যত্রতত্র মল-মূত্র ত্যাগ করা।
- শিল্প ও তেজস্ক্রিয় বর্জ্য: কলকারখানার বিষাক্ত রাসায়নিক এবং পারমাণবিক কেন্দ্রের তেজস্ক্রিয় বর্জ্য মাটিতে মিশে যাওয়া।
মাটি দূষণের প্রভাব

- মাটির উর্বরতা হ্রাস : মাটিতে বিভিন্ন নোংরা প্লাস্টিক ও নানান ক্ষতিকারক বর্জ্য পদার্থ মিশে মাটির উর্বরতা মারাত্মকভাবে কমে যায়, ফলে ফসলের উৎপাদন হ্রাস পায়।
- রোগ সৃষ্টি: ক্ষতিকারক রাসায়নিক মাটি থেকে ফসলে এবং ফসল থেকে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে নানা জটিল রোগের সৃষ্টি করে।
- মাটিতে রাসায়নিক সার প্রয়োগ ও নানান বিষাক্ত পদার্থ মিশে অনেক উপকারী কীটপতঙ্গ ও অণুজীব ধ্বংস হয়ে যায়।
মাটি দূষণ প্রতিকারের উপায়
তুমি কি জানো? আমরা নিজেরাই ছোট ছোট অভ্যাস বদলালে মাটি দূষণ অনেকটাই কমিয়ে ফেলতে পারি। এর জন্য আমাদের কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে:
✅ আমাদের কী কী করা উচিত:
১. গৃহস্থালীর বর্জ্য পদার্থ বা আবর্জনা নির্দিষ্ট ও সঠিক জায়গায় ফেলা। যেমন ধরো তোমার বাড়িতে সারাদিনের কাজের পর যে বর্জ্য পদার্থ তৈরি হবে সেগুলো সঠিক জায়গায় ফেলবে।
২. পলিথিন-এর বদলে পরিবেশবান্ধব কাগজ বা পাটের তৈরি থলের ব্যবহার করা। আরো সহজ ভাবে বললে যেগুলো সহজে পচে মাটির সঙ্গে মিশে যায় সেই সমস্ত থলে ব্যবহার করতে হবে।
৩. বাড়ির উঠোন, বাগান বা রাস্তার ধারে বেশি করে নতুন গাছপালা লাগানো। তাহলে মনে রেখো বর্ষাকালে তোমরা প্রত্যেকে গাছ লাগাবে ।
৪. কৃষিজমিতে রাসায়নিক সারের বদলে বেশি পরিমাণে জৈব সার ব্যবহার করা। যেমন কৃষি জমিতে গোবর সার, নিমখোল ব্যবহার করতে হবে।
৫. স্কুলের বন্ধু-বান্ধব বা বাড়ির আশেপাশের মানুষদের মাটি দূষণ রোধে সচেতন করা। অর্থাৎ তোমরাও নিজের বন্ধু-বান্ধব ও তোমার আশেপাশের যারা ততটা সচেতন নয় তাদেরকেও বিষয়টি জানাবে।
❌ আমাদের কী কী করা উচিত নয়:
১. যেখানে-সেখানে জঞ্জাল বা প্লাস্টিক আবর্জনা ফেলা যাবে না।
২. গাছপালা কাটা কিংবা গাছপালার কোনো রকম ক্ষতি করা যাবে না।
৩. কৃষিজমিতে অতিরিক্ত পরিমাণে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করা চলবে না।
৪. শৌচাগার ছাড়া যত্রতত্র বা খোলা জায়গায় মল-মূত্র ত্যাগ করা যাবে না।
📌 জেনে রেখো: ইতিহাসের কিছু ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়
- ভূপাল গ্যাস দুর্ঘটনা (১৯৮৪): ভারতের ভূপালে ইউনিয়ন কার্বাইড-এর কারখানা থেকে মধ্যরাতে অতি বিষাক্ত গ্যাস বাতাসে মিশে যায়। এর ফলে ওই এলাকার মাটি ও বাতাস মারাত্মক দূষিত হয়, প্রচুর মানুষ মারা যান এবং বহু মানুষ চিরতরে পঙ্গু হয়ে যান।
- তেজস্ক্রিয় দুর্ঘটনা: ১৯৮৬ সালে ইউক্রেনের চেরনোবিল পরমাণু কেন্দ্রে এবং ২০১১ সালে জাপানের ফুকুশিমা ডাইচি-তে ভয়াবহ দুর্ঘটনার ফলে ওই কেন্দ্রগুলির আশেপাশের অঞ্চলের মাটি, জল ও বাতাসে মারাত্মক তেজস্ক্রিয় দূষণ ছড়ায়। এর ফলে প্রচুর মানুষ এবং জীবজন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দীর্ঘ বছর পার হলেও সেই মাটি আজও মানুষের ব্যবহারের অনুপযোগী।
শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ বার্তা:
মাটি আমাদের সকলের সম্পদ। একে রক্ষা করার দায়িত্বও আমাদের সকলের। আজ থেকেই চলো আমরা পলিথিন বর্জন করি এবং বেশি করে গাছ লাগাই!
“মাটি দূষণ অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ MCQ এবং শর্ট প্রশ্ন-উত্তর পড়তে এখানে ক্লিক করো।”
Class 7 মাটি দূষণ ❓ FAQ (প্রশ্নোত্তর)
প্রশ্ন ১: মাটি দূষণের প্রধান কারণ কী?
উত্তর: প্লাস্টিক বর্জ্য, রাসায়নিক সার ও শিল্প বর্জ্য।
প্রশ্ন ২: মাটি দূষণ কীভাবে রোধ করা যায়?
উত্তর: জৈব সার ব্যবহার, গাছ লাগানো ও সচেতনতা বৃদ্ধি।
