CLASS VI-VIII GEOGRAPHYClass 7

সপ্তম শ্রেণির ভূগোল: পঞ্চম অধ্যায় নদী – প্রশ্ন ও উত্তর | WebBhugol

সকলকে WebBhugol.com স্বাগতম। সপ্তম শ্রেণির ভূগোল বিষয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো ‘নদী‘ (Chapter 5)। আসন্ন পরীক্ষার প্রস্তুতির সুবিধার্থে ও ভালো ফলাফলের জন্য, এই পোস্টে আমরা উক্ত অধ্যায়ের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ MCQ, শর্ট প্রশ্ন, শূন্যস্থান পূরণ এবং ব্যাখ্যাধর্মী প্রশ্ন-উত্তর নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। দ্রুত রিভিশন এবং পরীক্ষায় ভালো ফল করতে এই পোস্টটি তোমাদের অত্যন্ত সাহায্য করবে।

Table of Contents

১. সাধারণত নদীর উৎপত্তি বা উৎস কোথায় হয়?
(ক) সমভূমি অঞ্চলে
(খ) সাগর বা উপসাগরে
(গ) পাহাড়-পর্বত বা মালভূমির মতো উঁচু জায়গায়
(ঘ) হ্রদ বা জলাশয়ে
✅ সঠিক উত্তর: (গ) পাহাড়-পর্বত বা মালভূমির মতো উঁচু জায়গায়

২. গঙ্গা নদীর মোহনা কোথায় অবস্থিত?
(ক) আরব সাগর
(খ) বঙ্গোপসাগর
(গ) ভারত মহাসাগর
(ঘ) খাম্বাত উপসাগর
✅ সঠিক উত্তর: (খ) বঙ্গোপসাগর

৩. পৃথিবীর দীর্ঘতম নদী কোনটি?
(ক) আমাজন
(খ) ইয়াংসি
(গ) মিসিসিপি
(ঘ) নীল
✅ সঠিক উত্তর: (ঘ) নীল (৬,৬৫০ কিমি)

৪. যে অঞ্চলের জল দ্বারা মূল নদী ও তার উপনদীগুলো সৃষ্টি হয়, তাকে কী বলে?
(ক) জলবিভাজিকা
(খ) ধারণ অববাহিকা
(গ) ব-দ্বীপ
(ঘ) প্লাবনভূমি
✅ সঠিক উত্তর: (খ) ধারণ অববাহিকা

৫. উঁচু পাহাড়ি অঞ্চল যা বৃষ্টির জলকে বিভিন্ন দিকে ভাগ করে দেয়, তাকে কী বলা হয়?
(ক) জলবিভাজিকা
(খ) উপনদী
(গ) ধারণ অববাহিকা
(ঘ) শাখানদী
✅ সঠিক উত্তর: (ক) জলবিভাজিকা

৬. মূল নদী থেকে যে সমস্ত নদী শাখার মতো বেরিয়ে অন্য কোথাও গিয়ে মেশে, তাদের কী বলে?
(ক) উপনদী
(খ) অন্তর্বাহিনী নদী
(গ) শাখানদী
(ঘ) আন্তর্জাতিক নদী
✅ সঠিক উত্তর: (গ) শাখানদী

৭. যে সমস্ত নদীতে সারা বছর জল থাকে, তাদের কী বলা হয়?
(ক) অনিত্যবহ নদী
(খ) নিত্যবহ নদী
(গ) অন্তর্বাহিনী নদী
(ঘ) আন্তর্জাতিক নদী
✅ সঠিক উত্তর: (খ) নিত্যবহ নদী

৮. ভারতের একটি অন্তর্বাহিনী নদীর উদাহরণ হলো—
(ক) গঙ্গা
(খ) ব্রহ্মপুত্র
(গ) গোদাবরী
(ঘ) লুনি
✅ সঠিক উত্তর: (ঘ) লুনি

৯. একাধিক দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নদীকে কী নদী বলা হয়?
(ক) অন্তর্বাহিনী নদী
(খ) নিত্যবহ নদী
(গ) আন্তর্জাতিক নদী
(ঘ) অনিত্যবহ নদী
✅ সঠিক উত্তর: (গ) আন্তর্জাতিক নদী

১০. নদীর উচ্চপ্রবাহে (পার্বত্য অঞ্চলে) নদীর প্রধান কাজ কী?
(ক) বহন
(খ) সঞ্চয়
(গ) ক্ষয়
(ঘ) ক্ষয় ও সঞ্চয়
✅ সঠিক উত্তর: (গ) ক্ষয়

১১. শুষ্ক অঞ্চলে নদীর সুগভীর গিরিখাতকে কী বলা হয়?
(ক) ক্যানিয়ন
(খ) জলপ্রপাত
(গ) ব-দ্বীপ
(ঘ) অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ
✅ সঠিক উত্তর: (ক) ক্যানিয়ন

১২. নদীর মধ্যপ্রবাহে নদীর বাঁকের কোনো অংশ মূল নদী থেকে আলাদা হয়ে গেলে তাকে কী বলে?
(ক) ক্যানিয়ন
(খ) জলপ্রপাত
(গ) প্লাবনভূমি
(ঘ) অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ
✅ সঠিক উত্তর: (ঘ) অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ

১৩. নদীর নিম্নপ্রবাহে মোহনার কাছে সঞ্চয় কাজের ফলে গ্রিক অক্ষর ‘ডেল্টা’ বা △-এর মতো সৃষ্ট ভূমিরূপকে কী বলে? 🔺
(ক) প্লাবনভূমি
(খ) অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ
(গ) ব-দ্বীপ
(ঘ) গিরিখাত
✅ সঠিক উত্তর: (গ) ব-দ্বীপ

১৪. পৃথিবীর বৃহত্তম নদী কোনটি, যার মোহনায় কোনো ব-দ্বীপ গড়ে ওঠেনি?
(ক) নীল
(খ) আমাজন
(গ) হোয়াংহো
(ঘ) গঙ্গা
✅ সঠিক উত্তর: (খ) আমাজন

১৫. নদীর কাজ প্রধানত কয়টি ও কী কী?
(ক) ১টি (কেবল ক্ষয়)
(খ) ২টি (ক্ষয় ও সঞ্চয়)
(গ) ৩টি (ক্ষয়, বহন ও সঞ্চয়)
(ঘ) ৪টি (ক্ষয়, বহন, সঞ্চয় ও প্লাবন)
✅ সঠিক উত্তর: (গ) ৩টি (ক্ষয়, বহন ও সঞ্চয়)

১. যমুনা, গোমতী, ঘর্ঘরা, কোশী, গণ্ডক প্রভৃতি নদীগুলো হলো গঙ্গার _________।

২. গঙ্গোত্রী হিমবাহের _________ থেকে ভারতের প্রধান নদী গঙ্গার উৎপত্তি হয়েছে।

৩. মানচিত্রে অনিত্যবহ নদী বা যে সমস্ত নদীতে সারা বছর জল থাকে না, তাদের _________ রঙে দেখানো হয়।

৪. ভারতের প্রধান নদী গঙ্গার উচ্চপ্রবাহ গোমুখ থেকে শুরু হয়ে _________ পর্যন্ত বিস্তৃত।

৫. নদীর গতিপথে শক্ত আর নরম পাথর অনুভূমিকভাবে থাকলে, নদী নরম পাথরকে বেশি ক্ষয় করে নীচে ঝাঁপিয়ে পড়ে _________ সৃষ্টি করে।

৬. নদীর নিম্নপ্রবাহে দু-ধারের বিস্তীর্ণ জমিতে বন্যার সময় পলি সঞ্চিত হয়ে উর্বর _________ সৃষ্টি করে।

৭. নদীর তীরেই প্রাচীন সভ্যতাগুলি গড়ে উঠেছিল, যেমন— নীল নদের তীরে _________ সভ্যতা।

৮. শহর ও শিল্পাঞ্চলের বর্জ্য জল নদীতে অবাধে মিশে যাওয়ার ফলে নদীর জল ক্রমশ _________ হয়ে যাচ্ছে।

৯. উচ্চপ্রবাহে প্রবল ক্ষয়ের ফলে সরু ও গভীর নদী উপত্যকা দেখতে অনেকটা ইংরেজি _________ অক্ষরের মতো হয়।

১০. মধ্যপ্রবাহে ভূমির ঢাল কমে যাওয়ার কারণে নদী অত্যন্ত আঁকাবাঁকা পথে বা _________ প্রবাহিত হয়।


Class 7 নদী ONLINE MOCK TEST

সপ্তম শ্রেণির অধ্যায় পঞ্চম: নদী

10 টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন বিগত বছরগুলিতে পরীক্ষায় পড়েছে

১. ভাগীরথী-হুগলী হলো গঙ্গা নদীর একটি প্রধান উপনদী।
❌ উত্তর: ভুল — সঠিক তথ্য: ভাগীরথী-হুগলী গঙ্গার প্রধান শাখানদী, উপনদী নয়।

২. আমাজন নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৬,৪০০ কিলোমিটার এবং এটি দক্ষিণ আমেরিকায় অবস্থিত।
✅ উত্তর: ঠিক — সঠিক তথ্য: আমাজন নদী প্রায় ৬,৪০০ কিমি দীর্ঘ এবং দক্ষিণ আমেরিকায় অবস্থিত।

৩. গঙ্গা নদীর মধ্যপ্রবাহ হরিদ্বার থেকে শুরু হয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের মিঠিপুর পর্যন্ত বিস্তৃত।
✅ উত্তর: ঠিক — সঠিক তথ্য: গঙ্গার মধ্যপ্রবাহ হরিদ্বার থেকে মিঠিপুর পর্যন্ত বিস্তৃত।

৪. নদীর বাঁকের খাড়াপাড়ের দিকে জলস্রোত কম থাকে এবং সেখানে সঞ্চয়কাজ বেশি হয়।
❌ উত্তর: ভুল — সঠিক তথ্য: খাড়াপাড়ে জলস্রোত বেশি থাকে এবং ঢালুপাড়ে সঞ্চয় বেশি হয়।

৫. নদীর নিম্নপ্রবাহে উপনদীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি থাকে।
❌ উত্তর: ভুল — সঠিক তথ্য: নিম্নপ্রবাহে উপনদী প্রায় থাকে না, বরং শাখানদী সৃষ্টি হয়।

৬. বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য নদীর পাড়ে কৃত্রিম বাঁধ তৈরি করলে তা সব সময়ই চিরস্থায়ী সুফল বয়ে আনে।
❌ উত্তর: ভুল — সঠিক তথ্য: কৃত্রিম বাঁধ সাময়িক সুফল দিলেও পরে অনেক সময় ভয়াবহ বন্যা সৃষ্টি করতে পারে।

৭. নদীর মধ্যপ্রবাহে নদীর স্রোত কমে যাওয়ার ফলে নদীখাতের মধ্যে পলি ও বালি জমে অনেক সময় নদী-দ্বীপ তৈরি হয়।
✅ উত্তর: ঠিক — সঠিক তথ্য: স্রোত কমে গেলে পলি জমে নদী-দ্বীপ (চর) তৈরি হয়।

৮. টাইগ্রিস-ইউফ্রেটিস নদীর তীরে প্রাচীন সুমেরীয় সভ্যতা গড়ে উঠেছিল।
✅ উত্তর: ঠিক — সঠিক তথ্য: এই নদীদ্বয়ের তীরেই প্রাচীন সুমেরীয় সভ্যতার বিকাশ হয়েছিল।

৯. কৃষিকাজে অতিরিক্ত সেচের জলের জোগান দিতে গিয়ে অনেক নদী ক্রমশ শুকিয়ে যাচ্ছে।
✅ উত্তর: ঠিক — সঠিক তথ্য: অতিরিক্ত জল ব্যবহারের ফলে অনেক নদীর জলপ্রবাহ কমে যাচ্ছে।

১০. গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রের মিলিত ব-দ্বীপ সমভূমি হলো একটি ব-দ্বীপের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উদাহরণ।
✅ উত্তর: ঠিক — সঠিক তথ্য: গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র ব-দ্বীপ পৃথিবীর বৃহত্তম ও শ্রেষ্ঠ ব-দ্বীপগুলোর একটি।

১. প্রশ্ন: মালভূমি বা কম উঁচু জায়গায় সৃষ্টি হওয়া নদীগুলির জলের প্রধান উৎস কী?

উত্তর: বৃষ্টির জল।

২. প্রশ্ন: বাঁকুড়া জেলার গন্ধেশ্বরী কীরূপ নদীর একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ?

উত্তর: অনিত্যবহ নদী।

৩. প্রশ্ন: ইউরোপ মহাদেশের রাইন ও দানিয়ুব নদী দুটিকে কী ধরনের নদী বলা হয়?

উত্তর: আন্তর্জাতিক নদী।

৪. প্রশ্ন: নদীতে জলের পরিমাণ, জলের গতিবেগ এবং ভূমির ঢালের ওপর নদীর কোন বিষয়টি সবচেয়ে বেশি নির্ভর করে?

উত্তর: নদীর শক্তি।

৫. প্রশ্ন: নদীর জলস্রোতের প্রবল ধাক্কায় মাটি, বালি, নুড়ি ও পাথর চূর্ণ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে কী বলে?

উত্তর: নদীর ক্ষয়কাজ।

৬. প্রশ্ন: নদীর স্রোতের সঙ্গে নুড়ি, বালি ও পলি উঁচু স্থান থেকে নীচের দিকে বয়ে চলার কাজকে নদীর কোন কাজ বলা হয়?

উত্তর: নদীর বহনকাজ।

৭. প্রশ্ন: ভারতের পশ্চিমঘাট পর্বতে অবস্থিত 'যোগ' জলপ্রপাতটির উচ্চতা কত?

উত্তর: ২৬০ মিটার।

৮. প্রশ্ন: পেরুর 'ক্যানন দ্য কলকা' (Colca Canyon) মূলত কোন ধরনের সুগভীর নদী উপত্যকার উদাহরণ?

উত্তর: ক্যানিয়ন।

৯. প্রশ্ন: চীনের হোয়াংহো নদীর নিম্নগতিতে নদীর কোন কাজের ফলে সুবিস্তৃত ও উর্বর প্লাবনভূমি সৃষ্টি হয়েছে?

উত্তর: সঞ্চয়কাজ।

১০. প্রশ্ন: প্রাচীনকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সিন্ধু সভ্যতা কোন নদীর তীরে গড়ে উঠেছিল?

উত্তর: সিন্ধু নদের তীরে।

১. নদীর উৎস ও মোহনা বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: নদী যেখান থেকে সৃষ্টি হয়, সেই জায়গাকে নদীর উৎস বলে। সাধারণত পাহাড়-পর্বত বা মালভূমির মতো কোনো উঁচু জায়গায় নদীর উৎপত্তি হয় (যেমন— গঙ্গোত্রী হিমবাহের গোমুখ)। অন্যদিকে, নদী প্রবাহিত হয়ে শেষে যে সাগর, হ্রদ বা অন্য কোনো নদীতে গিয়ে মেশে, সেই শেষ হওয়ার জায়গাকে নদীর মোহনা বলে (যেমন— বঙ্গোপসাগর হলো গঙ্গার মোহনা)।

একটি নদীর পূর্ণাঙ্গ জীবনচক্র উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত দেখানো হয়েছে। এটি একটি শিক্ষামূলক ইনফোগ্রাফিক যেখানে উচ্চপ্রবাহ (পার্বত্য অঞ্চল), মধ্যপ্রবাহ (সমভূমি) ও নিম্নপ্রবাহ (ব-দ্বীপ অঞ্চল) এর লেবেলগুলো বাংলায় করা হয়েছে। এতে নদীর কাজ, গিরিখাত, জলপ্রপাত, প্লাবনভূমি, মোহনা, বঙ্গোপসাগর, ব-দ্বীপ ও অন্যান্য ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।"

২. ধারণ অববাহিকা কাকে বলে?

উত্তর: পর্বতের বরফগলা জল বা বৃষ্টির জল অসংখ্য ছোটো ছোটো জলধারার মাধ্যমে বয়ে গিয়ে বড়ো নদী তৈরি করে। যে বিশাল অঞ্চলের জল এসে একটি মূল নদী ও তার উপনদীগুলোতে পড়ে বা ধারণ করে, সেই পুরো অঞ্চলটিকেই ওই নদীর ধারণ অববাহিকা বলা হয়।

৩. জলবিভাজিকা বলতে কী বোঝো?

উত্তর: উঁচু পাহাড়ি অঞ্চলে যখন বৃষ্টি হয়, তখন বৃষ্টির জল পাহাড়ের চূড়ায় বা শীর্ষভাগে বাধা পেয়ে ভূমির ঢাল বরাবর বিভিন্ন দিকে ভাগ হয়ে গড়িয়ে যায়। পাহাড়ের এই উঁচু চূড়া বা শিরা, যা জলকে এভাবে দু'দিকে বা বিভিন্ন দিকে ভাগ করে দেয়, তাকেই জলবিভাজিকা বলে।

৪. উপনদী ও শাখানদীর মধ্যে মূল পার্থক্য কোথায়?

উত্তর: যে নদী অন্য কোনো উৎস থেকে সৃষ্টি হয়ে এসে একটি বড়ো মূল নদীতে মেশে, তাকে উপনদী বলে (যেমন— যমুনা হলো গঙ্গার উপনদী)। অন্যদিকে, মূল নদী থেকে যে নদী শাখার মতো বেরিয়ে গিয়ে অন্য কোথাও গিয়ে মেশে, তাকে শাখানদী বলে (যেমন— ভাগীরথী-হুগলী হলো গঙ্গার শাখানদী)।

৫. নিত্যবহ ও অনিত্যবহ নদী কাকে বলে?

উত্তর: যেসব নদী উঁচু পর্বতের বরফগলা জলে পুষ্ট হওয়ায় সারা বছর ধরে জল থাকে, তাদের নিত্যবহ নদী বলে (যেমন— গঙ্গা নদী)। আর যেসব নদী শুধু বৃষ্টির জলে পুষ্ট হওয়ায় বর্ষাকাল ছাড়া সারা বছর প্রায় জল থাকে না, তাদের অনিত্যবহ নদী বলে (যেমন— বাঁকুড়ার গন্ধেশ্বরী নদী)।

৬. অন্তর্বাহিনী নদী বলতে কী বোঝো? একটি উদাহরণ দাও।

উত্তর: যে নদী কোনো একটি দেশের মধ্যেই উৎপন্ন হয়ে প্রবাহিত হওয়ার পর সেই দেশেরই কোনো হ্রদ বা জলাশয়ে গিয়ে শেষ হয় (সাগরে মেশে না), তাকে অন্তর্বাহিনী নদী বলা হয়। ভারতের রাজস্থানের 'লুনি' হলো একটি বিখ্যাত অন্তর্বাহিনী নদীর উদাহরণ।

৭. নদীর প্রধান কাজগুলো কী কী?

উত্তর: জলের পরিমাণ, গতিবেগ ও ভূমির ঢাল থেকে পাওয়া শক্তির ওপর ভিত্তি করে একটি নদী প্রধানত তিনটি কাজ করে থাকে:

  • ক্ষয়কাজ: জলের স্রোতের ধাক্কায় মাটি, বালি বা পাথর ভেঙে চূর্ণ করা।
  • বহনকাজ: স্রোতের সঙ্গে সেই ভাঙা নুড়ি, পাথর, পলি বয়ে নিয়ে যাওয়া।
  • সঞ্চয়কাজ: স্রোত কমে গেলে সেই পলি ও বালি নদীখাতে বা দু'পাশে জমা করা।

৮. অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ কীভাবে সৃষ্টি হয়?

উত্তর: নদীর মধ্যপ্রবাহে ভূমির ঢাল কমে যাওয়ায় নদী খুব এঁকেবেঁকে চলে। নদীর এই বাঁকের পরিমাণ খুব বেড়ে গেলে বা নদীতে হঠাৎ জল বাড়লে, অনেক সময় নদীর বাঁকা অংশটি মূল নদী থেকে আলাদা হয়ে যায়। ঘোড়ার খুরের মতো দেখতে এই আলাদা হয়ে যাওয়া জলাশয়টিকেই অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ বলে।

৯. ব-দ্বীপ কীভাবে তৈরি হয়?

উত্তর: নদীর নিম্নপ্রবাহে বা মোহনার কাছে স্রোত একদম কমে যাওয়ায় নদীর বয়ে আনা পলি, বালি সব জমে মোহনায় চড়া তৈরি হয়। এর ফলে নদীর জল বিভিন্ন দিকে ভাগ হয়ে সমুদ্রে পড়ার সময় নদী ও সাগরের সংযোগস্থলে মাত্রাহীন 'ব' বা গ্রিক অক্ষর ডেল্টা (△)-এর মতো যে দ্বীপ তৈরি হয়, তাকেই ব-দ্বীপ বলে।

১০. মানুষের কোন কোন কাজ নদীর স্বাভাবিক ছন্দকে নষ্ট করছে?

উত্তর: বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য যথেচ্ছভাবে কৃত্রিম বাঁধ তৈরির ফলে নদীতে পলি জমে নদীর স্বাভাবিক নাব্যতা কমে যাচ্ছে। এছাড়া কৃষিকাজে সেচের জন্য অতিরিক্ত জল তুলে নেওয়ায় নদী শুকিয়ে যাচ্ছে এবং শহর ও কারখানার দূষিত বর্জ্য জল নদীতে অবাধে মিশে নদীর জলকে বিষাক্ত করে তুলছে।

সপ্তম শ্রেণির ভূগোলের আগের অধ্যায়গুলোর প্রশ্ন-উত্তর

১ম অধ্যায় : পৃথিবীর পরিক্রমণ 👉 Click Here

২য় অধ্যায় : ভূপৃষ্ঠের কোনো স্থানের অবস্থান নির্ণয় 👉 Click Here

চতুর্থ অধ্যায়: ভূমিরূপ প্রশ্ন উত্তর 👉 Click Here

❓FAQ : নদী অধ্যায়

উপনদী এবং শাখানদীর মধ্যে মূল পার্থক্য কী?

উত্তর: অন্য কোনো উৎস থেকে সৃষ্টি হয়ে যে নদী মূল নদীতে এসে মেশে, তাকে বলে উপনদী (যেমন: যমুনা)। আর মূল নদী থেকে যে নদী শাখার মতো বেরিয়ে গিয়ে অন্য কোথাও মিশে যায়, তাকে বলে শাখানদী (যেমন: ভাগীরথী-হুগলী)।

সব নদীতে সারাবছর জল থাকে না কেন?

উত্তর: যেসব নদী কেবল বৃষ্টির জলে পুষ্ট, সেগুলোতে সারাবছর জল থাকে না। গ্রীষ্মকালে বা বৃষ্টির অভাবে এই নদীগুলো শুকিয়ে যায়। এদের অনিত্যবহ নদী বলা হয়।

গঙ্গা নদীকে কেন আদর্শ নদী বলা হয়?

উত্তর: গঙ্গা নদীর গতিপথে উচ্চগতি (পার্বত্য প্রবাহ), মধ্যগতি (সমভূমি প্রবাহ) এবং নিম্নগতি (ব-দ্বীপ প্রবাহ)—এই তিনটি পর্যায়ই খুব স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যায়। তাই গঙ্গাকে একটি আদর্শ নদী বলা হয়।

নদীর উচ্চগতিতে 'V' আকৃতির উপত্যকা কেন তৈরি হয়?

উত্তর: নদীর উচ্চগতিতে বা পার্বত্য অঞ্চলে ভূমির ঢাল খুব বেশি থাকে, ফলে নদীর স্রোত ও শক্তি প্রবল হয়। এই সময় নদী নীচের দিকে বেশি ক্ষয় (নিম্নক্ষয়) করে বলে উপত্যকা দেখতে ইংরেজি 'V' অক্ষরের মতো গভীর ও সংকীর্ণ হয়।

পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ কোনটি?

উত্তর: ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তে অবস্থিত গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র নদীর মিলিত ব-দ্বীপ হলো পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ।

মিয়েন্ডার (Meander) বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: নদীর মধ্যপ্রবাহে ভূমির ঢাল কমে যাওয়ায় নদী সরাসরি না চলে সাপের মতো এঁকেবেঁকে প্রবাহিত হয়। নদীর এই আঁকাবাঁকা পথকেই বলা হয় মিয়েন্ডার।

নদী দূষণ রোধে আমাদের কী করণীয়?

উত্তর: নদীর জল দূষণমুক্ত রাখতে শহর ও কলকারখানার বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলা বন্ধ করতে হবে। এছাড়া প্লাস্টিক বর্জন এবং নদীর পাড়ে শৌচাগার তৈরি না করার মাধ্যমে আমরা নদীকে বাঁচাতে পারি।

Please Share

One thought on “সপ্তম শ্রেণির ভূগোল: পঞ্চম অধ্যায় নদী – প্রশ্ন ও উত্তর | WebBhugol

  • Anwesha

    It’s very helpful, a little suggestion :
    Can you give pictures for long question

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!