Exam preparationIndian Geography

ভারতের ভূগোল: ভারতের মৃত্তিকা বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ ৩০টি MCQ প্রশ্নোত্তর | Indian Geography Soil Quiz 2025 |Indian Geography GK 2025 in Bengali

ভূমিকা: WebBhugol এ সকলকে স্বাগতম জানাই। ভারতের কৃষি এবং অর্থনীতির মেরুদণ্ড হলো বৈচিত্র্যময় ভারতের মৃত্তিকা। ভারতের বিশাল আয়তন জুড়ে ভূ-প্রকৃতি, জলবায়ু, আদি শিলা এবং স্বাভাবিক উদ্ভিদের তারতম্যের কারণে বিভিন্ন ধরণের মাটি বা মৃত্তিকা দেখা যায়। আজকের এই নিবন্ধে আমরা ভারতের মৃত্তিকার শ্রেণীবিভাগ, মৃত্তিকা ক্ষয়ের কারণ এবং সংরক্ষণের উপায়গুলি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব, যা দশম শ্রেণি এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


ভারতের মৃত্তিকার শ্রেণীবিভাগ

ভারতের বিভিন্ন স্থানের শিলার গঠন, উৎপত্তি এবং জলবায়ুর পার্থক্যের ওপর ভিত্তি করে ভারতের মৃত্তিকাকে প্রধানত সাতটি ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন— ১) পলি মৃত্তিকা, ২) কৃষ্ণ মৃত্তিকা, ৩) লোহিত মৃত্তিকা, ৪) ল্যাটেরাইট মৃত্তিকা, ৫) পার্বত্য বা অরণ্য মৃত্তিকা, ৬) মরু মৃত্তিকা এবং ৭) উপকূলীয় লবণাক্ত মৃত্তিকা।

ভারতের কৃষি গবেষণা পরিষদ (ICAR) ভারতের মাটিকে মূলত ৮টি ভাগে ভাগ করেছে, যার মধ্যে প্রধান কয়েকটি নিচে দেওয়া হলো:

মৃত্তিকার নামবিস্তার (শতাংশ)মূল অবস্থানপ্রধান বৈশিষ্ট্যপ্রধান ফসল
১. পলি মাটি৪৬% (সর্বাধিক)সিন্ধু-গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র সমভূমি, উপকূলীয় সমভূমি।সবথেকে উর্বর। পটাশ ও চুন সমৃদ্ধ কিন্তু নাইট্রোজেন কম।ধান, গম, পাট, আলু, তৈলবীজ।
২. কৃষ্ণ বা রেগুর১৭%দাক্ষিণাত্য মালভূমি (মহারাষ্ট্র, গুজরাট)।ব্যাসল্ট শিলা থেকে সৃষ্টি। জলধারণ ক্ষমতা খুব বেশি। শুকিয়ে গেলে ফাটল ধরে।কার্পাস (সেরা), আখ, চিনা বাদাম।
৩. লোহিত মৃত্তিকা১১%সমগ্র দক্ষিণ ভারত, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড।গ্রানাইট শিলা থেকে সৃষ্টি। লৌহ অক্সাইড থাকায় রং লাল। জলধারণ ক্ষমতা কম।জোয়ার, বাজরা, রাগী, ডাল।
৪. ল্যাটেরাইট৮%পশ্চিমঘাট পর্বত, মেঘালয়, ছোটনাগপুর।‘লিচিং’ বা ধৌত প্রক্রিয়ায় সৃষ্টি। ইটের মতো শক্ত ও অনুর্বর। অম্লধর্মী।চা, কফি, রবার, কাজুবাদাম।
৫. মরু মৃত্তিকা৪.৫%রাজস্থান, পাঞ্জাব ও হরিয়ানার শুষ্ক অঞ্চল।লবনাক্ত ও বালুকাময়। জৈব পদার্থ থাকে না।বাজরা, জোয়ার (সেচের সাহায্যে)।
৬. পার্বত্য মৃত্তিকা৮.৭%হিমালয় ও পার্বত্য অঞ্চল।অপরিপক্ব মাটি। হিউমাস বেশি থাকায় রং কালো বা বাদামি।আপেল, নাশপাতি, মশলা, চা।

চাকরি প্রার্থীদের জন্য এই অংশটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখান থেকে পরীক্ষায় সরাসরি প্রশ্ন আসে:

১. খাদার ও ভাঙর (Khadar & Bhangar):

  • খাদার: নদী তীরবর্তী নবীন পলিমাটিকে ‘খাদার’ বলে। এটি বেশি উর্বর। পাঞ্জাবে একে ‘বেট’ (Bet) বলা হয়।
  • ভাঙর: নদী থেকে দূরবর্তী প্রাচীন পলিমাটিকে ‘ভাঙর’ বলে। এটি কম উর্বর এবং এতে কাঁকড় বা চুন জাতীয় পদার্থ থাকে।

২. কারেওয়া (Karewa) মৃত্তিকা:

  • কাশ্মীর উপত্যকায় হিমবাহ ও পলি সঞ্চিত হয়ে যে মাটি সৃষ্টি হয়, তাকে ‘কারেওয়া’ বলে।
  • বিশেষত্ব: এই মাটিতে জাফরান (Saffron) চাষ খুব ভালো হয়।

৩. মাটির অম্লতা ও ক্ষারকত্ব দূরীকরণ:

  • মাটি যদি আম্লিক (Acidic) হয়, তবে চাষের জন্য চুন (Lime) মেশানো হয়।
  • মাটি যদি ক্ষারীয় (Alkaline) বা লবনাক্ত হয়, তবে জিপসাম (Gypsum) ব্যবহার করা হয়।

৪. রেগুর বা ‘Self-ploughing Soil’:

  • কৃষ্ণ মৃত্তিকা বা কালো মাটি শুকিয়ে গেলে বড় বড় ফাটল ধরে, মনে হয় যেন জমিতে লাঙল দেওয়া হয়েছে। তাই একে ‘Self-ploughing Soil’ বলা হয়।
  • রং কালো কেন? ‘টাইটানিফেরাস ম্যাগনেটাইট’ (Titaniferous Magnetite) থাকার কারণে।

৫. আঞ্চলিক নাম (Local Names):

  • লবনাক্ত মাটি: স্থানীয় ভাষায় একে রেহ (Reh), কাল্লার (Kallar), বা উষর (Usar) বলা হয়। পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় এটি বেশি দেখা যায়।
  • পিট মৃত্তিকা: কেরালার উপকূলীয় অঞ্চলে একধরণের লবনাক্ত ও জৈব পদার্থ যুক্ত মাটি দেখা যায়, যা স্থানীয়ভাবে ‘কারি’ (Kari) নামে পরিচিত।

৬. গবেষণা কেন্দ্রসমূহ (Research Centers):

  • Indian Institute of Soil Science: ভোপাল (মধ্যপ্রদেশ)।
  • Central Soil Salinity Research Institute (লবনাক্ত মাটি): কার্নাল (হরিয়ানা)।
  • Central Arid Zone Research Institute (মরু মাটি): যোধপুর (রাজস্থান)।

৭. সাধারণ তথ্য:

  • ভারতের মাটিতে সাধারণভাবে নাইট্রোজেন, হিউমাস এবং ফসফরাস-এর অভাব দেখা যায়।
  • মৃত্তিকা বিষয়ক বিদ্যাকে পেডোলজি (Pedology) বলা হয়।
  • মাটির উল্লম্ব প্রস্থচ্ছেদকে ‘সয়েল প্রোফাইল’ (Soil Profile) বলে।

সংজ্ঞা: প্রাকৃতিক বা অপ্রাকৃতিক কারণে মাটির ওপরের আলগা স্তর যখন এক স্থান থেকে অন্য স্থানে অপসারিত হয়, তখন তাকে মৃত্তিকা ক্ষয় বলে।

মৃত্তিকা ক্ষয়ের কারণসমূহ:

ক) প্রাকৃতিক কারণ:

১. প্রবাহমান জলধারা: বৃষ্টির জল বা নদীর স্রোত মাটির ওপরের উর্বর স্তর ধুয়ে নিয়ে যায়।

২. বায়ুপ্রবাহ: মরুভূমি বা উপকূলীয় অঞ্চলে প্রবল বাতাসে মাটি একস্থান থেকে অন্যস্থানে উড়ে যায়।

৩. বৃষ্টিপাতের প্রকৃতি: মুষলধারে বা একটানা বৃষ্টিপাত মাটির কণা আলগা করে দেয়।

খ) মানুষের সৃষ্ট (অ-প্রাকৃতিক) কারণ:

১. বৃক্ষচ্ছেদন: গাছের শিকড় মাটিকে আঁকড়ে রাখে। যথেচ্ছ গাছ কাটার ফলে মাটি আলগা হয়ে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।

২. অনিয়ন্ত্রিত পশুচারণ: তৃণভূমিতে অতিরিক্ত পশুচারণের ফলে মাটির ওপরের ঘাসের আচ্ছাদন নষ্ট হয়ে যায়।

৩. অবৈজ্ঞানিক কৃষি: পাহাড়ের ঢালে ধাপ না কেটে চাষ করা বা ঝুমচাষ মৃত্তিকা ক্ষয়ের বড় কারণ।

জলপ্রবাহের ফলে সৃষ্ট বিভিন্ন ধরণের ক্ষয়:

  • শিট বা স্তর ক্ষয় (Sheet Erosion): বৃষ্টির জলের আঘাতে মাটির ওপরের স্তর চাদরের মতো অপসারিত হয়।
  • নালী ক্ষয় (Rill Erosion): ঢালু জমিতে বৃষ্টির জল সরু নালীর মতো পথ তৈরি করে মাটি ক্ষয় করে।
  • খোয়াই বা খাত ক্ষয় (Gully Erosion): নালী ক্ষয় দীর্ঘস্থায়ী হলে তা চওড়া ও গভীর খাতে পরিণত হয়। বীরভূমের শান্তিনিকেতনে এটি দেখা যায়।
  • রাভাইন ক্ষয় (Ravine Erosion): খাতগুলি আরও গভীর ও খাড়া পাড় যুক্ত হলে তাকে রাভাইন বলে (যেমন- চম্বল উপত্যকা)।

মৃত্তিকা সংরক্ষণ (Soil Conservation)

মৃত্তিকা ক্ষয় রোধ করে মাটির উর্বরতা শক্তি বজায় রাখাকেই মৃত্তিকা সংরক্ষণ বলে। এর প্রধান পদ্ধতিগুলি হলো:

১. বৃক্ষরোপণ (Afforestation): প্রচুর পরিমাণে গাছ লাগালে গাছের শিকড় মাটিকে শক্ত করে ধরে রাখে, যা ক্ষয় রোধ করে।

২. ধাপ চাষ (Terrace Farming): পাহাড়ি ঢালে সিঁড়ির মতো ধাপ কেটে সমতল জমি তৈরি করে চাষ করলে জলের গতিবেগ কমে এবং মাটি সংরক্ষিত হয়।

৩. সমোন্নতি রেখা বরাবর চাষ (Contour Farming): পাহাড়ের সমান উচ্চতাযুক্ত বিন্দুগুলিকে যোগ করে (Contour line) আড়াআড়িভাবে বাঁধ দিয়ে চাষ করলে জলপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

৪. ফালি চাষ (Strip Cropping): পাহাড়ের ঢালু জমিতে ঢালের আড়াআড়িভাবে ফালি বা স্ট্রিপ তৈরি করে শস্য রোপণ করা হয়।

৫. ঝুমচাষ নিয়ন্ত্রণ: বনজঙ্গল পুড়িয়ে চাষাবাদ (ঝুমচাষ) বন্ধ করে স্থায়ী কৃষিকাজ করলে মাটি ক্ষয় কমে।


ঝুমচাষ বা স্থানান্তর কৃষি কী?

উত্তর-পূর্ব ভারতের পাহাড়ি অঞ্চলে আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ বনজঙ্গল কেটে ও পুড়িয়ে পরিষ্কার করে যে কৃষিকাজ করে, তাকে ঝুমচাষ বলে। কয়েক বছর চাষের পর জমির উর্বরতা কমলে তারা আবার নতুন স্থানে চলে যায় বলে একে ‘স্থানান্তর কৃষি’ বা ‘কাটা-পোড়া কৃষি’ও বলা হয়। এটি মৃত্তিকা ক্ষয়ের একটি প্রধান কারণ।

ধাপ চাষের সুবিধা কী?

পাহাড়ি অঞ্চলে ধাপ কেটে চাষ করলে প্রবল গতির জলপ্রবাহ বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং মাটির ক্ষয় রোধ হয়। এটি পাহাড়ি অঞ্চলের মৃত্তিকা সংরক্ষণের সেরা উপায়।

গালি চাষ (Gully Plugging) কী?

মৃত্তিকা ক্ষয়ের ফলে সৃষ্ট বড় গর্ত বা গালিগুলির মধ্যে পাথর বা মাটি ভরাট করে এবং সেখানে গাছ লাগিয়ে ক্ষয় রোধ করাকে গালি চাষ বলে।


উপসংহার: মৃত্তিকা আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদের অন্যতম উৎস। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ এবং অবৈজ্ঞানিক কার্যকলাপের ফলে এই সম্পদ আজ বিপন্ন। তাই সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি আমাদের ব্যক্তিগত স্তরেও বৃক্ষরোপণ ও মৃত্তিকা সংরক্ষণে সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

🌍 ভারতের ভূগোল: ভারতের মৃত্তিকা (Mock Test – 30 Marks)

সঠিক উত্তরটিতে ক্লিক করো এবং প্রস্তুতি যাচাই করো।

১. বিপাশা ও ইরাবতীর মাঝের ভূমির নাম কী?
সঠিক উত্তর: বারি দোয়াব
বিপাশা (Beas) ও ইরাবতী (Ravi) নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলকে বারি দোয়াব বলে।
২. সিন্ধু অববাহিকার প্রাচীন পলিগঠিত ভূমির নাম কী?
সঠিক উত্তর: ধায়া
পাঞ্জাবে প্রাচীন পলিগঠিত উঁচু ভূমিকে ধায়া বলে এবং নবীন পলিকে বেট বলে।
৩. উচ্চগঙ্গা সমভূমির কোন্ অংশটি সর্বাধিক অনুর্বর?
সঠিক উত্তর: ভাবর
শিবালিকের পাদদেশে নুড়ি-পাথর পূর্ণ সছিদ্র ভূমি হলো ভাবর, যা কৃষিকাজের অনুপযুক্ত।
৪. আরাবল্লী পর্বতের পাদদেশের ভূমির নাম কী?
সঠিক উত্তর: বাগার
আরাবল্লীর পশ্চিমের তৃণময় অঞ্চলকে বাগার বলা হয়।
৫. শিবালিক পর্বতের পাদদেশে ক্ষুদ্র শিলাখণ্ড সঞ্চিত হয়ে যে সমভূমি গঠিত হয়—
সঠিক উত্তর: ভাবর
এটি একটি সছিদ্র ভূমিভাগ যেখানে ছোট নদীগুলি মাটির নিচে হারিয়ে যায়।
৬. ভারতের সবচেয়ে বেশি অঞ্চল জুড়ে আছে—
সঠিক উত্তর: পলি মৃত্তিকা
ভারতের প্রায় ৪৬% অঞ্চল জুড়ে পলিমাটি দেখা যায়।
৭. ভারতের মৃত্তিকা গবেষণাগার (IISS) অবস্থিত—
সঠিক উত্তর: ভূপাল
Indian Institute of Soil Science মধ্যপ্রদেশের ভূপালে অবস্থিত।
৮. মৃত্তিকা সংরক্ষণের একটি পদ্ধতি হলো—
সঠিক উত্তর: ফালি চাষ
ফালি চাষ বা Strip Cropping পাহাড়ের ঢালে মাটি ক্ষয় রোধ করে।
৯. ল্যাটেরাইট মৃত্তিকা দেখা যায়—
সঠিক উত্তর: পশ্চিমঘাট পর্বতের পশ্চিম ঢাল
অধিক বৃষ্টিপাতযুক্ত এই অঞ্চলে ধৌত প্রক্রিয়ার কারণে ল্যাটেরাইট মাটি সৃষ্টি হয়।
১০. গঙ্গা সমভূমি প্রাচীন পলি গঠিত অঞ্চল—
সঠিক উত্তর: ভাঙ্গর
গাঙ্গেয় সমভূমির প্রাচীন পলিমাটি ভাঙ্গর এবং নবীন পলিমাটি খাদার নামে পরিচিত।
১১. কৃষ্ণ মৃত্তিকার অপর নাম—
সঠিক উত্তর: রেগুর
তেলেগু শব্দ ‘রেগুডা’ থেকে রেগুর শব্দটি এসেছে।
১২. দাক্ষিণাত্যের লাভা মালভূমিতে ব্যাসল্ট শিলায় গঠিত মৃত্তিকা হলো—
সঠিক উত্তর: কৃষ্ণমৃত্তিকা
ব্যাসল্ট শিলা আবহাওয়া বিকারের ফলে ক্ষয়ে কালো মাটির সৃষ্টি করে।
১৩. সবচেয়ে বেশি কৃষ্ণমৃত্তিকাযুক্ত রাজ্য—
সঠিক উত্তর: মহারাষ্ট্র
মহারাষ্ট্রের দাক্ষিণাত্য লাভা মালভূমি অঞ্চলে এই মাটি সর্বাধিক দেখা যায়।
১৪. ল্যাটেরাইট মাটির স্থানীয় নাম—
সঠিক উত্তর: মোরাম
রাঢ় অঞ্চলে (যেমন বীরভূম, বাঁকুড়া) ল্যাটেরাইট মাটিকে মোরাম বলা হয়।
১৫. কোন মৃত্তিকায় ধৌত প্রক্রিয়া (Leaching) দেখা যায়—
সঠিক উত্তর: ল্যাটেরাইট মৃত্তিকা
অধিক বৃষ্টিপাতের ফলে মাটির ওপরের খনিজ ধুয়ে নিচে চলে যায়, একে ধৌত প্রক্রিয়া বলে।
১৬. মাটি সম্পর্কিত বিজ্ঞানের নাম—
সঠিক উত্তর: পেডোলজি
মৃত্তিকা বিজ্ঞানের অপর নাম পেডোলজি (Pedology)।
১৭. ICAR-এর সদর দপ্তর অবস্থিত—
সঠিক উত্তর: দিল্লি
ICAR (Indian Council of Agricultural Research) নয়াদিল্লিতে অবস্থিত।
১৮. ভারতের খাদ্যভান্ডার বলা হয় যে মাটিকে—
সঠিক উত্তর: পলিমাটি
ভারতের প্রধান কৃষিকাজ পলিমাটি অঞ্চলেই হয়, তাই একে খাদ্যভান্ডার বলে।
১৯. হিমালয়ের পাদদেশে থাকা নুড়িযুক্ত মাটি কী নামে পরিচিত?
সঠিক উত্তর: ভাবর
শিবালিক হিমালয়ের পাদদেশে নুড়ি-পাথর মিশ্রিত মাটিকে ভাবর বলে।
২০. ‘Black Cotton soil’ বলা হয়—
সঠিক উত্তর: কৃষ্ণ মৃত্তিকা
এই মাটিতে কার্পাস বা তুলো চাষ ভালো হয় বলে একে Black Cotton Soil বলে।
২১. মৌচাকের মতো গঠন দেখা যায় কোন মাটিতে—
সঠিক উত্তর: ল্যাটেরাইট মাটি
ল্যাটেরাইট মাটির গঠন অনেকটা মৌচাকের মতো ছিদ্রযুক্ত হয়।
২২. মরু মৃত্তিকা স্থানীয় ভাষায় পরিচিত—
সঠিক উত্তর: সিরোজেম
মরু অঞ্চলের ধূসর রঙের লবণাক্ত মাটিকে সিরোজেম বলা হয়।
২৩. ‘হার্ড প্যান’ (Hard Pan) বা কাঁকর দেখা যায় যে মৃত্তিকায়—
সঠিক উত্তর: মরু মাটি
বাষ্পীভবন বেশি হওয়ায় মাটির নিচে চুন জমে শক্ত স্তর বা হার্ড প্যান তৈরি করে।
২৪. গুজরাটের প্রাচীন পলিকে কী বলে—
সঠিক উত্তর: গোরাট
গুজরাটের সমভূমি অঞ্চলের প্রাচীন পলিমাটি স্থানীয়ভাবে গোরাট নামে পরিচিত।
২৫. মরু গবেষণা কেন্দ্র (CAZRI) অবস্থিত—
সঠিক উত্তর: যোধপুর
Central Arid Zone Research Institute রাজস্থানের যোধপুরে অবস্থিত।
২৬. পশ্চিমবঙ্গের র‍্যাবাইন (Ravine) বা খোয়াই ক্ষয় দেখা যায়—
সঠিক উত্তর: বীরভূম
শান্তিনিকেতন ও বীরভূম অঞ্চলে খোয়াই ক্ষয়ের ফলে ব্যাডল্যান্ড বা উৎখাত ভূমি দেখা যায়।
২৭. নবীন পলিমাটি পাঞ্জাবে পরিচিত—
সঠিক উত্তর: বেট
পাঞ্জাবের নদী তীরবর্তী নবীন পলিমাটিকে বেট (Bet) বলা হয়।
২৮. গালি (Gully) ও খোয়াই ক্ষয় বেশি দেখা যায়—
সঠিক উত্তর: ল্যাটেরাইট মৃত্তিকায়
ল্যাটেরাইট মাটি আলগা ও ঝুরঝুরে হওয়ার কারণে বৃষ্টির জল দ্বারা নালি বা গালি ক্ষয় বেশি হয়।
২৯. ল্যাটিন শব্দ ‘ল্যাটার’ (Later) এর অর্থ—
সঠিক উত্তর: ইট
শুকিয়ে গেলে এই মাটি ইটের মতো শক্ত হয় বলে এর নাম ল্যাটেরাইট।
৩০. পার্বত্য অঞ্চলে মৃত্তিকা ক্ষয়ের প্রধান কারণ—
সঠিক উত্তর: ভূমিধস
পাহাড়ি ঢালে ভূমিধস বা Landslide মৃত্তিকা ক্ষয়ের অন্যতম প্রধান কারণ।

ভারতের ভূগোল নিয়ে আরো পোস্ট পেতে নিজেকে নিজে ক্লিক করুন।

ভারতের ভূগোল (Indian Geography)

আরও পড়ুন👉 ভারতের ভূগোল অবস্থান ও প্রশাসনিক বিভাগ MCQ প্রশ্নোত্তর | Geography of India Quiz in Bengali |Indian Geography Quiz: Location, States, and Administrative Divisions (MCQ with Answers)

Please Share

One thought on “ভারতের ভূগোল: ভারতের মৃত্তিকা বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ ৩০টি MCQ প্রশ্নোত্তর | Indian Geography Soil Quiz 2025 |Indian Geography GK 2025 in Bengali

  • NIJAMUDDIN SAIKH

    খুব সুন্দর।
    26

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!