Indian Geography: Climate of India MCQ Questions | ভারতের জলবায়ু বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ ভূগোল প্রশ্নোত্তর [GK 2025-26]
ভূমিকা:ভারতের জলবায়ু MCQ প্রশ্নোত্তর নিয়ে WebBhugol.com এ সকলকে স্বাগতম। ভারতের ভূগোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হল “ভারতের জলবায়ু (Climate of India)”। ভারত একটি বিশাল দেশ এবং এর ভূপ্রকৃতি যেমন বৈচিত্র্যপূর্ণ, তেমনই বৈচিত্র্যময় এর জলবায়ু। ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন ধরণের জলবায়ু দেখা গেলেও, সামগ্রিকভাবে ভারতকে ‘ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ুর দেশ’ বলা হয়। ভারতের কৃষিকাজ, অর্থনীতি এবং জনজীবনের ওপর মৌসুমী বায়ুর প্রভাব এতটাই বেশি যে একে ভারতের জলবায়ুর প্রধান নিয়ন্ত্রক বলা হয়।
এই অধ্যায় থেকে প্রায় সব পরীক্ষায় — যেমন WBSSC, WBCS, UPSC, SSC, Rail, Primary TETGroup-D, Group-C etc পরীক্ষায় প্রশ্ন আসে।
ভারতের জলবায়ু (Climate of India) এই পোস্টে দেওয়া হলো 30টি গুরুত্বপূর্ণ MCQ প্রশ্নোত্তর (Part-I ,II) যা তোমার পরীক্ষা প্রস্তুতিতে আরও সহায়ক হবে।
Indian Geography: Climate of India MCQ Quiz শেষে “Submit Quiz” বাটনে ক্লিক করে দেখে নিতে পারবে — তোমার কতটি উত্তর সঠিক হয়েছে
আজকের এই আর্টিকেলে আমরা ভারতের জলবায়ুর খুঁটিনাটি এবং চাকরির পরীক্ষার জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ শর্ট প্রশ্নগুলো আলোচনা করব।
১. ভারতের জলবায়ুর প্রধান নিয়ন্ত্রকসমূহ
ভারতের জলবায়ু কোনো একটি নির্দিষ্ট কারণের ওপর নির্ভরশীল নয়। এর পেছনে একাধিক ভৌগোলিক উপাদানের প্রভাব রয়েছে।
- অক্ষাংশগত অবস্থান: ভারতের মাঝখান দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা প্রসারিত হওয়ায় ভারতের দক্ষিণ অংশ উষ্ণমন্ডল এবং উত্তর অংশ উপক্রান্তীয় মন্ডলের অন্তর্গত।
- হিমালয় পর্বত: হিমালয় পর্বত উত্তর দিক থেকে আসা শীতল বাতাসকে আটকাতে এবং জলীয় বাষ্পপূর্ণ মৌসুমী বায়ুকে বাধা দিয়ে বৃষ্টিপাত ঘটাতে সাহায্য করে।
- মৌসুমী বায়ু: ভারতের জলবায়ুর প্রধান বা মূল নিয়ন্ত্রক হলো মৌসুমী বায়ু। ভারতের মোট বৃষ্টিপাতের প্রায় ৭০-৯০ শতাংশ ঘটে এই বায়ুর প্রভাবে।
- এল-নিনো ও লা-নিনা: প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ স্রোত ‘এল-নিনো’ ভারতে খরার সৃষ্টি করে এবং শীতল স্রোত ‘লা-নিনা’ ভালো বৃষ্টিপাত বা বন্যার কারণ হয়।
২.ভারতের ঋতুচক্র (Seasons of India) বৈশিষ্ট্য
ভারতের আবহাওয়া দপ্তর (IMD – New Delhi) ভারতের জলবায়ুকে মৌসুমী বায়ুর আগমন ও প্রত্যাগমনের ওপর ভিত্তি করে প্রধানত ৪টি ঋতুতে ভাগ করেছে:
ক) গ্রীষ্মকাল (মার্চ থেকে মে মাস)
মৌসুমী বায়ু আসার আগের এই সময়টিতে সূর্যরশ্মি লম্বভাবে কিরণ দেয়, ফলে উষ্ণতা খুব বেশি থাকে। রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশের কিছু অংশে তাপমাত্রা ৪৫°C – ৪৮°C পর্যন্ত পৌঁছে যায়। এই সময়ে কিছু বিশেষ স্থানীয় বায়ু ও ঝড় দেখা যায়:
- কালবৈশাখী (Nor’wester): গ্রীষ্মকালে বিকেলবেলায় পশ্চিমবঙ্গ ও সংলগ্ন এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎসহ যে ঝড়-বৃষ্টি হয়, তাকে কালবৈশাখী বলে। এটি অসমে ‘বরদৈছিলা’ নামে পরিচিত।
- লু (Loo): উত্তর-পশ্চিম ভারত (বিশেষ করে রাজস্থান, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, বিহার) দিয়ে গ্রীষ্মের দুপুরে যে অত্যন্ত শুষ্ক ও উষ্ণ হাওয়া প্রবাহিত হয়, তাকে ‘লু’ বলে।
- আঁধি (Andhi): রাজস্থানে গ্রীষ্মকালে যে প্রবল ধূলিঝড়ের সৃষ্টি হয়, তাকে ‘আঁধি’ বলে। এর ফলে দৃশ্যমানতা কমে যায় এবং তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পায়।
- আম্রবৃষ্টি (Mango Shower): গ্রীষ্মের শেষে দক্ষিণ ভারতের কেরালা ও কর্ণাটকে যে বৃষ্টিপাত হয়, তা আম চাষের জন্য উপকারী। তাই একে আম্রবৃষ্টি বলে। কর্ণাটকে কফি চাষের সুবিধার জন্য একে ‘চেরি ব্লসম’ (Cherry Blossom) বলা হয়।
খ) বর্ষাকাল বা দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর আগমনকাল (জুন থেকে সেপ্টেম্বর)
৫ই জুন নাগাদ দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু কেরালা উপকূলে প্রবেশ করে এবং ১৫ই জুলাইয়ের মধ্যে সারা ভারতে ছড়িয়ে পড়ে। এই বায়ু দুটি শাখায় বিভক্ত হয়ে ভারতে বৃষ্টিপাত ঘটায়:
- আরব সাগরীয় শাখা: এই শাখাটি পশ্চিমঘাট পর্বতের পশ্চিম ঢালে বাধা পেয়ে প্রবল বৃষ্টিপাত ঘটায় (৩০০-৫০০ সেমি)। একে ‘মৌসুমী বিস্ফোরণ’ (Burst of Monsoon) বলা হয়। কিন্তু পর্বতের পূর্ব ঢালে বৃষ্টি না হওয়ায় তা ‘বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল’ হিসেবে পরিচিত।
- বঙ্গোপসাগরীয় শাখা: এই শাখাটি মেঘালয় মালভূমিতে বাধা পেয়ে চেরাপুঞ্জির মৌসিনরামে বিশ্বের সর্বাধিক বৃষ্টিপাত ঘটায় (প্রায় ১৩৫০ সেমি)। কিন্তু শিলং পাহাড়ের অপর ঢালে অবস্থিত হওয়ায় সেখানে বৃষ্টিপাত কম হয় (বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল)।
বৃষ্টিপাতের ছেদ (Break of Monsoon): বর্ষাকালে একটানা বৃষ্টির পর মাঝে মাঝে ১-২ সপ্তাহ বৃষ্টি বন্ধ থাকে এবং আকাশ পরিষ্কার হয়ে যায়। এই ঘটনাকে ‘বৃষ্টিপাতের ছেদ’ বলা হয়।
গ) শরৎকাল বা মৌসুমী বায়ুর প্রত্যাবর্তন কাল (অক্টোবর – নভেম্বর)
সেপ্টেম্বর মাসের শেষ থেকে মৌসুমী বায়ু ভারত থেকে বিদায় নিতে শুরু করে। আকাশ মেঘমুক্ত হতে থাকে। তবে এই সময়ে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশা উপকূলে প্রবল ঝড়-বৃষ্টি হয়, যাকে ‘আশ্বিনের ঝড়’ বলা হয়। তামিলনাড়ুর করমন্ডল উপকূলে এই সময় উত্তর-পূর্ব মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে দ্বিতীয়বার বৃষ্টিপাত হয়।
ঘ) শীতকাল (ডিসেম্বর – ফেব্রুয়ারি)
এই সময়ে সূর্য দক্ষিণ গোলার্ধে থাকে বলে ভারতে উষ্ণতা কমে যায়। উত্তর-পূর্ব দিক থেকে আসা শীতল শুষ্ক বায়ুর প্রভাবে আকাশ পরিষ্কার থাকে।
- পশ্চিমী ঝঞ্ঝা (Western Disturbance): শীতকালে ভূমধ্যসাগর থেকে আগত দুর্বল ঘূর্ণবাত বা নিম্নচাপযুক্ত বায়ুর প্রভাবে উত্তর-পশ্চিম ভারতে (জম্মু-কাশ্মীর, পাঞ্জাব, হরিয়ানা) হালকা বৃষ্টিপাত ও তুষারপাত হয়। শান্ত আবহাওয়ায় এটি ব্যাঘাত ঘটায় বলে একে ‘পশ্চিমী ঝঞ্ঝা’ বা ‘পশ্চিমী ঝামেলা’ বলা হয়। এই বৃষ্টিপাত গম চাষের জন্য বা রবি শস্যের জন্য খুব উপকারী।
ভারতের জলবায়ুতে মৌসুমী বায়ুর প্রভাব
ভারতের জনজীবনে মৌসুমী বায়ুর প্রভাব অপরিসীম।
- বৃষ্টিপাতের বণ্টন: ভারতের মোট বৃষ্টিপাতের প্রায় ৭০-৯০ শতাংশ ঘটে মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে।
- কৃষিকাজ: ভারত কৃষিপ্রধান দেশ। খারিফ শস্য (যেমন- ধান, পাট) চাষ সম্পূর্ণভাবে মৌসুমী বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল।
- খরা ও বন্যা: মৌসুমী বায়ু খামখেয়ালি প্রকৃতির। কোনো বছর অতিবৃষ্টিতে বন্যা হয়, আবার কোনো বছর অনাবৃষ্টিতে খরা দেখা দেয় (সাধারণত এল-নিনো বছরে খরা এবং লা-নিনা বছরে বন্যা বা অতিবৃষ্টি হয়)।
- অর্থনীতি: ভারতের অর্থনীতি বা ‘বাজেট’ অনেকাংশে মৌসুমী বায়ুর সাফল্যের ওপর নির্ভর করে, তাই একে ‘মৌসুমী জুয়া’ (Gamble of Monsoon) বলা হয়।
🔥 একনজরে: চাকরির পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য (Exam Special)
(WBCS, Rail, Police, TET এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য বিশেষ উপযোগী)
নিচে ভারতের জলবায়ু সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো একনজরে দেওয়া হলো:
📌 সংস্থা ও গবেষণা
- IMD-র পুরো নাম: Indian Meteorological Department.
- IMD-র সদর দপ্তর: মৌসম ভবন, নিউ দিল্লি।
- MONEX কী: মৌসুমী বায়ু সংক্রান্ত গবেষণা সংস্থা (Monsoon Experiment)।
📌 মৌসুমী বায়ু ও বৃষ্টিপাত
- প্রবেশের সময়: দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু মূল ভূখণ্ডে (কেরালা) প্রবেশ করে ৫ই জুন। (তবে আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে এটি মে মাসের শেষেই প্রবেশ করে)।
- সারা ভারতে বিস্তার: ১৫ই জুলাইয়ের মধ্যে মৌসুমী বায়ু সারা ভারতে ছড়িয়ে পড়ে।
- বৃষ্টিপাতের পরিমাণ: ভারতের মোট বৃষ্টিপাতের ৭০% – ৯০% হয় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে।
- মৌসুমী বিস্ফোরণ (Burst of Monsoon): বর্ষার শুরুতে কেরালার মালাবার উপকূলে একটানা প্রবল বৃষ্টিপাতকে বলা হয়।
- দুবার বৃষ্টিপাত: তামিলনাড়ুর করমন্ডল উপকূলে বছরে দুবার বৃষ্টিপাত হয় (একবার বর্ষাকালে, আরেকবার শীতকালে উত্তর-পূর্ব মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে)।
- সর্বাধিক বৃষ্টিপাত: মেঘালয়ের মৌসিনরামে (পৃথিবীর সর্বাধিক)।
- বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল: মেঘালয়ের শিলং এবং পশ্চিমঘাট পর্বতের পূর্ব ঢাল।
📌 স্থানীয় বায়ু ও ঝড় (ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ)
| ঝড়ের নাম | কোথায় দেখা যায় | বৈশিষ্ট্য |
| কালবৈশাখী | পশ্চিমবঙ্গ | গ্রীষ্মকালে বিকেলের ঝড়। ইংরেজিতে একে Nor’wester বলে। |
| বরদৈছিলা | অসম | কালবৈশাখীর স্থানীয় নাম। |
| আম্রবৃষ্টি | কেরালা ও দক্ষিণ ভারত | এই বৃষ্টি আম পাকার জন্য উপকারী। |
| চেরি ব্লসম | কর্ণাটক | এই বৃষ্টি কফি চাষের জন্য ভালো (তাই একে Coffee Rain-ও বলে)। |
| লু (Loo) | উত্তর-পশ্চিম ভারত | উষ্ণ ও শুষ্ক বাতাস, রাজস্থান-পাঞ্জাব-হরিয়ানায় দেখা যায়। |
| আঁধি | রাজস্থান | প্রবল ধূলিঝড়, এর ফলে বৃষ্টি হয় না। |
| আশ্বিনের ঝড় | পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশা উপকূল | শরৎকালে (অক্টোবর-নভেম্বর) সাইক্লোনের প্রভাবে হয়। |
| পশ্চিমী ঝঞ্ঝা | উত্তর-পশ্চিম ভারত | শীতকালে ভূমধ্যসাগর থেকে আগত জলীয়বাষ্পের প্রভাবে হয়। |
📌 অন্যান্য তথ্য
- এল-নিনো (El-Nino): এটি প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ স্রোত। এল-নিনো বছরে ভারতে খরা দেখা দেয়।
- লা-নিনা (La-Nina): এটি শীতল স্রোত। লা-নিনা বছরে ভারতে ভালো বৃষ্টি বা বন্যা হয়।
- বন্যাপ্রবণ অঞ্চল: অসমের ব্রহ্মপুত্র অববাহিকা ভারতের সর্বাধিক বন্যাপ্রবণ অঞ্চল।
- সাইক্লোন: সমুদ্রের ওপর সৃষ্ট ঝড়কে সাইক্লোন বলে, স্থলভাগে ঢুকলে এটি শক্তি হারায়।
🌩️ ভারতের জলবায়ু বিষয়ক MCQ Quiz (PART-I)
🌧️ভারতের জলবায়ু বিষয়ক MCQ Quiz (PART-II)
উপসংহার: ভারতের জলবায়ু অধ্যায়টি ভূগোল ও সাধারণ জ্ঞান উভয় দিক থেকেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপরের তথ্যগুলো ভালো করে মনে রাখলে মাধ্যমিক এবং যেকোনো চাকরির পরীক্ষায় উত্তর করা সহজ হবে।
পোস্টটি ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন এবং ভূগোলের আরও নোটস পেতে নিয়মিত ভিজিট করুন Webbhugol.com।
Physical Geography of India: Most Important 40 MCQ Questions and Answers
ভারতের ভূগোল: ভারতের ভূপ্রকৃতি MCQ প্রশ্ন ও উত্তর PDF সহ | WBCS, SSC, UPSC প্রস্তুতির জন্য
ভারতের ভূগোল: ভারতের মৃত্তিকা বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ ৩০টি MCQ প্রশ্নোত্তর
Indian Geography Soil Quiz 2025 | Indian Geography GK 2025 in Bengali [GK 2025-26]
Indian Geography: Rivers of India MCQ Quiz
Indian Geography: Forest & Vegetation MCQ 2025
Please Share