CLASS VI-VIIIclass 6CLASS VI-VIII GEOGRAPHY

আকাশ ভরা সূর্য তারা প্রশ্ন উত্তর | Class 6 Geography Chapter 1 WBBSE

Table of Contents

WebBhugol.Com এ সবাইকে স্বাগতম।রাতের পরিষ্কার আকাশে তাকালে আমরা যে অগণিত উজ্জ্বল বিন্দু দেখি, তা নিয়ে আমাদের বিস্ময়ের শেষ নেই। মহাবিশ্বের এই রহস্যময় জগত নিয়ে ষষ্ঠ শ্রেণির ভূগোলের প্রথম অধ্যায় আকাশ ভরা সূর্য তারা প্রশ্ন উত্তর সাজানো হয়েছে। কিন্তু পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে অনেক সময় ছাত্রছাত্রীরা ঠিক বুঝতে পারে না কোন প্রশ্নগুলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তুমি কি তোমার পরীক্ষার জন্য সেরা প্রস্তুতি নিতে চাও? তাহলে তুমি একদম সঠিক জায়গায় এসেছ। আজকের এই পোস্টে আমরা এই অধ্যায়ের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ খুঁটিনাটি বিষয়— যেমন নীহারিকা, ছায়াপথ, নক্ষত্রমণ্ডল এবং সৌরজগতের সমস্ত গ্রহ নিয়ে আলোচনা করেছি। শুধু তাই নয়, অভিজ্ঞ শিক্ষকের দ্বারা বাছাই করা ২০টি MCQ, ১০টি শূন্যস্থান পূরণ এবং ১০টি এক কথায় উত্তরের পাশাপাশি আমরা নিয়ে এসেছি ১০০% সম্ভাব্য ২ নম্বরের প্রশ্ন ও উত্তর (সাজেশন)

আমাদের লক্ষ্য হলো পশ্চিমবঙ্গ তথা বাংলা ভাষার শিক্ষার্থীদের জন্য ভূগোল শিক্ষাকে সহজ ও আনন্দদায়ক করে তোলা। তাই আর দেরি না করে চলো দেখে নেওয়া যাক পরীক্ষার জন্য সেরা কিছু প্রশ্নোত্তর যা তোমাদের সফলতার পথে একধাপ এগিয়ে দেবে।

১. বিজ্ঞানের সবচেয়ে পুরোনো চর্চার বিষয় কোনটি?
ক) পদার্থবিদ্যা
খ) জ্যোতির্বিজ্ঞান
গ) ভূতত্ত্ববিদ্যা
ঘ) জ্যোতিষশাস্ত্র
উত্তর: খ) জ্যোতির্বিজ্ঞান

২. মহাবিশ্ব সৃষ্টির সময় তৈরি হওয়া অসংখ্য ধূলিকণা ও গ্যাসের মহাজাগতিক মেঘকে কী নামে পরিচিত ?
ক) ছায়াপথ
খ) উল্কা
গ) নক্ষত্রমণ্ডল
ঘ) নীহারিকা
উত্তর: ঘ) নীহারিকা

৩. আমাদের সৌরজগৎ যে ছায়াপথে অবস্থিত তার নাম কী?
ক) অ্যান্ড্রোমিডা
খ) আকাশগঙ্গা
গ) কালপুরুষ
ঘ) সপ্তর্ষিমণ্ডল
উত্তর: খ) আকাশগঙ্গা

৪. কোন রঙের তারার উষ্ণতা সবথেকে কম হয়?
ক) লাল তারা
খ) হলুদ তারা
গ) সাদা তারা
ঘ) নীল তারা
উত্তর: ক) লাল তারা

৫. সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো পৌঁছাতে আনুমানিক কত সময় লাগে?
ক) ১৫ মিনিট
খ) ৮ সেকেন্ড
গ) ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড
ঘ) ৪.২ বছর
উত্তর: গ) ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড

৬. পৃথিবী থেকে প্রক্সিমা সেনটাউরির দূরত্ব কত?
ক) ১৫ কোটি কিমি
খ) ৪১ লক্ষ কোটি কিমি
গ) ২.৪ আলোকবর্ষ
ঘ) ৪.২ আলোকবর্ষ
উত্তর: ঘ) ৪.২ আলোকবর্ষ

৭. সন্ধ্যা তারা কোন আকাশের লক্ষ্য করা যায়?
ক) উত্তর
খ) দক্ষিণ
গ) পূর্ব
ঘ) পশ্চিম
উত্তর: ঘ) পশ্চিম

৮. সূর্যের বাইরের দিকের (করোনা) উষ্ণতা প্রায় কত?
ক) ১.৫ কোটি ডিগ্রি সে.
খ) ৪৩০ ডিগ্রি সে.
গ) ৬০০০ ডিগ্রি সে.
ঘ) ৪৬৫ ডিগ্রি সে.
উত্তর: গ) ৬০০০ ডিগ্রি সে.

৯. সৌরজগতের কোন গ্রহ পূর্ব থেকে পশ্চিমে আবর্তন করে?
ক) বুধ
খ) পৃথিবী
গ) শুক্র
ঘ) মঙ্গল
উত্তর: গ) শুক্র

১০. সৌরজগতের শীতলতম গ্রহ কোনটি?
ক) নেপচুন
খ) শনি
গ) ইউরেনাস
ঘ) বৃহস্পতি
উত্তর: গ) ইউরেনাস

১১. মঙ্গল গ্রহকে লাল গ্রহ বলা হয় কেন?
ক) কার্বন ডাইঅক্সাইড আছে বলে
খ) ফেরাস অক্সাইড আছে বলে
গ) সূর্যের খুব কাছে অবস্থিত বলে
ঘ) মিথেন গ্যাস বেশি থাকার কারণে
উত্তর: খ) ফেরাস অক্সাইড আছে বলে

১২. কোন গ্রহের ঘনত্ব জলের থেকেও কম?
ক) বৃহস্পতি
খ) নেপচুন
গ) শনি
ঘ) পৃথিবী
উত্তর: গ) শনি

১৩. চাঁদের অভিকর্ষ বল পৃথিবীর অভিকর্ষ বলের কত ভাগ?
ক) ১/৪ ভাগ
খ) ১/৬ ভাগ
গ) ১/৩ ভাগ
ঘ) ১/১০ ভাগ
উত্তর: খ) ১/৬ ভাগ

১৪. সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহাণুটির নাম কী?
ক) টাইটান
খ) সেরেস
গ) গ্যানিমিড
ঘ) প্লুটো
উত্তর: খ) সেরেস

১৫. পৃথিবী থেকে হ্যালির ধূমকেতু কত বছর অন্তর দেখা যায়?
ক) ৭৬ বছর
খ) ৮৬ বছর
গ) ৬৫ বছর
ঘ) ১০০ বছর
উত্তর: ক) ৭৬ বছর

১৬. মহাকাশে যাওয়ার জন্য ব্যবহৃত বিশেষ পোশাককে কী বলা হয়?
ক) মহাকাশ বর্ম
খ) রকেট স্যুট
গ) স্পেস স্যুট
ঘ) অ্যাস্ট্রো-ড্রেস
উত্তর: গ) স্পেস স্যুট

১৭. ভারতের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহের নাম কী?
ক) ভাস্কর ১
খ) আর্যভট্ট
গ) চন্দ্রযান ১
ঘ) INSAT
উত্তর: খ) আর্যভট্ট

১৮. মহাকাশের প্রথম যাত্রী কে ছিল?
ক) ইউরি গ্যাগারিন
খ) রাকেশ শর্মা
গ) লাইকা নামের একটি কুকুর
ঘ) ভ্যালেন্তিনা তেরেশকোভা
উত্তর: গ) লাইকা নামের একটি কুকুর

১৯. প্রথম ভারতীয় মহিলা মহাকাশচারী কে ছিলেন?
ক) সুনীতা উইলিয়ামস
খ) ভ্যালেন্তিনা তেরেশকোভা
গ) কল্পনা চাওলা
ঘ) সিরিষা বান্দলা
উত্তর: গ) কল্পনা চাওলা

২০. সৌরঝড় প্রতি কত বছর অন্তর জোরালো হয়?
ক) ৫ বছর
খ) ১১ বছর
গ) ১০ বছর
ঘ) ১৫ বছর
উত্তর: খ) ১১ বছর

১. বিজ্ঞানের সবচেয়ে পুরোনো চর্চা হলো ‘———‘।

২. মহাবিশ্ব সৃষ্টির সময় অসংখ্য ধূলিকণা ও গ্যাসের মহাজাগতিক মেঘ থেকে ——– তৈরি হয়।

৩. আমাদের সৌরজগৎ যে ছায়াপথে অবস্থিত তার নাম ‘———-‘।

৪. বায়ুশূন্য অবস্থায় আলোর গতিবেগ এক সেকেন্ডে প্রায় ___________ কিমি।

৫. উত্তর আকাশের উজ্জ্বল তারা ‘———‘ দেখে প্রাচীনকালে নাবিকরা দিক ঠিক করত।

৬. আকাশ দেখার জন্য কাচ লাগানো বিশাল চোং বা ‘——-‘-এর দরকার হয়।

৭. ______ গ্রহকে লাল গ্রহ বলা হয়।

৮. চাঁদের অভিকর্ষ বল পৃথিবীর অভিকর্ষ বলের ___________ ভাগ।

৯. সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহাণুটির নাম হলো ‘———‘।

১০. ISRO দ্বারা প্রেরিত ভারতের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ হলো ‘———‘।


আকাশ ভরা সূর্য তারা প্রশ্ন উত্তর (উত্তরমালা) :

১. জ্যোতির্বিজ্ঞান  ২. নীহারিকা ৩. আকাশগঙ্গা (বা Milky way) ৪. ৩০০,০০০ (বা ৩ লক্ষ) ৫. ধ্রুবতারা ৬. টেলিস্কোপ (বা দূরবিন) ৭. মঙ্গল (ফেরাস অক্সাইড বা লোহা উপস্থিত) ৮. ১/৬ (বা ছয় ভাগের এক) ৯. সেরেস ১০. আর্যভট্ট

১. প্রশ্ন: রাতের আকাশে কোন নক্ষত্রমণ্ডলকে পুরাকাহিনির এক সাহসী শিকারি রূপে কল্পনা করা হয়েছে?

উত্তর: কালপুরুষ।

২. প্রশ্ন: আমাদের সৌরজগৎ কোন ছায়াপথে আছি?

উত্তর:  আকাশগঙ্গা

৩. প্রশ্ন: সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো এসে পৌঁছাতে ঠিক কত সময় লাগে?

উত্তর: ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড।

৪. প্রশ্ন: সৌরজগতের কোন গ্রহের উষ্ণতা সবথেকে বেশি?

উত্তর: শুক্র (প্রায় ৪৬৫° সেলসিয়াস)।

৫. প্রশ্ন:  সৌরজগতের কোন গ্রহকে  দৈত্যাকার গ্রহ বলে?

উত্তর:  বৃহস্পতিকে

৬. প্রশ্ন: মঙ্গল ও বৃহস্পতির মাঝে অবস্থিত সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহাণুটির নাম কী?

উত্তর: সেরেস।

৭. প্রশ্ন: কোন গ্রহকে সৌরজগতের ‘নীল গ্রহ’ বলা হয়?

উত্তর: পৃথিবী।

৮. প্রশ্ন: চাঁদ কত দিনে পৃথিবীর চারিদিকে একবার ঘুরে আসে (পরিক্রমণ করে)?

উত্তর: প্রায় ২৭ দিন ৮ ঘণ্টায়।

৯. প্রশ্ন: ভারতের প্রথম মহাকাশচারীর নাম কী?

উত্তর: রাকেশ শর্মা।

১০. প্রশ্ন: মহাকাশ যাত্রায় ব্যবহৃত বিশেষ ধরনের সুরক্ষিত পোশাককে কী বলা হয়?

উত্তর: স্পেস স্যুট।

১১.প্রশ্ন: সূর্য ছাড়া পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের নক্ষত্র বা তারার নাম কী?

উত্তর: প্রক্সিমা সেনটাউরি।

১২. প্রশ্ন: ইংরাজি ‘M’ অক্ষরের মতো দেখতে নক্ষত্রমণ্ডলটির নাম কী?

উত্তর: ক্যাসিওপিয়া।

১৩. প্রশ্ন: আকাশ দেখার জন্য টেলিস্কোপ যুক্ত যে বিরাট গোলাকার গম্বুজ তৈরি করা হয়, তাকে কী বলে?

উত্তর: মানমন্দির (Observatory)।

১৪. প্রশ্ন: নক্ষত্রের উষ্ণতা কতটা তা কী দেখে বোঝা যায়?

উত্তর: তারার রং দেখে।

১৫. প্রশ্ন: ২০০৬ সালে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সৌরজগতের কোন গ্রহটিকে ‘বামন গ্রহ’ আখ্যা দিয়েছেন?

উত্তর: প্লুটো।

১৬. প্রশ্ন: সৌরজগতের কোন গ্রহটি ঘড়ির কাঁটার দিকে অর্থাৎ পূর্ব থেকে পশ্চিমে আবর্তন করে?

উত্তর: শুক্র গ্রহ।

১৭. প্রশ্ন: মিথেন গ্যাস বেশি থাকার কারণে সৌরজগতের কোন গ্রহটির রং সবুজ?

উত্তর: ইউরেনাস।

১৮. প্রশ্ন: পৃথিবী থেকে হ্যালির ধূমকেতু কত বছর অন্তর বাদে বাদে দেখা যায়?

উত্তর: ৭৬ বছর।

১৯. প্রশ্ন: ভারতের প্রথম চন্দ্রযান কবে চাঁদে অবতরণ করেছিল?

উত্তর: ২০০৮ সালে (চন্দ্রযান ১)।

০. প্রশ্ন: পৃথিবীর প্রথম মহিলা মহাকাশচারীর নাম কী?

উত্তর: ভ্যালেন্তিনা তেরেশকোভা।

আকাশ ভরা সূর্য তারা প্রশ্ন উত্তর- Online Mock Test

ষষ্ঠ শ্রেণির ভূগোল প্রথম অধ্যায়: আকাশ ভরা সূর্য তারা

১০ টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন বিগত বছরগুলিতে পরীক্ষায় পড়েছে

১. আলোকবর্ষ কী?

উত্তর: বায়ুশূন্য অবস্থায় আলো এক সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার বেগে ছুটে এক বছরে যে বিশাল দূরত্ব অতিক্রম করে, তাকে এক 'আলোকবর্ষ' (Light year) বলে। মহাকাশে গ্রহ-নক্ষত্র বা ছায়াপথগুলির মধ্যকার দূরত্ব এতটাই বেশি যে তা কিলোমিটার এককে মাপা সম্ভব নয়, তাই জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা দূরত্ব মাপার জন্য এই আলোকবর্ষ এককটি ব্যবহার করেন।

২. ছায়াপথ কাকে বলে? আমাদের সৌরজগৎ কোন ছায়াপথে অবস্থিত?

উত্তর: মহাকাশে লক্ষ লক্ষ নক্ষত্র, গ্যাস ও ধূলিকণা একসঙ্গে মিলে যে এক একটি বিশাল আকৃতির নক্ষত্র-সমাবেশ বা ঝাঁক তৈরি করে, তাকে ছায়াপথ (Galaxy) বলে। আমাদের সূর্য, পৃথিবী তথা সমগ্র সৌরজগৎ 'আকাশগঙ্গা' (Milky Way) নামক একটি বিরাট প্যাঁচানো ছায়াপথে রয়েছি।

৩. দিনের বেলা আকাশে তারা দেখা যায় না কেন?

উত্তর: দিনের বেলাতেও আকাশে তারা থাকে, কিন্তু আমরা তাদের দেখতে পাই না কারণ হলো, পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের নক্ষত্র সূর্যের আলো এতটাই তীব্র যে, সেই উজ্জ্বল আলোর তীব্রতায় বহুদূরে থাকা অন্যান্য তারাদের মৃদু আলো ঢাকা পড়ে যায়। তাই দিনের বেলা খালি চোখে আমরা তারা দেখতে পাই না।

৪. গ্রহ ও নক্ষত্রের মধ্যে দুটি মূল পার্থক্য লেখো।

উত্তর: গ্রহ ও নক্ষত্রের প্রধান দুটি পার্থক্য হলো—

  • আলো ও উত্তাপ: নক্ষত্রের নিজস্ব আলো ও উত্তাপ আছে, কিন্তু গ্রহের নিজস্ব কোনো আলো বা উত্তাপ নেই। এরা নক্ষত্রের আলোয় আলোকিত হয়।
  • আকার ও অবস্থান: নক্ষত্ররা সাধারণত গ্রহের থেকে অনেক বড়ো হয় এবং এরা স্থির থাকে। অন্যদিকে, গ্রহগুলি নক্ষত্রের থেকে ছোটো হয় এবং নক্ষত্রের আকর্ষণে তার চারিদিকে নির্দিষ্ট পথে ঘোরে।

৫. প্রাচীনকালে নাবিকরা কীভাবে দিক নির্ণয় করতেন?

উত্তর: প্রাচীনকালে যখন কম্পাস আবিষ্কার হয়নি, তখন সমুদ্রের নাবিক বা মরুভূমির অভিযাত্রীরা রাতের আকাশে 'ধ্রুবতারা' দেখেই দিক নির্ণয় করতেন। ধ্রুবতারা সবসময় উত্তর আকাশে স্থির থাকে, তাই একে দেখেই খুব সহজে উত্তর দিক ঠিক করা হতো এবং সেই অনুযায়ী নিজের গন্তব্যের পথ সহজেই চেনা যেত।

৬. সৌরঝড় বা Solar Storm কী? এর প্রভাব কী?

উত্তর: সূর্যের বাইরের অংশে (যাকে করোনা বলা হয়) মাঝে মাঝে ছোটো ছোটো বিস্ফোরণ ঘটে। এর ফলে প্রচুর পরিমাণে আয়নিত কণা, গ্যাস ও রশ্মি মহাকাশে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে, একেই সৌরঝড় বলে। প্রতি ১১ বছর অন্তর এই ঝড় জোরালো হয় এবং এর প্রভাবে তখন পৃথিবীর কৃত্রিম উপগ্রহ ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড়সড় গোলযোগ দেখা দেয়।

৭. চাঁদকে পৃথিবীর উপগ্রহ বলা হয় কেন?

উত্তর: চাঁদের নিজস্ব কোনো আলো বা উত্তাপ নেই। এটি পৃথিবীর আকর্ষণ বলের প্রভাবে বাঁধা পড়ে একটি নির্দিষ্ট কক্ষপথে পৃথিবীর চারিদিকে ক্রমাগত ঘুরে চলেছে। উপগ্রহের এই সমস্ত মূল বৈশিষ্ট্য চাঁদের মধ্যে থাকায় চাঁদকে পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ বলা হয়।

৮. বামন গ্রহ কাকে বলে? একটি উদাহরণ দাও।

উত্তর: যে সমস্ত মহাজাগতিক বস্তুর নিজস্ব আলো নেই, যারা সূর্যের চারিদিকে ঘোরে, কিন্তু যাদের আকার সাধারণ গ্রহের থেকে ছোটো এবং যারা নিজেদের চলার পথে বা কক্ষপথে আসা অন্য কোনো মহাজাগতিক বস্তুকে সরিয়ে ফেলতে পারে না, তাদের বামন গ্রহ (Dwarf Planet) বলে। যেমন— প্লুটো হলো একটি বামন গ্রহ।

৯. উল্কাপাত বা 'তারা খসা' আসলে কী?

উত্তর: ধূমকেতু বা গ্রহাণুপুঞ্জের ভেঙে যাওয়া ছোটো ছোটো টুকরো মহাকাশে ভাসতে ভাসতে পৃথিবীর কাছাকাছি চলে এলে, পৃথিবীর অভিকর্ষ বলের টানে প্রচণ্ড বেগে ভূপৃষ্ঠের দিকে ছুটে আসে। তখন বায়ুমণ্ডলের বাতাসের সঙ্গে ঘষা লেগে এরা জ্বলে ওঠে। এই জ্বলন্ত আগুনের ফুলকিগুলোকেই অন্ধকার আকাশে আমরা উল্কাপাত বা 'তারা খসা' বলে থাকি। 'তারা খসা' নিয়ে অনেকের ভ্রান্ত ধারণাও আছে।

১০. শুক্র গ্রহ সৌরজগতের সবচেয়ে উষ্ণতম গ্রহ কেন?

উত্তর: সূর্য থেকে দূরত্বের বিচারে শুক্র দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও (বুধের পর), এই গ্রহের বায়ুমণ্ডলে প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস রয়েছে। কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস( গ্রীনহাউস গ্যাস) তাপ ধরে রাখতে খুব সাহায্য করে। এই গ্যাসের আধিক্যের জন্যই শুক্র গ্রহের গড় উষ্ণতা প্রায় ৪৬৫° সেলসিয়াস, যা সৌরজগতের যে কোনো গ্রহের তুলনায় সবচেয়ে বেশি।

আশা করি, ষষ্ঠ শ্রেণির ভূগোলের এই প্রথম অধ্যায় 'আকাশ ভরা সূর্য তারা'-র গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তরগুলো তোমাদের পরীক্ষার প্রস্তুতিতে অনেক সাহায্য করবে। মহাবিশ্বের এই বিশালতা আর বৈচিত্র্য যেমন রোমাঞ্চকর, তেমনই পরীক্ষার জন্য এর প্রতিটি তথ্য মনে রাখা জরুরি। আমরা চেষ্টা করেছি একদম সহজ ভাষায় ও পয়েন্ট আকারে বিষয়গুলো তোমাদের সামনে তুলে ধরতে যাতে তোমাদের  বুঝতে এবং বিষয়টির ধারণা পেতে সুবিধা হয়।

ভূগোল বিষয়ে নিয়মিত এমন আরও গুরুত্বপূর্ণ নোটস, সাজেশন এবং মক টেস্ট পেতে আমাদের ওয়েবসাইট WebBhugol.com নিয়মিত ফলো করো। তোমাদের যদি বিশেষ কোনো অধ্যায় নিয়ে প্রশ্ন থাকে বা কোনো নোটসের প্রয়োজন হয়, তবে নিচে কমেন্ট করে অবশ্যই জানাও। আমরা তোমাদের সাহায্য করতে সবসময় পাশে আছি। বন্ধুদের সাথে পোস্টটি শেয়ার করতে ভুলোনা।

ভালো থেকো, মন দিয়ে পড়াশোনা করো।

১. আলোকবর্ষ কী?

উত্তর: বায়ুশূন্য অবস্থায় আলো এক সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার বেগে ছুটে এক বছরে যে বিশাল দূরত্ব অতিক্রম করে, তাকে এক 'আলোকবর্ষ' (Light year) বলে। মহাকাশে গ্রহ-নক্ষত্র বা ছায়াপথগুলির মধ্যকার দূরত্ব এতটাই বেশি যে তা কিলোমিটার এককে মাপা সম্ভব নয়, তাই জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা দূরত্ব মাপার জন্য এই আলোকবর্ষ এককটি ব্যবহার করেন।

২. ছায়াপথ কাকে বলে? আমাদের সৌরজগৎ কোন ছায়াপথে অবস্থিত?

উত্তর: মহাকাশে লক্ষ লক্ষ নক্ষত্র, গ্যাস ও ধূলিকণা একসঙ্গে মিলে যে এক একটি বিশাল আকৃতির নক্ষত্র-সমাবেশ বা ঝাঁক তৈরি করে, তাকে ছায়াপথ (Galaxy) বলে। আমাদের সূর্য, পৃথিবী তথা সমগ্র সৌরজগৎ 'আকাশগঙ্গা' (Milky Way) নামক একটি বিরাট প্যাঁচানো ছায়াপথে অবস্থিত।

৩. দিনের বেলা আকাশে তারা দেখা যায় না কেন?

উত্তর: দিনের বেলাতেও আকাশে তারা থাকে, কিন্তু আমরা তাদের দেখতে পাই না। এর কারণ হলো, আমাদের সবচেয়ে কাছের নক্ষত্র সূর্যের আলো এতটাই তীব্র যে, সেই উজ্জ্বল আলোর দাপটে বহুদূরে থাকা অন্যান্য তারাদের মৃদু আলো ঢাকা পড়ে যায়। তাই দিনের বেলা খালি চোখে তারা দেখা যায় না।

৪. গ্রহ ও নক্ষত্রের মধ্যে দুটি মূল পার্থক্য লেখো।

উত্তর: গ্রহ ও নক্ষত্রের প্রধান দুটি পার্থক্য হলো—
আলো ও উত্তাপ: নক্ষত্রের নিজস্ব আলো ও উত্তাপ আছে, কিন্তু গ্রহের নিজস্ব কোনো আলো বা উত্তাপ নেই। এরা নক্ষত্রের আলোয় আলোকিত হয়।
আকার ও অবস্থান: নক্ষত্ররা সাধারণত গ্রহের থেকে অনেক বড়ো হয় এবং এরা স্থির থাকে। অন্যদিকে, গ্রহগুলি নক্ষত্রের থেকে ছোটো হয় এবং নক্ষত্রের আকর্ষণে তার চারিদিকে নির্দিষ্ট পথে ঘোরে।

৫. প্রাচীনকালে নাবিকরা কীভাবে দিক নির্ণয় করতেন?

উত্তর: প্রাচীনকালে যখন কম্পাস আবিষ্কার হয়নি, তখন সমুদ্রের নাবিক বা মরুভূমির অভিযাত্রীরা রাতের আকাশে 'ধ্রুবতারা' দেখেই দিক নির্ণয় করতেন। ধ্রুবতারা সবসময় উত্তর আকাশে স্থির থাকে, তাই একে দেখেই খুব সহজে উত্তর দিক ঠিক করা হতো এবং সেই অনুযায়ী গন্তব্যের পথ চেনা যেত।

৬. সৌরঝড় বা Solar Storm কী? এর প্রভাব কী?

উত্তর: সূর্যের বাইরের অংশে (যাকে করোনা বলা হয়) মাঝে মাঝে ছোটো ছোটো বিস্ফোরণ ঘটে। এর ফলে প্রচুর পরিমাণে আয়নিত কণা, গ্যাস ও রশ্মি মহাকাশে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে, একেই সৌরঝড় বলে। প্রতি ১১ বছর অন্তর এই ঝড় জোরালো হয় এবং এর প্রভাবে পৃথিবীর কৃত্রিম উপগ্রহ ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড়সড় গোলযোগ দেখা দেয়।

৭. চাঁদকে পৃথিবীর উপগ্রহ বলা হয় কেন?

উত্তর: চাঁদের নিজস্ব কোনো আলো বা উত্তাপ নেই। এটি পৃথিবীর আকর্ষণ বলের প্রভাবে বাঁধা পড়ে একটি নির্দিষ্ট কক্ষপথে পৃথিবীর চারিদিকে ক্রমাগত ঘুরে চলেছে। উপগ্রহের এই সমস্ত মূল বৈশিষ্ট্য চাঁদের মধ্যে থাকায় চাঁদকে পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ বলা হয়।

৮. বামন গ্রহ কাকে বলে? একটি উদাহরণ দাও।

উত্তর: যে সমস্ত মহাজাগতিক বস্তুর নিজস্ব আলো নেই, যারা সূর্যের চারিদিকে ঘোরে, কিন্তু যাদের আকার সাধারণ গ্রহের থেকে ছোটো এবং যারা নিজেদের চলার পথে বা কক্ষপথে আসা অন্য কোনো মহাজাগতিক বস্তুকে সরিয়ে দিতে পারে না, তাদের বামন গ্রহ (Dwarf Planet) বলে। যেমন— প্লুটো হলো একটি বামন গ্রহ।

৯. উল্কাপাত বা 'তারা খসা' আসলে কী?

উত্তর: ধূমকেতু বা গ্রহাণুপুঞ্জের ভেঙে যাওয়া ছোটো ছোটো টুকরো মহাকাশে ভাসতে ভাসতে পৃথিবীর কাছাকাছি চলে এলে, পৃথিবীর অভিকর্ষ বলের টানে প্রচণ্ড বেগে ভূপৃষ্ঠের দিকে ছুটে আসে। তখন বায়ুমণ্ডলের বাতাসের সঙ্গে ঘষা লেগে এরা জ্বলে ওঠে। এই জ্বলন্ত আগুনের ফুলকিগুলোকেই অন্ধকার আকাশে আমরা উল্কাপাত বা 'তারা খসা' বলে থাকি।

Please Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!