Exam preparationIndian GeographyMP GEOGRAPHY

ভারতের পরিবহন ব্যবস্থা: সড়ক, রেল, জল ও আকাশপথ – চাকরি পরীক্ষার সম্পূর্ণ নোটস (Transport System of India)

ভূমিকা: WebBhugol এ সকলকে স্বাগতম জানাই।আজকে আমাদের মূল আলোচ্য বিষয় ভারতের পরিবহন ব্যবস্থা। ভারতের মতো বিশাল দেশে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং যোগাযোগের ক্ষেত্রে পরিবহন ব্যবস্থার গুরুত্ব অপরিসীম। দেশের পরিবহন ব্যবস্থাকে মূলত চারটি ভাগে ভাগ করা যায়—স্থলপথ (সড়ক ও রেল), জলপথ এবং আকাশপথ। আজকের এই নিবন্ধে আমরা ভারতের এই চারটি প্রধান পরিবহন মাধ্যম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব, যা দশম শ্রেণির মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষার (Competitive Exams) প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


ভারতের ভূগোল মধ্যে ভারতের পরিবহন ব্যবস্থার মধ্যে স্বাধীনতার পর থেকে ভারতে সড়কপথের ব্যাপক উন্নতি ঘটেছে। বর্তমানে সড়কপথের মোট দৈর্ঘ্যের বিচারে ভারত বিশ্বে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে। ভারতে মোট সড়কপথের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০ লক্ষ ৪৫ হাজার কিমি।

সড়কপথের শ্রেণিবিভাগ: প্রশাসনিক ও গুরুত্ব অনুযায়ী ভারতের সড়কপথকে গ্রামিন সড়ক, জেলা সড়ক, রাজ্য সড়ক ও জাতীয় সড়ক—এই চার ভাগে ভাগ করা যায়।

  • রাজ্য সড়ক (State Highway): এগুলি রাজ্যের বিভিন্ন জেলার মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে। রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব থাকে রাজ্য সরকারের ওপর। বন্টনের বিচারে মহারাষ্ট্র রাজ্যে সবচেয়ে বেশি রাজ্য সড়ক দেখা যায়।
  • জাতীয় সড়ক (National Highway): দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে এবং বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী প্রধান সড়কগুলি হলো জাতীয় সড়ক। এদের নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কেন্দ্র সরকারের (NHAI – National Highway Authority of India) হাতে থাকে। বর্তমানে ভারতে প্রায় ৫৩টি জাতীয় সড়ক রয়েছে।

সড়কপথের আধুনিকীকরণ প্রকল্প: গুরুত্বপূর্ণ তথ্য (Key Facts):

সোনালী চতুর্ভুজ (Golden Quadrilateral): ভারতের প্রধান চারটি মেট্রোপলিটন শহর—কলকাতা, দিল্লি, মুম্বাই ও চেন্নাইকে যে ৪ থেকে ৬ লেনের অতি দ্রুতগামী সড়কপথ দ্বারা যুক্ত করা হয়েছে, তাকে সোনালী চতুর্ভুজ বলা হয়। এর মোট দৈর্ঘ্য ৫,৮৪৬ কিমি। ২০১২ সালে এর কাজ সম্পন্ন হয়।

ভারতের পরিবহন ব্যবস্থা - সড়ক, রেল, জল ও আকাশপথের মানচিত্র এবং চাকরির পরীক্ষার নোটস | সোনালী চতুর্ভুজ মানচিত্র
চিত্র: সোনালী চতুর্ভুজ মানচিত্র

ভারতমালা প্রকল্প (Bharatmala Pariyojana): এটি ভারতের বৃহত্তম হাইওয়ে নির্মাণ প্রকল্প, যার লক্ষ্য হলো সীমান্ত ও উপকূলীয় অঞ্চলের সাথে সংযোগ স্থাপন এবং অর্থনৈতিক করিডোর তৈরি করা।

North-South & East-West Corridor: উত্তর-দক্ষিণ করিডোর (শ্রীনগর থেকে কন্যাকুমারী) এবং পূর্ব-পশ্চিম করিডোর (শিলচর থেকে পোরবন্দর) একে অপরকে ঝাঁসি (Jhansi)-তে ছেদ করেছে।

  • NHAI: National Highway Authority of India (স্থাপিত: ১৯৮৮, কার্যকর: ১৯৯৫)। সদর দপ্তর: নয়াদিল্লি।
  • ব্যস্ততম সড়ক: কলকাতা থেকে দিল্লি পর্যন্ত বিস্তৃত গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড (GT Road) বা শেরশাহ সুরি মার্গ হলো ভারতের ব্যস্ততম জাতীয় সড়ক।
  • দীর্ঘতম জাতীয় সড়ক: বর্তমানে NH-44 (শ্রীনগর থেকে কন্যাকুমারী) হলো ভারতের দীর্ঘতম জাতীয় সড়ক। (পুরানো তথ্য অনুযায়ী অনেকে NH-7 কে ধরেন, যা বারানসী থেকে কন্যাকুমারী বিস্তৃত ছিল)।
  • ক্ষুদ্রতম জাতীয় সড়ক: NH-47A (বর্তমান নাম NH-966B)। এটি কেরালার ভেম্বানাদ হ্রদের ওয়েলিংটন দ্বীপে অবস্থিত (মাত্র ৬ কিমি)।
  • উচ্চতম সড়ক: লে-লাসা (Leh-Lhasa) সড়কপথটি বিশ্বের উচ্চতম সড়কপথ। লাদাখ অঞ্চলের উমলিং লা (Umling La) বর্তমানে বিশ্বের সর্বোচ্চ মোটরযোগ্য সড়ক (চিসুমলে থেকে ডেমচকের মধ্যে)।
  • রাজ্যভিত্তিক তথ্য: সড়কপথের ঘনত্বে কেরালা প্রথম এবং মোট দৈর্ঘ্যে মহারাষ্ট্র প্রথম।
  • সবচেয়ে ছোটো বাহু: চেন্নাই-মুম্বাই (১,২৯০ কিমি)।
  • সবচেয়ে লম্বা বাহু: কলকাতা-চেন্নাই (১,৬৮৪ কিমি)।

ভারতের সড়কপথ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পরিবহন নেটওয়ার্ক (আমেরিকার পরে)। যাত্রী পরিবহনের প্রায় ৮৫% এবং পণ্য পরিবহনের প্রায় ৬৫% সড়কপথের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।


ভারতের পরিবহন ব্যবস্থার মধ্যে ভারতীয় রেল এশিয়ার বৃহত্তম এবং বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম রেল নেটওয়ার্ক। ১৮৫৩ সালের ১৬ এপ্রিল লর্ড ডালহৌসির আমলে মুম্বাই থেকে থানে (৩৪ কিমি) প্রথম ট্রেন চলে, যার নাম ছিল ‘ব্ল্যাক বিউটি‘।

ভারতের পরিবহন ব্যবস্থায় রেলপথকে ‘ভারতের জীবনরেখা’ (Lifeline of India) বলা হয়। রেলপথের দৈর্ঘ্যের বিচারে ভারত এশিয়ায় প্রথম এবং বিশ্বে পঞ্চম স্থান অধিকার করে। ১৮৫৩ সালে মুম্বাই থেকে থানে পর্যন্ত ভারতে প্রথম ট্রেন চলাচল শুরু হয়।

মেট্রো রেল ও হীরাক চতুর্ভুজ:

  • মেট্রো রেল: ১৯৮৪ সালে কলকাতায় ভারতের প্রথম পাতালরেল বা মেট্রো চালু হয়। বর্তমানে ভারতের ৬টি শহরে মেট্রো পরিষেবা রয়েছে। দিল্লির মেট্রো ভারতের দীর্ঘতম এবং কলকাতার মেট্রো প্রাচীনতম। পাতালরেলকে কলকাতার জীবনরেখা বলা হয়।
  • হীরক চতুর্ভুজ (Diamond Quadrilateral): সোনালী চতুর্ভুজের অনুকরণে কলকাতা, দিল্লি, মুম্বাই ও চেন্নাই—এই চার প্রধান শহরকে দ্রুতগামী রেল যোগাযোগ (High Speed Rail) দ্বারা যুক্ত করার পরিকল্পনাকে হীরক চতুর্ভুজ বলা হয়।

পরীক্ষার জন্য আবশ্যিক তথ্য (Must Know Facts):

  • সদর দপ্তর: নয়াদিল্লি।
  • মাসকট: ‘ভোলু’ (Bholu) নামক একটি হাতি।
  • UNESCO ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট: ভারতের ৪টি রেলপথ এই তকমা পেয়েছে—দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে, নীলগিরি মাউন্টেন রেলওয়ে, কালকা-শিমলা রেলওয়ে এবং ছত্রপতি শিবাজী টার্মিনাস।
  • ** বন্দে ভারত এক্সপ্রেস:** ভারতের প্রথম সেমি-হাই স্পিড ট্রেন (Train-18), যা দিল্লি ও বারানসীর মধ্যে প্রথম চলে।
রেলওয়ে জোনসদর দপ্তর
পূর্ব রেল (Eastern)কলকাতা
দক্ষিণ-পূর্ব রেল (SER)কলকাতা (গার্ডেনরিচ)
মেট্রো রেলকলকাতা
উত্তর রেল (Northern)নয়াদিল্লি (বৃহত্তম জোন)
পশ্চিম রেল (Western)চার্চ গেট (মুম্বাই)
মধ্য রেল (Central)মুম্বাই (CSMT)
দক্ষিণ রেল (Southern)চেন্নাই
উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল (NFR)মালিগাঁও (গুয়াহাটি)
দক্ষিণ উপকূলীয় রেল (SCoR)বিশাখাপত্তনম (নতুন ১৮তম জোন)

গেজ ব্যবস্থা (Gauge System):

  • ব্রড গেজ: ১.৬৭৬ মিটার (সর্বাধিক প্রচলিত)।
  • মিটার গেজ: ১.০০০ মিটার।
  • ন্যারো গেজ: ০.৭৬২ বা ০.৬১০ মিটার।

ভারতের পরিবহন ব্যবস্থা অনেকটাই জলপথের উপর নির্ভরশীল। জলপথ হলো সবচেয়ে সস্তা এবং পরিবেশবান্ধব পরিবহন মাধ্যম। ১৯৮৬ সালে Inland Waterways Authority of India (IWAI) গঠিত হয়, যার সদর দপ্তর নয়ডাতে (Noida) অবস্থিত।

প্রধান জাতীয় জলপথ (National Waterways):

  • NW-1: গঙ্গা নদীর ওপর (হলদিয়া থেকে প্রয়াগরাজ/এলাহাবাদ)। এটি ভারতের দীর্ঘতম (১৬২০ কিমি)।
  • NW-2: ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর (ধুবড়ি থেকে শদিয়া)।

সাগরমালা প্রকল্প (Sagarmala Project): বন্দরগুলির আধুনিকীকরণ এবং বন্দর-কেন্দ্রিক উন্নয়নের জন্য ভারত সরকার এই প্রকল্পটি গ্রহণ করেছে।

ভারতের প্রধান বন্দরসমূহ (এক নজরে):

পশ্চিম উপকূলের বন্দরবৈশিষ্ট্যপূর্ব উপকূলের বন্দরবৈশিষ্ট্য
মুম্বাইভারতের প্রবেশদ্বার ও বৃহত্তম বন্দর।কলকাতা-হলদিয়াপূর্ব ভারতের বৃহত্তম ও ভারতের একমাত্র নদীবন্দর।
জহরলাল নেহেরু (Nhava Sheva)আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর হাই-টেক বন্দর।বিশাখাপত্তনমগভীরতম ও স্বাভাবিক পোতাশ্রয়যুক্ত বন্দর।
কান্ডালা (গুজরাট)শুল্কমুক্ত বন্দর (Tax-free Port)।চেন্নাইদক্ষিণ ভারতের বৃহত্তম এবং কৃত্রিম বন্দর।
কোচি (কেরালা)আরব সাগরের রানী।পারাদ্বীপ (ওড়িশা)গভীরতম বন্দরগুলির অন্যতম।
মার্মাগাঁও (গোয়া)লোহা রপ্তানিতে বিখ্যাত।তুতিকোরিনগভীর সমুদ্রের বন্দর বলা হয়।
নিউ ম্যাঙ্গালোরকর্ণাটকের প্রধান বন্দর।এন্নোরভারতের প্রথম কর্পোরেট

গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষা:

  • পুনঃরপ্তানি বন্দর: যখন কোনো বন্দরে আসা পণ্য খালাস না করে বা সাময়িকভাবে রেখে অন্য দেশে পুনরায় রপ্তানি করা হয়, তাকে পুনঃরপ্তানি বন্দর বলে। যেমন—কলকাতা বন্দর।
  • বন্দরের পশ্চাদভূমি (Hinterland): বন্দরের মাধ্যমে যে পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের পণ্য রপ্তানি করা হয় এবং আমদানিকৃত পণ্য যে অঞ্চলে বন্টন করা হয়, সেই অঞ্চলকে ওই বন্দরের পশ্চাদভূমি বলে।
  • শিপিং লাইন ও লেন: যে সংস্থার অধীনে জাহাজ চলে তা হলো শিপিং লাইন, আর সমুদ্রে জাহাজ যে নির্দিষ্ট পথে চলে তাকে শিপিং লেন বলে।

১৯১১ সালে এলাহাবাদ থেকে নৈনি পর্যন্ত প্রথম ডাক পরিষেবা হিসেবে বিমান চলাচল শুরু হয়। ১৯৫৩ সালে বিমান পরিবহনের জাতীয়করণ করা হয়।

গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর ও অবস্থান:

বিমানবন্দরের নামঅবস্থান
ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরনয়াদিল্লি (ব্যস্ততম)
ছত্রপতি শিবাজী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরমুম্বাই
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকলকাতা (দমদম)
কেম্পেগৌড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরবেঙ্গালুরু
লোকপ্রিয় গোপীনাথ বরদোলই বিমানবন্দরগুয়াহাটি
বীর সাভারকর বিমানবন্দরআন্দামান ও নিকোবর (পোর্ট ব্লেয়ার)
বাগডোগরা বিমানবন্দরশিলিগুড়ি

উড়ান (UDAN) প্রকল্প: “উড়ে দেশ কা আম নাগরিক” (Ude Desh ka Aam Naagrik)—এই প্রকল্পের লক্ষ্য হলো কম খরচে সাধারণ মানুষকে বিমান পরিষেবা দেওয়া এবং ছোট শহরগুলোর সাথে সংযোগ বৃদ্ধি করা।


১. প্রশ্ন: বর্তমানে ভারতের দীর্ঘতম জাতীয় সড়ক (National Highway) কোনটি? উত্তর: NH-44 (এটি শ্রীনগর থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত বিস্তৃত)।

২. প্রশ্ন: ভারতে প্রথম রেলপথ কবে ও কোথায় চালু হয়? উত্তর: ১৮৫৩ সালে (মুম্বাই থেকে থানে পর্যন্ত)।

৩. প্রশ্ন: ভারতের কোন বন্দরকে ‘আরব সাগরের রানী’ বলা হয়? উত্তর: কোচি বন্দর (কেরালা)।

৪. প্রশ্ন: ‘সোনালী চতুর্ভুজ’ (Golden Quadrilateral) কোন চারটি শহরকে যুক্ত করেছে? উত্তর: দিল্লি, মুম্বাই, চেন্নাই এবং কলকাতা।

৫. প্রশ্ন: পূর্ব রেলের (Eastern Railway) সদর দপ্তর কোথায় অবস্থিত? উত্তর: কলকাতা।

৬. প্রশ্ন: ভারতের একটি শুল্কমুক্ত বন্দরের (Tax-free Port) নাম লেখো। উত্তর: কান্ডালা বন্দর (গুজরাট)।

৭. প্রশ্ন: ভারতের দীর্ঘতম জাতীয় জলপথ (NW-1) কোনটি? উত্তর: হলদিয়া থেকে এলাহাবাদ (গঙ্গা নদীর ওপর অবস্থিত)।

৮. প্রশ্ন: ‘হীরক চতুর্ভুজ’ প্রকল্পটি কিসের সঙ্গে যুক্ত? উত্তর: ভারতের প্রধান শহরগুলোতে দ্রুতগামী রেলপথ (High Speed Rail) ব্যবস্থার সঙ্গে।

৯. প্রশ্ন: বিশ্বের উচ্চতম মোটরযোগ্য সড়ক কোনটি? উত্তর: উমলিং লা (লাদাখ)।

১০. প্রশ্ন: ভারতের কোন শহরে প্রথম মেট্রো রেল পরিষেবা চালু হয়? উত্তর: কলকাতা (১৯৮৪ সালে)।


🚀 চলো যাচাই করি 👉 ভারতের পরিবহন ব্যবস্থা (Mock Test – 20 Marks)

সঠিক উত্তরটিতে ক্লিক করো এবং ব্যাখ্যা দেখে নাও।

১. বর্তমানে ভারতের দীর্ঘতম জাতীয় সড়ক কোনটি?
সঠিক উত্তর: NH-44
শ্রীনগর থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত বিস্তৃত (৩৭৪৫ কিমি)।
২. ভারতে প্রথম রেলপথ কত সালে স্থাপিত হয়?
সঠিক উত্তর: ১৮৫৩ সালে
১৬ই এপ্রিল মুম্বাই থেকে থানে পর্যন্ত প্রথম ট্রেন চলে।
৩. ভারতের ব্যস্ততম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কোনটি?
সঠিক উত্তর: ইন্দিরা গান্ধী বিমানবন্দর
দিল্লির এই বিমানবন্দরটি যাত্রী পরিবহনে ভারতের ব্যস্ততম।
৪. ‘সোনালী চতুর্ভুজ’ (Golden Quadrilateral) এর মোট দৈর্ঘ্য কত?
সঠিক উত্তর: ৫,৮৪৬ কিমি
কলকাতা-চেন্নাই বাহুটি এর মধ্যে দীর্ঘতম।
৫. ভারতের কোন বন্দরকে ‘আরব সাগরের রানী’ বলা হয়?
সঠিক উত্তর: কোচি বন্দর
কেরালার কোচি বন্দরকে আরব সাগরের রানী বলা হয়।
৬. পূর্ব রেলের সদর দপ্তর কোথায় অবস্থিত?
সঠিক উত্তর: কলকাতা
পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব রেলের সদর দপ্তর কলকাতায়।
৭. ভারতের দীর্ঘতম জাতীয় জলপথ (NW-1) কোনটি?
সঠিক উত্তর: হলদিয়া থেকে এলাহাবাদ
এটি গঙ্গা নদীর ওপর ১৬২০ কিমি দীর্ঘ।
৮. ভারতের শুল্কমুক্ত বন্দর (Tax-free Port) কোনটি?
সঠিক উত্তর: কান্ডালা
গুজরাটের কান্ডালা হলো শুল্কমুক্ত বন্দর।
৯. ভারতের গভীরতম বন্দর কোনটি?
সঠিক উত্তর: বিশাখাপত্তনম
এটি একটি স্থলবেষ্টিত এবং গভীরতম বন্দর।
১০. ভারতের প্রথম মেট্রো রেল কোথায় চালু হয়?
সঠিক উত্তর: কলকাতা
১৯৮৪ সালে কলকাতায় প্রথম মেট্রো পরিষেবা শুরু হয়।
১১. ‘হীরক চতুর্ভুজ’ (Diamond Quadrilateral) কিসের সাথে যুক্ত?
সঠিক উত্তর: দ্রুতগামী রেলপথ
এটি ভারতের প্রধান শহরগুলিতে হাই-স্পিড রেল চালানোর প্রকল্প।
১২. বিশ্বের উচ্চতম মোটরযোগ্য সড়ক কোনটি?
সঠিক উত্তর: উমলিং লা
এটি লাদাখে অবস্থিত বিশ্বের সর্বোচ্চ যান চলাচল যোগ্য সড়ক।
১৩. ‘ভারতের প্রবেশদ্বার’ (Gateway of India) কোন বন্দরকে বলা হয়?
সঠিক উত্তর: মুম্বাই
মুম্বাই বন্দর ভারতের বৃহত্তম বন্দর ও প্রবেশদ্বার।
১৪. উত্তর-দক্ষিণ ও পূর্ব-পশ্চিম করিডর কোথায় মিলিত হয়েছে?
সঠিক উত্তর: ঝাঁসি
উত্তর প্রদেশের ঝাঁসিতে এই দুই করিডর একে অপরকে ছেদ করেছে।
১৫. ভারতের ক্ষুদ্রতম জাতীয় সড়ক কোনটি?
সঠিক উত্তর: NH-47A
এটি কেরালার ওয়েলিংটন দ্বীপে অবস্থিত (বর্তমান নাম NH-966B)।
১৬. ব্রড গেজ (Broad Gauge) রেললাইনে দুটি লাইনের ব্যবধান কত?
সঠিক উত্তর: ১.৬৭৬ মিটার
ভারতে ব্রড গেজ লাইনই বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়।
১৭. ভারতের প্রাচীনতম কৃত্রিম বন্দর কোনটি?
সঠিক উত্তর: চেন্নাই
চেন্নাই বন্দর ভারতের প্রাচীনতম কৃত্রিম বন্দর।
১৮. ভারতের একমাত্র নদী বন্দর (Riverine Port) কোনটি?
সঠিক উত্তর: কলকাতা-হলদিয়া
এটি হুগলি নদীর তীরে অবস্থিত ভারতের একমাত্র নদী বন্দর।
১৯. দক্ষিণ রেলের (Southern Railway) সদর দপ্তর কোথায়?
সঠিক উত্তর: চেন্নাই
তামিলনাড়ুর চেন্নাই হলো দক্ষিণ রেলের সদর দপ্তর।
২০. কোন বন্দর থেকে ভারতের সর্বাধিক লোহা রপ্তানি করা হয়?
সঠিক উত্তর: মার্মাগাঁও
গোয়ার মার্মাগাঁও বন্দর দিয়ে ভারতের অধিকাংশ আকরিক লোহা রপ্তানি হয়।

উপসংহার: ভারতের অর্থনৈতিক কাঠামোর মেরুদণ্ড হলো এই পরিবহন ব্যবস্থা। সড়ক, রেল, জল ও আকাশপথের সুষম উন্নয়নই ভারতকে আগামী দিনে বিশ্বের দরবারে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।

শিক্ষার্থীদের প্রতি: উপরের তথ্যগুলি মাধ্যমিক ভূগোল সিলেবাস এবং বিভিন্ন সরকারি চাকরির পরীক্ষার (WBCS, Rail, Police etc.) জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে WBCS Geography Notes এই পোস্টে পেয়ে যাবেন নিয়মিত আপডেটের জন্য Webbhugol.com ভিজিট করুন।

ভারতের ভূগোল নিয়ে আরো পোস্ট পেতে নিজেকে নিজে ক্লিক করুন।

❓ ভারতের পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ে সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১. ভারতের দীর্ঘতম জাতীয় সড়ক কোনটি?

উত্তর: ভারতের দীর্ঘতম জাতীয় সড়ক হলো NH-44 (পূর্বনাম NH-7), যা শ্রীনগর থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত বিস্তৃত।

২. ভারতের জীবনরেখা কাকে বলা হয়?

উত্তর: ভারতের রেলপথকে 'ভারতের জীবনরেখা' (Lifeline of India) বলা হয়।

৩. ভারতের বৃহত্তম বন্দর কোনটি?

উত্তর: মুম্বাই বন্দর হলো ভারতের বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর এবং ভারতের প্রবেশদ্বার।

৪. সোনালী চতুর্ভুজ কোন কোন শহরকে যুক্ত করেছে?

উত্তর: সোনালী চতুর্ভুজ দিল্লি, মুম্বাই, চেন্নাই এবং কলকাতা—এই চারটি মেট্রোপলিটন শহরকে যুক্ত করেছে।

৫. ভারতের ব্যস্ততম বিমানবন্দর কোনটি?

উত্তর: দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হলো ভারতের ব্যস্ততম বিমানবন্দর।

Please Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!