MP GEOGRAPHY

মাধ্যমিক ভূগোল: বায়ুমণ্ডলের ধারণা ও স্তরবিন্যাস – সম্পূর্ণ গাইড (MCQ ও SAQ সহ)| Webbhugol

Table of Contents

মাধ্যমিক বা দশম শ্রেণির ভূগোলের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো ‘বায়ুমণ্ডলের ধারণা ও স্তরবিন্যাস’। আমাদের পৃথিবীকে ঘিরে থাকা বায়ুর অদৃশ্য আবরণটি কেবল প্রাণধারণের অক্সিজেনই জোগায় না, বরং সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে রক্ষা করে পৃথিবীকে বাসযোগ্য করে তুলেছে। পরীক্ষার প্রস্তুতিতে এই অধ্যায়ের খুঁটিনাটি তথ্য জানা ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য অপরিহার্য।

আজকের ব্লগে আমরা আলোচনা করব বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তর—যেমন ট্রপোস্ফিয়ার, স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার, মেসোস্ফিয়ার প্রভৃতির বৈশিষ্ট্য নিয়ে। এছাড়া কেন স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারকে ‘শান্তমন্ডল’ বলা হয়, ওজোন স্তরের গুরুত্ব এবং ওজোন স্তর অবক্ষয়ের কারণ ও ফলাফল সম্পর্কে বিস্তারিত প্রশ্নোত্তর এখানে দেওয়া হলো। মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে গুরুত্বপূর্ণ MCQ এবং SAQ গুলোও এই পোস্টে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

১. বায়ুমণ্ডলের প্রধান গ্যাসীয় উপাদান কোনটি?
(ক) অক্সিজেন
(খ) নাইট্রোজেন
(গ) কার্বন-ডাই-অক্সাইড
(ঘ) আর্গন
উত্তর: (খ) নাইট্রোজেন (৭৮.০৮%)

২. বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে জেট প্লেন চলাচল করে?
(ক) ট্রপোস্ফিয়ার
(খ) মেসোস্ফিয়ার
(গ) স্ট্রাটোস্ফিয়ার
(ঘ) আয়নোস্ফিয়ার

উত্তর: (গ) স্ট্রাটোস্ফিয়ার

৩. বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে উল্কাপিণ্ড পুড়ে ছাই হয়ে যায়?
(ক) মেসোস্ফিয়ার
(খ) থার্মোস্ফিয়ার
(গ) এক্সোস্ফিয়ার
(ঘ) ট্রপোস্ফিয়ার
উত্তর: (ক) মেসোস্ফিয়ার

৪. ওজন স্তরের ঘনত্ব পরিমাপের একক হলো-
(ক) ডেসিবল
(খ) ডবসন
(গ) মিলিবার
(ঘ) নটিক্যাল মাইল
উত্তর: (খ) ডবসন

৫. বায়ুমণ্ডলে ভাসমান সূক্ষ্ম ধূলিকণাকে কী বলা হয়?
(ক) ধোঁয়াশা
(খ) অ্যারোসল
(গ) কুয়াশা
(ঘ) মেঘ
উত্তর: (খ) অ্যারোসল

৬. ওজোন স্তর ধ্বংসকারী প্রধান গ্যাসটি হলো-
(ক) মিথেন
(খ) ক্লোরোফ্লোরো কার্বন
(গ) নাইট্রোজেন
(ঘ) অক্সিজেন
উত্তর: (খ) ক্লোরোফ্লোরো কার্বন (CFC)

৭. বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয় কোন স্তর থেকে?
(ক) ট্রপোপজ
(খ) ম্যাগনেটোস্ফিয়ার
(গ) আয়নোস্ফিয়ার
(ঘ) মেসোস্ফিয়ার
উত্তর: (গ) আয়নোস্ফিয়ার

৮. ওজোন স্তরের অস্তিত্ব বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে দেখা যায়?
(ক) স্ট্রাটোস্ফিয়ার
(খ) থার্মোস্ফিয়ার
(গ) এক্সোস্ফিয়ার
(ঘ) ট্রপোস্ফিয়ার
উত্তর: (ক) স্ট্রাটোস্ফিয়ার

৯. ‘প্রাকৃতিক সৌরপর্দা’ বলা হয় কোন স্তরকে?
(ক) ওজোন স্তর
(খ) মেঘ স্তর
(গ) হাইড্রোজেন স্তর
(ঘ) ধূলিকণা স্তর
উত্তর: (ক) ওজোন স্তর

১০. ট্রপোস্ফিয়ারে প্রতি ১ কিমি উচ্চতা বৃদ্ধিতে তাপমাত্রা হ্রাসের হার কত?
(ক) ৫.৪°C
(খ) ৭.৫°C
(গ) ৬.৫°C
(ঘ) ১০°C
উত্তর: (গ) ৬.৫°C

১১. সমমন্ডল ও বিষমমন্ডলের সীমারেখাকে কী বলা হয়?
(ক) ট্রপোপজ
(খ) স্ট্র্যাটোপজ
(গ) টার্বোপজ
(ঘ) মেসোপজ
উত্তর: (গ) টার্বোপজ

১২. ওজোন গহ্বর প্রথম কে আবিষ্কার করেন?
(ক) স্কনবি
(খ) জে.সি ফারম্যান
(গ) নিউটন
(ঘ) ডবসন
উত্তর: (খ) জে.সি ফারম্যান

১৩. বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ কত শতাংশ?
(ক) ০-৪%
(খ) ১০%
(গ) ২%
(ঘ) ২০%
উত্তর: (ক) ০-৪%

১৪. মেরুপ্রভা বা অরোরা দেখা যায় কোন স্তরে?
(ক) এক্সোস্ফিয়ার
(খ) আয়নোস্ফিয়ার
(গ) মেসোস্ফিয়ার
(ঘ) ট্রপোস্ফিয়ার
উত্তর: (খ) আয়নোস্ফিয়ার

১৫. ভ্যান অ্যালেন বিকিরণ বলয় দেখা যায় কোন স্তরে?
(ক) স্ট্রাটোস্ফিয়ার
(খ) ম্যাগনেটোস্ফিয়ার
(গ) ট্রপোস্ফিয়ার
(ঘ) ওজোন স্তর
উত্তর: (খ) ম্যাগনেটোস্ফিয়ার

১. বায়ুমণ্ডল (Atmosphere) কাকে বলে?

উত্তর: পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে ওপরের দিকে প্রায় ১০,০০০ কিমি উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত যে অদৃশ্য গ্যাসীয় আবরণ পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে বেষ্টন করে আছে এবং পৃথিবীর আবর্তনের সাথে সাথে একইভাবে আবর্তিত হয়ে চলেছে, তাকে বায়ুমণ্ডল বলে।
​বৈশিষ্ট্য ও গঠন:
​উপাদান: বায়ুমন্ডল প্রধানত বিভিন্ন গ্যাস (নাইট্রোজেন, অক্সিজেন), জলীয় বাষ্প ও ধূলিকণা (অ্যারোসল) দ্বারা গঠিত।
​বিস্তার: বায়ুমণ্ডলের মোট ভরের প্রায় ৯৯% অংশই ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ৩২ কিমি উচ্চতার মধ্যে সীমাবদ্ধ।
​গুরুত্ব: বায়ুমণ্ডল সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে এবং তাপের ভারসাম্য বজায় রাখে এবং পৃথিবীকে জীবজগতের বসবাসের উপযোগী করে তোলে।

২. ক্ষুব্ধমন্ডল কাকে বলা হয়?

উত্তর: ট্রপোস্ফিয়ারকে ক্ষুব্ধমন্ডল বলা হয় কারণ এখানে ঝড়, বৃষ্টি ও মেঘের সৃষ্টি হয়।

৩. শান্তমন্ডল কাকে বলা হয়?

উত্তর: স্ট্রাটোস্ফিয়ারকে শান্তমন্ডল বলা হয়।

৪. বায়ুমণ্ডলের প্রধান তিনটি উপাদান কী কী?

উত্তর: গ্যাসীয় পদার্থ, জলীয় বাষ্প ও ধূলিকণা।

৫. স্বাভাবিক তাপ হ্রাসের হার বা ল্যাপস রেট কাকে বলে?

উত্তর: ট্রপোস্ফিয়ারে উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে প্রতি ১ কিমিতে ৬.৫°C তাপমাত্রা কমে যাওয়াকে স্বাভাবিক তাপ হ্রাসের হার বলে।

৬. বায়ুমণ্ডলের সর্বোচ্চ স্তরের উচ্চতা কত?

উত্তর: ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০,০০০ কিলোমিটার।

৭. টার্বোপজ কী?

উত্তর: সমমন্ডল এবং বিষমমন্ডলের সীমারেখাকে টার্বোপজ বলে।

৮. ওজোন স্তরের প্রধান কাজ কী?

উত্তর: সূর্য থেকে আগত ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করা।

৯. বিষমমন্ডলের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ স্তরের নাম কী?

উত্তর: সর্বনিম্ন স্তর হলো নাইট্রোজেন স্তর এবং সর্বোচ্চ স্তর হলো হাইড্রোজেন স্তর।

১০. ওজোন গ্যাসের সংকেত কী?

উত্তর: ওজোন গ্যাসের সংকেত হলো O₃।

১১. ওজোন পরিমাপক যন্ত্রের নাম কী?

ত্তর: ডবসন স্পেকট্রোমিটার।

১২. বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ কত?

উত্তর: ০.০৩৩%।

১৩. অ্যান্টার্কটিকা অঞ্চলে ওজোন গহ্বর কে আবিষ্কার করেন?

উত্তর: বিজ্ঞানী জে.সি ফারম্যান।

১৪. শুক্তিমেঘ বা মুক্তিক মেঘ কোথায় দেখা যায়?

উত্তর: স্ট্রাটোস্ফিয়ারে।

১৫. বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি যেমন এসি বা ফ্রিজ থেকে কোন গ্যাস নির্গত হয়?

উত্তর: ক্লোরোফ্লোরো কার্বন (CFC)।

১৬. মেসোস্ফিয়ারের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কত হতে পারে?

উত্তর: প্রায় -১০০° সেলসিয়াস।

১৭. ওজোন স্তর ধ্বংসের ফলে মানুষের কী রোগ হতে পারে?

উত্তর: ত্বকের ক্যানসার।

১৮. বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে ওজন গ্যাসের ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি?

উত্তর: স্ট্রাটোস্ফিয়ারের ১৫ থেকে ৩৫ কিমি উচ্চতার মধ্যে।

১৯. পৃথিবীর গড় উষ্ণতা কত ডিগ্রি বজায় থাকে?

উত্তর: ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

২০. ম্যাগনেটোস্ফিয়ারের গুরুত্ব কী?

উত্তর: এটি সূর্য থেকে আগত সৌরবায়ুকে আবদ্ধ করে পৃথিবীকে রক্ষা করে।

🌤️ ভূগোল মক টেস্ট: বায়ুমণ্ডল অধ্যায়

১. বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে জেট প্লেন চলাচল করে?
✅ সঠিক উত্তর: স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার। এই স্তরে মেঘ ও ঝড়-বৃষ্টি থাকে না বলে একে ‘শান্তমণ্ডল’ বলা হয়, যা বিমান চলাচলের জন্য আদর্শ।
২. ওজোন স্তরের ঘনত্ব পরিমাপের একক কী?
✅ সঠিক উত্তর: ডবসন (Dobson)
৩. উল্কাপিণ্ড পুড়ে ছাই হয় কোন স্তরে?
✅ সঠিক উত্তর: মেসোস্ফিয়ার। এটি বায়ুমণ্ডলের শীতলতম স্তর।
৪. বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয় কোন স্তর থেকে?
✅ সঠিক উত্তর: আয়নোস্ফিয়ার। এই স্তরের আয়নিত কণা বেতার তরঙ্গকে পৃথিবীতে ফিরিয়ে পাঠায়।
৫. ওজোন স্তর ধ্বংসকারী প্রধান গ্যাস কোনটি?
✅ সঠিক উত্তর: CFC (ক্লোরোফ্লুরোকার্বন)। রেফ্রিজারেটর এবং এসি থেকে এটি নির্গত হয়।
৬. ‘প্রাকৃতিক সৌরপর্দা’ বলা হয় কাকে?
✅ সঠিক উত্তর: ওজোন স্তর। এটি সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মিকে শুষে নেয়।
৭. ট্রপোস্ফিয়ারে প্রতি কিমিতে তাপমাত্রা হ্রাসের হার কত?
✅ সঠিক উত্তর: ৬.৫°C। একে ‘ল্যাপস রেট’ বা ‘স্বাভাবিক তাপমাত্রা হ্রাসের হার’ বলা হয়।
৮. বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেন গ্যাসের পরিমাণ কত?
✅ সঠিক উত্তর: ৭৮.০৮%। এটি বায়ুমণ্ডলের সর্বাধিক পরিমাণে থাকা গ্যাস।
৯. ভ্যান অ্যালেন বিকিরণ বলয় দেখা যায় কোথায়?
✅ সঠিক উত্তর: ম্যাগনেটোস্ফিয়ার
১০. ট্রপোস্ফিয়ারের অপর নাম কী?
✅ সঠিক উত্তর: ক্ষুব্ধমন্ডল। কারণ এই স্তরেই ঝড়, বৃষ্টি, বিদ্যুৎ চমকানো প্রভৃতি প্রাকৃতিক গোলযোগ ঘটে।

উত্তর: বায়ুমণ্ডলের দ্বিতীয় স্তর স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে (ভূপৃষ্ঠ থেকে ১২-৫০ কিমি) আবহাওয়া অত্যন্ত শান্ত প্রকৃতির হয়। একে 'শান্তমন্ডল' বলার প্রধান কারণগুলি হলো:

  • আবহাওয়ার গোলযোগের অভাব: এই স্তরে বায়ু অত্যন্ত পাতলা, স্বচ্ছ এবং শুষ্ক। এখানে ধূলিকণা ও জলীয় বাষ্প প্রায় নেই বললেই চলে। ফলে মেঘ, বৃষ্টি, বজ্রপাত বা ঝড়ের মতো আবহাওয়ার কোনো গোলযোগ এখানে দেখা যায় না।
  • বায়ুর চলাচল: ট্রপোস্ফিয়ারের মতো এই স্তরে বায়ুর উলম্ব চলাচল বা পরিচলন স্রোত দেখা যায় না; বায়ু প্রধানত অনুভূমিকভাবে প্রবাহিত হয়।
  • জেট বিমানের যাতায়াত: আবহাওয়া সর্বদা শান্ত ও পরিষ্কার থাকায় এবং দৃশ্যমানতা বেশি হওয়ার কারণে এই স্তরের মধ্য দিয়ে দ্রুতগামী জেট বিমানগুলো কোনো বাধা ছাড়াই নিরাপদে চলাচল করতে পারে।

উত্তর: বায়ুমণ্ডলের সর্বনিম্ন স্তর অর্থাৎ ট্রপোস্ফিয়ারকে (ভূপৃষ্ঠ থেকে গড় উচ্চতা ১২ কিমি) 'ক্ষুব্ধমণ্ডল' বলা হয়। এর কারণগুলি নিচে আলোচনা করা হলো:

  • আবহাওয়ার গোলযোগ: বায়ুমণ্ডলের মোট জলীয় বাষ্প ও ধূলিকণার সিংহভাগ এই স্তরেই অবস্থান করে। ফলে মেঘ, ঝড়, বৃষ্টি, কুয়াশা, তুষারপাত ও বজ্রপাতের মতো যাবতীয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও আবহাওয়ার গোলযোগ এই স্তরেই সীমাবদ্ধ থাকে।
  • বায়ুর অস্থিরতা: এই স্তরে উষ্ণতার দ্রুত পরিবর্তন এবং বায়ুর পরিচলন স্রোতের আধিক্য দেখা যায়। সারাক্ষণ বায়ুমণ্ডলে একপ্রকার অশান্ত বা অস্থির অবস্থা বিরাজ করে বলে একে 'ক্ষুব্ধমণ্ডল' নামে অভিহিত করা হয়।

উত্তর: বায়ুমণ্ডলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার স্তরে (২০-৩৫ কিমি উচ্চতায়) অবস্থিত ওজোন স্তর (O₃) পৃথিবীর জীবমণ্ডলের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। এর প্রধান গুরুত্বগুলি হলো:

  • অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ: সূর্য থেকে আগত অত্যন্ত ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মির (UV-Ray) প্রায় ৯৭-৯৯ শতাংশ ওজোন স্তর শোষণ করে নেয়। ফলে এই প্রাণঘাতী রশ্মি সরাসরি পৃথিবীতে পৌঁছাতে পারে না।
  • জীবজগৎ রক্ষা: ওজোন স্তর না থাকলে অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে মানুষ ও প্রাণিকুলের ত্বকের ক্যানসার, চোখের ছানি এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো মারাত্মক সমস্যা দেখা দিত। ওজোন স্তর জীবজগৎকে এসব ব্যাধির হাত থেকে রক্ষা করে।
  • বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য: এই স্তরটি উদ্ভিদ ও ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটনের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বজায় রাখতে সাহায্য করে, যা পরোক্ষভাবে সমগ্র বিশ্বের বাস্তুতন্ত্র ও খাদ্যশৃঙ্খলের ভারসাম্য রক্ষা করে।

ওজোন স্তর পৃথিবীকে সূর্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে বলে একে 'প্রাকৃতিক সৌরপর্দা' (Natural Sunscreen) বলা হয়।

পৃথিবীর 'প্রাকৃতিক সৌরপর্দা' ওজোন স্তর বর্তমানে বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও মনুষ্যসৃষ্ট কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর প্রধান কারণ ও ফলাফল নিচে আলোচনা করা হলো:

ওজোন স্তর ধ্বংসের কারণসমূহ:

১. CFC গ্যাসের ভূমিকা: ওজোন স্তর ধ্বংসের প্রধান কারণ হলো ক্লোরোফ্লোরো কার্বন (CFC)। রেফ্রিজারেটর, এসি (A.C) এবং বিভিন্ন স্প্রে থেকে নির্গত এই গ্যাস যখন অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে আসে, তখন এটি সক্রিয় ক্লোরিন পরমাণু উৎপন্ন করে। একটি ক্লোরিন পরমাণু কয়েক হাজার ওজোন অণুকে ধ্বংস করে দিতে পারে।

২. অন্যান্য গ্যাস: বর্তমানে বায়ুমণ্ডলে নাইট্রাস অক্সাইড, হ্যালন, মিথেন এবং মিথাইল ব্রোমাইড গ্যাসের অতিরিক্ত বৃদ্ধির কারণেও ওজোন স্তরের দ্রুত বিনাশ ঘটছে।

৩. মানবিক কারণ: বনভূমি ধ্বংস এবং কলকারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত রাসায়নিকের প্রভাবে এই স্তরের স্বাভাবিক ক্ষয়পূরণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

ওজোন স্তর অবক্ষয়ের কারণ ও ফলাফল

ওজোন স্তর অবক্ষয়ের ফলাফল:

১. মানুষের ওপর প্রভাব: ওজোন স্তর পাতলা হয়ে যাওয়ায় সরাসরি অতিবেগুনি রশ্মি পৃথিবীতে এসে পড়ছে। এর ফলে মানুষের ত্বকের ক্যানসার, চোখের ছানি এবং শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পাচ্ছে।

২. উষ্ণায়ন ও গ্লোবাল ওয়ার্মিং: অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা বিশ্ব উষ্ণায়ন বা গ্লোবাল ওয়ার্মিংকে ত্বরান্বিত করছে।

৩. বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি: ওজোন স্তরের ক্ষতির ফলে উদ্ভিদের জীবনচক্র ব্যাহত হচ্ছে এবং সমুদ্রের ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন ধ্বংস হয়ে বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।

ট্রপোস্ফিয়ার (Troposphere)

  • অবস্থান: এটি বায়ুমণ্ডলের সর্বনিম্ন স্তর। এর গড় উচ্চতা প্রায় ১৪ কিমি (নিরক্ষীয় অঞ্চলে ১৬ কিমি ও মেরু অঞ্চলে ৮ কিমি)।
  • উষ্ণতার পরিবর্তন: উচ্চতা বাড়ার সাথে সাথে এই স্তরে উষ্ণতা কমতে থাকে (প্রতি ১ কিমিতে ৬.৫°C হারে)। একে 'স্বাভাবিক তাপ হ্রাস' বলে।
  • ক্ষুব্ধমন্ডল: ঝড়, বৃষ্টি, মেঘ ও কুয়াশা এই স্তরেই দেখা যায় বলে একে 'ক্ষুব্ধমন্ডল' বলে।
  • উপাদান: বায়ুমণ্ডলের অধিকাংশ গ্যাসীয় উপাদান, ধূলিকণা ও জলীয় বাষ্প এই স্তরেই থাকে।
  • সীমানা: ট্রপোস্ফিয়ারের ঊর্ধ্ব সীমানাকে বলা হয় 'ট্রপোপজ'।
উষ্ণতার তারতম্য অনুযায়ী বায়ুমণ্ডলের স্তরবিন্যাস | webbhugol

স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার (Stratosphere)

  • অবস্থান: ট্রপোস্ফিয়ারের উপরে ৫০ কিমি উচ্চতা পর্যন্ত এই স্তর বিস্তৃত।
  • ওজোন স্তর: এই স্তরের ১৫-৩৫ কিমি উচ্চতায় ওজোন গ্যাসের স্তর থাকে যা ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে।
  • শান্তমন্ডল: এখানে মেঘ-বৃষ্টি হয় না এবং আবহাওয়া শান্ত থাকে বলে একে 'শান্তমন্ডল' বলে। এর মধ্য দিয়ে জেট বিমান নিরাপদে চলাচল করে।
  • মেঘের উপস্থিতি: এখানে মাঝে মাঝে বিশেষ এক ধরনের 'মৌক্তিক মেঘ' বা 'শুক্তি মেঘ' দেখা যায়।
  • সীমানা: এই স্তরের উপরের অংশকে 'স্ট্র্যাটোপজ' বলে।

মেসোস্ফিয়ার (Mesosphere)

সীমানা: মেসোস্ফিয়ারের ঊর্ধ্ব সীমানাকে 'মেসোপজ' বলে।

অবস্থান: স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের উপরে ৮০ কিমি উচ্চতা পর্যন্ত এই স্তর বিস্তৃত।

শীতলতম স্তর: উচ্চতা বাড়ার সাথে সাথে এখানে উষ্ণতা কমে -১০০°C হয়। এটি বায়ুমণ্ডলের শীতলতম স্তর।

উল্কাপাত: মহাকাশ থেকে আসা উল্কাপিণ্ডগুলো এই স্তরে এসেই পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

মেঘ: এখানে অতি বিরল 'নৈশদ্যুতি মেঘ' দেখা যায়।

থার্মোস্ফিয়ার বা আয়নোস্ফিয়ার (Thermosphere)

  • উষ্ণতা বৃদ্ধি: মেসোপজের উপরে ৫০০ কিমি পর্যন্ত এই স্তরে উচ্চতা বাড়ার সাথে সাথে অত্যন্ত দ্রুত হারে উষ্ণতা বাড়ে।
  • আয়নিত অবস্থা: এই স্তরের গ্যাসীয় উপাদানগুলো আয়নিত অবস্থায় থাকে বলে একে 'আয়নোস্ফিয়ার' বলা হয়।
  • বেতার যোগাযোগ: এই স্তর থেকে বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয়ে পৃথিবীতে ফিরে আসে, ফলে আমরা রেডিও শুনতে পাই।
  • মেরুজ্যোতি: সুমেরু ও কুমেরু অঞ্চলে 'মেরুপ্রভা' বা 'অরোরা' এই স্তরেই দেখা যায়।
  • সীমানা: এই স্তরের উপরের অংশকে 'থার্মোপজ' বলে।

এক্সোস্ফিয়ার (Exosphere)

  • বিস্তার: থার্মোস্ফিয়ারের উপরে প্রায় ৭৫০ কিমি উচ্চতা পর্যন্ত এই স্তর বিস্তৃত।
  • গ্যাসের উপাদান: এখানে হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাসের প্রধান্য দেখা যায়।
  • উষ্ণতা: এই স্তরের উষ্ণতা প্রায় ১৫০০°C বা তারও বেশি হয়।
  • বৈশিষ্ট্য: এই স্তরের বাতাস অত্যন্ত পাতলা এবং এটি ক্রমশ মহাশূন্যে বিলীন হয়ে যায়।
  • কৃত্রিম উপগ্রহ: এই স্তরে কৃত্রিম উপগ্রহ ও মহাকাশ স্টেশনের অবস্থান লক্ষ্য করা যায়।

ম্যাগনেটোস্ফিয়ার (Magnetosphere)

  • সর্বোচ্চ স্তর: এটি বায়ুমণ্ডলের উচ্চতম স্তর, যা ৭৫০ কিমি থেকে ১০,০০০ কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত।
  • চৌম্বক ক্ষেত্র: এই স্তরে ইলেকট্রন ও প্রোটন দ্বারা গঠিত একটি শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র পৃথিবীকে বেষ্টন করে আছে।
  • সৌরবায়ু: সূর্য থেকে আগত ক্ষতিকর সৌরবায়ু এই স্তরেই আবদ্ধ হয়ে যায়।
  • ভ্যান অ্যালেন বিকিরণ: নিরক্ষীয় অঞ্চলের উপরে এই স্তরে দুটি ম্যাগনেটোপজ বলয়কে 'ভ্যান অ্যালেন বিকিরণ বলয়' বলে।
  • সীমানা: ম্যাগনেটোপজ অঞ্চলে এসে পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র বা প্রভাব থেমে যায়।

Please Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!