CLASS VI-VIII GEOGRAPHYclass 6CLASS VI-VIII

ষষ্ঠ শ্রেণির ভূগোল দ্বিতীয় অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর | পৃথিবী কি গোল ? | WBBSE Class 6 Geography

ষষ্ঠ শ্রেণির ভূগোল দ্বিতীয় অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর – পৃথিবী কি গোল? (WBBSE)

আমরা প্রতিদিন সমতল মাটিতে হাঁটি, তাই আপাতদৃষ্টিতে পৃথিবীকে চ্যাপ্টা বা সমতল মনে হয়। কিন্তু বাস্তবে কি পৃথিবী সত্যিই পুরোপুরি গোল?

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) সিলেবাস অনুযায়ী ষষ্ঠ শ্রেণির ভূগোল বইয়ের দ্বিতীয় অধ্যায়— ‘পৃথিবী কি গোল?’ থেকে পরীক্ষায় আসার মতো সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে সাজানো হয়েছে আমাদের আজকের এই পোস্ট। এখানে বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ MCQ, শূন্যস্থান পূরণ, এক কথায় উত্তর (SAQ) এবং ২ নম্বরের প্রশ্নগুলো অত্যন্ত সহজ ভাষায় গুছিয়ে দেওয়া হয়েছে।

Webbhugol-এর এই স্টাডি মেটেরিয়ালটি ভালোভাবে অনুশীলন করলে ‘জিয়ড’, ম্যাগেলানের সমুদ্রযাত্রা বা পৃথিবীর আকৃতির মতো বিষয়গুলো তোমার কাছে জলের মতো পরিষ্কার হয়ে যাবে এবং পরীক্ষায় ১০০% কমন পাওয়া নিশ্চিত হবে। চলো, গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তরগুলো পড়ে নেওয়া যাক!

ষষ্ঠ শ্রেণির ভূগোল দ্বিতীয় অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর – পৃথিবী কি গোল? অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বহুনির্বাচনী প্রশ্ন (MCQ)

1.খ্রিস্ট জন্মের দুশো বছর আগে কোন গ্রিক দার্শনিক প্রথম বলেছিলেন যে পৃথিবী আসলে গোলাকার?
ক) অ্যারিস্টটল
খ) টলেমি
গ) এরাটোস্থেনিস
ঘ) প্লেটো
উত্তর: গ) এরাটোস্থেনিস

2. ১৫১৯ সালে কোন পোর্তুগিজ ভূপর্যটক পৃথিবী পরিক্রমার জন্য সমুদ্রপথে যাত্রা শুরু করেন?
ক) কলম্বাস
খ) ভাস্কো দা গামা
গ) ম্যাগেলান
ঘ) ক্যাপ্টেন কুক
উত্তর: গ) ম্যাগেলান

3.ম্যাগেলান ও তাঁর সঙ্গীরা মোট কয়টি জাহাজ নিয়ে ভূ-প্রদক্ষিণের জন্য যাত্রা শুরু করেছিলেন?
ক) ৩টি
খ) ৫টি
গ) ৭টি
ঘ) ১০টি
উত্তর: খ) ৫টি

4.যে রেখা বরাবর পৃথিবীপৃষ্ঠের সঙ্গে আকাশ এসে মিলিত হয়েছে বলে মনে হয়, তাকে কী বলে?
ক) নিরক্ষরেখা
খ) অক্ষরেখা
গ) মূলমধ্যরেখা
ঘ) দিগন্তরেখা
উত্তর: ঘ) দিগন্তরেখা

5.চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদের ওপর পৃথিবীর কীরূপ ছায়া পড়ে?
ক) গোলাকার
খ) উপবৃত্তাকার
গ) চ্যাপ্টা
ঘ) ত্রিভুজাকার
উত্তর: ক) গোলাকার

6.চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদের ওপর গোলাকার ছায়া দেখে কে প্রমাণ করেন যে পৃথিবী গোলাকার?
ক) এরাটোস্থেনিস
খ) অ্যারিস্টটল
গ) আর্যভট্ট
ঘ) কোপারনিকাস
উত্তর: খ) অ্যারিস্টটল

7.গোলাকার পৃথিবীর ধারণাকে সমর্থন করেছিলেন কোন ভারতীয় বিজ্ঞানী?
ক) বরাহমিহির
খ) ভাস্করাচার্য
গ) আর্যভট্ট
ঘ) ব্রহ্মগুপ্ত
উত্তর: গ) আর্যভট্ট

8.পৃথিবী নিজের অক্ষের চারিদিকে খুব দ্রুত ঘোরে বলে এর আকৃতি কেমন হয়েছে?
ক) পুরোপুরি গোল
খ) ওপর-নীচ কিছুটা চাপা ও মাঝবরাবর স্ফীত
গ) পূর্ব-পশ্চিমে চাপা
ঘ) উত্তর-দক্ষিণে স্ফীত
উত্তর: খ) ওপর-নীচ কিছুটা চাপা ও মাঝবরাবর স্ফীত

9.পৃথিবীর প্রকৃত আকৃতি কার মতো?
ক) কমলালেবুর মতো
খ) ন্যাসপাতির মতো
গ) আপেলের মতো
ঘ) পৃথিবীরই মতো বা জিয়ড
উত্তর: ঘ) পৃথিবীরই মতো বা জিয়ড

10.’জিয়ড’ (Geoid) শব্দটির অর্থ কী?
ক) গোলক
খ) পৃথিবীর মতো আকৃতি
গ) উপবৃত্ত
ঘ) চ্যাপ্টা সমতল
উত্তর: খ) পৃথিবীর মতো আকৃতি

11.পৃথিবীর পরিধি প্রায় কত কিলোমিটার?
ক) ৩০,০০০ কিমি
খ) ৪০,০০০ কিমি
গ) ৪৫,০০০ কিমি
ঘ) ৫০,০০০ কিমি
উত্তর: খ) ৪০,০০০ কিমি

12.পৃথিবীর নিরক্ষীয় ব্যাস ও মেরুব্যাসের মধ্যে পার্থক্য কত?
ক) ২০ কিমি
খ) ৩২ কিমি
গ) ৪২ কিমি
ঘ) ৫২ কিমি
উত্তর: গ) ৪২ কিমি

13.পৃথিবীর নিরক্ষীয় ব্যাসের দৈর্ঘ্য কত?
ক) ১২৭১৪ কিমি
খ) ১২৭৫৬ কিমি
গ) ১২৭০০ কিমি
ঘ) ১২৭৬৪ কিমি
উত্তর: খ) ১২৭৫৬ কিমি

14.পৃথিবীর সর্বোচ্চ স্থান ‘মাউন্ট এভারেস্ট’ সমুদ্র সমতল থেকে কত উঁচু?
ক) ৮,৮৪৮ মিটার
খ) ৮,৮৪৮.৮৬ মিটার
গ) ৮,৮৫০ মিটার
ঘ) ৮,৮৪৮.৬৬ মিটার
উত্তর: খ) ৮,৮৪৮.৮৬ মিটার

15.পৃথিবীর সর্বোচ্চ স্থান (মাউন্ট এভারেস্ট) এবং সর্বনিম্ন স্থান (মারিয়ানা খাত)-এর মধ্যে উচ্চতার পার্থক্য প্রায় কত?
ক) ১০ কিমি
খ) ১৫ কিমি
গ) ২০ কিমি
ঘ) ২৫ কিমি
উত্তর: গ) ২০ কিমি

ষষ্ঠ শ্রেণির ভূগোল দ্বিতীয় অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর – পৃথিবী কি গোল? অধ্যায়ের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ শূন্যস্থান পূরণ (উত্তরসহ) নিচে দেওয়া হলো:

১. খ্রিস্ট জন্মের দুশো বছর আগে গ্রিক দার্শনিক ________ প্রথম লক্ষ করে বলেছিলেন যে পৃথিবী আসলে গোলাকার।

২. ১৫১৯ সালে পোর্তুগিজ ভূপর্যটক ________ ও তাঁর সঙ্গীরা ৫টি জাহাজ নিয়ে সমুদ্রপথে পৃথিবী পরিক্রমায় বের হন।

৩. যে রেখা বরাবর পৃথিবীপৃষ্ঠের সঙ্গে আকাশ এসে মিলিত হয়েছে বলে মনে হয়, তাকে ________ বলে।

৪. চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদের ওপর পৃথিবীর ________ ছায়া পড়ে। ৫. ভারতীয় বিজ্ঞানী ________ এবং গ্রিক ভূগোলবিদ এরাটোসথেনিস গোলাকার পৃথিবীর ধারণাকেই সমর্থন করেন।

৬. পৃথিবী নিজের অক্ষের চারিদিকে খুব দ্রুত ঘোরে বলে এর ওপর-নীচ কিছুটা চাপা এবং মাঝ বরাবর কিছুটা ________।

৭. পৃথিবীর প্রকৃত আকৃতি পৃথিবীরই মতো, যাকে ইংরাজিতে বলা হয়

৮. পৃথিবীর নিরক্ষীয় ব্যাস মেরুব্যাসের তুলনায় ________ কিমি বেশি।

৯. পৃথিবীর সর্বোচ্চ স্থান হিমালয় পর্বতের ‘মাউন্ট এভারেস্ট’ সমুদ্র সমতল থেকে ________ মিটার উঁচু।

১০. পৃথিবীর সর্বনিম্ন স্থান প্রশান্ত মহাসাগরের ‘‘ সমুদ্র সমতল থেকে ১০,৯১৫ মিটার নীচু।

উত্তরমালা: ১. এরাটোস্থেনিস ২. ম্যাগেলান ৩. দিগন্তরেখা ৪. গোলাকার ৫. আর্যভট্ট ৬. স্ফীত ৭. জিয়ড (Geoid) ৮. ৪২ ৯. ৮,৮৪৮.৮৬ ১০. মারিয়ানা খাত

পৃথিবী কি গোল? অধ্যায়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ১০টি অতিসংক্ষিপ্ত বা এক কথায় উত্তর দাও (SAQ) নিচে দেওয়া হলো:

১. প্রশ্ন: কোন গ্রিক দার্শনিক প্রথম লক্ষ করে বলেছিলেন যে পৃথিবী আসলে গোলাকার?

উত্তর: এরাটোস্থেনিস।

২. প্রশ্ন: পোর্তুগিজ ভূপর্যটক ম্যাগেলান কত সালে সমুদ্রপথে পৃথিবী পরিক্রমার জন্য যাত্রা শুরু করেন?

উত্তর: ১৫১৯ সালে।

৩. প্রশ্ন: যে রেখা বরাবর পৃথিবীপৃষ্ঠের সঙ্গে আকাশ এসে মিলিত হয়েছে বলে মনে হয়, তাকে কী বলে?

উত্তর: দিগন্তরেখা।

৪. প্রশ্ন: চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদের ওপর পৃথিবীর গোলাকার ছায়া দেখে কে প্রমাণ করেন যে পৃথিবী গোলাকার?

উত্তর: গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটল।

৫. প্রশ্ন: পৃথিবীর প্রকৃত আকৃতি পৃথিবীরই মতো, একে ইংরাজিতে কী বলা হয়?

উত্তর: জিয়ড (Geoid)।

৬. প্রশ্ন: পৃথিবীর পরিধি প্রায় কত কিলোমিটার?

উত্তর: প্রায় ৪০,০০০ কিলোমিটার।

৭. প্রশ্ন: পৃথিবীর নিরক্ষীয় ব্যাস মেরুব্যাসের তুলনায় কত কিলোমিটার বেশি?

উত্তর: ৪২ কিলোমিটার।

৮. প্রশ্ন: পৃথিবীর মেরুব্যাস কত কিলোমিটার?

উত্তর: ১২,৭১৪ কিলোমিটার।

৯. প্রশ্ন: পৃথিবীর সর্বোচ্চ স্থান ‘মাউন্ট এভারেস্ট’ সমুদ্র সমতল থেকে কত মিটার উঁচু?

উত্তর: ৮,৮৪৮.৮৬ মিটার।

১০. প্রশ্ন: পৃথিবীর সর্বনিম্ন স্থানটির নাম কী?

উত্তর: প্রশান্ত মহাসাগরের ‘মারিয়ানা খাত’।

১০টি অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (SAQ) তৈরি করে দেওয়া হলো:

১. প্রশ্ন: পৃথিবী যদি চ্যাপ্টা সমতল হতো, তবে সূর্যোদয়ের ক্ষেত্রে কী প্রভাব পড়ত?

উত্তর: পৃথিবীর সব জায়গাতেই একই সময়ে সূর্যোদয় হতো।

২. প্রশ্ন: মহাকাশচারীরা মহাশূন্য থেকে পৃথিবীকে কীরূপে দেখেছেন?

উত্তর: একটি উজ্জ্বল নীল গোলকের মতো দেখেছেন।

৩. প্রশ্ন: বর্তমানে পৃথিবীর গোলাকার আকৃতির ছবি সরাসরি কোথা থেকে তোলা সম্ভব হয়েছে?

উত্তর: এরোপ্লেন এবং কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে।

৪. প্রশ্ন: কোনো জিনিসের ওজন পৃথিবীর কোথায় সবচেয়ে বেশি হয়?

উত্তর: পৃথিবীর দুই প্রান্তে অর্থাৎ মেরুর কাছে কোনো জিনিসের ওজন সবচেয়ে বেশি হয়।

৫. প্রশ্ন: উঁচু জায়গা বা জাহাজের ডেক থেকে দেখলে দিগন্তরেখাকে কেমন দেখায়?

উত্তর: যতই উঁচু জায়গা থেকে দেখা হোক না কেন, দিগন্তরেখাকে সবসময় গোলাকারই দেখায়।

৬. প্রশ্ন: সমুদ্র সমতল থেকে প্রশান্ত মহাসাগরের মারিয়ানা খাতের গভীরতা কত?

উত্তর: ১০,৯১৫ মিটার।

৭. প্রশ্ন: পৃথিবীতে পাহাড়-পর্বত, নদী-সাগর থাকা সত্ত্বেও মহাকাশ থেকে একে কেমন দেখায়?

উত্তর: মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে একটি মসৃণ গোলকের মতোই দেখায়।

৮. প্রশ্ন: পৃথিবীর মাঝ বরাবর বা নিরক্ষীয় অঞ্চল স্ফীত হওয়ার আসল কারণ কী?

উত্তর: পৃথিবী নিজের অক্ষের চারিদিকে খুব দ্রুত ঘোরে, এই কারণেই ওপর-নীচ চাপা এবং মাঝ বরাবর স্ফীত হয়।

৯. প্রশ্ন: চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদের ওপর পড়া ছায়া থেকে কী প্রমাণিত হয়?

উত্তর: প্রমাণিত হয় যে পৃথিবীর আকৃতি গোলাকার, কারণ একমাত্র কোনো গোলাকার বস্তুর ছায়াই গোলাকার হতে পারে।

১০. প্রশ্ন: পৃথিবীর সর্বোচ্চ স্থান এবং সর্বনিম্ন স্থানের মধ্যে উচ্চতার পার্থক্য প্রায় কত?

উত্তর: প্রায় ২০,০০০ মিটার বা ২০ কিলোমিটার।

ষষ্ঠ শ্রেণির ভূগোল দ্বিতীয় অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর

১০ টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন বিগত বছরগুলিতে পরীক্ষায় পড়েছে

পৃথিবী কি গোল? অধ্যায়ের ১০টি ২ নম্বরের প্রশ্ন ও উত্তর

১. দিগন্তরেখা বা Horizon কাকে বলে?

উত্তর: কোনো বড়ো ফাঁকা মাঠ বা সমুদ্রের ধারে দাঁড়ালে দূরে যে রেখা বরাবর আকাশ ও পৃথিবীপৃষ্ঠ (বা সমুদ্র) মিশে গেছে বলে মনে হয়, তাকে দিগন্তরেখা বলে। যত উঁচু জায়গা থেকে এই রেখাকে দেখা যায়, দিগন্তকে তত বেশি বিস্তৃত ও গোলাকার মনে হয়।

২. ম্যাগেলানের সমুদ্রযাত্রার মাধ্যমে কীভাবে প্রমাণিত হয় যে পৃথিবী গোল?

উত্তর: ১৫১৯ সালে পোর্তুগিজ নাবিক ম্যাগেলান তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে পাঁচটি জাহাজে চেপে ক্রমাগত পশ্চিমদিকে যাত্রা শুরু করেন। কোনোদিকে দিক পরিবর্তন না করে দীর্ঘ সময় পর তাঁরা আবার সেই একই বন্দরে ফিরে আসেন। এই ভূ-প্রদক্ষিণের ঘটনাই বাস্তব প্রমাণ দেয় যে পৃথিবী চ্যাপ্টা সমতল নয়, বরং গোলাকার।

৩. চন্দ্রগ্রহণের সময় পৃথিবীর আকৃতি সম্পর্কে কী প্রমাণ পাওয়া যায়?

উত্তর: চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদের ওপর পৃথিবীর যে ছায়া পড়ে, তা সম্পূর্ণ গোলাকার হয়। যেহেতু একমাত্র গোলাকার বস্তুর ছায়াই সবসময় গোলাকার হতে পারে, তাই গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটল এই ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করে প্রমাণ করেন যে পৃথিবীর আকৃতি গোল।

৪. পৃথিবীর আকৃতি পুরোপুরি গোল নয় কেন?

উত্তর: পৃথিবী নিজের অক্ষের চারিদিকে খুব দ্রুত গতিতে আবর্তিত হয় বা ঘোরে। এই প্রবল ঘূর্ণন গতির কারণেই পৃথিবীর উত্তর-দক্ষিণ দিক অর্থাৎ দুই মেরু অঞ্চল কিছুটা চাপা এবং মাঝ বরাবর অর্থাৎ নিরক্ষীয় অঞ্চল কিছুটা স্ফীত হয়ে গেছে। তাই এটি জ্যামিতিক গোলকের মতো পুরোপুরি গোল নয়।

৫. 'জিয়ড' (Geoid) বলতে কী বোঝো?

উত্তর: পৃথিবীর দুই মেরু সামান্য চাপা এবং মাঝখানটা কিছুটা ফোলা। কমলালেবু বা ন্যাসপাতির সঙ্গে এর সামান্য মিল থাকলেও, আসলে পৃথিবীর আকৃতি অন্য কোনো কিছুর সঙ্গেই হুবহু মেলানো যায় না। তাই বলা হয় 'পৃথিবীর প্রকৃত আকৃতি পৃথিবীরই মতো', যাকে ভূগোলের ভাষায় 'জিয়ড' (Geoid) বলা হয়।

৬. পৃথিবীর নিরক্ষীয় ব্যাস ও মেরুব্যাসের মধ্যে পার্থক্য দেখা যায় কেন?

উত্তর: পৃথিবীর মাঝ বরাবর বা নিরক্ষীয় অঞ্চল কিছুটা স্ফীত হওয়ায় এর নিরক্ষীয় ব্যাস (১২,৭৫৬ কিমি) বেশি হয়। অন্যদিকে ওপর-নীচ কিছুটা চাপা হওয়ায় মেরুব্যাস (১২,৭১৪ কিমি) অপেক্ষাকৃত কম। পৃথিবীর এই বিশেষ আকৃতির জন্যই এর দুই ব্যাসের মধ্যে প্রায় ৪২ কিমির পার্থক্য দেখা যায়।

৭. পৃথিবীতে এত পাহাড়-পর্বত ও গভীর খাত থাকা সত্ত্বেও মহাকাশ থেকে একে মসৃণ গোলক মনে হয় কেন?

উত্তর: পৃথিবীর সর্বোচ্চ স্থান মাউন্ট এভারেস্ট এবং সর্বনিম্ন স্থান মারিয়ানা খাতের মধ্যে উচ্চতার পার্থক্য প্রায় ২০ কিলোমিটার। কিন্তু পৃথিবীর বিশাল আকারের (পরিধি প্রায় ৪০,০০০ কিমি) তুলনায় এই উঁচু-নীচু জায়গাগুলো এতই নগণ্য যে, মহাকাশ থেকে দেখলে একে একটি মসৃণ গোলকের মতোই মনে হয়।

৮. পৃথিবী চ্যাপ্টা সমতল হলে কী অসুবিধা হতো?

উত্তর: পৃথিবী যদি চ্যাপ্টা সমতল হতো, তবে সূর্য ওঠার সময় পৃথিবীর সব জায়গায় একই সঙ্গে সূর্যের আলো পড়ত। এর ফলে পৃথিবীর প্রতিটি স্থানে একেবারে একই সময়ে সূর্যোদয় হতো, যা বাস্তবে কখনও ঘটে না।

৯. নিরক্ষরেখার তুলনায় মেরু অঞ্চলে কোনো জিনিসের ওজন বেশি হয় কেন?

উত্তর: কোনো জিনিসের ওজন নির্ভর করে পৃথিবীর কেন্দ্রের আকর্ষণ বলের ওপর। পৃথিবীর মেরু অঞ্চল কিছুটা চাপা হওয়ায় তা কেন্দ্রের বেশি কাছাকাছি অবস্থান করে, ফলে সেখানে আকর্ষণ বল বেশি হয়। তাই নিরক্ষীয় অঞ্চলের তুলনায় দুই মেরুর কাছে জিনিসের ওজন কিছুটা বেড়ে যায়।

১০. প্রাচীনকালের কোন কোন পণ্ডিত পৃথিবীর গোলাকার আকৃতির কথা প্রথম জানিয়েছিলেন?

উত্তর: পৃথিবীর যে আসলে চ্যাপ্টা নয়, বরং গোলাকার—এই ধারণা প্রাচীনকালেই বেশ কয়েকজন পণ্ডিত দিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটল, গ্রিক ভূগোলবিদ এরাটোস্থেনিস এবং প্রাচীন ভারতের বিখ্যাত বিজ্ঞানী আর্যভট্ট।

আশা করি, ষষ্ঠ শ্রেণির দ্বিতীয় অধ্যায় 'পৃথিবী কি গোল?'-এর এই প্রশ্নোত্তরগুলো তোমাদের পরীক্ষার প্রস্তুতিতে দারুণভাবে সাহায্য করবে। দীর্ঘ সময় ধরে সরকারি স্কুলে ছাত্রছাত্রীদের খুব কাছ থেকে ভূগোল শেখানোর অভিজ্ঞতায় দেখেছি, একটু সহজ ও বাস্তব উদাহরণ দিয়ে পড়লে ভূগোলের মতো মজাদার বিষয় আর হয় না। আর সেই উদ্দেশ্য নিয়েই Webbhugol.com-এর পথচলা—পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি ছাত্রছাত্রীর কাছে মাতৃভাষায় ভূগোলের সেরা স্টাডি মেটেরিয়াল পৌঁছে দেওয়া।

আজকের এই বিষয়গুলো নিয়ে তোমাদের মনে যদি কোনো প্রশ্ন বা বুঝতে অসুবিধা থাকে, তবে একেবারেই সংকোচ না করে নিচে কমেন্ট (Comment) করে জানাও। আমি তোমাদের সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব।

পাশাপাশি, আজকের এই নোটসগুলো তোমার ক্লাসের বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলো না, যাতে তারাও উপকৃত হয়। পরবর্তী কোন অধ্যায়ের প্রশ্নোত্তর বা মক টেস্ট তোমরা চাও, সেটাও কমেন্টে লিখে জানাতে পারো! সবার জন্য অনেক শুভকামনা রইল।

আকাশ ভরা সূর্য তারা প্রশ্ন উত্তর | Class 6 Geography Chapter 1 WBBSE

১. দিগন্তরেখা বা Horizon কাকে বলে?

উত্তর: কোনো বড়ো ফাঁকা মাঠ বা সমুদ্রের ধারে দাঁড়ালে দূরে যে রেখা বরাবর আকাশ ও পৃথিবীপৃষ্ঠ (বা সমুদ্র) মিশে গেছে বলে মনে হয়, তাকে দিগন্তরেখা বলে। যত উঁচু জায়গা থেকে এই রেখাকে দেখা যায়, দিগন্তকে তত বেশি বিস্তৃত ও গোলাকার মনে হয়।

২. ম্যাগেলানের সমুদ্রযাত্রার মাধ্যমে কীভাবে প্রমাণিত হয় যে পৃথিবী গোল?

উত্তর: ১৫১৯ সালে পোর্তুগিজ নাবিক ম্যাগেলান তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে পাঁচটি জাহাজে চেপে ক্রমাগত পশ্চিমদিকে যাত্রা শুরু করেন। কোনোদিকে দিক পরিবর্তন না করে দীর্ঘ সময় পর তাঁরা আবার সেই একই বন্দরে ফিরে আসেন। এই ভূ-প্রদক্ষিণের ঘটনাই বাস্তব প্রমাণ দেয় যে পৃথিবী চ্যাপ্টা সমতল নয়, বরং গোলাকার।

৩. চন্দ্রগ্রহণের সময় পৃথিবীর আকৃতি সম্পর্কে কী প্রমাণ পাওয়া যায়?

উত্তর: চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদের ওপর পৃথিবীর যে ছায়া পড়ে, তা সম্পূর্ণ গোলাকার হয়। যেহেতু একমাত্র গোলাকার বস্তুর ছায়াই সবসময় গোলাকার হতে পারে, তাই গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটল এই ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করে প্রমাণ করেন যে পৃথিবীর আকৃতি গোল।

৪. পৃথিবীর আকৃতি পুরোপুরি গোল নয় কেন?

উত্তর: পৃথিবী নিজের অক্ষের চারিদিকে খুব দ্রুত গতিতে আবর্তিত হয় বা ঘোরে। এই প্রবল ঘূর্ণন গতির কারণেই পৃথিবীর উত্তর-দক্ষিণ দিক অর্থাৎ দুই মেরু অঞ্চল কিছুটা চাপা এবং মাঝ বরাবর অর্থাৎ নিরক্ষীয় অঞ্চল কিছুটা স্ফীত হয়ে গেছে। তাই এটি জ্যামিতিক গোলকের মতো পুরোপুরি গোল নয়।

৫. 'জিয়ড' (Geoid) বলতে কী বোঝো?

উত্তর: পৃথিবীর দুই মেরু সামান্য চাপা এবং মাঝখানটা কিছুটা ফোলা। কমলালেবু বা ন্যাসপাতির সঙ্গে এর সামান্য মিল থাকলেও, আসলে পৃথিবীর আকৃতি অন্য কোনো কিছুর সঙ্গেই হুবহু মেলানো যায় না। তাই বলা হয় 'পৃথিবীর প্রকৃত আকৃতি পৃথিবীরই মতো', যাকে ভূগোলের ভাষায় 'জিয়ড' (Geoid) বলা হয়।

৬. পৃথিবীর নিরক্ষীয় ব্যাস ও মেরুব্যাসের মধ্যে পার্থক্য দেখা যায় কেন?

উত্তর: পৃথিবীর মাঝ বরাবর বা নিরক্ষীয় অঞ্চল কিছুটা স্ফীত হওয়ায় এর নিরক্ষীয় ব্যাস (১২,৭৫৬ কিমি) বেশি হয়। অন্যদিকে ওপর-নীচ কিছুটা চাপা হওয়ায় মেরুব্যাস (১২,৭১৪ কিমি) অপেক্ষাকৃত কম। পৃথিবীর এই বিশেষ আকৃতির জন্যই এর দুই ব্যাসের মধ্যে প্রায় ৪২ কিমির পার্থক্য দেখা যায়।

Please Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!