মাধ্যমিক ভূগোল জোয়ার-ভাটা প্রশ্ন উত্তর| Class 10 Geography Chapter 3 WBBSE WebBhugol
মাধ্যমিক ভূগোল জোয়ার-ভাটা প্রশ্ন উত্তর| Class 10 Geography Chapter 3 WBBSE
মাধ্যমিক ভূগোল পরীক্ষায় ভালো ফল করার জন্য ‘বারিমণ্ডল’ (Hydrosphere) অধ্যায়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে এই অধ্যায়ের ‘জোয়ার-ভাটা’ (Tides) অংশ থেকে প্রতি বছরই মাধ্যমিক পরীক্ষায় বহুনির্বাচনী (MCQ), সংক্ষিপ্ত ও ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন এসে থাকে। প্রিয় ছাত্রছাত্রীরা, আজকের এই পোস্টে আমরা দশম শ্রেণির ভূগোলের তৃতীয় অধ্যায় থেকে জোয়ার-ভাটা সম্পর্কিত বাছাই করা এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন-উত্তরগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।
এখানে দেওয়া MCQ, SAQ, শূন্যস্থান পূরণ, শুদ্ধ-অশুদ্ধ এবং ২ নম্বরের ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নগুলো বিগত বছরের প্রশ্নের ধাঁচ এবং নতুন সিলেবাসের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। এই প্রশ্নগুলো নিখুঁতভাবে অনুশীলন করলে তোমরা মাধ্যমিক পরীক্ষায় নিশ্চিত কমন পাবে এবং ভূগোলে দুর্দান্ত স্কোর করতে পারবে। চলো তাহলে শুরু করা যাক আজকের মূল আলোচনা!
মাধ্যমিক ভূগোল জোয়ার-ভাটা MCQ প্রশ্ন ও উত্তর
১. পৃথিবীর ওপর চাঁদের আকর্ষণ বল সূর্যের আকর্ষণ বলের থেকে কত গুণ বেশি?
(ক) ২৭.৭ গুণ
(খ) ৩৯১ গুণ
(গ) ২.২ গুণ
(ঘ) ৪.৯ গুণ
সঠিক উত্তর: (গ) ২.২ গুণ
২. পৃথিবীর চারিদিকে চাঁদের একবার ঘুরে আসতে কত সময় লাগে?
(ক) ২৪ ঘণ্টা ৫২ মিনিট
(খ) ২৭ দিন ৮ ঘণ্টা
(গ) ১২ ঘণ্টা ২৬ মিনিট
(ঘ) ৩৬৫ দিন ৬ ঘণ্টা
সঠিক উত্তর: (খ) ২৭ দিন ৮ ঘণ্টা
৩. পৃথিবীর আবর্তন জনিত কেন্দ্রাতিগ বলের প্রভাবে কোন জোয়ারের সৃষ্টি হয়?
(ক) মুখ্য জোয়ার
(খ) ভরা কোটাল
(গ) মরা কোটাল
(ঘ) গৌণ জোয়ার
সঠিক উত্তর: (ঘ) গৌণ জোয়ার
৪. ভরা কোটাল বা তেজ কোটাল প্রধানত কোন কোন তিথিতে দেখা যায়?
(ক) শুক্লপক্ষ ও কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে
(খ) পূর্ণিমা ও অমাবস্যা তিথিতে
(গ) একাদশী তিথিতে
(ঘ) কেবলমাত্র অমাবস্যা তিথিতে
সঠিক উত্তর: (খ) পূর্ণিমা ও অমাবস্যা তিথিতে
৫. পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব যখন সবচেয়ে কম (৩.৫৭ লক্ষ কিমি) হয়, তখন সেই অবস্থাকে কী বলে?
(ক) অ্যাপোজি
(খ) সিজিগি
(গ) পেরিজি
(ঘ) প্রতিযোগ
সঠিক উত্তর: (গ) পেরিজি
৬. সিজিগি (Syzygy) অবস্থানের ক্ষেত্রে ‘সংযোগ’ (Conjunction) বলতে কী বোঝায়?
(ক) চাঁদ যখন সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে থাকে
(খ) পৃথিবী যখন সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে থাকে
(গ) চাঁদ ও সূর্য যখন সমকোণে থাকে
(ঘ) পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব সর্বাধিক হলে
সঠিক উত্তর: (ক) চাঁদ যখন সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে থাকে
৭. একটি জোয়ার এবং একটি ভাটার মধ্যে সময়ের ব্যবধান প্রায় কত?
(ক) ২৪ ঘণ্টা ৫২ মিনিট
(খ) ১২ ঘণ্টা ২৬ মিনিট
(গ) ১২ ঘণ্টা
(ঘ) ৬ ঘণ্টা ১৩ মিনিট
সঠিক উত্তর: (ঘ) ৬ ঘণ্টা ১৩ মিনিট
৮. বর্ষাকালে নদীর মোহনা দিয়ে প্রবল বেগে শব্দ করে যে জলোচ্ছ্বাস প্রবেশ করে তাকে কী বলে?
(ক) মরা কোটাল
(খ) ষাঁড়াষাঁড়ির বান
(গ) গৌণ জোয়ার
(ঘ) অ্যাপোজি জোয়ার
সঠিক উত্তর: (খ) ষাঁড়াষাঁড়ির বান
৯. সাধারণ অবস্থার থেকে পেরিজি জোয়ারে জলস্ফীতি কতটা বেশি হয়?
(ক) ১০%
(খ) ২০%
(গ) ৩০%
(ঘ) ৫০%
সঠিক উত্তর: (খ) ২০%
১০. পৃথিবীর কোনো নির্দিষ্ট স্থানে দুটি মুখ্য জোয়ারের মধ্যে সময়ের ব্যবধান কত?
(ক) ১২ ঘণ্টা
(খ) ১২ ঘণ্টা ২৬ মিনিট
(গ) ২৪ ঘণ্টা ৫২ মিনিট
(ঘ) ২৪ ঘণ্টা
সঠিক উত্তর: (গ) ২৪ ঘণ্টা ৫২ মিনিট
১১. মুখ্য জোয়ার ও গৌণ জোয়ারের মধ্যে কৌণিক দূরত্ব কত?
(ক) ৯০°
(খ) ৩৬০°
(গ) ৪৫°
(ঘ) ১৮০°
সঠিক উত্তর: (ঘ) ১৮০°
১২. জোয়ারের সময় সমুদ্রের লবণাক্ত জল নদীতে প্রবেশ করার একটি অর্থনৈতিক সুবিধা কী?
(ক) কৃষিকাজের উন্নতি হয়
(খ) নদীর গভীরতা হ্রাস পায়
(গ) নদীর জল পানযোগ্য হয়ে ওঠে
(ঘ) বন্দর বরফমুক্ত থাকে
সঠিক উত্তর: (ঘ) বন্দর বরফমুক্ত থাকে
১৩. ‘প্রতিযোগ’ (Opposition) অবস্থান বা পূর্ণিমা তিথিতে চাঁদ, সূর্য ও পৃথিবীর অবস্থান কেমন থাকে?
(ক) সূর্য থাকে চাঁদ ও পৃথিবীর মাঝখানে
(খ) চাঁদ থাকে সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে
(গ) পৃথিবী থাকে সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে
(ঘ) এরা পরস্পরের সমকোণে থাকে
সঠিক উত্তর: (গ) পৃথিবী থাকে সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে
১৪. অ্যাপোজি জোয়ারে জোয়ারের তীব্রতা সাধারণ অবস্থার চেয়ে কতটা কম হয়?
(ক) ১০%
(খ) ২০%
(গ) ৩০%
(ঘ) ৫০%
সঠিক উত্তর: (খ) ২০%
১৫. মরা কোটাল বা মরা জোয়ারের সময় জোয়ারের জল বেশি ফুলে না ওঠার প্রধান কারণ কী?
(ক) পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব সর্বাধিক হওয়া
(খ) কেন্দ্রাতিগ বলের অভাব
(গ) পূর্ণিমা তিথির প্রভাবে
(ঘ) চাঁদ ও সূর্যের আকর্ষণ শক্তি পরস্পরের বিপরীতে বা সমকোণে কাজ করা
সঠিক উত্তর: (ঘ) চাঁদ ও সূর্যের আকর্ষণ শক্তি পরস্পরের বিপরীতে বা সমকোণে কাজ করা
জোয়ার-ভাটা অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (SAQ) মান: ১

১. জোয়ার-ভাটা সৃষ্টিতে সূর্যের ক্ষমতা চাঁদের কত ভাগ?
উত্তর: জোয়ার-ভাটা সৃষ্টিতে সূর্যের ক্ষমতা চাঁদের ৪/৯ ভাগ।
২. পৃথিবী থেকে চাঁদের গড় দূরত্ব কত?
উত্তর: পৃথিবী থেকে চাঁদের গড় দূরত্ব ৩ লক্ষ ৮৪ হাজার ৪০১ কিমি।
৩. ‘সিজিগি’ (Syzygy) কথার আক্ষরিক অর্থ কী?
উত্তর: ‘সিজিগি’ কথার আক্ষরিক অর্থ হলো সহযোগে বা একসঙ্গে থাকা।
৪. ভরা কোটালের ক্ষেত্রে কোন তিথিতে জোয়ারের প্রাবল্য বা বেগ সবথেকে বেশি হয়?
উত্তর: পূর্ণিমা তিথির অপেক্ষা অমাবস্যা তিথির ভরা কোটালে জোয়ারের বেগ সবথেকে বেশি হয়।
৫. ফানেল আকৃতির নদীর মোহনাকে ভূগোলের ভাষায় কী বলা হয়?
উত্তর: ফানেল আকৃতির নদীর মোহনাকে খাঁড়ি বলা হয়।
৬. মরা কোটাল বা মরা জোয়ার কোন কোন তিথিতে দেখা যায়?
উত্তর: শুক্লপক্ষ ও কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে মরা কোটাল বা মরা জোয়ার দেখা যায়।
৭. অ্যাপোজি (Apogee) অবস্থানে পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব কত থাকে?
উত্তর: অ্যাপোজি অবস্থানে পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব সর্বাধিক হয়, যা প্রায় ৪.০৭ লক্ষ কিমি।
৮. জোয়ারের জল সমুদ্রের দিক থেকে নদীর মোহনা দিয়ে প্রবল বেগে উল্টোদিকে প্রবেশ করলে তাকে কী বলে?
উত্তর: জোয়ারের জল প্রবল বেগে উল্টোভাবে নদীতে প্রবেশ করে জলোচ্ছ্বাস ঘটালে তাকে বানডাকা বলে।
৯. পৃথিবীর কোনো একটি স্থানে দিনে কয়বার জোয়ার ও কয়বার ভাটা হয়?
উত্তর: পৃথিবীর যেকোনো স্থানে প্রতিদিন দুবার জোয়ার (একবার মুখ্য ও একবার গৌণ) এবং দুবার ভাটা হয়।
১০. জোয়ার-ভাটার ফলে সৃষ্ট শক্তির সাহায্যে কী উৎপাদন করা সম্ভব?
উত্তর: জোয়ার-ভাটা শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব।
মাধ্যমিক ভূগোল জোয়ার-ভাটা: গুরুত্বপূর্ণ শূন্যস্থান পূরণ করো :
১. চাঁদ, পৃথিবী ও সূর্যের সরলরৈখিক অবস্থানকে ________ বলে।
উত্তর: সিজিগি
২. জোয়ারের দুটি সমকোণ স্থানে যেখানে জল সরে যায়, সেখানে ________ সৃষ্টি হয়।
উত্তর: ভাটার
৩. সূর্য অপেক্ষা পৃথিবীর উপর চাঁদের আকর্ষণ বল বেশি হওয়ার কারণ হলো, চাঁদ পৃথিবীর অনেক ________ অবস্থিত।
উত্তর: কাছে
৪. অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে সৃষ্ট ভরা কোটালে জোয়ারের তীব্রতা বা জলস্ফীতি অনেক ________ হয়।
উত্তর: বেশি
৫. পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবন অঞ্চলে নদীর মোহনায় প্রচুর ________ দেখা যায়।
উত্তর: খাঁড়ি
৬. সূর্য চাঁদের থেকে ২৭.৭ কোটি গুণ বড় হলেও পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব প্রায় ________ কিমি।
উত্তর: ১৫ কোটি
৭. জোয়ারের একটি অসুবিধা হলো, জোয়ারের জলের মাধ্যমে নদীগর্ভে পলি সঞ্চিত হয়ে নদীর গভীরতা ________ পায়।
উত্তর: হ্রাস
৮. একটি মুখ্য জোয়ার ও গৌণ জোয়ারের মধ্যে কৌণিক দূরত্ব হলো ________।
উত্তর: ১৮০°
৯. চাঁদ ও সূর্য যখন পৃথিবীর সাথে পরস্পরের সমকোণে অবস্থান করে, তখন ________ কোটাল হয়।
উত্তর: মরা
১০. বর্ষাকালে পশ্চিমবঙ্গের ________ নদীর মোহনার নিকট ষাঁড়াষাঁড়ির বান দেখা যায়।
উত্তর: হুগলি
মাধ্যমিক ভূগোল জোয়ার-ভাটা: শুদ্ধ / অশুদ্ধ নির্ণয় করো – মান: ১
১. চাঁদের ভর সূর্যের থেকে অনেক কম হলেও, পৃথিবীর কাছাকাছি থাকার কারণে জোয়ার-ভাটায় চাঁদের প্রভাব সূর্যের তুলনায় বেশি হয়।
উত্তর: শুদ্ধ (কারণ: পৃথিবীর ওপর চাঁদের আকর্ষণ বল সূর্যের থেকে ২.২ গুণ বেশি।)
২. পৃথিবীর আবর্তন গতির ফলে সৃষ্ট কেন্দ্রাতিগ বলের প্রভাবে সমুদ্রের জলে মুখ্য জোয়ার সৃষ্টি হয়।
উত্তর: অশুদ্ধ (কারণ: কেন্দ্রাতিগ বলের প্রভাবে গৌণ জোয়ার সৃষ্টি হয়, আর চাঁদের আকর্ষণে মুখ্য জোয়ার হয়।)
৩. মরা কোটালের সময় চাঁদ, সূর্য ও পৃথিবী পরস্পরের সাথে একই সরলরেখায় অবস্থান করে।
উত্তর: অশুদ্ধ (কারণ: মরা কোটালের সময় এরা সমকোণে অবস্থান করে। সরলরেখায় থাকলে তাকে সিজিগি বা ভরা কোটাল বলে।)
৪. পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব যখন সর্বাধিক (৪.০৭ লক্ষ কিমি) হয়, তখন চাঁদের সেই অবস্থানকে অ্যাপোজি (Apogee) অবস্থান বলে।
উত্তর: শুদ্ধ
৫. সিজিগির সংযোগ বা অমাবস্যা তিথিতে চাঁদ সর্বদা সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে অবস্থান করে।
উত্তর: শুদ্ধ
৬. পৃথিবীর কোনো নির্দিষ্ট স্থানে একটি মুখ্য জোয়ার হওয়ার ঠিক ২৪ ঘণ্টা পর সেখানে পুনরায় মুখ্য জোয়ার হয়।
উত্তর: অশুদ্ধ (কারণ: পৃথিবীর পরিক্রমণের সাথে সাথে চাঁদও নিজের কক্ষপথে কিছুটা এগিয়ে যায়, তাই পুনরায় মুখ্য জোয়ার হতে ২৪ ঘণ্টা ৫২ মিনিট সময় লাগে।)
৭. নদীর মোহনা ফানেল আকৃতির হলে এবং নদীর ঢাল খুব বেশি হলে নদীতে বান ডাকার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।
উত্তর: অশুদ্ধ (কারণ: নদীতে বান ডাকার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো নদীর ঢাল কম হওয়া।)
৮. পূর্ণিমা তিথির ভরা কোটালের চেয়ে অমাবস্যা তিথির ভরা কোটালে জোয়ারের বেগ বা তীব্রতা অনেক বেশি হয়।
উত্তর: শুদ্ধ (কারণ: অমাবস্যায় চাঁদ ও সূর্য পৃথিবীর একই দিকে থাকে, তাই মিলিত আকর্ষণ বল বেশি হয়।)
৯. জোয়ারের জলের মাধ্যমে বাহিত পলি নদীর তলদেশে সঞ্চিত হয়ে অনেক সময় নদীর গভীরতা হ্রাস করে বা নদীগর্ভ ভরাট করে দেয়।
উত্তর: শুদ্ধ (এটি জোয়ারের একটি অন্যতম নেতিবাচক দিক বা অসুবিধা।)
১০. পেরিজি (Perigee) অবস্থানে চাঁদ ও পৃথিবীর দূরত্ব কমে যাওয়ায় জোয়ারের তীব্রতা সাধারণ অবস্থার চেয়ে ২০% হ্রাস পায়।
উত্তর: অশুদ্ধ (কারণ: দূরত্ব কমে যাওয়ায় আকর্ষণ বল বাড়ে, তাই জোয়ারের তীব্রতা ২০% বৃদ্ধি পায়। ২০% হ্রাস পায় অ্যাপোজি অবস্থানে।)
মাধ্যমিক ভূগোল জোয়ার-ভাটা Online Mock Test
বিগত বছরের মাধ্যমিক ভূগোল প্রশ্নাবলি : বারিমণ্ডল (জোয়ার-ভাটা)
১০ টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন বিগত বছরগুলিতে পরীক্ষায় পড়েছে
🎉 তোমার স্কোর: /10
জোয়ার-ভাটা থেকে ২ নম্বরের প্রশ্ন ও উত্তর (মাধ্যমিক সাজেশন)
১. জোয়ার-ভাটা সৃষ্টির প্রধান দুটি কারণ কী কী?
উত্তর: জোয়ার-ভাটা সৃষ্টির মূল কারণ হলো দুটি—
- চাঁদ ও সূর্যের আকর্ষণ: মহাকর্ষ সূত্র অনুযায়ী চাঁদ ও সূর্য পৃথিবীকে আকর্ষণ করে। তবে চাঁদ পৃথিবীর অনেক কাছে থাকায় এর আকর্ষণ বল সূর্যের তুলনায় ২.২ গুণ বেশি, যা জোয়ার সৃষ্টির অন্যতম প্রধান কারণ।
- কেন্দ্রাতিগ বল: পৃথিবী নিজের অক্ষের ওপর প্রবল বেগে ঘোরার কারণে একটি কেন্দ্রাতিগ বলের সৃষ্টি হয়, যা জলরাশিকে বাইরের দিকে ছিটকে দিতে চায়। এই বলের প্রভাবেও জোয়ার তৈরি হয়।

২. সিজিগি (Syzygy) অবস্থান বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: মহাকাশে যখন সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী একই সরলরেখায় (১৮০° কোণে) অবস্থান করে, তখন সেই বিশেষ অবস্থাকে ভূগোলের ভাষায় 'সিজিগি' বলা হয়। সিজিগি কথার অর্থ হলো একসঙ্গে থাকা। অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে এই অবস্থান দেখা যায়, এবং এর ফলেই পৃথিবীতে তীব্র জোয়ার বা ভরা কোটাল সৃষ্টি হয়।
৩. ভরা কোটাল ও মরা কোটালের মধ্যে দুটি মূল পার্থক্য লেখো।
উত্তর: তিথি: ভরা কোটাল হয় অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে। অন্যদিকে, মরা কোটাল হয় শুক্লপক্ষ ও কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে।
- তীব্রতা: ভরা কোটালে চাঁদ, সূর্য ও পৃথিবী একই সরলরেখায় থাকায় জোয়ারের তীব্রতা বা জলস্ফীতি অনেক বেশি হয়। কিন্তু মরা কোটালে এরা সমকোণে অবস্থান করায় আকর্ষণ বল একে অপরকে প্রশমিত করে, ফলে জোয়ারের তীব্রতা বেশ কম থাকে।
৪. বানডাকা কাকে বলে?
উত্তর: সমুদ্রের জোয়ারের জল যখন জলোচ্ছ্বাসের আকারে নদীর মোহনা দিয়ে প্রবল বেগে ও গর্জন করতে করতে উল্টোদিকে (নদীর স্রোতের বিপরীতে) প্রবেশ করে, তখন তাকে বানডাকা বলে। এর ফলে নদীতে জলস্তর হঠাৎ অনেকটা ফুলে ওঠে। বর্ষাকালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি নদীতে মাঝে মাঝেই বান ডাকতে দেখা যায়।
৫. নদীতে বান ডাকার দুটি অনুকূল পরিবেশ বা কারণ উল্লেখ করো।
উত্তর: সব নদীতে বান ডাকে না। বান ডাকার জন্য মূলত যে শর্তগুলো দরকার তা হলো—
- নদীর মোহনার আকৃতি ফানেলের মতো চওড়া হতে হবে এবং নদীখাত ক্রমশ ভেতরের দিকে সংকীর্ণ হতে হবে।
- নদীর ঢাল কম হতে হবে এবং মোহনার কাছে নদীগর্ভে বালুচর বা পলি জমে নদী অগভীর অবস্থায় থাকতে হবে।
৬. পেরিজি (Perigee) জোয়ার বা অনুভূ জোয়ার কী?
উত্তর: পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব সব সময় সমান থাকে না। চাঁদ যখন পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে (প্রায় ৩.৫৭ লক্ষ কিমি) চলে আসে, তখন সেই অবস্থাকে পেরিজি অবস্থান বলে। দূরত্ব কম থাকায় এই সময় পৃথিবীর ওপর চাঁদের আকর্ষণ বল সবচেয়ে বেশি হয়। এর ফলে যে প্রবল জোয়ারের সৃষ্টি হয়, তাকে পেরিজি জোয়ার বলে। এই সময় জোয়ারের জলস্ফীতি সাধারণ অবস্থার চেয়ে প্রায় ২০% বেশি হয়।

৭. 'ষাঁড়াষাঁড়ির বান' বলতে কী বোঝো?
উত্তর: বর্ষাকালে নদীতে বৃষ্টির কারণে এমনিতেই প্রচুর জল থাকে। তার ওপর ভরা কোটালের সময় সমুদ্রের জল যদি অতি প্রবল বেগে নদীতে প্রবেশ করে, তখন যে ভয়ঙ্কর জলোচ্ছ্বাস তৈরি হয় তাকে ষাঁড়াষাঁড়ির বান বলে। দুটি ষাঁড়ের লড়াইয়ের সময় যেমন প্রচণ্ড গর্জন সৃষ্টি হয়, এই বান আসার সময় ঠিক তেমনই গর্জন শোনা যায় বলে এর এমন নাম দেওয়া হয়েছে।
৮. পৃথিবীর কোনো নির্দিষ্ট স্থানে দুটি মুখ্য জোয়ারের মধ্যে সময়ের ব্যবধান ২৪ ঘণ্টা ৫২ মিনিট হয় কেন?
উত্তর: পৃথিবী নিজের অক্ষের ওপর একবার সম্পূর্ণ ঘুরতে ২৪ ঘণ্টা সময় নেয়। কিন্তু এই ২৪ ঘণ্টায় চাঁদও স্থির না থেকে তার নিজের কক্ষপথে কিছুটা পথ (প্রায় ১৩°) এগিয়ে যায়। ফলে পৃথিবীর ওই নির্দিষ্ট স্থানটিকে ঘুরে এসে চাঁদের ঠিক সামনে পুনরায় পৌঁছাতে আরও ৫২ মিনিট অতিরিক্ত সময় লাগে। তাই দুটি মুখ্য জোয়ারের ব্যবধান ঠিক ২৪ ঘণ্টা না হয়ে ২৪ ঘণ্টা ৫২ মিনিট হয়।
৯. কেন্দ্রাতিগ বল কীভাবে গৌণ জোয়ার সৃষ্টি করে?
উত্তর: পৃথিবীর আবর্তনের কারণে যে কেন্দ্রাতিগ বলের সৃষ্টি হয়, তা মহাকর্ষ শক্তির ঠিক বিপরীতে কাজ করে। চাঁদের প্রত্যক্ষ আকর্ষণে পৃথিবীর যে অংশে মুখ্য জোয়ার হয়, ঠিক তার বিপরীত দিকে চাঁদের আকর্ষণ সবচেয়ে কম থাকে। কিন্তু সেখানে পৃথিবীর কেন্দ্রাতিগ বলের প্রভাব বেশি থাকায় জলরাশি বাইরের দিকে ছিটকে ফুলে ওঠে এবং গৌণ জোয়ারের সৃষ্টি করে।
১০. জোয়ার-ভাটার দুটি সুফল বা সুবিধা উল্লেখ করো।
উত্তর: বন্দর সচল রাখা: জোয়ারের সময় জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় হলদিয়া, কলকাতার মতো নদী বন্দরগুলোতে বড়ো বড়ো সামুদ্রিক জাহাজ অনায়াসে প্রবেশ করতে পারে।
- নদীখাত পরিষ্কার রাখা: ভাটার প্রবল টানে নদীর মোহনায় জমে থাকা পলি ও আবর্জনা ধুয়ে সমুদ্রে চলে যায়, এর ফলে নদীখাত গভীর থাকে এবং নাব্যতা বজায় থাকে।
আশা করি, দশম শ্রেণির ভূগোল তৃতীয় অধ্যায়ের 'জোয়ার-ভাটা' বিষয়ক এই সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর পর্বটি তোমাদের মাধ্যমিক প্রস্তুতির ক্ষেত্রে ভীষণ কাজে লাগবে। পরীক্ষায় ভূগোলে লেটার মার্কস বা ১০০-এ ১০০ পাওয়ার জন্য মূল টেক্সট বইটি খুঁটিয়ে পড়ার পাশাপাশি এই প্রশ্নগুলো নিয়মিত রিভিশন দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
আজকের এই আলোচনাটি তোমাদের কেমন লাগলো এবং এখান থেকে তোমরা নতুন কিছু শিখতে পারলে কিনা, তা নিচে কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবে। এছাড়া, তোমাদের ভূগোলের অন্য কোনো অধ্যায়ের নোটস বা সাজেশন প্রয়োজন হলে আমাদের জানাতে পারো। পোস্টটি পড়ে উপকৃত হলে তোমাদের বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলো না, যাতে তারাও নিজেদের প্রস্তুতি আরও মজবুত করতে পারে। আগামী মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য তোমাদের সবাইকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা!
মাধ্যমিক ভূগোল তৃতীয় অধ্যায়: বারিমণ্ডল (সমুদ্রস্রোত) MCQ, SAQ প্রশ্ন উত্তর - Click Here
১. জোয়ার-ভাটা সৃষ্টির প্রধান দুটি কারণ কী কী?
উত্তর: জোয়ার-ভাটা সৃষ্টির মূল কারণ হলো দুটি—
চাঁদ ও সূর্যের আকর্ষণ: মহাকর্ষ সূত্র অনুযায়ী চাঁদ ও সূর্য পৃথিবীকে আকর্ষণ করে। তবে চাঁদ পৃথিবীর অনেক কাছে থাকায় এর আকর্ষণ বল সূর্যের তুলনায় ২.২ গুণ বেশি, যা জোয়ার সৃষ্টির অন্যতম প্রধান কারণ।
কেন্দ্রাতিগ বল: পৃথিবী নিজের অক্ষের ওপর প্রবল বেগে ঘোরার কারণে একটি কেন্দ্রাতিগ বলের সৃষ্টি হয়, যা জলরাশিকে বাইরের দিকে ছিটকে দিতে চায়। এই বলের প্রভাবেও জোয়ার তৈরি হয়।
২. সিজিগি (Syzygy) অবস্থান বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: মহাকাশে যখন সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী একই সরলরেখায় (১৮০° কোণে) অবস্থান করে, তখন সেই বিশেষ অবস্থাকে ভূগোলের ভাষায় 'সিজিগি' বলা হয়। সিজিগি কথার অর্থ হলো একসঙ্গে থাকা। অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে এই অবস্থান দেখা যায়, এবং এর ফলেই পৃথিবীতে তীব্র জোয়ার বা ভরা কোটাল সৃষ্টি হয়।
৩. ভরা কোটাল ও মরা কোটালের মধ্যে দুটি মূল পার্থক্য লেখো।
উত্তর: তিথি: ভরা কোটাল হয় অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে। অন্যদিকে, মরা কোটাল হয় শুক্লপক্ষ ও কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে।
তীব্রতা: ভরা কোটালে চাঁদ, সূর্য ও পৃথিবী একই সরলরেখায় থাকায় জোয়ারের তীব্রতা বা জলস্ফীতি অনেক বেশি হয়। কিন্তু মরা কোটালে এরা সমকোণে অবস্থান করায় আকর্ষণ বল একে অপরকে প্রশমিত করে, ফলে জোয়ারের তীব্রতা বেশ কম থাকে।
৪. বানডাকা কাকে বলে?
উত্তর: সমুদ্রের জোয়ারের জল যখন জলোচ্ছ্বাসের আকারে নদীর মোহনা দিয়ে প্রবল বেগে ও গর্জন করতে করতে উল্টোদিকে (নদীর স্রোতের বিপরীতে) প্রবেশ করে, তখন তাকে বানডাকা বলে। এর ফলে নদীতে জলস্তর হঠাৎ অনেকটা ফুলে ওঠে। বর্ষাকালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি নদীতে মাঝে মাঝেই বান ডাকতে দেখা যায়।
'ষাঁড়াষাঁড়ির বান' বলতে কী বোঝো?
উত্তর: বর্ষাকালে নদীতে বৃষ্টির কারণে এমনিতেই প্রচুর জল থাকে। তার ওপর ভরা কোটালের সময় সমুদ্রের জল যদি অতি প্রবল বেগে নদীতে প্রবেশ করে, তখন যে ভয়ঙ্কর জলোচ্ছ্বাস তৈরি হয় তাকে ষাঁড়াষাঁড়ির বান বলে। দুটি ষাঁড়ের লড়াইয়ের সময় যেমন প্রচণ্ড গর্জন সৃষ্টি হয়, এই বান আসার সময় ঠিক তেমনই গর্জন শোনা যায় বলে এর এমন নাম দেওয়া হয়েছে।
