đĨāĻĒāĻļā§āĻāĻŋāĻŽāĻŦāĻā§āĻā§āϰ āϏā§āĻŦāĻžāĻāĻžāĻŦāĻŋāĻ āĻāĻĻā§āĻāĻŋāĻĻ: ā§ĒāĻāĻŋ āĻĒā§āϰāĻāĻžāϰāĻā§āĻĻ, āĻŦā§āĻļāĻŋāώā§āĻā§āϝ āĻ āϝāĻž āĻāĻžāύāĻž āĻāϰā§āϰāĻŋ (PSC, WBP, WBTET, Group-C & D āĻ āύāĻŦāĻŽ āĻļā§āϰā§āĻŖāĻŋāϰ āϏā§āĻĒā§āĻļāĻžāϞ)
আপনি কি জানেন, ভারতের আর কোনো রাজ্যে মাত্র ৩০০ কিলোমিটারের মধ্যে তুষারপাত যুক্ত আল্পীয় অরণ্য এবং লবণাক্ত ম্যানগ্রোভ বনভূমি একসাথে দেখতে পাওয়া যায় না? এই বৈচিত্র্যই পশ্চিমবঙ্গকে করে তুলেছে অনন্য। পশ্চিমবঙ্গের স্বাভাবিক উদ্ভিদ কেবল প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, বরং এখানকার ভূ-প্রকৃতি, জলবায়ু ও মাটির এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।
এই পোস্টে আমরা পশ্চিমবঙ্গের সেই ৪টি প্রধান উদ্ভিদ মণ্ডলীকে বিস্তারিত জানব, যা আপনার নবম শ্রেণির পাঠ্যক্রম এবং যেকোনো চাকরির পরীক্ষার (WBCS, SSC, PSC, Primary TET, Group-C & Group-D) জন্য অপরিহার্য।
স্বাভাবিক উদ্ভিদ কী? 🤔
মানুষের কোনো রকম প্রচেষ্টা বা সাহায্য ছাড়াই ভূ-প্রকৃতি, জলবায়ু ও মৃত্তিকার উপর নির্ভর করে প্রাকৃতিক পরিবেশে স্বাভাবিকভাবে গড়ে ওঠা উদ্ভিদকে বলা হয় স্বাভাবিক উদ্ভিদ (Natural Vegetation)।
পশ্চিমবঙ্গের এই অনন্য প্রাকৃতিক পরিবেশের কারণে এখানে প্রধানত চার ধরনের স্বাভাবিক উদ্ভিদ সৃষ্টি হয়েছে:
১. পার্বত্য অঞ্চলের চিরহরিৎ অরণ্য ২. মালভূমি অঞ্চলের ক্রান্তীয় পর্ণমোচী অরণ্য ৩. সমভূমি অঞ্চলের মিশ্র প্রকৃতির উদ্ভিদ ৪. সুন্দরবনের লবণাম্বু উদ্ভিদ বা ম্যানগ্রোভ অরণ্য
১. পার্বত্য অঞ্চলের চিরহরিৎ অরণ্য ⛰️
এই বনভূমি রাজ্যের উত্তরের পার্বত্য অঞ্চলে, যেমন দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলাতে দেখতে পাওয়া যায়।
জলবায়ু ও বৈশিষ্ট্য
- গড় বৃষ্টিপাত: ২০০ – ৩০০ সেমির অধিক (অত্যন্ত বেশি)
- বিশেষত্ব: উচ্চতার তারতম্যের কারণে এখানে বনভূমি স্তরে স্তরে ভাগ হয়ে যায়। গাছগুলি সারা বছর সবুজ থাকে বলে এদের চিরহরিৎ বনভূমি বলা হয়।
উচ্চতা অনুযায়ী ৪টি অরণ্য মণ্ডলী
| উচ্চতা (মিটার) | উদ্ভিদের ধরন | প্রধান উদ্ভিদ ও বিশেষত্ব |
| ১০০০ মিটার পর্যন্ত | তরাই-এর চিরহরিৎ বনভূমি | আয়রন উড, রোজউড, শিশু, গর্জন, মেহগনি, চাপলাস। |
| ১০০০ – ২০০০ মিটার | মিশ্র বনভূমি | পাইন, ওক, ফার, সেগুন (চিরহরিৎ ও পর্ণমোচীর মিশ্রণ)। |
| ২০০০ – ৩০০০ মিটার | সরলবর্গীয় অরণ্য | ফার, পাইন, দেবদারু, প্রুস, রডোডেনড্রন। এগুলি দীর্ঘ, সরল ও শঙ্কু আকৃতির হয়। |
| ৩০০০ মিটারের উপরে | আল্পীয় অরণ্য | জুনিপার, ম্যাগনোলিয়া, বালসাম বৃক্ষ এবং মস ও লাইকেন জাতীয় তৃণ ও গুল্ম। |
২. মালভূমি অঞ্চলের ক্রান্তীয় পর্ণমোচী অরণ্য 🍂
এই উদ্ভিদ মণ্ডলী মূলত পশ্চিমবঙ্গের শুষ্ক মালভূমি অঞ্চলের অন্তর্গত পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূমের পশ্চিমাংশ ও পশ্চিম মেদিনীপুরে দেখা যায়।
জলবায়ু ও বৈশিষ্ট্য
- গড় বৃষ্টিপাত: ১০০ – ২০০ সেমি (কম)
- বৈশিষ্ট্য: এই বৃক্ষগুলি বসন্তকালে বা গ্রীষ্মের শুরুতে পাতা ঝরিয়ে দেয় (তাই পর্ণমোচী)। এদের কাণ্ড মোটা ও অমসৃণ হয়। কাঠ অত্যন্ত মূল্যবান এবং এই অরণ্যের ঘনত্ব তুলনামূলকভাবে কম।
প্রধান উদ্ভিদ
শাল, সেগুন, অর্জুন, শিমূল, পলাশ, মহুয়া ইত্যাদি। (চাকরির পরীক্ষার জন্য: পলাশকে ‘জঙ্গল কি আগ’ বা Flame of the Forest বলা হয়।)
৩. সমভূমি অঞ্চলের মিশ্র প্রকৃতির উদ্ভিদ 🌾
উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, হুগলি, নদিয়া, হাওড়া সহ প্রায় সমস্ত সমভূমি জেলাতেই এই জাতীয় উদ্ভিদ দেখতে পাওয়া যায়।
বৈশিষ্ট্য
- এটি চিরহরিৎ ও পর্ণমোচী বৃক্ষের এক মিশ্র সমাবেশ।
- বৃক্ষগুলি সাধারণত কৃষিক্ষেত্রের আশেপাশে বিক্ষিপ্তভাবে জন্মায় এবং ডালপালা কম থাকে।
প্রধান উদ্ভিদ
আম, জাম, কাঁঠাল, বট, নিম (পর্ণমোচী)। এছাড়াও উত্তরবঙ্গের তরাই-ডুয়ার্স সমভূমিতে শাল, শিশু, খয়ের-এর মতো চিরহরিৎ বৃক্ষ দেখা যায়। উপকূলীয় অঞ্চলে নারকেল, তাল, সুপারি।
৪. সুন্দরবনের লবণাম্বু উদ্ভিদ বা ম্যানগ্রোভ অরণ্য 🌊
এই বিশেষ অরণ্য উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবনের ব-দ্বীপ অঞ্চল এবং বঙ্গোপসাগরের উপকূলীয় অঞ্চলে দেখা যায়। এটি পরিবেশগতভাবে পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বনভূমি।
জলবায়ু ও বিশেষত্ব
- জলবায়ু: উষ্ণ-আর্দ্র ক্রান্তীয় জলবায়ু।
- বিশেষত্ব: সমুদ্রের লবণাক্ত কর্দমাক্ত মাটিতে জন্মায় বলে এদের টিকে থাকার জন্য প্রকৃতির সঙ্গে বিশেষ অভিযোজন করতে হয়েছে।
ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের বিশেষ অভিযোজন (অবশ্যই মনে রাখতে হবে)



| অভিযোজন | ব্যাখ্যা |
| শ্বাসমূল (Pneumatophore) | মাটিতে অক্সিজেনের অভাবে মূলের কিছু অংশ খাড়াভাবে উপরে উঠে আসে এবং শ্বাসকার্যে অংশ নেয়। |
| ঠেসমূল বা অধিমূল (Stilt/Prop Root) | নরম মাটিতে উদ্ভিদকে ধরে রাখার জন্য কাণ্ডের গোড়া থেকে ধনুকাকৃতি অস্থানিক মূল বের হয়। |
| জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম্ (Vivipary) | লবণাক্ত মাটিতে বীজের অঙ্কুরোদ্গম অসম্ভব হওয়ায়, ফল গাছে থাকা অবস্থাতেই বীজের অঙ্কুরোদগম ঘটে। |
প্রধান উদ্ভিদ (Mangrove Forest)
সুন্দরী, গরান, গেঁওয়া, হেঁতাল, কেয়া, গোলপাতা ইত্যাদি।
📌 সুন্দরবন সম্বন্ধে আরও জানা-অজানা তথ্য জানতে- 👉 Click Here
💡 কুইক ফ্যাক্টস: এক নজরে পশ্চিমবঙ্গের বনভূমি (চাকরির পরীক্ষার স্পেশাল)
| তথ্য | মান | চাকরির পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ |
| মোট বনভূমির পরিমাণ (আয়তন) | ১১,৮৭৯ বর্গ কিমি | রাজ্য সরকারের ডেটা অনুযায়ী |
| মোট ভৌগোলিক অঞ্চলের বনভূমি | প্রায় ১৩.৩৮% | জাতীয় গড়ের (২১.৭১%) চেয়ে কম |
| সর্বাধিক বনভূমি যুক্ত জেলা | দার্জিলিং (৩৮.৩%) | সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ |
| সর্বনিম্ন বনভূমি যুক্ত জেলা | মুর্শিদাবাদ (০.১৪%) | |
| বনভূমিহীন জেলা | কলকাতা ও হাওড়া | |
| পশ্চিমবঙ্গের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন | সুন্দরবন | এটি বিশ্বের বৃহত্তমও বটে |
📜 গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- সুন্দরবন ১৯৯৭ সালে UNESCO ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট’ এবং ২০০১ সালে ‘বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ’-এর মর্যাদা পায়।
- সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ অরণ্য পশ্চিমবঙ্গ উপকূলকে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক প্রাচীর হিসেবে কাজ করে।
🎓ক্যুইজ পর্ব: 🌴 পশ্চিমবঙ্গের স্বাভাবিক উদ্ভিদ (20 MCQ)
🌴 পশ্চিমবঙ্গের স্বাভাবিক উদ্ভিদ কুইজ
20 টি প্রশ্ন • পশ্চিমবঙ্গের ভূগোল বিশেষ কুইজ
🎉 তোমার স্কোর: /20
উপসংহার: বনভূমি সংরক্ষণ কেন জরুরি?
পশ্চিমবঙ্গের এই উদ্ভিদ বৈচিত্র্য কেবল আমাদের ভূগোলকেই সমৃদ্ধ করে না, বরং জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষত জলবায়ু পরিবর্তনের সময়ে এই বনভূমিগুলি সংরক্ষণ করা আমাদের পরিবেশগত এবং অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পশ্চিমবঙ্গ ভূগোল (West Bengal Geography)
ভারতের ভূগোল (Indian Geography)
- ভারতের ভূ-গঠন (Physiography of India)
- ভারতের জলবায়ু (Climate of India)
- ভারতের মৃত্তিকা (Soils of India)
- ভারতের নদী ব্যবস্থা (Drainage System)
পশ্চিমবঙ্গের কোন জেলায় বনভূমির পরিমাণ সর্বাধিক?
Ans: জলপাইগুড়ি
UNESCO সুন্দরবনকে 'World Heritage Site'-এর মর্যাদা দেয় কত খ্রিস্টাব্দে?
Ans: ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে
পশ্চিমবঙ্গের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনভূমি ?
Ans: সুন্দরবন
ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের শ্বাসমূলকে কী বলা হয়?
Ans: নিউমাটোফোর (Pneumatophore)
পশ্চিমবঙ্গের কোন জেলায় বনভূমির পরিমাণ সর্বনিম্ন?
Ans: কলকাতা
