CLASS IX

নবম শ্রেণির ভূগোল তৃতীয় অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর | পৃথিবীপৃষ্ঠে কোনো স্থানের অবস্থান নির্ণয় (MCQ, SAQ & Notes)

নবম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের বার্ষিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য ভূগোল একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আজকের এই পোস্টে আমরা নবম শ্রেণির ভূগোল তৃতীয় অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি…

Table of Contents

১. পৃথিবীপৃষ্ঠে কাল্পনিক অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখার ধারণা প্রথম কে দেন?
A) হিপার্কাস
B) এরাটোস্থেনিস
C) টলেমি
D) গ্যালিলিও
👉 উত্তর: B

২. দক্ষিণ গোলার্ধের মেরু নক্ষত্রটির নাম কী?
A) ধ্রুবতারা
B) লুব্ধক
C) সপ্তর্ষিমণ্ডল
D) হ্যাডলির অক্ট্যান্ট
👉 উত্তর: D

৩. ১° অন্তর পৃথিবীপৃষ্ঠে প্রসারিত অক্ষরেখার মোট সংখ্যা কয়টি?
A) ১৭৯টি
B) ১৮০টি
C) ১৮১টি
D) ৩৬০টি
👉 উত্তর: A

৪. অক্ষাংশ পরিমাপ করা হয় মূলত কোন যন্ত্রের সাহায্যে?
A) সিসমোগ্রাফ
B) ব্যারোমিটার
C) সেক্সট্যান্ট
D) ক্রোনোমিটার
👉 উত্তর: C

৫. নিরক্ষরেখার অপর নাম কী?
A) মকরক্রান্তি রেখা
B) কর্কটক্রান্তি রেখা
C) মূলমধ্যরেখা
D) বিষুবরেখা
👉 উত্তর: D

৬. গ্রিনিচের সময় নির্ণায়ক ঘড়ি ‘ক্রোনোমিটার’ কে আবিষ্কার করেন?
A) জন হ্যারিসন
B) এরাটোস্থেনিস
C) নিউটন
D) হিপার্কাস
👉 উত্তর: A

৭. ভারতের প্রমাণ দ্রাঘিমার মান কত?
A) ৮৮°৩০′ পূর্ব
B) ৮২°৩০′ পূর্ব
C) ৮০°১৫′ পূর্ব
D) ৮২°১৫′ পূর্ব
👉 উত্তর: B

৮. রাশিয়ার কয়টি সময় অঞ্চল বা টাইম জোন রয়েছে?
A) ৪টি
B) ৬টি
C) ১১টি
D) ১টি
👉 উত্তর: C

৯. কোনো স্থান ও তার প্রতিপাদ স্থানের মধ্যে সময়ের পার্থক্য কত হয়?
A) ৪ ঘণ্টা
B) ১২ ঘণ্টা
C) ১৮ ঘণ্টা
D) ২৪ ঘণ্টা
👉 উত্তর: B

১০. আন্তর্জাতিক তারিখরেখা মূলত কোন দ্রাঘিমারেখাকে অনুসরণ করে টানা হয়েছে?
A) ০°
B) ৯০°
C) ১৮০°
D) ৩৬০°
👉 উত্তর: C

১১. নীচের কোনটি একটি ‘মহাবৃত্ত’-এর উদাহরণ?
A) কর্কটক্রান্তি রেখা
B) মকরক্রান্তি রেখা
C) সুমেরুবৃত্ত
D) নিরক্ষরেখা
👉 উত্তর: D

১২. মূলমধ্যরেখার মান কত?
A) ০°
B) ২৩.৫°
C) ৯০°
D) ১৮০°
👉 উত্তর: A

১৩. আন্তর্জাতিক তারিখরেখাকে মাঝে মাঝে বাঁকিয়ে দেওয়া হয়েছে কেন?
A) জলবায়ুর পরিবর্তনের জন্য
B) একই স্থলভাগের বা দেশের মধ্যে তারিখের বিভ্রান্তি এড়াতে
C) দিন ও রাতের পার্থক্য বোঝাতে
D) প্রশান্ত মহাসাগরের গভীরতা পরিমাপ করতে
👉 উত্তর: B) একই স্থলভাগের বা দেশের মধ্যে তারিখের বিভ্রান্তি এড়াতে

১৪. এক সেকেন্ড সময়ের পরিবর্তনে দ্রাঘিমার পার্থক্য কত হয়?
A) ১০”
B) ১৫”
C) ১৭”
D) ২০”
👉 উত্তর: B) ১৫”

১৫. ঘড়িতে দুপুর ২টো ৫৬ মিনিট বাজলে, এটি প্রকাশের সঠিক পদ্ধতি কোনটি?
A) 2:56 a.m.
B) 2:56 p.m.
C) 2:56
D) ২টো ৫৬
👉 উত্তর:B) 2:56 p.m.

১. গ্রিক পণ্ডিত ________ প্রথম পৃথিবীপৃষ্ঠে কাল্পনিক অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখার ধারণা দেন।

২. উত্তর গোলার্ধের মেরু নক্ষত্রটি হল ________।

৩. অক্ষাংশ পরিমাপ করা হয় ________ এবং ট্রানজিট থিয়োডোলাইট যন্ত্রের সাহায্যে।

৪. ১° অন্তর পৃথিবীপৃষ্ঠে প্রসারিত অক্ষরেখার মোট সংখ্যা ________ টি।

৫. দ্রাঘিমারেখা ও দ্রাঘিমা গণনা শুরু হয় ________ এবং তার তল থেকে।

৬. ভারতের প্রমাণ দ্রাঘিমার মান ________।

৭. চিনের পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের মধ্যে সময়ের তফাত ৪ ঘণ্টা হওয়া সত্ত্বেও সেখানে সময় অঞ্চল বা টাইম জোন রয়েছে ________ টি।

৮. ১৮০° দ্রাঘিমারেখাকে অনুসরণ করে ________ রেখা প্রসারিত হয়েছে।

৯. নিরক্ষরেখা ছাড়া বাকি সবকটি অক্ষরেখাই হল ________ বৃত্তের উদাহরণ।

১০. মূলমধ্যরেখার স্থানীয় সময়কেই ________ প্রমাণ সময় বা GMT বলা হয়।


১. অক্ষরেখার পরিবর্তনে মূলত কোন প্রাকৃতিক উপাদানের পরিবর্তন ঘটে?

উত্তর: জলবায়ুর।

২. দ্রাঘিমারেখার পরিবর্তনে কীসের পরিবর্তন ঘটে?

উত্তর: স্থানীয় সময়ের।

৩. পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিম গোলার্ধের মধ্যে তারিখ বিভাজনের কাজটি কোন রেখা করে?

উত্তর: আন্তর্জাতিক তারিখরেখা।

৪. দক্ষিণ গোলার্ধের মেরু নক্ষত্রটির নাম কী?

উত্তর: হ্যাডলির অক্ট্যান্ট।

৫. পৃথিবীর সর্ববৃহৎ বৃত্ত বা মহাবৃত্ত কোনটি?

উত্তর: নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা।

৬. চিনের পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের মধ্যে সময়ের পার্থক্য ৪ ঘণ্টা হলেও সেখানে কয়টি প্রমাণ সময় ধরা হয়?

উত্তর: ১টি।

৭. কোন ঘড়ির সাহায্যে সমুদ্রে দ্রাঘিমা বা সময় নির্ণয় করা হয়?

উত্তর: ক্রোনোমিটার।

৮. নিরক্ষরেখায় সারাবছর দিন ও রাত সমান হয় বলে এর অপর নাম কী?

উত্তর: বিষুবরেখা।

৯. দুপুর ১২টা থেকে মধ্যরাত্রি ১২টা পর্যন্ত সময়কে সংক্ষেপে কী বলা হয়?

উত্তর: p.m. বা post meridian (মধ্যাহ্ন পরবর্তী সময়)।

১০. எந்த গোলার্ধে ধ্রুবতারার উন্নতি কোণ থেকে কোনো স্থানের অক্ষাংশ নির্ণয় করা যায়?

উত্তর: উত্তর গোলার্ধে।

১. গ্রিক পণ্ডিত এরাটোস্থেনিস প্রথম পৃথিবীপৃষ্ঠে কাল্পনিক অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখার ধারণা দেন। উত্তর: শুদ্ধ

২. অক্ষরেখার পরিবর্তনে স্থানীয় সময় পরিবর্তিত হয় এবং দ্রাঘিমারেখার পরিবর্তনে জলবায়ু পরিবর্তিত হয়।

উত্তর: অশুদ্ধ (সঠিক তথ্য: অক্ষরেখায় জলবায়ু এবং দ্রাঘিমারেখায় সময় পরিবর্তিত হয়।)

৩. সেক্সট্যান্ট এবং ট্রানজিট থিয়োডোলাইট যন্ত্রের সাহায্যে কোনো স্থানের অক্ষাংশ পরিমাপ করা হয়। উত্তর: শুদ্ধ

৪. নিরক্ষরেখা একটি ক্ষুদ্রবৃত্তের (Small circle) উদাহরণ।

উত্তর: অশুদ্ধ (সঠিক তথ্য: নিরক্ষরেখা একটি মহাবৃত্ত।)

৫. কোনো স্থান ও তার প্রতিপাদ স্থানের মধ্যে সময়ের পার্থক্য হয় ১২ ঘণ্টা। উত্তর: শুদ্ধ

৬. রাশিয়ার মোট সময় অঞ্চল বা টাইম জোনের সংখ্যা ১১টি। উত্তর: শুদ্ধ

৭. আন্তর্জাতিক তারিখরেখা ১৮০° দ্রাঘিমারেখাকে পুরোপুরি অক্ষরে অক্ষরে অনুসরণ করে টানা হয়েছে, এটি কোথাও বাঁকানো হয়নি।

উত্তর: অশুদ্ধ (সঠিক তথ্য: একই স্থলভাগের তারিখের বিভ্রান্তি এড়াতে এটিকে মাঝে মাঝে বাঁকানো হয়েছে।)

৮. ১৮০° পূর্ব ও ১৮০° পশ্চিম দ্রাঘিমারেখা আসলে দুটি আলাদা রেখা।

উত্তর: অশুদ্ধ (সঠিক তথ্য: এই দুটি আসলে একটিই রেখা।)

৯. ভারতের প্রমাণ দ্রাঘিমার মান ৮২°৩০′ পূর্ব। উত্তর: শুদ্ধ

১০. দক্ষিণ গোলার্ধে ‘হ্যাডলির অক্ট্যান্ট’ নক্ষত্রের উন্নতি কোণ থেকে কোনো স্থানের অক্ষাংশ নির্ণয় করা যায়। উত্তর: শুদ্ধ

নবম শ্রেণি: পৃথিবীপৃষ্ঠে কোনো স্থানের অবস্থান নির্ণয়

১০ টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন বিগত বছরগুলিতে পরীক্ষায় পড়েছে

১. ভৌগোলিক জালক (Geographical Grid) কাকে বলে?

উত্তর: পৃথিবীপৃষ্ঠের ওপর কল্পিত অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখাগুলি পরস্পরকে ছেদ করে যে জালিকাকার বিন্যাস তৈরি করে, তাকে ভৌগোলিক জালক বলা হয়। এটি কোনো স্থানের নিখুঁত অবস্থান নির্ণয়ে সাহায্য করে।

২. নিরক্ষরেখার অপর নাম বিষুবরেখা কেন?

উত্তর: নিরক্ষরেখা ছায়াবৃত্তকে সমদ্বিখণ্ডিত করে বলে এই রেখায় সারাবছর দিন ও রাত সমান (বিষুব) হয়। তাই নিরক্ষরেখার অপর নাম বিষুবরেখা।

৩. প্রতিপাদ স্থান বলতে কী বোঝো?

উত্তর: ভূ-পৃষ্ঠের ওপর অবস্থিত কোনো স্থান থেকে কল্পিত ব্যাস পৃথিবীর কেন্দ্রের মধ্য দিয়ে প্রসারিত হয়ে বিপরীত প্রান্তে যে বিন্দু বা স্থানে স্পর্শ করে, তাকে প্রথম স্থানটির প্রতিপাদ স্থান বলা হয়।

৪. প্রমাণ সময় (Standard Time) কাকে বলে?

উত্তর: কোনো দেশের মধ্যবর্তী এক বা একাধিক দ্রাঘিমার স্থানীয় সময়কে যখন সমগ্র দেশের রেল, ডাক ও অন্যান্য প্রশাসনিক কাজের সুবিধার্থে সারা দেশের সময় হিসেবে ধরে নেওয়া হয়, তখন তাকে প্রমাণ সময় বলে।

৫. আন্তর্জাতিক তারিখরেখাকে মাঝে মাঝে বাঁকিয়ে দেওয়া হয়েছে কেন?

উত্তর: ১৮০° দ্রাঘিমারেখাকে পুরোপুরি অনুসরণ করলে একই স্থলভাগ বা দেশের মধ্যে দু'রকম তারিখের বিভ্রান্তি দেখা দিত। এই বিভ্রান্তি এড়াতেই আন্তর্জাতিক তারিখরেখাকে স্থলভাগ এড়িয়ে জলভাগের ওপর দিয়ে মাঝে মাঝে বাঁকিয়ে দেওয়া হয়েছে।

৬. মহাবৃত্ত (Great Circle) কাকে বলে?

উত্তর: ভূগোলকে আঁকা কোনো বৃত্তীয় তলের কেন্দ্রবিন্দু এবং ভূগোলকের কেন্দ্রবিন্দু যখন একই হয়, তখন সেই সর্ববৃহৎ বৃত্তটিকে মহাবৃত্ত বলা হয় (যেমন— নিরক্ষরেখা)।

৭. ক্রোনোমিটার (Chronometer) কে, কবে আবিষ্কার করেন?

উত্তর: ১৭৫৯ সালে ইংল্যান্ডের জন হ্যারিসন গ্রিনিচের সময় নির্ণায়ক ঘড়ি 'ক্রোনোমিটার' আবিষ্কার করেন।

৮. কোনো স্থান ও তার প্রতিপাদ স্থানের মধ্যে সময়ের ও দ্রাঘিমার পার্থক্য কত হয়?

উত্তর: কোনো স্থান ও তার প্রতিপাদ স্থানের মধ্যে সময়ের পার্থক্য হয় ১২ ঘণ্টা এবং দ্রাঘিমার পার্থক্য হয় ১৮০°।

৯. a.m. এবং p.m.-এর সম্পূর্ণ কথা কী?

উত্তর: a.m.-এর সম্পূর্ণ কথা হল 'ante meridian' (মধ্যাহ্ন পূর্ববর্তী সময়) এবং p.m.-এর সম্পূর্ণ কথা হল 'post meridian' (মধ্যাহ্ন পরবর্তী সময়)।

১০. সূর্যকে 'প্রাকৃতিক ঘড়ি' বলা হয় কেন?

উত্তর: আকাশে সূর্যের অবস্থান এবং উন্নতি কোণ অনুযায়ী কোনো স্থানের স্থানীয় সময় (সৌর সময়) নির্ণয় করা যায় এবং এর জন্য কোনো যন্ত্রের প্রয়োজন হয় না বলে সূর্যকে প্রাকৃতিক ঘড়ি বলা হয়।

১. আন্তর্জাতিক তারিখরেখাকে মাঝে মাঝে বাঁকিয়ে দেওয়া হয়েছে কেন? (৩ নম্বর)

উত্তর: আন্তর্জাতিক তারিখরেখা ১৮০° দ্রাঘিমারেখাকে অনুসরণ করে টানা হলেও, একে সম্পূর্ণ সোজাভাবে টানা হয়নি। এর প্রধান কারণগুলি হলো:

  • তারিখের বিভ্রান্তি এড়ানো: রেখাটি স্থলভাগের ওপর দিয়ে গেলে একই দেশের বা দ্বীপপুঞ্জের দুই প্রান্তে দুটি আলাদা তারিখ ও বার হতো। এতে স্থানীয় মানুষদের দৈনন্দিন কাজে চরম বিভ্রান্তি দেখা দিত।
  • প্রশাসনিক সুবিধা: এই বিভ্রান্তি দূর করতে রেখাটিকে জলভাগের ওপর দিয়ে মাঝে মাঝে বাঁকিয়ে দেওয়া হয়েছে। যেমন— সাইবেরিয়াকে এড়ানোর জন্য বেরিং প্রণালীর কাছে প্রায় ১১° পূর্বে এবং অ্যালুসিয়ান দ্বীপপুঞ্জকে এড়ানোর জন্য প্রায় ৭° পশ্চিমে বাঁকানো হয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ গোলার্ধে ফিজি, টোঙ্গা, কিরিবাটি প্রভৃতি দ্বীপকে একই সময় অঞ্চলে রাখার জন্য রেখাটিকে পূর্বদিকে বাঁকিয়ে দেওয়া হয়েছে।

২. ১৮০° দ্রাঘিমারেখাকেই আন্তর্জাতিক তারিখরেখা হিসেবে ধরা হলো কেন? (৩ নম্বর)

উত্তর: ১৮০° দ্রাঘিমারেখাকে আন্তর্জাতিক তারিখরেখা হিসেবে নির্বাচনের প্রধান যুক্তিগুলি হলো:

  • একক রেখা: ১৮০° পূর্ব ও ১৮০° পশ্চিম দ্রাঘিমারেখা আলাদা কোনো রেখা নয়, এটি একটিই রেখা যা মূলমধ্যরেখার (০°) ঠিক বিপরীতে অবস্থিত।
  • জলভাগের অবস্থান: এই রেখাটির প্রায় পুরো অংশই প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর দিয়ে বিস্তৃত, ফলে স্থলভাগের ওপর দিয়ে যাওয়ার সমস্যা অনেক কম।
  • মহাদেশীয় সীমানা: এই রেখাটি চারটি মহাদেশকে পৃথক করেছে। কোনো দেশের মাঝখান দিয়ে না গিয়ে মহাদেশের সীমারেখা বা জলভাগ বরাবর তারিখ পরিবর্তন করা অনেক বেশি সুবিধাজনক।

৩. প্রতিপাদ স্থান কাকে বলে? এর দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো। (৩ নম্বর)

উত্তর: ভূ-পৃষ্ঠের ওপর অবস্থিত কোনো স্থান থেকে একটি কল্পিত ব্যাস পৃথিবীর কেন্দ্রের মধ্য দিয়ে প্রসারিত করলে, তা বিপরীত প্রান্তে যে বিন্দু বা স্থানে স্পর্শ করে, তাকে প্রথম স্থানটির প্রতিপাদ স্থান বলা হয়। বৈশিষ্ট্য:

  • সময়ের পার্থক্য: কোনো স্থান ও তার প্রতিপাদ স্থানের মধ্যে সময়ের পার্থক্য হয় ঠিক ১২ ঘণ্টা।
  • অবস্থানগত পার্থক্য: দুটি স্থানের মধ্যে দ্রাঘিমার পার্থক্য হয় ১৮০°। অক্ষাংশের মান একই থাকে, কিন্তু গোলার্ধ ভিন্ন হয় (অর্থাৎ একটি উত্তর গোলার্ধে হলে অন্যটি দক্ষিণ গোলার্ধে হবে)।

৪. প্রমাণ সময় (Standard Time) বলতে কী বোঝো? (২ নম্বর)

উত্তর: কোনো দেশের ওপর দিয়ে একাধিক দ্রাঘিমারেখা প্রসারিত হওয়ায় সেখানে একাধিক স্থানীয় সময় দেখা যায়। এর ফলে দেশের রেল, ডাক, বিমান বা প্রশাসনিক কাজ পরিচালনায় চরম জটিলতা সৃষ্টি হয়। এই সমস্যা দূর করার জন্য কোনো দেশের মধ্যবর্তী একটি নির্দিষ্ট দ্রাঘিমার (বা কয়েকটি দ্রাঘিমার) স্থানীয় সময়কে যখন সমগ্র দেশের সময় হিসেবে ধরে নেওয়া হয়, তখন তাকে প্রমাণ সময় বা Standard Time বলা হয়।

৫. মহাবৃত্ত ও ক্ষুদ্রবৃত্ত-এর মধ্যে পার্থক্য কী? (২ নম্বর)

উত্তর: * মহাবৃত্ত (Great Circle): ভূগোলকে আঁকা যে বৃত্তীয় তলের কেন্দ্রবিন্দু এবং পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দু একই জায়গায় অবস্থান করে, তাকে মহাবৃত্ত বলে। নিরক্ষরেখা হলো পৃথিবীর একমাত্র মহাবৃত্ত।

  • ক্ষুদ্রবৃত্ত (Small Circle): পৃথিবীপৃষ্ঠে আঁকা যে সব কাল্পনিক পূর্ণবৃত্তের কেন্দ্র এবং পৃথিবীর কেন্দ্র এক নয়, তাদের ক্ষুদ্রবৃত্ত বলা হয়। নিরক্ষরেখা ছাড়া বাকি সমস্ত অক্ষরেখাই হলো ক্ষুদ্রবৃত্তের উদাহরণ।

৬. স্থানীয় সময় বা Local Time কাকে বলে? একে সৌর সময় বলা হয় কেন? (৩ নম্বর)

উত্তর: * স্থানীয় সময়: পৃথিবীর আবর্তনের কারণে প্রতিটি দ্রাঘিমারেখা ২৪ ঘণ্টায় একবার সূর্যের সামনে আসে। আকাশে সূর্যের সর্বোচ্চ উন্নতির সময়কে দুপুর ১২টা ধরে দিনের অন্যান্য সময় হিসাব করার পদ্ধতিকে 'স্থানীয় সময়' বলে।

  • সৌর সময় বলার কারণ: আকাশে সূর্যের অবস্থান এবং উন্নতি কোণ অনুযায়ী এই সময় নির্ধারণ করা হয় বলে একে সৌর সময় বা Solar Time বলা হয়।

১. অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখার মধ্যে প্রধান পার্থক্য কী?

উত্তর: অক্ষরেখাগুলি পৃথিবীকে পূর্ব-পশ্চিমে বেষ্টন করে থাকা পূর্ণবৃত্ত এবং এগুলি জলবায়ু নির্ধারণে সাহায্য করে। অন্যদিকে, দ্রাঘিমারেখাগুলি উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত অর্ধবৃত্ত এবং এগুলি কোনো স্থানের স্থানীয় সময় নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয়।

২. আন্তর্জাতিক তারিখরেখা ১৮০° দ্রাঘিমারেখাকে পুরোপুরি অনুসরণ করে না কেন?

উত্তর: ১৮০° দ্রাঘিমারেখাটি কিছু কিছু জায়গায় স্থলভাগের ওপর দিয়ে গিয়েছে। যদি রেখাটি সোজা হতো, তবে একই দেশের বা দ্বীপপুঞ্জের মধ্যে দুটি আলাদা তারিখ থাকত, যা প্রশাসনিক ও দৈনন্দিন কাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করত। এই বিভ্রান্তি এড়াতেই রেখাটিকে জলভাগের ওপর দিয়ে বাঁকিয়ে দেওয়া হয়েছে।

৩. ভারতের প্রমাণ দ্রাঘিমা কোনটি এবং এটি কোথায় অবস্থিত?

উত্তর: ভারতের প্রমাণ দ্রাঘিমার মান হল ৮২°৩০′ পূর্ব। এই রেখাটি উত্তরপ্রদেশের এলাহাবাদ (বর্তমান প্রয়াগরাজ)-এর ওপর দিয়ে প্রসারিত হয়েছে। এই রেখার স্থানীয় সময়কেই সারা ভারতের প্রমাণ সময় (IST) হিসেবে ধরা হয়।

৪. মহাবৃত্ত বা Great Circle কেন গুরুত্বপূর্ণ?

উত্তর: মহাবৃত্ত (যেমন- নিরক্ষরেখা) পৃথিবীকে দুটি সমান গোলার্ধে বিভক্ত করে। বিমান বা জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে মহাবৃত্তীয় পথ অনুসরণ করলে দুটি স্থানের মধ্যে সংক্ষিপ্ততম দূরত্ব অতিক্রম করা সম্ভব হয়, যা জ্বালানি ও সময় সাশ্রয় করে

৫. প্রতিপাদ স্থানের অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমা কীভাবে নির্ণয় করা হয়?

উত্তর: কোনো স্থানের অক্ষাংশের মান তার প্রতিপাদ স্থানের সমান হয়, কিন্তু গোলার্ধ বিপরীত হয় (যেমন- ৩০° উঃ এর প্রতিপাদ স্থানের অক্ষাংশ হবে ৩০° দঃ)। আর দ্রাঘিমার ক্ষেত্রে, দুটি স্থানের দ্রাঘিমার পার্থক্য হবে ১৮০° এবং গোলার্ধ বিপরীত হবে।

Please Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!