H.S GEOGRAPHYSEMESTER-4

সমুদ্র তরঙ্গের কার্য ও ভূমিরূপ | Class 12 Geography Semester 4 Notes

ভূমিকা: webbhugol.com এ স্বাগতম। উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের নতুন পাঠ্যক্রম অনুযায়ী দ্বাদশ শ্রেণির ভূগোল (সেমিস্টার ৪)-এর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো ‘সমুদ্র তরঙ্গের কার্য’। উপকূলীয় অঞ্চলে সমুদ্র তরঙ্গ মূলত দুটি প্রক্রিয়ায় ভূমিরূপের পরিবর্তন ঘটায়—ক্ষয়কার্য এবং সঞ্চয়কার্য। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা সমুদ্র তরঙ্গের সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য এবং এর ক্ষয় ও সঞ্চয়কার্যের ফলে সৃষ্ট প্রধান ভূমিরূপগুলি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।


Table of Contents

সমুদ্র তরঙ্গ কাকে বলে? (Definition of Sea Waves)

সমুদ্রপৃষ্ঠের ওপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ুপ্রবাহের ঘর্ষণের ফলে সমুদ্রের জলরাশি যখন কোনো স্থান পরিবর্তন না করে, একই স্থানে অবস্থান করে উল্লম্বভাবে ওঠানামা করে, তখন তাকে সমুদ্র তরঙ্গ (Sea Waves) বলে।

সমুদ্র তরঙ্গের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ

  • আকার: তরঙ্গ হলো মূলত সমুদ্রের জলের ঢেউ বা আন্দোলন।
  • ওঠানামা: তরঙ্গের প্রভাবে সমুদ্রের জলপৃষ্ঠ ছন্দময়ভাবে ওঠানামা করে।
  • স্থানান্তর: সমুদ্র তরঙ্গে জলরাশির কোনো অনুভূমিক স্থানান্তর ঘটে না, জলরাশি কেবল একই স্থানে বৃত্তাকারে আবর্তিত হয়।
  • শক্তি প্রবাহ: তরঙ্গের মাধ্যমে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে কেবল শক্তি (Energy) প্রবাহিত হয়।
  • ভূমিরূপ গঠন: উপকূলবর্তী অঞ্চলে ভূমিরূপের বিবর্তনে সমুদ্র তরঙ্গ প্রধান ভূমিকা পালন করে।

সমুদ্র তরঙ্গ সৃষ্টির কারণ

  1. বায়ুপ্রবাহের ঘর্ষণ (প্রধান কারণ): সমুদ্রপৃষ্ঠের ওপর দিয়ে দ্রুতগতিতে প্রবাহিত বাতাসের ঘর্ষণের ফলেই মূলত তরঙ্গের সৃষ্টি হয়।
  2. ভূকম্পন ও অগ্ন্যুৎপাত: সমুদ্রের তলদেশে শক্তিশালী ভূমিকম্প বা অগ্ন্যুৎপাত সংঘটিত হলে বিশাল আকার ও বিধ্বংসী সামুদ্রিক ঢেউ বা ‘সুনামি’-র সৃষ্টি হয়।

সমুদ্র তরঙ্গের ক্ষয়কার্য ও সৃষ্ট ভূমিরূপ (Erosional Landforms)

সমুদ্র তরঙ্গ উপকূলভাগে আছড়ে পড়ার সময় জলপ্রবাহ ক্ষয়, অবঘর্ষ, ঘর্ষণ এবং দ্রবণ প্রক্রিয়ায় শিলাস্তর চূর্ণবিচূর্ণ করে। এর ফলে যে সমস্ত ভূমিরূপ গড়ে ওঠে, সেগুলি হলো—

(১) খাঁড়ি ও উপসাগর (Bays and Inlets)

উপকূলের শিলাস্তর সর্বত্র সমান কঠিন হয় না। যেখানে কোমল শিলা অবস্থান করে, সেখানে সমুদ্র তরঙ্গের আঘাতে দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে গর্ত বা খাজের সৃষ্টি হয় এবং সেখানে সমুদ্রের জল প্রবেশ করে খাঁড়ি বা উপসাগর তৈরি করে।

(২) সামুদ্রিক ভৃগু (Sea Cliff)

সমুদ্র তরঙ্গের ক্রমাগত আঘাতে উপকূলের পাদদেশে ক্ষয় হয়ে যে খাড়া ঢাল বা পাড় সৃষ্টি হয়, তাকে সামুদ্রিক ভৃগু বলে।

  • বৈশিষ্ট্য: এটি সমুদ্রের দিকে খাড়াভাবে হেলে থাকে এবং এটি উপকূলরেখার পশ্চাতে অবস্থান করে। গ্রানাইট জাতীয় কঠিন শিলা দ্বারা গঠিত উপকূলে ভৃগু বেশি খাড়া হয়।
  • উদাহরণ: ভারতের বিশাখাপত্তনমের ‘ডলফিন নোজ’ (Dolphin’s Nose) এবং দিঘার উপকূল হলো ভৃগুর উদাহরণ।
উপকূল, খাঁড়ি ও দ্বীপ
fig: উপকূল, খাঁড়ি ও দ্বীপ

(৩) তরঙ্গ কর্তিত মঞ্চ (Wave-cut Platform)

সমুদ্র তরঙ্গের ক্রমাগত আঘাতে ভৃগু ক্রমশ পেছনের দিকে সরে গেলে (পশ্চাৎ অপসারণ), ভৃগুর সামনের অংশে যে প্রায় সমতল বা সামান্য ঢালু মঞ্চের সৃষ্টি হয়, তাকে তরঙ্গ কর্তিত মঞ্চ বলে।

(৪) সামুদ্রিক গুহা (Sea Cave)

উপকূলে অবস্থিত ভৃগুর গায়ে কোনো ফাটল বা কোমল শিলাস্তর থাকলে, সমুদ্র তরঙ্গের ক্রমাগত আঘাতে সেই অংশটি গর্তের মতো হয়ে ভেতরের দিকে প্রসারিত হয় এবং সামুদ্রিক গুহা সৃষ্টি করে।

  • উদাহরণ: ভারতের কঙ্কন উপকূলে এবং স্কটল্যান্ড উপকূলে অনেক সামুদ্রিক গুহা দেখা যায়।

(৫) ব্লো-হোল (Blow-hole)

সামুদ্রিক গুহার ছাদের কোনো অংশ ছিদ্র হয়ে ভূপৃষ্ঠের সাথে যুক্ত হলে তাকে ব্লো-হোল বলে। গুহার ভেতরের বাতাস সংকুচিত হয়ে ছাদে প্রচণ্ড চাপ দিলে এই ছিদ্র দিয়ে জল ও বাতাস সশব্দে ফোয়ারার মতো বেরিয়ে আসে।

  • উদাহরণ: স্কটল্যান্ড উপকূলে ব্লো-হোল দেখা যায়।

(৬) জিও (Geo)

ব্লো-হোলের গর্তগুলি বড় হতে থাকলে অথবা গুহার ছাদ সম্পূর্ণ ধসে পড়লে যে দীর্ঘ ও সংকীর্ণ খাঁড়ির সৃষ্টি হয়, তাকে জিও বলে।

ব্লো-হোল, blowhole, সমুদ্র গুহা, sea cave, উপকূলীয় ক্ষয়, ভূগোল ডায়াগ্রাম, বাংলা নোট, প্রাকৃতিক ফোয়ারা।

(৭) খিলান (Sea Arch)

কোনো মস্তক ভূমির দুপাশে দুটি সামুদ্রিক গুহা তৈরি হলে এবং ক্রমাগত ক্ষয়ের ফলে গুহা দুটি পরস্পরের সাথে মিশে গেলে যে ধনুকাকৃতি বা সেতুর মতো ভূমিরূপ তৈরি হয়, তাকে প্রাকৃতিক খিলান বা আর্চ বলে।

(৮) স্ট্যাক ও স্ট্যাম্প (Stack & Stump)

কালের বিবর্তনে প্রাকৃতিক খিলানের ছাদ ধসে পড়লে, সমুদ্রগর্ভে যে স্তম্ভের মতো অংশটি বিচ্ছিন্নভাবে দাঁড়িয়ে থাকে, তাকে স্ট্যাক বলে। (উদাহরণ: স্কটল্যান্ডর ‘ওল্ড ম্যান অফ হয়’)। স্ট্যাকগুলি আরও ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে ছোট হয়ে গেলে তাকে স্ট্যাম্প বলে।

সমুদ্র তরঙ্গের ক্ষয়কার্য ও সৃষ্ট ভূমিরূপ  ও প্রক্রিয়া দেখায় এমন একটি সমন্বিত ডায়াগ্রাম

সমুদ্র তরঙ্গের সঞ্চয়কার্য ও সৃষ্ট ভূমিরূপ (Depositional Landforms)

সমুদ্র তরঙ্গ কেবল ক্ষয় করে না, উপকূলের অগভীর অংশে ক্ষয়জাত পদার্থ (বালি, নুড়ি, কাঁকর) সঞ্চয় করে নানারকম ভূমিরূপ গঠন করে। প্রধান সঞ্চয়জাত ভূমিরূপগুলি নিচে আলোচনা করা হলো:

(১) সৈকত ভূমি (Beach)

সমুদ্রজলের সর্বোচ্চ সীমা (জোয়ারের জলতল) এবং সর্বনিম্ন সীমার (ভাটার জলতল) মধ্যবর্তী অংশে পলি, বালি, ও নুড়ি সঞ্চিত হয়ে যে সমতল বা মৃদু ঢালু ভূমিভাগ গড়ে ওঠে, তাকে সৈকত ভূমি বলে।

  • উৎপত্তি: উপকূলের ভৃগু ক্ষয়জাত পদার্থ এবং নদীবাহিত পদার্থ জমা হয়ে সৈকত ভূমি গড়ে ওঠে। তবে সব উপকূলে সৈকত ভূমি গড়ে ওঠে না। সাধারণত ভৃগু ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে বালির জোগান বেশি থাকলে বিস্তীর্ণ সৈকত গঠিত হয়।
  • উদাহরণ: পশ্চিমবঙ্গের দিঘা উপকূলের সৈকত ভূমি।

(২) সৈকত শিরা (Beach Ridge)

ঝড় বা উচ্চ জোয়ারের সময় সমুদ্র সৈকতের ওপরের দিকে নুড়ি, বালি ও পলি সঞ্চিত হয়ে যে দীর্ঘ ও উঁচু শিরার মতো ভূমিরূপ সৃষ্টি করে, তাকে সৈকত শিরা বলে।

(৩) সামুদ্রিক বাঁধ (Bar)

উপকূলের কাছে বা অদূরে সমুদ্রবক্ষে নুড়ি, বালি ও পলি সঞ্চিত হয়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের ওপরে বা নিচে যে দীর্ঘ ও সংকীর্ণ স্তূপের সৃষ্টি হয়, তাকে বাঁধ বলে।

  • উদাহরণ: গুজরাটের কাথিয়াবাড় উপকূলে অসংখ্য বাঁধ দেখা যায়।

(৪) পুরোদেশীয় বাঁধ (Offshore Bar)

যেসব বাঁধ উপকূলের সমান্তরালে গড়ে ওঠে কিন্তু উপকূল থেকে কিছুটা দূরে বিচ্ছিন্নভাবে অবস্থান করে, তাদের পুরোদেশীয় বাঁধ বলে।

  • বৈশিষ্ট্য: ১. এটি উপকূলের সমান্তরালে সৃষ্টি হয়। ২. অনেক সময় নদীর মোহনার সাথে আড়াআড়িভাবে গঠিত হয়। ৩. বাঁধের পেছনে সমুদ্রের জল আংশিক বা সম্পূর্ণ আবদ্ধ হয়ে পড়ে।
  • উদাহরণ: ভারতের কেরালা উপকূলে প্রচুর পুরোদেশীয় বাঁধ দেখা যায়।
  • লেগুন বা উপহ্রদ: পুরোদেশীয় বাঁধ ও স্থলভাগের মধ্যবর্তী অংশে যে অগভীর জলাভূমির সৃষ্টি হয়, তাকে লেগুন বলে। ওড়িশা উপকূলের চিল্কা হলো একটি লেগুন বা উপহ্রদের উদাহরণ।
একটি ভৌগোলিক চিত্র যা সমুদ্র উপকূলীয় সঞ্চয়জাত ভূমিরূপ প্রদর্শন করে। এতে স্থলভাগ থেকে সমুদ্রের দিকে প্রসারিত স্পিট (spit), উপকূলের সমান্তরালে গঠিত পুরোদেশীয় বাঁধ (offshore bar) এবং সাধারণ বাঁধ চিহ্নিত করা হয়েছে।

(৫) স্পিট (Spit)

যে বাঁধের একটি অংশ স্থলভাগের সাথে যুক্ত থাকে এবং অন্য অংশটি সমুদ্রের দিকে উন্মুক্ত বা শেষ হয়, তাকে স্পিট বলে।

  • গঠন: সাধারণত উপকূলরেখার যেখানে বাঁক থাকে বা উপকূল ভগ্ন হয়, সেখানে স্পিট গড়ে ওঠে।
  • বৈশিষ্ট্য: ১. এক প্রান্ত স্থলভাগে এবং অন্য প্রান্ত সমুদ্রে থাকে। ২. এগুলি সাধারণত সংকীর্ণ ও লম্বাটে হয়।

(৬) হুক স্পিট ও যৌগিক হুক (Hook Spit & Compound Hook)

সমুদ্রের দিকে থাকা স্পিটের মুক্ত প্রান্তটি সমুদ্র স্রোত ও তরঙ্গের প্রভাবে বেঁকে গিয়ে যদি বড়শির মতো আকৃতি ধারণ করে, তাকে হুক বা হুক স্পিট বলে। যখন কোনো স্পিটে একাধিক হুক পাশাপাশি বা পরপর অবস্থান করে, তখন তাকে যৌগিক হুক বলে।

(৭) স্পিট লুপ (Spit Loop)

কোনো হুক স্পিট ক্রমশ বেঁকে গিয়ে যদি পুনরায় স্থলভাগের সাথে যুক্ত হয় এবং মধ্যবর্তী সমুদ্রের জলরাশিকে সম্পূর্ণভাবে আবদ্ধ করে ফেলে, তখন তাকে স্পিট লুপ বলে। এর ফলে ভেতরে একটি ছোট লেগুন তৈরি হয়।

(৮) টম্বোলো (Tombolo)

সমুদ্রের নিকটবর্তী কোনো দ্বীপ যখন নুড়ি, কাঁকর ও বালি দিয়ে তৈরি বাঁধ দ্বারা মূল ভূখণ্ডের সাথে যুক্ত হয়, তখন সেই সংযোগকারী বাঁধটিকে টম্বোলো বলে।

  • উদাহরণ: ১. ভারতের তুতিকোরিন সৈকতের সাথে ‘হারে দ্বীপ’ (Hare Island) টম্বোলো দ্বারা যুক্ত। ২. ইংল্যান্ডের চেসিল বীচ (Chesil Beach) টম্বোলোটি প্রায় ২৫ কিমি লম্বা।
Map of coastal landform features

উপসংহার: সমুদ্র তরঙ্গের এই ক্ষয় ও সঞ্চয়কার্য উপকূলীয় অঞ্চলের ভূপ্রকৃতিকে প্রতিনিয়ত পরিবর্তন করে চলেছে। দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য এই ভূমিরূপগুলি চিত্রসহ অধ্যয়ন করা অত্যন্ত জরুরি।

১. ক্ল্যাপোটিস (Clapotis) কাকে বলে?

উত্তর: গভীর উপকূল অঞ্চলে সমুদ্র তরঙ্গ যখন কোনো খাড়া ভৃগুতে বা পাড়ে বাধা পেয়ে না ভেঙে সোজা সমুদ্রে ফিরে যায়, তখন সেই প্রত্যাবর্তিত তরঙ্গ এবং পরবর্তী আগত তরঙ্গের সংঘর্ষে এক প্রকার স্থির বা স্থাণু তরঙ্গের সৃষ্টি হয়। একে ক্ল্যাপোটিস (Clapotis) বলে।

  • ফলাফল: এই তরঙ্গের প্রভাবে শিলাগাত্রে প্রচণ্ড চাপের হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে এবং শিলাস্তর ফেটে গিয়ে দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।

২. সমুদ্রতরঙ্গের ক্ষয়কার্য কোন্ কোন্ বিষয়ের ওপর নির্ভর করে?

উত্তর: সমুদ্রতরঙ্গের ক্ষয়কার্যের তীব্রতা ও প্রকৃতি মূলত নিম্নলিখিত বিষয়গুলি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়—

  • শিলার প্রকৃতি: উপকূলের শিলা কঠিন না কোমল, তার ওপর ক্ষয় নির্ভর করে।
  • শিলার গঠন: শিলাস্তরে দারণ, ফাটল বা জোড় আছে কি না।
  • তরঙ্গের তীব্রতা: সমুদ্রতরঙ্গের বেগ এবং আঘাতের তীব্রতা।
  • জলের গভীরতা: উপকূলের কাছে সমুদ্রের গভীরতা এবং সমুদ্রতলের ঢাল।
  • অন্যান্য: এছাড়া জোয়ার-ভাটার তীব্রতা, অবঘর্ষ প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নুড়ি-পাথরের জোগান ইত্যাদি বিষয়ও ক্ষয়কার্যকে নিয়ন্ত্রণ করে।

৩. টম্বোলো (Tombolo) কী?

উত্তর: সমুদ্রের উপকূল থেকে অদূরে কোনো দ্বীপ অবস্থান করলে, অনেক সময় সমুদ্র তরঙ্গের ও সমুদ্রস্রোতের প্রভাবে উপকূল ও দ্বীপের মাঝখানে পলি, বালি ও নুড়ি জমা হয়ে একটি সংযোগকারী বাঁধ তৈরি হয়। এই বাঁধ দ্বীপটিকে মূল ভূখণ্ডের সাথে যুক্ত করলে তাকে টম্বোলো (Tombolo) বলে।

  • উদাহরণ: ইংল্যান্ডের ডরসেট উপকূলে ‘চেসিল সৈকত’ (Chesil Beach) একটি টম্বোলোর মাধ্যমে পোর্টল্যান্ড দ্বীপকে মূল ভূখণ্ডের সাথে যুক্ত করেছে।

৪. সার্ফ (Surf) কী?

উত্তর: সমুদ্র তরঙ্গ যখন উপকূলের অগভীর জলরাশির মধ্যে প্রবেশ করে, তখন ঘর্ষণের ফলে তরঙ্গের নিচের অংশের গতি কমে যায় কিন্তু ওপরের অংশের গতি বাড়ে। এর ফলে তরঙ্গের চূড়াটি সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে কুণ্ডলীকৃত হয়ে সশব্দে ভেঙে যায় এবং সাদা ফেনার আকার ধারণ করে তটভূমির দিকে এগিয়ে আসে। এই ভেঙে যাওয়া ফেনিল তরঙ্গকে সার্ফ (Surf) বলে।

৫. পুরোদেশীয় তটভূমি (Offshore) বলতে কী বোঝো?

উত্তর: উপকূলের তটভূমির একেবারে সম্মুখ ভাগ, অর্থাৎ ভাটার সময় সমুদ্রজলের সর্বনিম্ন সীমা থেকে শুরু করে মহীসোপানের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত অংশকে পুরোদেশীয় তটভূমি (Offshore) বলে।

  • বৈশিষ্ট্য: তটভূমির এই অংশটি সর্বদা সমুদ্রজলের নিচে নিমজ্জিত অবস্থায় থাকে।

৬. বার্ম (Berm) কী?

উত্তর: সমুদ্র সৈকতের পশ্চাৎ তটভূমি এবং সম্মুখ তটভূমির সংযোগস্থলে ঝটিকা তরঙ্গের (Storm Waves) প্রভাবে নুড়ি, বালি ও পাথর সঞ্চিত হয়ে উপকূলের সমান্তরালে যে মঞ্চ বা ধাপের মতো অনুভূমিক শিরার সৃষ্টি হয়, তাকে বার্ম (Berm) বলে। এটি সাধারণত ঝড়ের সময় বড় ঢেউয়ের প্রভাবে গঠিত হয়।

ডেভিসের স্বাভাবিক ক্ষয়চক্র ও পুনর্যৌবন লাভ: বাধা ও সৃষ্ট ভূমিরূপ – নোটস | Class 12 Semester 4

PDF Download Section

📥 Download PDF Now

প্রশ্ন: সমুদ্র তরঙ্গের প্রধান কাজ কী কী?

উত্তর: সমুদ্র তরঙ্গের প্রধান দুটি কাজ হলো ক্ষয়কার্য (Erosion) এবং সঞ্চয়কার্য (Deposition)। এর ফলে ভৃগু, স্ট্যাক, সৈকত ভূমি ইত্যাদি তৈরি হয়।

প্রশ্ন: 'ব্লো-হোল' কোথায় দেখা যায়?

উত্তর: স্কটল্যান্ড উপকূলে এবং ভারতের কিছু উপকূলীয় গুহার ছাদে ব্লো-হোল দেখা যায়।

প্রশ্ন: ভারতের একটি লেগুনের উদাহরণ দাও।

উত্তর: ওড়িশা উপকূলের চিল্কা হ্রদ (Chilika Lake) হলো ভারতের বৃহত্তম লেগুন বা উপহ্রদ।

Please Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!