হিমবাহের কাজ দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ

1.হিমবাহ কি?
Ans: হিমবাহ হল বরফের নদী ৷ বিশালাকার বরফ স্তুপ অভিকর্ষের টানে ধীরে ধীরে নিচের দিকে নেমে এলে তাকে হিমবাহ বলে ৷

অবস্থান অনুসারে হিমবাহ কে তিন ভাগে ভাগ করা যায় ৷ যথা-

  • i.মহাদেশীয় হিমবাহ
  • ii.পার্বত্য হিমবাহ
  • iii.পাদদেশীয় হিমবাহ ৷

i.মহাদেশীয় হিমবাহ : উচ্চ অক্ষাংশে মহাদেশ জুড়ে বিশাল আকার বরফের স্তুপই হল মহাদেশীয় হিমবাহ ৷ আন্টার্কটিকার ল্যাম্বার্ট পৃথিবীর বৃহত্তম মহাদেশীয় হিমবাহ।

ii.পার্বত্য হিমবাহ বা উপত্যকা হিমবাহ:
উচ্চ পর্বত বা পর্বতের উপত্যাকায় দীর্ঘকাল ধরে তুষার জমে বরফে পরিণত হলে তা যখন অভিকর্ষ টানের নেমে আসে তখন তাকে পার্বত্য উপত্যকা হিমবাহ বলা হয় ৷আলাস্কার হুবার্ড পৃথিবীর বৃহত্তম পার্বত্য হিমবাহ ৷ ভারতের দীর্ঘতম পার্বত্য হিমবাহ সিয়াচেন ৷

iii.পাদদেশীয় হিমবাহ:
পার্বত্য অঞ্চল থেকে হিমবাহ যখন নিচের দিকে নেমে পর্বতের পাদদেশে অঞ্চলে বিস্তৃত হয় তখন তাকে পাদদেশীয় হিমবাহ বলে ৷
আলাস্কার মালাস্পিনা বৃহত্তম পাদদেশীয় হিমবাহ ৷

2.হিমরেখা কাকে বলে?
Ans: যে সীমারেখার উপরে অত্যাচার শীতলতার জন্য সারা বছরই জল জমে বরফে পরিণত হয়ে থাকে এবং যে সীমা রেখার নিচে উত্তাপে তুষার গলে জলে পরিণত হয় সেই সীমারেখাকে হিমরেখা বলে ৷
নিরক্ষীয় অঞ্চলে 5500 মিটার, হিমালয় পর্বতে 4500 মিটার ,আল্পস পর্বতে 2500 মিটার উচ্চতায় , মেরু অঞ্চলে সমুদ্র সমতলে হিমরেখা অবস্থান করে ৷

3.হিমশৈল কি?
Ans: মহাদেশীয় হিমবাহ যখন বিস্তৃত হয়ে সমুদ্রের নিকটে চলে আসে এবং সমুদ্রস্রোত ও তরঙ্গের ধাক্কায় প্রান্তভাগ ভেঙে গিয়ে জলে ভাসতে থাকে ৷ এক কথায় সমুদ্রের জলে ভাসমান বিশাল আকার বরফের চাঁই বা স্তুপকে হিমশৈল বলে ৷ হিমশৈলের মাত্র 1/9 অংশ জলের উপর ভেসে থাকে ৷

4.হিমবাহের ক্ষয়কার্যের পদ্ধতি গুলি লেখ ?
Ans: হিমবাহ মূলত দুটি পদ্ধতিতে ক্ষয়কার্য করে থাকে ৷ যথা- উৎপাটন ও অবঘর্ষ ৷
i.উৎপাটন : প্রবাহমান হিমবাহের চাপে যখন পর্বতগাত্র থেকে ছোট ছোট শিলাখণ্ড খুলে বেরিয়ে আসে অর্থাৎ উৎপাটিত হয় ,তখন তাকে উৎপাটন বলে ৷
ii.অবঘর্ষ : হিমবাহের মধ্যে বিভিন্ন আকৃতির উৎপাটিত জমাট বাঁধা শিলাখণ্ড চলতে শুরু করলে ঐ সকল প্রস্তরখন্ড তলদেশের ভূমিরূপ বা শিলাস্তরের উপর ঘর্ষণের ফলে শিলাস্তরকে ক্ষয় করে, একে অবঘর্ষ বলে ৷এর ফলে ভূমি ভাগ ধীরে ধীরে মসৃণ হয় ৷

5.ভ্যালি ট্রেন কি ?
Ans:বহিঃবিধৌত সমভূমি নদী দ্বারা ব্যবচ্ছিন্ন হলে তাকে ভ্যালি ট্রেন বলে

6.হিমানী সম্প্রপাত কি ?
Ans: পার্বত্য অঞ্চলে প্রবাহমান হিমবাহ থেকে বিপুল পরিমাণ বরফ রাশি ভেঙে গিয়ে প্রচণ্ড বেগে পাদদেশীয় অঞ্চলে আছড়ে পড়লে তাকে হিমানী সম্প্রপাত বলে৷এককথায় বরফের ধ্বস বলা হয় ৷

7.নদী উপত্যকা হিমবাহ উপত্যকার মধ্যে পার্থক্য কী?

নদী উপত্যকাহিমবাহ উপত্যকা
নদী উপত্যকার আকৃতি ইংরেজি V অক্ষরের মতোহিমবাহ উপত্যকা আকার-আকৃতি U ইংরেজি অক্ষরের মত
নদী উপত্যকার ক্রমবিকাশ পার্বত্য অঞ্চল ছাড়া অন্যত্র দেখা যায়হিমবাহ উপত্যকার ক্রমবিকাশ কেবলমাত্র পার্বত্য অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ
নদী উপত্যকার ঢাল তির্যক প্রকৃতিরহিমবাহ উপত্যকার ঢাল অত্যন্ত খাড়া
নদী উপত্যকার ক্ষেত্রে পার্শ্ব হয় কম নিম্ন ক্ষয় বেশি হয়হিমবাহ উপত্যকার ক্ষেত্রে পার্শ্ব ক্ষয় ও নিম্ন খাই উভয়ই সমান
নদী উপত্যকা সংলগ্ন স্থানে জনবসতি গড়ে ওঠেহিমবাহ উপত্যকা কোন স্থানে জনবসতি গড়ে ওঠে না

8.ঝুলন্ত উপত্যকায় জলপ্রপাত গড়ে ওঠে কেন ?
Ans: অনেক সময় প্রধান হিমবাহ এর সঙ্গে অনেক ক্ষুদ্র উপ- হিমবাহ এসে মিলিত হয় ৷ উপ হিমবাহের তুলনায় প্রধান হিমবাহ অধিক ক্ষয় কাজ করে , ফলে প্রধান হিমবাহ উপত্যকা অধিক গভীর ও প্রশস্ত হয় এবং উপপ্রধান হিমবাহ উপত্যকা গুলিকে প্রধান হিমবাহ উপত্যকার উপর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় অবস্থান করতে দেখা যায় অর্থাৎ দুই উপত্যকার মিলনস্থলে উচ্চতার পার্থক্য লক্ষ্য করা যায় ফলে এই উচ্চতার পার্থক্যের জন্য পরবর্তীকালে ওই অঞ্চলের উপর দিয়ে কোন নদী বয়ে গেলে ঝুলন্ত উপত্যকার নিচে জলপ্রপাত সৃষ্টি হয় ৷ উদাহরণ আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ওসেমিতি একটি ঝুলন্ত উপত্যকায় সৃষ্ট জলপ্রপাত ৷

9.বার্গস্রুন্ড ও ক্রেভাস পর্বতারোহীদের কাছে বিপদজনক কেন?
Ans: বার্গস্রুন্ড হিমবাহের পৃষ্ঠদেশে থেকে তলদেশ পর্যন্ত প্রসারিত হয় সাধারণত রাত্রে সংঘটিত তুষারপাতের ফলে ফাটলের মুখগুলি বন্ধ হয়ে যায় ফলে দিনের বেলায় পর্বতারোহীরা উক্ত স্থানে ফাটল চিহ্নিত করতে সঠিকভাবে পারেন না সৃষ্টি হয় অন্য সময়ে গুলি পাতলা বরফের স্তর দ্বারা ভরাট হয়ে থাকে ফলে এগুলি দূর থেকে দেখে বোঝার উপায় থাকেনা তাই বাঘ সম্পর্কে রিভার্স গুলিকে পর্বতারোহীদের মৃত্যুফাঁদও বলা হয়I

10.হিমবাহের সঞ্চয়জাত প্রধান ভূমিরূপ কোনটি?

Ans: গ্রাবরেখা

11.পৃথিবীর গভীরতম ফিয়র্ড এর নাম কি ?

Ans:নরওয়ের সজনে


12.হিমবাহ সঞ্চয় কার্যের ফলে সৃষ্ট উল্টানো নৌকার ন্যায় ভূমিরূপের নাম কি ?

Ans:ড্রামলিন

হিমবাহ MCQ SAQ

ভারতের বৃহত্তম হিমবাহ হল
গঙ্গোত্রী সিয়াচেন যমুনেত্রী হুবার্ড
হিমদ্রোণী আকৃতি হল
নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন বহিঃবিধৌত সমভূমি কে বলে ভ্যালিট্রেন ক্রেভাস ওয়াতেন ভার্ব
হিমবাহের সঞ্চয় কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপ
এসকার রসেমতানে ঝুলন্ত উপত্যকা বার্গস্রুন্ড
মহাদেশীয় হিমবাহের বরফ মুক্ত পর্বত শৃঙ্গ কি নামে পরিচিত
এরিটি পিরামিড চূড়া নুনাটাকস ক্রেভাস
পৃথিবীর দ্রুততম হিমবাহ কোনটি
ল্যাম্বার্ট হুবার্ড কোয়ারেক জ্যাকবসন
যে রেখার নিচে হিমবাহ গলে যায় তাকে বলে
হিমরেখা ক্রেভাস পিরামিড চূড়া এসকার
ঝুলন্ত উপত্যকায় দেখা যায়
জলপ্রপাত হিমানী সম্প্রপাত গিরিখাত

ম্যাটারহর্ন একটি
এরিটি করি পিরামিড চূড়া ড্রামলিনের উদাহরণ
ভারতের একটি পিরামিড চূড়ার উদাহরণ হল
নীলকন্ঠ কাঞ্চনজঙ্ঘা ম্যাটারহর্ন পরেশনাথ

Please Share

Leave a Comment

error: Content is protected !!