দশম শ্রেণির ভূগোল: উপগ্রহ চিত্র ও ভূবৈচিত্রসূচক মানচিত্র
প্রিয় ছাত্রছাত্রীরা আজকে আমরা এ পোস্টটিতে আলোচনা করব দশম শ্রেণির ভূগোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় উপগ্রহ চিত্র ও ভূবৈচিত্রসূচক মানচিত্র সম্পর্কে ।ধরো কোন অঞ্চলের বনভূমি কতটা রয়েছে বা প্রাকৃতিক উপাদান কতটা রয়েছে তোমার তা জানা দরকার আবার সেই অঞ্চলে নদী রাস্তাঘাট বসতি অর্থাৎ সাংস্কৃতিক উপাদান সম্পর্কেও তুমি জানতে চাও। এ দুই ধরনের তথ্য ও সংগ্রহে উপগ্রহ চিত্র (Satellite Image) এবং ভূবৈচিত্রসূচক মানচিত্র (Topographical Map) আমাদের ভীষণ সাহায্য করে। তবে এদের তথ্য প্রস্তাবের পদ্ধতি কিন্তু আলাদা এ অধ্যায়ে আমরা সহজ উদাহরণের সাহায্যে এই দুটো পদ্ধতি অর্থাৎ ভূবৈচিত্রসূচক মানচিত্র ও উপগ্রহ চিত্র তাদের পার্থক্য তাদের উপস্থাপন যাবতীয় বিস্তারিত জেনে নেব।
উপগ্রহ চিত্র ও ভূবৈচিত্রসূচক মানচিত্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
উপগ্রহ চিত্র কী?
কৃত্রিম উপগ্রহে স্থাপিত বিশেষ সংবেদক বা সেন্সরের সাহায্যে ভূপৃষ্ঠের বিভিন্ন বস্তু থেকে প্রতিফলিত অথবা নির্গত তড়িৎচৌম্বকীয় শক্তি সংগ্রহ করে যে ডিজিটাল চিত্র তৈরি করা হয়, তাকে উপগ্রহ চিত্র (Satellite Image) বলে।
এটি দূরসংবেদন (Remote Sensing)-এর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বিশেষ সংবেদক (Sensor) ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রতিফলিত তড়িৎচৌম্বকীয় বিকিরণ গ্রহণ করে ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহ করে এবং সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে উপগ্রহ চিত্র তৈরি করা হয়।
উপগ্রহ চিত্র ও ভূবৈচিত্রসূচক মানচিত্র
MCQ মক টেস্ট দিয়ে নিজের প্রস্তুতি যাচাই করুন
দূরসংবেদন (Remote Sensing) কী?
ভূপৃষ্ঠের কোনো বস্তুকে সরাসরি স্পর্শ না করে দূর থেকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে তার তথ্য সংগ্রহ করার পদ্ধতিকে দূরসংবেদন বলে।
তবে মনে রাখবেন, দূরসংবেদন শুধু উপগ্রহের মাধ্যমে হয় না। বিমান, ড্রোন এবং অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম থেকেও দূরসংবেদনের তথ্য সংগ্রহ করা যায়।
দূরসংবেদনের প্রধান দুটি পদ্ধতি হলো:
- বিমান চিত্র (Aerial Photograph)
- উপগ্রহ চিত্র (Satellite Image)
উপগ্রহ চিত্রের বৈশিষ্ট্য
১. ডিজিটাল প্রকৃতি:
উপগ্রহ চিত্র মূলত ডিজিটাল ডেটার সমষ্টি। আধুনিক কম্পিউটারের সাহায্যে এই তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়।
২. দিন-রাত তথ্য সংগ্রহ:
উপযুক্ত সংবেদকের মাধ্যমে দিন বা রাত উভয় সময়েই চিত্র সংগ্রহ করা সম্ভব।
৩. বিস্তীর্ণ এলাকা কভার করে:
অল্প সময়ে পৃথিবীর বৃহৎ এলাকার তথ্য পাওয়া যায়।
৪. সমান স্কেল:
উপগ্রহের উচ্চতা প্রায় স্থির থাকায় চিত্রের স্কেল সর্বত্র প্রায় সমান থাকে।
৫. দ্বিমাত্রিক চিত্র:
চিত্রে প্রধানত দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ দেখা যায়।
৬. ছদ্ম রঙের ব্যবহার:
বাস্তব রঙের পরিবর্তে বিশেষ রঙ ব্যবহার করা হয়, যাতে বিভিন্ন উপাদান সহজে শনাক্ত করা যায়।
মনে রাখবে, উপগ্রহ চিত্রে বিভিন্ন বস্তুর রং সেন্সর ও নির্বাচিত বর্ণালী ব্যান্ডের ওপর নির্ভর করে। তাই নিচের রঙের উদাহরণগুলি একটি প্রচলিত False Colour Composite- (FCC) এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; সব উপগ্রহ চিত্রের জন্য একই রং প্রযোজ্য নয়।
উপগ্রহ চিত্র অধ্যায়ের সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
উদাহরণ:
| ভূপৃষ্ঠের উপাদান | উপগ্রহ চিত্রে রং |
|---|---|
| ঘন বনভূমি | গাঢ় লাল |
| ঘাসভূমি | লাল |
| জলভাগ | নীল |
| বসতি | নীলাভ |
| জলাভূমি | গাঢ় আকাশি |
মনে রাখবে: উপগ্রহ চিত্রে বিভিন্ন ভূপৃষ্ঠের উপাদানের রং সেন্সর ও নির্বাচিত বর্ণালী ব্যান্ডের ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে। এখানে প্রদত্ত রংগুলি একটি শিক্ষণোপযোগী উদাহরণ।
৭. অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ নির্দেশিত থাকে:
চিত্রের প্রান্তে অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য দেওয়া থাকে।
উপগ্রহ চিত্রের প্রকারভেদ (Types of Satellite Images)
শক্তির উৎস ও তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে উপগ্রহ চিত্র বা দূরসংবেদন ব্যবস্থাকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা—
- নিষ্ক্রিয় দূরসংবেদন (Passive Remote Sensing)
- সক্রিয় দূরসংবেদন (Active Remote Sensing)
১. নিষ্ক্রিয় দূরসংবেদন (Passive Remote Sensing)
যে দূরসংবেদন পদ্ধতিতে সেন্সর নিজে কোনো শক্তি নির্গত করে না, বরং সূর্য থেকে আগত প্রতিফলিত তড়িৎচৌম্বকীয় শক্তি অথবা ভূপৃষ্ঠের বস্তু থেকে নির্গত শক্তি গ্রহণ করে তথ্য সংগ্রহ করে, তাকে নিষ্ক্রিয় দূরসংবেদন বা Passive Remote Sensing বলে।
এই পদ্ধতিতে ব্যবহৃত সেন্সর বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের শক্তি গ্রহণ করে ভূপৃষ্ঠের বস্তু শনাক্ত ও বিশ্লেষণ করে।
উদাহরণ:
- দৃশ্যমান আলো (Visible Light) সেন্সর।
- নিকট অবলোহিত রশ্মি (Near Infrared) সেন্সর।
- তাপীয় অবলোহিত রশ্মি (Thermal Infrared) সেন্সর।
প্রধান বৈশিষ্ট্য:
- সাধারণত সূর্যালোকের প্রতিফলিত শক্তি ব্যবহার করে তথ্য সংগ্রহ করে।
- Thermal Infrared সেন্সর বস্তুর নির্গত তাপীয় শক্তি শনাক্ত করতে পারে।
- সাধারণ অপটিক্যাল সেন্সরের ক্ষেত্রে মেঘের উপস্থিতি তথ্য সংগ্রহে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
- কৃষি, বনভূমি, ভূমি ব্যবহার ও পরিবেশ পর্যবেক্ষণে এটি গুরুত্বপূর্ণ।
📍 এক্ষেত্রে সাধারণভাবে সূর্য থেকে যে আলো আসে সে আলো কোন বস্তুর উপর পড়ে এবং প্রতিফলিত হয়ে আবার সেই সেন্সর ধরা পড়ে। তাহলে ধরো যে আকাশটা আজকে মেঘলা তাহলে সূর্যের আলো কোন বস্তুর উপর সঠিকভাবে পড়তে পারবে না সেক্ষেত্রে সেই বস্তুর প্রতিফলিত আলোকরশ্মি সেন্সার যে গ্রহণ করবে সমস্যা তৈরি হবে। তার জন্য ছবি সুস্পষ্ট হবে না।
উদাহরণ: ধরো, একটি সবুজ বনভূমির ওপর সূর্যের আলো পড়ছে। সেই আলো প্রতিফলিত হয়ে উপগ্রহের সেন্সরে পৌঁছায়। সেন্সর এই প্রতিফলিত শক্তি বিশ্লেষণ করে বনভূমির অবস্থান ও উদ্ভিদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। এটিই Passive Remote Sensing-এর একটি উদাহরণ।
২. সক্রিয় দূরসংবেদন (Active Remote Sensing)
যে দূরসংবেদন পদ্ধতিতে সেন্সর নিজেই নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের তড়িৎচৌম্বকীয় শক্তি লক্ষ্যবস্তুর দিকে প্রেরণ করে এবং বস্তু থেকে প্রতিফলিত বা ফিরে আসা শক্তি গ্রহণ ও বিশ্লেষণ করে তথ্য সংগ্রহ করে, তাকে সক্রিয় দূরসংবেদন বা Active Remote Sensing বলে।
এই পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহের জন্য সূর্যালোকের ওপর সরাসরি নির্ভর করতে হয় না।
উদাহরণ:
- রাডার (RADAR – Radio Detection and Ranging)।
- লাইডার (LiDAR – Light Detection and Ranging)।
প্রধান বৈশিষ্ট্য:
- সেন্সর নিজেই শক্তি প্রেরণ করে।
- লক্ষ্যবস্তু থেকে ফিরে আসা শক্তি বিশ্লেষণ করে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
- দিন ও রাত উভয় সময়েই তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব।
- RADAR-এর মতো মাইক্রোওয়েভ সেন্সর নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে মেঘের মধ্য দিয়েও তথ্য সংগ্রহ করতে পারে।
- ভূমির উচ্চতা নির্ণয়, বনভূমি পর্যবেক্ষণ, বন্যা বিশ্লেষণ ও ভূপ্রকৃতি অধ্যয়নে এটি ব্যবহৃত হয়।
নিজস্ব উদাহরণ: ধরো, তোমরা রাতে মোবাইলের ক্যামেরায় ছবি তুলছ। চারপাশে আলো কম থাকলেও Night Mode ব্যবহার করে অনেক সময় তুলনামূলক উজ্জ্বল ছবি পাওয়া যায়। তবে মনে রেখো, সাধারণ Night Mode নিজে থেকে আলোক তরঙ্গ পাঠায় না; বরং উপলব্ধ আলোকে কাজে লাগিয়ে সফটওয়্যারের সাহায্যে ছবি তৈরি করে।
কিন্তু Active Remote Sensing-এর ক্ষেত্রে বিষয়টি আলাদা। এখানে সেন্সর নিজেই নির্দিষ্ট ধরনের তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ পাঠায় এবং কোনো বস্তুর ওপর থেকে প্রতিফলিত বা ফিরে আসা সংকেত গ্রহণ করে। অর্থাৎ, তথ্য সংগ্রহের জন্য এটি বাইরের সূর্যালোকের ওপর সরাসরি নির্ভরশীল নয়। যেমন—RADAR নিজে থেকে মাইক্রোওয়েভ তরঙ্গ পাঠিয়ে ফিরে আসা সংকেত বিশ্লেষণ করে ভূমির বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে পারে।
একটি সহজ তুলনামূলক উদাহরণ:
সাধারণ অপটিক্যাল সেন্সর সূর্যের আলো থেকে প্রতিফলিত শক্তি গ্রহণ করে ছবি তৈরি করে। তাই ঘন মেঘের উপস্থিতিতে অনেক সময় ভূপৃষ্ঠের স্পষ্ট ছবি পাওয়া যায় না। অন্যদিকে, RADAR নিজে মাইক্রোওয়েভ শক্তি প্রেরণ করে এবং ফিরে আসা সংকেত বিশ্লেষণ করে। তাই নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে মেঘলা আবহাওয়াতেও RADAR-এর সাহায্যে ভূপৃষ্ঠের তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব।
Passive ও Active Remote Sensing-এর পার্থক্য
| তুলনার বিষয় | Passive Remote Sensing | Active Remote Sensing |
|---|---|---|
| শক্তির উৎস | প্রাকৃতিক শক্তি ব্যবহার করে | সেন্সর নিজেই শক্তি প্রেরণ করে |
| সূর্যালোকের ওপর নির্ভরতা | প্রতিফলিত আলোর ক্ষেত্রে নির্ভরশীল | সরাসরি নির্ভরশীল নয় |
| তথ্য সংগ্রহ | প্রতিফলিত বা নির্গত শক্তি গ্রহণ করে | প্রেরিত শক্তির ফিরে আসা সংকেত গ্রহণ করে |
| দিন-রাত | সেন্সরভেদে নির্ভরশীল | দিন ও রাত উভয় সময়ে সম্ভব |
| মেঘের প্রভাব | অপটিক্যাল সেন্সরে বেশি | RADAR-এ তুলনামূলক কম |
| উদাহরণ | Visible, Near Infrared, Thermal Infrared | RADAR, LiDAR |
মনে রাখবে: Passive Remote Sensing-এ সেন্সর নিজে শক্তি প্রেরণ করে না; প্রাকৃতিকভাবে উপলব্ধ শক্তি গ্রহণ করে। অন্যদিকে Active Remote Sensing-এ সেন্সর নিজেই শক্তি পাঠায় এবং ফিরে আসা সংকেত বিশ্লেষণ করে। RADAR অনেক ক্ষেত্রে মেঘের মধ্য দিয়েও তথ্য সংগ্রহ করতে পারে।
📍মনে রাখার সহজ কৌশল:
- Passive = নিজে শক্তি পাঠায় না।
- Active = নিজেই শক্তি পাঠায়।
এই পার্থক্যটি মনে রাখলে পরীক্ষায় দুটি পদ্ধতির বৈশিষ্ট্য লিখতে সুবিধা হবে।
উপগ্রহ চিত্র সংগ্রহের ধাপ
তথ্য সংগ্রহ (Data Acquisition)
- শক্তির উৎস (Energy Source)
- বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে শক্তির যাতায়াত
- লক্ষ্যবস্তুর সঙ্গে শক্তির মিথস্ক্রিয়া
- প্রতিফলিত বা নির্গত শক্তির সেন্সরে পৌঁছানো
- সেন্সরের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ
- ডিজিটাল তথ্য প্রক্রিয়াকরণ
- চিত্র প্রস্তুত ও বিশ্লেষণ
তথ্য বিশ্লেষণ (Data Interpretation)
- কৃষিক্ষেত্রে ফসলের অবস্থা পর্যবেক্ষণ।
- বনভূমি ধ্বংস ও বনাঞ্চলের পরিবর্তন নির্ণয়।
- নদীভাঙন ও উপকূলীয় পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ।
- নগরায়ণ ও জনবসতির সম্প্রসারণ বিশ্লেষণ।
- বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন।
- খরা ও জলসম্পদের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ।
উপগ্রহ চিত্রের ব্যবহার
- কৃষিক্ষেত্রে ফসলের অবস্থা পর্যবেক্ষণ।
- বনভূমি ধ্বংস ও বনাঞ্চলের পরিবর্তন নির্ণয়।
- নদীভাঙন ও উপকূলীয় পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ।
- নগরায়ণ ও জনবসতির সম্প্রসারণ বিশ্লেষণ।
- বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন।
- খরা ও জলসম্পদের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ।
ভূবৈচিত্রসূচক মানচিত্র (Topographical Map) কী?
ভূপৃষ্ঠের কোন নির্দিষ্ট অঞ্চলের সমস্ত প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক উপাদান গুলোকে নির্দিষ্ট স্কেল রং ও প্রচলিত প্রচলিত প্রতীক চিহ্নের মাধ্যমে সঠিকভাবে উপস্থাপন করে যে মানচিত্র তৈরি করা হয় তাকে ভূবৈচিত্রসূচক মানচিত্র বলে।
ভূবৈচিত্রসূচক মানচিত্র বা টোপোগ্রাফিক্যাল মানচিত্রের বৈশিষ্ট্য
1. নির্দিষ্ট স্কেল: টোপোগ্রাফিক্যাল মানচিত্র নির্দিষ্ট স্কেলে আঁকা হয়। সাধারণত 1:50,000 স্কেলে এই ধরনের মানচিত্র দেখা যায়। ধরো তুমি কলকাতা থেকে দিল্লি যাবে। তাহলে কলকাতা থেকে দিল্লির বাস্তব দূরত্ব যেটা মানচিত্রে আমরা সেটা দেখতে পাই না আর বাস্তব দূরত্ব মানচিত্রে একে দেখানো সম্ভব নয় তার জন্যই নির্দিষ্ট স্কেল ধরা হয়।
2. অবস্থানের নির্ভুলতা: অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশের সাহায্যে মানচিত্রে বিভিন্ন স্থানের ভৌগোলিক অবস্থান নির্ণয় করা যায়।
3. প্রাকৃতিক উপাদানের উপস্থাপন: এই মানচিত্রে পাহাড়, মালভূমি, নদী, জলাশয়, বনভূমি প্রভৃতি প্রাকৃতিক উপাদান দেখানো হয়।
4. সাংস্কৃতিক উপাদানের উপস্থাপন: রাস্তাঘাট, রেলপথ, সেতু, জনবসতি, কৃষিজমি প্রভৃতি মানুষের তৈরি বা মানুষের কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত উপাদান দেখানো হয়। ধরো, তোমার বাড়ির পাশ দিয়ে একটি নদী বয়ে চলেছে। এছাড়া একটি বন আছে এগুলো হলো প্রাকৃতিক উপাদান। আরেকটি সহজ ব্যাপার মনে রাখতে পারো যেগুলো মানুষ তৈরি করেনি সেগুলো প্রাকৃতিক উপাদান। আর যেগুলো মানুষ দ্বারা তৈরি কৃত যেমন রাস্তাঘাট রেললাইন ঘরবাড়ি এগুলো সব সাংস্কৃতিক উপাদান।
5. প্রচলিত সংকেত ও রঙের ব্যবহার: বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক উপাদানকে সহজে চেনানোর জন্য নির্দিষ্ট সংকেত, চিহ্ন ও রং ব্যবহার করা হয়।
6. ভূমির উচ্চতা ও ঢালের পরিচয়: সমোন্নতি রেখা বা কনটুর রেখার সাহায্যে ভূমির উচ্চতা, ঢাল এবং ভূপ্রকৃতির বৈশিষ্ট্য বোঝা যায়। এক্ষেত্রে একটা জিনিস মনে রাখা দরকার সমোন্নতি রেখা গুলো যত কাছাকাছি অবস্থান করবে তত সেখানে ভূমির ঢাল বেশি হয়ে থাকে অবস্থান করে তাহলে সাধারণত সেখানে মৃদু ঢাল যুক্ত ভূমিরূপ তৈরি হয়।
7. বিস্তারিত তথ্যের উপস্থাপন: তুলনামূলকভাবে ছোটো এলাকার প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়।
টোপো মানচিত্রে রঙের ব্যবহার

| রং | নির্দেশ করে |
|---|---|
| বাদামি | সমোন্নতি রেখা ও ভূমিরূপ |
| নীল | নদী, খাল, পুকুর |
| সবুজ | বনভূমি ও উদ্ভিদ আচ্ছাদন |
| লাল | নির্দিষ্ট বসতি ও সড়ক |
| হলুদ | নির্দিষ্ট মানচিত্রে কৃষিজমি বা খোলা ভূমি |
| কালো | রেলপথ, লেখা ও অন্যান্য নির্বাচিত চিহ্ন |
বিশেষ দ্রষ্টব্য: মানচিত্রের রঙের অর্থ প্রকাশিত মানচিত্রের Legend বা প্রচলিত সংকেতসূচি অনুযায়ী যাচাই করতে হবে। সব ভূবৈচিত্রসূচক মানচিত্রে প্রতিটি রঙের ব্যবহার একরকম নয়।
Survey of India-এর ভূমিকা
ভারতে টোপোগ্রাফিক্যাল মানচিত্র প্রস্তুত ও প্রকাশ করে Survey of India (SI)। এর সদর দপ্তর উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে অবস্থিত।

উপসংহার
উপগ্রহ চিত্র ও ভূবৈচিত্রসূচক মানচিত্র—উভয়ই ভূপৃষ্ঠ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক তথ্য জানতে সাহায্য করে। উপগ্রহ চিত্রের মাধ্যমে বিস্তীর্ণ অঞ্চলের প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা যায়। অন্যদিকে, ভূবৈচিত্রসূচক মানচিত্রের সাহায্যে কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি, নদনদী, জনবসতি, রাস্তাঘাট ও অন্যান্য ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য বিস্তারিতভাবে জানা যায়।
বর্তমানে কৃষি, বন সংরক্ষণ, নগর পরিকল্পনা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশ পর্যবেক্ষণের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই দুটি মাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে এগুলির তথ্য বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা সম্ভব।
আশা করি, এই আলোচনা থেকে তোমরা উপগ্রহ চিত্র ও ভূবৈচিত্রসূচক মানচিত্র সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেয়েছ। কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকলে কমেন্টে জানাতে পারো।
📚 অধ্যায়ের প্রস্তুতি যাচাই করো
দশম শ্রেণির ভূগোল উপগ্রহ চিত্র ও ভূবৈচিত্রসূচক মানচিত্র অধ্যায়ে বিস্তারিত আলোচনা পড়া শেষ? এবার নিজের প্রস্তুতি যাচাই করে নাও।
এই অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর, MCQ এবং পরীক্ষাভিত্তিক অনুশীলনের জন্য নিচের পোস্টটি পড়ো।
👉 [ দশম শ্রেণির ভূগোল: উপগ্রহ চিত্র ও ভূবৈচিত্রসূচক মানচিত্র গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর]
WebBhugol-এর সঙ্গে নিয়মিত অনুশীলন করো এবং নিজের প্রস্তুতিকে আরও মজবুত করে তোলো।
উপগ্রহ চিত্র ও ভূবৈচিত্রসূচক মানচিত্র (FAQ)
১. উপগ্রহ চিত্র ও ভূবৈচিত্রসূচক মানচিত্রের মধ্যে প্রধান পার্থক্য কী?
উপগ্রহ চিত্র হলো কৃত্রিম উপগ্রহের সেন্সরের সাহায্যে তোলা ভূপৃষ্ঠের ডিজিটাল ছবি, যা প্রতিনিয়ত আপডেট হয়। অন্যদিকে, ভূবৈচিত্রসূচক (টোপোগ্রাফিক্যাল) মানচিত্র হলো মাঠ পর্যায়ে জরিপ করে নির্দিষ্ট স্কেলে কাগজে আঁকা মানচিত্র, যা সহজে আপডেট করা যায় না।
২. দূরসংবেদন বা রিমোট সেন্সিং (Remote Sensing) কাকে বলে?
ভূপৃষ্ঠের কোনো বস্তুকে সরাসরি স্পর্শ না করে, দূর থেকে (যেমন— উপগ্রহ বা বিমানের সাহায্যে) বৈজ্ঞানিক উপায়ে সংবেদক বা সেন্সরের মাধ্যমে সেই বস্তু সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করার পদ্ধতিকে দূরসংবেদন বা রিমোট সেন্সিং বলে।
৩. উপগ্রহ চিত্রে ছদ্ম রঙ (False Colour) কেন ব্যবহার করা হয়?
উপগ্রহ চিত্রে ভূপৃষ্ঠের বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক উপাদানকে (যেমন— বনভূমি, কৃষিকাজ, জলাশয়) স্পষ্টভাবে আলাদা করে শনাক্ত করার জন্য বাস্তব রঙের পরিবর্তে বিশেষ রং ব্যবহার করা হয়, একেই ছদ্ম রঙ বা False Colour Composite (FCC) বলে।
৪. টোপোগ্রাফিক্যাল মানচিত্রে লাল ও নীল রঙ কী নির্দেশ করে?
টোপোগ্রাফিক্যাল বা ভূবৈচিত্রসূচক মানচিত্রে লাল রঙ প্রধানত জনবসতি, পাকা রাস্তা এবং বিভিন্ন স্থাপত্য (যেমন— মন্দির) বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। আর নীল রঙ দিয়ে নদী, জলাশয়, খাল এবং বারোমাসি জলধারা নির্দেশ করা হয়।
৫. ভারতে ভূবৈচিত্রসূচক মানচিত্র কারা প্রস্তুত করে?
ভারতে ভূবৈচিত্রসূচক বা টোপোগ্রাফিক্যাল মানচিত্র প্রস্তুত ও প্রকাশ করার দায়িত্ব ‘সার্ভে অফ ইন্ডিয়া’ (Survey of India বা SOI)-এর ওপর ন্যস্ত। এর সদর দপ্তর উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে অবস্থিত